17/07/2026
সারাজীবন নিজের পরিচয়ে ছেলেমেয়ে বড় করে, বিদায় বেলায় নিজেই বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হলেন, আহ পৃথিবী তুমি কতই না নিষ্ঠুর!
সারাজীবন নিজের পরিচয়ে ছেলেমেয়ে বড় করে, বিদায় বেলায় নিজেই বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হলেন, আহ পৃথিবী তুমি কতই না নিষ্ঠুর!
টানা দুই দিন লাস নিয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল, মর্গ, থানা-পুলিশ—এরপর এক কবরস্থান থেকে আরেক কবরস্থানে ছুটে বেড়াচ্ছি। শেষ পর্যন্ত ঢাকার জুরাইন কবরস্থানে আবি আব্দুল্লাহ কাকার লাস দাফনের ব্যবস্থা করতে পেরেছি।
এই মানুষটি একসময় রাস্তায় অসুস্থ অবস্থায় পড়ে ছিলেন। পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ ছিল না। আমরা মানবিক দায়িত্ব থেকে তাঁকে আমাদের প্রবীণ নিবাস রাশ মনা আপন ঘরে নিয়ে এসেছিলাম। প্রায় এক বছর ধরে তাঁর থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা, ডাক্তার, ওষুধ—সবকিছুর দায়িত্ব বহন করেছি।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা তাঁর আইনগত অভিভাবক হতে পারিনি।
ফলে স্বাভাবিক মৃত্যু হওয়ার পরও একের পর এক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে—হাসপাতালের প্রক্রিয়া, আইনি জটিলতা, ময়নাতদন্ত, আর সবশেষে বেওয়ারিশ হিসেবে কোনো কবরস্থান লাশটি গ্রহণ করতে রাজি হচ্ছিল না।
আজ আমাদের প্রশ্ন—
যদি কোনো অসহায়, পরিচয়হীন বা অভিভাবকহীন মানুষের পাশে সমাজের কেউ বা কোন প্রতিষ্ঠান দাঁড়ায় তবে তরা কেন তার আইনগত অভিভাবক হতে পারবেনা কেন?
রাস্তায় পড়ে থাকা অভিভাবকহীন মানুষের মৃত্যুর পর মর্যাদাপূর্ণ দাফনের দায়িত্ব কে নেবে?
মানবিক উদ্যোগগুলোকে কেন এমন অসহায় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে?
আমাদের কাছে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর নেই। যদি আপনাদের জানা থাকে, জানাবেন।
আর একটি অনুরোধ—দয়া করে পোস্টটি শেয়ার করুন, যাতে বিষয়টি নীতিনির্ধারকদের নজরে আসে। একজন অসহায় মানুষের মৃত্যুর পরও যেন তাঁর মর্যাদাপূর্ণ বিদায় নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
একজন মানুষের শেষ বিদায় যেন আর কোনো প্রতিষ্ঠানের দরজায় দরজায় ঘুরে বেড়াতে না হয়।