17/04/2020
”
অকল্পনীয় ভাবে খুব দ্রুত করোনা ভাইরাস বর্তমান পৃথিবীকে বদলে দিচ্ছে । আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে । কোন এলাকায় আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকা কিংবা আশেপাশের বাড়ি ঘর লক ডাউন করে দেওয়া হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে, আমাদেরকে হতাশ হলে চলবে না।আমাদেরকে আরো খারাপ পরিস্থিতির জন্য তৈরি হতে হবে।অতন্ত ধৈর্য্য, কঠোর অধ্যাবসায়ের ও বৃহৎ আত্মত্যাগের মানসিক প্রস্তুত এবং দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে আল্লাহর নামে এগিয়ে যেতে হবে।
Volunteer for Emergency Work এর গঠন প্রণালী :
→ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রধান -ইমাম/ধর্মযাজক/ঠাকুরের নেতৃত্বে ও একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি, একজন স্বাস্থ্য কর্মী,চারজন স্বেচ্ছাসেবকের সমন্বয়ে এক ইউনিটের একটি Volunteer for Emergency Work-VEW / জরুরী কাজের স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠিত হবে।
→পরবর্তী জরুরি প্রয়োজনে ,জনসংখ্যা অনুপাতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সভাপতি/সেক্রেটারির নেতৃত্বে আলাদা আলাদা ইউনিট কমিটি হতে পারে। (এই ইউনিট গুলোর সদস্য হবে একজন সভাপতি/সেক্রেটারি + চারজন করে স্বেচ্ছাসেবক+ একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি+একজন স্বাস্থ্য কর্মীর সদস্য। প্রত্যেক কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা হবে ৭ জন।
Volunteer for Emergency Work সদস্যদের প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু :
✓কিভাবে এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আওতার জনসচেতনতা তৈরি করিবে?
✓কিভাবে এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আওতার মানুষের ঘরে থাকার জন্য উৎসাহিত করিবে?
✓কিভাবে এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আওতার অসুস্থ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করিবে?
✓কিভাবে এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আওতার আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসায় সহযোগিতা করিবে?
✓কিভাবে এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আওতার সরকারের প্রয়োজনে যে কোন কারণে মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফনে সম্পন্ন করিবে?
✓কিভাবে এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আওতার মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য ও সেবা সামগ্রী ক্রয় করে বাসায় পৌছে দিবে?
✓কিভাবে এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আওতায় সরকারি-বেসরকারি বা ব্যক্তি উদ্যোগের সব ধরনের ত্রাণ কার্যক্রমে সহযোগিতা ও ত্রাণ বিতরণের সমন্বয় করিবে ?
✓কিভাবে এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আওতায় লকডাউন কালীন মানুষের জরুরী প্রয়োজনে পণ্য ও সেবা সামগ্রী ক্রয় ও সরবরাহে সহযোগিতা করিবে?
✓কিভাবে এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আওতায় ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন?
Volunteer for Emergency Work সদস্যের কার্যপ্রণালী :
গঠিত কমিটির প্রধানের সমন্বয় ও নির্দেশনা অনুযায়ী শুধুমাত্র “যেই কমিটি -সেই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ” আওতাভুক্ত এরিয়ায় মানুষের ঘরে থাকার জন্য উৎসাহিত করিবে,জনসচেতনতা সৃষ্টি করিবে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করিবে,আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা সহযোগিতা প্রদান করিবে, সরকারের প্রয়োজনে মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফনে সহযোগিতা করিবে, সংশ্লিষ্ট এরিয়ার মানুষকে প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য ও সেবা সামগ্রী ক্রয় করে বাসায় পৌছে দিবে, সরকারি-বেসরকারি বা ব্যক্তি উদ্যোগের সব ধরনের ত্রাণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করিবে, ত্রাণ সরবরাহ,ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলিবেন , জরুরী প্রয়োজনে সরকারি বাহিনীর ভ্রাম্যমাণ টিমের সহায়তা নেওয়া সহ পরিস্থিতির আলোকে প্রয়োজনীয় কার্যাবলী সম্পাদন করিবেন।
২০০৮ সালে পরিচালিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৬টি, আছে অসংখ্য মন্দির ,গির্জা।এই বিপুল সংখ্যক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানই হতে পারে আমাদের বর্তমান সংকট সমাধানের এক সম্ভাবনার প্রতীক। আপনারা প্রত্যেকে নিজ নিজ নিজ মহল্লায় এই ” এর আলোকে কমিটি গঠন করে কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারেন।