06/05/2026
ওষুধ কোম্পানিগুলো দাতব্য প্রতিষ্ঠান নয়, তারা এন জি ও নয় যে বৈদেশিক সাহায্য দিয়ে কর্মীদের বেতন দিবে। প্রতিটা কোম্পানীতে QC, QA, Production, RND, ডিস্ট্রিবিউশন, বিপননে হাজার হাজার লোক কাজ করে। স্বনামধন্য কোম্পানিগুলো শত শত কোটি টাকার মেশিনারিজ, ডিস্ট্রিবউশন, ইনভেন্টরি , ৩০/৪০ টা ডিপো অফিস, নিশ্চিত করে এই ব্যাবসা চালায়। এখানে যারা কাজ করে তারাও ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ায়না, এই জিনিসটা আমরা অনেকেই ভুলে যাই।
নামকরা ডাক্তাররা ওষুধ লিখার আগে কোম্পানির কি কি অ্যাপ্রুভাল আছে, কি গ্রেডের কাঁচামাল ব্যবহার হয়, কেমন প্লান্টে প্রোডাক্ট তৈরি হয় এগুলো জানতে চান। তাই কোম্পানিগুলোর মধ্যে গুনগতমানের প্রতিযোগিতা চলে, সেই প্রতিযোগিতাতে খরচ আছে, বিনা পয়সায় গুনগতমানের পাল্লায় টিকে থাকা যায়না। এতসব খরচ করে সামান্য লাভ রাখতে গেলে কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিক্রির প্রতিযোগিতা চলবে এটাই স্বাভাবিক। আর এই প্রতিযোগিতায় জেতার জন্য শুধু ফার্মা কোম্পানি না সবধরনের ব্যাবসাতেই প্রচার বা বিজ্ঞাপন প্রচলিত।
ফার্মা কোম্পানি নিউজপেপারে ওষুধের কোয়ালিটি ক্লেইম করতে পারেনা, টিভিতে এড দিতে পারেনা, ফার্মা কোম্পানির বিজ্ঞাপনের মাধ্যম হলো শিক্ষিত মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভ যারা ডাক্তারদেরকে তাদের কোম্পানির ব্রান্ডের বেনিফিটগুলো তুলে ধরে, নতুন নতুন চিকিৎসা প্রোটোকল, জার্নাল ডাক্তারদেরকে শেয়ার করে, কেমিস্টশপে ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করে। রোদ, ঝড়, বৃষ্টি, করোনা কোন কিছুতেই কিন্তু তাদের কাজ থেমে থাকেনা। তাদের অনুপস্থিতি সারাদেশের চিকিৎসা ব্যাবস্থাকে পঙ্গু করে দিতে পারে।
তাদের যেই অন্যায়টা সবার চোখে পড়ে, সেটা হল প্রেসক্রিপশন দেখতে চাওয়া, মানুষ এতে বিরক্ত হতে পারে, তবে সত্য এটাই যে সে তার কষ্টের ফলাফল দেখার জন্য মাঝে মাঝে কৌতুহলী হয়, তার জানতে ইচ্ছা করে তার প্রডাক্টের গুনাবলী নিয়ে ডাক্তারকে বলার পরে উনি কনভিন্স হয়ে লিখছেন কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি। সেটাকেও আমি সমর্থন করছিনা, হাসপাতালে ভিড়ের মধ্যে লম্বা সিরিয়ালে দাঁড়ালে নিজের মতই আরেক অসুস্থ রোগীকেও অযথা বিড়ম্বনা মনে হয়, সেখানে প্রেসক্রিপশন দেখতে যাওয়াকে মানুষ ভালভাবে নিবেনা এটাই স্বাভাবিক।
আমরা না চাইলেও ব্যাংকের কোর্ট প্যান্ট পরা অফিসার আরো দুইটা স্কিমে ইনভেস্ট করতে চাপাচাপি করে, যে কোন দোকানে বিক্রয়কর্মী আমাদের একটার জায়গায় তিনটা জিনিস পুশ করে, জুসের বদলে কেমিক্যাল দিয়ে বানানো পানীয়, ক্যান্সারের উপাদান থাকা চিপস সগৌরবে টিভিতে এড দেয়, একটার সাথে একটা বিষ ফ্রিতে দেয়, আমরা গদগদ হয়ে সেগুলোকে সাদরে গ্রহন করি, বাচ্চাদের খেতে দেই, শুধু ওষুধের বিপনন কর্মীরা তাদের কাজ করতে ডাক্তারের চেম্বারে লাইন দিলেই আমরা তাদেরকে উপদ্রব হিসেবে দেখি, তাদেরকে দালাল বলতে ছাড়িনা।
অনেকেই হয়তো জানেনা, বহির্বিশ্বে ১০০ টাকা বা বেশী দামের ওষুধ এদেশের মানুষ ১০ টাকায় কিভাবে পায়। অন্য কিছু কারনের পাশাপাশি একটা বড় কারন শ্রমের অবমূল্যায়ন। এদেশে শ্রমের মর্যাদা বরাবরই নেই , শিক্ষিত মানুষের শ্রমের মর্যাদা আরো নেই, তবে তাদেরকে দালাল বলে অমর্যাদা করা এবং অযথা হয়রানি করা কখনওই কাম্য নয়। যারা এহেন হীন কাজ করে পাবলিসিটি নিতে চায় তাদের জন্য আমার করুনা হয়।ঢাকা মেডিকেলে মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা সমগ্র জাতির জন্যই লজ্জার, প্রচন্ড অপমানের।