লালপুর ইভটিজিং প্রটেকশন ইউনিট/Lalpur Eve teasing Protection Unit:
এটি ইভটিজিং এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা একটি ইউনিট। এই ইউনিটে জড়িত আছেন বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী সহ আইনজীবী, সাংবাদিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে কর্মরত আমাদের অনেক বন্ধু-বান্ধব এবং আমি আপনি নিজেও।
এটাতে এমন সব সদস্যরা আছেন যারা কেবল কথায় নয়, সক্রিয় প্রতিবাদেও বিশ্বাসী। টক-শো, মানববন্ধন, লেখালেখির বাইর
ে গিয়ে এই বাহিনী ইভ-টিজিংয়ের বিরুদ্ধে আরও অনেক সক্রিয় ব্যবস্থা নিতে ইচ্ছুক।
এই ইউনিট তাদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে ইভটিজিং-কে প্রতিরোধ করতে চায়। এই ইউনিটের সদস্যগণ মনে করেন, ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে সকল কান্নাকে প্রতিরোধে রূপান্তরিত করতে হবে এবং চোখের জল মুছে ফেলে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।
আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যারা ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে কেবল নীতিবাক্য না দিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদও করেন। লালপুর ইভটিজিং প্রটেকশন ইউনিট সেইসব সাহসী এবং নির্ভীক মানুষদের সংগঠন, যারা কথায় এবং কাজে বিশ্বাসী।
লালপুর ইভটিজিং প্রটেকশন ইউনিট হবে নাগরিকদের সাহস জোগানোর প্লাটফর্ম। সমাজের গুটিকয়েক ইভটিজার থাকতেই পারে। তাদের ভয়ে মুখ লুকিয়ে থাকলে চলবে না। তাদের বিরুদ্ধে কেবল লেখালেখি, টক-শো আর মানববন্ধনই যথেষ্ট নয়। বরং এবার তাদের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে, তাদের মুখোশ খুলে ফেলতে হবে, তাদের সাথে লড়তে হবে। এইসব নরপিশাচদের ভয়ে মেয়েরা আত্নহত্যা করবে, ঘরের নিরাপদ কোণে লুকিয়ে থাকবে, এসব কখনোই কাম্য নয়।
আর তাই এই অন্ধকার সময়ের অবসান ঘটাতেই জন্ম নিয়েছে লালপুর ইভটিজিং প্রটেকশন ইউনিট।
আসুন , একযোগে কাজ করি।
দুঃখিত, ভুল বললাম।
বরং আসুন, একসাথে লড়াই করি।
এই ইউনিটের মাধ্যমে আমরা প্রাথমিকভাবে যেসব কাজ করবো:
১. বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের সচেতন করা এবং ইভটিজিং প্রতিরোধের জন্য সাহস যোগানো হবে।
২. ইভটিজিং নিয়ে বেশিরভাগ সময়ই শুধু নেতিবাচক খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এই ইউনিটের মাধ্যমে ইভটিজিং প্রতিরোধের ইতিবাচক খবর, ইভটিজিং এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর খবর চারদিকে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
(যারা এর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে রুখে দাঁড়িয়েছেন তারা তাদের অভিজ্ঞতা, কেস স্টাডিজ এখানে শেয়ার করুন।)
৩. যারা ইভটিজিং এর শিকার হয়েছে তাদের অভিজ্ঞতা এবং সেটা থেকে বাঁচার উপায় এখানে শেয়ার করা হবে।
৪. আমরা আমাদের লালপুর সহ বিভিন্ন এলাকা ভিত্তিক এক বা একাধিক ইভটিজিং বিরোধী ইউনিট গড়ে তুলবো।
আমাদের থাকবে তিনটি নির্দিষ্ট ফোন নাম্বার, আরো থাকবে ইউএনও, পুলিশ সুপার ও চেয়ারম্যানের নাম্বার ।
কোথাও ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটলে এবং তা ফোনে জানালে লালপুর ইভটিজিং প্রটেকশন ইউনিটের সদস্যরা সেখানে হাজির হবে এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর সদস্যদের সাথে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হবেন।
৫. আমাদের সঙ্গে আরো আছেন র্যাব, পুলিশ, আইনজীবী, সাংবাদিক সহ আরো কিছু মহান পেশায় নিয়োজিত কিছু আন্তরিক মানুষ। যখন যেখানে যার সাহায্য প্রয়োজন হবে তারা সেখানে সাহায্য করবেন। তাদের সাহায্য নিয়ে ইভটিজারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে সেটা প্রচার করা হবে এবং সমাজ থেকে ইভটিজিং নির্মূল করা হবে।
৬. যৌন হয়রানী মূলক বিভিন্ন অনলাইন আইডি, গ্রুপ ও পোষ্টের বিরুদ্ধে সবাই মিলে রিপোর্ট করা হবে।
৮. সাইবার ইভটিজারের বিরুদ্ধে পরিচালিত হবে সাইবার লড়াই, প্রয়োজনে সরাসরি পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
৭. বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইভটিজিং বিরোধী প্রচারণা চালানো হবে।
৮. প্রত্যেক অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং এ্যাকশন নেয়ার আগে বিশেষ ভাবে যাচাই করা হবে।
সুতরাং আপনি আপনার নিজের সমস্যা, আপনার আশেপাশের মানুষদের সমস্যা, আপনার বন্ধু-বান্ধবের সমস্যা আমাদের জানান। সবাই মিলে চলুন ইভটিজারদের রুখে দেই।
প্রচারেঃ লালপুর ইভটিজিং প্রটেকশন ইউনিট।