08/05/2023
কয়েলের আগুনে পুরলো তিন পরিবারের কপাল
মিজানুর রহমান মিজান, চিলমারী ( কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
আকবর আলী (৪৫) স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে তার অভাবের সংসার। ছোট্ট একটি চায়ের দোকান করে সংসার চালায় আকবর। চা বিক্রি করা টাকা একটু একটু করে জমিয়ে ২ লক্ষ টাকা রেখেছিলেন ড্রামের ভিতর। কিছুদিনের মধ্যে জমি বন্দক নিয়ে চাষাবাদ করে পেটের ভাত যোগাবেন। কিন্তু তাঁর সেই স্বপ্ন পুরে ছাই।
রবিবার ভোরে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের ছোট কুষ্টারী ( পেদি খাওয়ার বিল) এলাকায়। আগুন লাগার ঘটনায় এই ঘটনা ঘটে। বাসায় প্রবেশের সময় তিনি যখন কান্নায় বিলাপ করছিলেন, তখন প্রতিবেশীরা তাঁকে সান্তনা দিচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁর আজকের এই আহাজারি কিছুতেই যেন থামার নয়। কান্না করতে করতে তিনি বলছিলেন ‘‘জমি বন্দক নেওয়ার জন্যে তিল তিল করি ২ লক্ষ ট্যাকা যোডাইচং, সেই ট্যাকা আর মাইয়ের জন্যে সোনার জিনিস বানাচনু, মাইয়ের নানীর সোনার জিনিসগুলেও সউগ পুরি ছাই হয়া গেল। এহন মুই কি করি চলিম। মাইয়েক জিনিস দেইম কেমন করি।’’ এমন আহাজারি করতে দেখা গেছে ইউনুছ আলীর স্ত্রীকেও। আগুনের সুত্রপাত ঘটে ইউনুস আলীর গোয়াল ঘর থেকে। ভোর রাতে যখন সবাই ঘুমে বিভর ঠিক সেই সময় রাস্তার মানুষের আগুন আগুন চিৎকারে জেগে ওঠে এলাকাবাসী।
প্রতক্ষদর্শীরা জানান, কয়েলের ধোয়া থেকেই এই আগুনের সুত্রপাত। ইউনুস আলীর গোয়াল ঘরে আগুন ছড়িয়ে তার শয়ন ঘরে লেগে যায়। এরপর রিয়াজুল হক নামের আর এক ব্যক্তির শয়ন ঘরে আগুন লেগে নিমিষেই পুরে ছাই হয়ে যায় তার সবকিছু। রিয়াজুল হক নতুন ঘরের কাজ শুরু করায়। অন্যান্য ঘরের জিনিসপত্র এই ঘরে রেখেছিলেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পরায় কোন কিছু রক্ষা করতে পারেননি তিনি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে উপজেলার ছোট কুষ্টারী এলাকায় আগুন লাগে। আগুনে ৩টি শয়ন ঘর, ১টি গোয়াল ঘর ও ১টি রান্না ঘরসহ ২টি গরু পুরে মারা গেছে। তবে কেউ হতাহত হয়নি। আগুন লাগার খবর পেয়ে চিলমারী ফায়ার সার্ভিসের ১টি ইউনিট ও উলিপুরের ১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। উলিপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন ইনচার্জ আব্বাস আলী ও চিলমারী অফিসের লিডার ফারুক হোসেনের নেতেৃতে প্রায় এক ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিস সুত্র বলছে আগুনের সুত্রপাত মশার কয়েল থেকে।
সকালে নিজের পোড়াঘর ও মৃত পোষ্য গরু ২টির সামনে দাঁড়িয়ে ডুকরে কাঁদছিলেন ইউনুস আলীর স্ত্রী নুর নাহার বেগম। ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনের পর এখানে বসবাস তাদের। স্মামী রাজমিস্ত্রী কাজ করে সংসার চালান। কষ্ট করে ২টা দামড়া গরু পালন করছিলেন তাঁরা। মাত্র ৩ দিন আগে ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা দাম বললেও তারা বিক্রি করতে রাজি হননি। কোরবানী ঈদে বেশী দামে বিক্রী করার আশায় রেখেছিলেন গরু। এছাড়াও আসবাবপত্র, ২টি ড্রামে ১১ মন চাল, গহনা, পরিধেয় কাপড় সব পুরে ছাই হয়ে গেছে।
এরইমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চিলমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মোঃ রুকুনুজ্জামান শাহীন। তিনি উপজেলা পরিষদের পক্ষ্য থেকে পরিবারগুলোকে সহায়তা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।