মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ, জব্বার হাট শাখা, চট্টগ্রাম

  • Home
  • Bangladesh
  • Chittagong
  • মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ, জব্বার হাট শাখা, চট্টগ্রাম

মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ, জব্বার হাট শাখা, চট্টগ্রাম Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ, জব্বার হাট শাখা, চট্টগ্রাম, Social service, jobberhat, Hathazari, Chittagong.

*"আমাদের কাজ খেদমতের আঞ্জাম দেওয়া, আমরা ত্বরিকতের অনুসারীরা সমাজের খাদেম। সমাজের সর্দারি-মাতবরি করা আমাদের কাজ না"*
*-মাওলা হুজুর মাইজভাণ্ডারী (মাদ্দাজিলুহুল আলী)।*❤️

05/09/2026
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম🌎 ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যে রবিউল আউয়াল মাস:⌛ সোনালী অতীতের কুশলী নির্মাতা:🗓️ আজ ২০ রবিউল আউয়াল ...
05/09/2026

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
🌎 ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যে রবিউল আউয়াল মাস:
⌛ সোনালী অতীতের কুশলী নির্মাতা:
🗓️ আজ ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি:
💠 মাইজভাণ্ডারীয়া ত্বরিকার স্বরূপ উন্মোচক, খাদেমুল ফোক্বারা অছিয়ে গাউসুল আযম মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর চন্দ্রবার্ষিক ওফাত দিবস। এ উপলক্ষে ‘এস জেড এইচ এম ট্রাস্ট’ প্রকাশন ‘আলোকধারা বুকস্’ প্রকাশিত ‘মাইজভাণ্ডার শরিফ পরিচিতি’ পুস্তক হতে উপস্থাপন:
📗 অছিয়ে গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (ক.) [১৮৯৩-১৯৮২]।
মাইজভাণ্ডারীয়া ত্বরিকার প্রবর্তক গাউসুল আযম শাহ্ সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.) (১৮২৬-১৯০৬) এবং তদীয় খলিফায়ে আযম হযরত সৈয়দ গোলাম রহমান মাইজভাণ্ডারী (ক.) (১৮৬৫-১৯৩৭) এই দুই মহান আধ্যাত্মিক মহাপুরুষের যুগপৎ রক্ত ও বেলায়তের যোগ্য উত্তরাধিকারী হলেন সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (ক.)। মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের উল্লিখিত দুই মহান দিকপালের আধ্যাত্মিক ফয়েজ রহমতে অভিষিক্ত হয়ে সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (ক.) ব্যতিক্রমধর্মী নতুন সত্ত্বা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন মাইজভাণ্ডার পরিমণ্ডলে। ভক্ত ফকির ফরিদ হোসেনের ভাষায়-
ফুটলরে ফুল গাউসে অলি, গোলাম রহমান বাবাজান বলি,/ভাষা ভুলা হাল-অলী থাকতেন বিভোর অবস্থায়।
দুই দিক হইতে ফয়েজপ্রাপ্ত, “দেলাওর হোসাইন” খোদাভক্ত,/মাইজভাণ্ডারের ভারপ্রাপ্ত কইরাছেন গাউস খোদায়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারের পাশাপাশি পারিবারিক জীবনে সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (ক.) ছিলেন গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী’র পৌত্র এবং হযরত বাবা ভাণ্ডারী’র জামাতা।
✅ জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়:
জন্ম: ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৩ [ফাল্গুন ১৩, ১২৯৯]
পিতা: শাহ্ সুফি সৈয়দ ফয়জুল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) [১৮৬৫-১৯০২]
পিতামহ: মাইজভাণ্ডারীয়া ত্বরিকার প্রবর্তক গাউসুল আযম শাহ্ সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.) (১৮২৬-১৯০৬)।
সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (ক.) পিতা-মাতার দ্বিতীয় সন্তান। প্রথম সন্তান সৈয়দ মীর হাসানের (১৮৯১-১৯০৬) নামের সাথে মিল রেখে তদীয় পিতামহ [হযরত কেবলা] তাঁর নাম রাখেন সৈয়দ দেলাওর হোসাইন। হযরত কেবলা প্রদত্ত এই নাম ছিল ব্যঞ্জনাপূর্ণ। দেলাওর অর্থ যোদ্ধা বা সেনাপতি; হোসাইন অর্থ উত্তম। সুতরাং পুরা অর্থ দাঁড়ায় “উত্তম সেনাপতি” বা ‘‘বীরোত্তম”। পরবর্তীকালে মাইজভাণ্ডারীয়া ত্বরিকার শরাফত সংরক্ষণ এবং ত্বরিকার স্বরূপ উন্মোচনকালে তাঁর এই নামের মাহাত্ম্য ও যথার্থতা পরিস্ফুট ও প্রতীয়মান হয়। শিশু দেলাওর শৈশবে তাঁর পিতাকে হারান (১৯০২)। ফলে দাদা-দাদীর স্নেহে পালিত হন। ইতোমধ্যে ১৩ বছর বয়সে দাদাও (হযরত কেবলা) চির বিদায় নেন। পাঁচ বৎসর বয়সে দাদা হযরত কেবলার হাতেই শিশু দেলাওর হোসাইনের হাতে খড়ি। এ সময় পার্শ্ববর্তী গ্রাম বাবুনগর নিবাসী মাওলানা অলিউল্লাহ্ সাহেব তাঁর প্রথম শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে মির্জাপুর নিবাসী তাঁর খালু মওলানা হাফেজ ক্বারী তফাজ্জল হোসাইন সাহেব তাঁর গৃহশিক্ষক নিযুক্ত হন। গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারীর (ক.) এই মহান খলিফার হাতেই তিনি আরবি, ফার্সি ও উর্দু ভাষার প্রয়োজনীয় মূল্যবান কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করেন। এই গৃহশিক্ষকের প্রভাব সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (ক.)’র জীবনে সুদূরপ্রসারী হয়েছিল। উল্লেখ্য, তদীয় এই গৃহশিক্ষকের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতার নিদর্শন স্বরূপ তিনি দরবার শরিফের লাইব্রেরীর নামকরণ করেছিলেন তফাজ্জল মেমোরিয়াল লাইব্রেরী। ইতোমধ্যে তিনি ১৯১১ সনে চট্টগ্রাম মোহসেনীয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন শেষ করেন।
ছাত্রজীবনে পাঠ্যবই ছাড়াও তিনি বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদদের লিখিত বিভিন্ন গ্রন্থ এবং কুরআন, হাদিস, ফিকাহ্, দর্শনশাস্ত্র ইত্যাদিতে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি তিনি নিয়মিত বাংলা পত্র-পত্রিকা ইত্যাদির প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করতেন। আশ্চর্যের বিষয়, প্রাথমিক পর্যায়ে গৃহ শিক্ষকের নিকট শুধুমাত্র ১৭ দিন তিনি বাংলা শিখেছিলেন। তারপর আর কোন শিক্ষকের কাছে বা প্রতিষ্ঠানে বাংলা ভাষা অধ্যয়ন করেননি; অথচ মাইজভাণ্ডার সম্পর্কিত যে ১২টি মূল্যবান গ্রন্থ তিনি রচনা করেছেন তার সবই বাংলা ভাষায় রচিত।
অছিয়ে গাউসুল আযম সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (ক.)’র উল্লেখযোগ্য বিশেষত্ব এই যে, তিনি ছিলেন ত্বরিকার প্রবর্তক গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী’র (ক.) অছি [Vicegerent]। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী (ক.) কর্তৃক প্রকাশ্যে গাউসিয়তের ঘোষণার অনুরূপ সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (ক.) ও প্রকাশ্যে তাঁর অছি’র দাবী ঘোষণা করেছিলেন। বলাবাহুল্য, প্রকাশ্য ঘোষণার এই সর্বসম্মত প্রথা জাগতিক ও আধ্যাত্মিক উভয়ভাবে স্বীকৃত ও গ্রহণীয়। অছিয়ে গাউসুল আযম হওয়ার এই দুর্লভ প্রাপ্তির সুন্দর বর্ণনা মেলে আশেক ভক্তের ভক্তি শ্রদ্ধা মিশ্রিত গানের মাধ্যমে-
হোসেন কেবলা মাইজভাণ্ডারী প্রেম সাগরের মূল কানাই/গাউসে ধনের অছি যিনি তার তুলনা পাই কোথায়? -ময়না জগত (১), ৩২ নং গান।
✅ বিবাহ ও বংশলতিকা: ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে ২৩ বছর বয়সে শাহ্ সুফি সৈয়দ গোলাম রহমান মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর (প্রকাশঃ বাবা ভাণ্ডারী) দ্বিতীয় কন্যা সৈয়দা সাজেদা খাতুনের সাথে তাঁর বিবাহ হয়। তিনি ছিলেন ৫ (পাঁচ) পুত্র ও ৬ (ছয়) কন্যার জনক।
পুত্র সন্তান: (১) সৈয়দ জিয়াউল হক (২) সৈয়দ মুনিরুল হক (৩) সৈয়দ এমদাদুল হক (৪) সৈয়দ দিদারুল হক (৫) সৈয়দ সহিদুল হক। কন্যা সন্তানঃ (১) সৈয়দা মোবাশ্বেরা বেগম (২) সৈয়দা মুনিরা বেগম (৩) সৈয়দা নাজিরা বেগম (৪) সৈয়দা রিজিয়া বেগম (৫) সৈয়দা কামরুন্নেসা (৬) সৈয়দা নাজমুন নেসা।
📚 গ্রন্থ তালিকা: সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারীয়া ত্বরিকার স্বরূপ উন্মোচনের পাশাপাশি মাইজভাণ্ডারী পরিমণ্ডলে লেখালেখি ও প্রকাশনার ক্ষেত্রেও এক বৈপ্লবিক যুগের সূচনা করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২:
১. বেলায়তে মোতলাকা (১৯৬০), ২. গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারীর জীবনী ও কারামত (১৯৬৭), ৩. গঠনতন্ত্র (১৯৬৯), ৪. মূলতত্ত¡ বা তজকীয়ায়ে মোখতাছার [১ম খন্ড] (১৯৬৯), ৫. বিশ্ব মানবতায় বেলায়তের স্বরূপ (১৯৭৪), ৬. এলাকার রেনেসাঁ যুগের একটি দিক, ৭. জীবনদর্শন (আত্মজৈবনিক) পাণ্ডুলিপি, ৮. প্রতিবাদ লিপি, ৯. মানব সভ্যতা, ১০. মিলাদে নববী ও তাওয়াল্লোদে গাউসিয়া, ১১. মুসলিম আচার ধর্ম, ১২. মূলতত্ত্ব [২য় খন্ড]
🎓 খাদেমুল ফোক্বারা: ব্যক্তিগত জীবনে দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী ছিলেন রীতিমতো বিনয়ের অবতার। বিনয়ের মধ্যেও যে প্রচণ্ড শক্তি নিহিত থাকতে পারে, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করে গেছেন। নিজের পরিচয় দেওয়ার সময় তিনি অতি বিনয়ের সাথে বলতেন যে, তিনি হলেন ‘খাদেমুল ফোক্বারা’ অর্থাৎ আল্লাহ’র ফকিরদের খাদেম এবং সত্যিকার অর্থে বলতে গেলে ফকিরদের খাদেমগীরিতেই তিনি সারাজীবন উৎসর্গ করেন। বিনয়ের এমন অবতার সত্যিই বিরল- ‘দেলাওর হোসাইন নাম জাহেরা পরিচয় দেন খাদেমুল ফোক্বারা। বিনয়ের এহেন অবতার, ত্রি জগতে মেলা ভার’ - ড. সেলিম।
পোশাক পরিচ্ছদের ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন নির্বিলাসী। কনুইর নিচ পর্যন্ত লম্বিত সাদা কামিজ বা কোর্তা, মাথায় সাদা টুপি, পায়ে কাঠের খড়ম এবং শীত গ্রীষ্মের উপযোগী চাদর-এ ছিল তাঁর নির্বিলাসী পোশাক পরিচ্ছদ।
শুধু জীবৎকালে নয়; ওফাতের পরও তিনি তাঁর এই বিনয়ী ও নির্বিলাস জীবনের প্রতিফলন ঘটানোর প্রয়াস পেয়েছেন। ওফাতের পর তাঁর জন্যে কোনরূপ ‘মাজার নির্মাণ’ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়ে গেছেন। প্রকৃতির ঔদার্য ও মহিমা নিয়ে প্রকৃতির কোলে চিরশায়িত থাকার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে তাঁর নিজের এপিটাফ নিজেই রচনা করে যান। আমার বিবেচনায় এই এপিটাফটিই তাঁর ‘খাদেমুল ফোক্বারা’ অভিধার প্রবহমান প্রতিচ্ছবি।
🟢 ওফাত: সুদীর্ঘ অর্ধ শতাব্দীকালেরও উর্ধে প্রত্যক্ষ কর্মময় জীবনে জাগতিক ও আধ্যাত্মিক উভয় ক্ষেত্রে সব্যসাচীর মত দুই হাতে কর্তব্য কর্ম সম্পাদন করে তথ্য, তত্ত¡ ও বিচিত্র বর্ণাঢ্য কর্মচাঞ্চল্যের অপূর্ব সমন্বয়ের মাধ্যমে মাইজভাণ্ডার শরাফতকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড় করানোর ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন শেষে প্রায় ৯০ বছর বয়সে ১৯৮২ সালের ১৬ জানুয়ারি শনিবার (২ মাঘ ১৩৮৮) তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তাঁর অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী দুর্বাঘাস শোভিত শ্যামল প্রকৃতির বুকে তাঁকে সমাহিত করে তাঁর স্বহস্তে লিখিত এপিটাফটির মাধ্যমে তাঁর পরিচয় তুলে ধরা হয় এভাবে-
মানব প্রকৃতির কঠিন আকৃতি তোমার মদিরাপাত্র / সরস মাটির বিশাল দেহ তোমারই ফুলক্ষেত্র।
কোলাহল পরিহারে নির্জনতার আসরে / তোমারই প্রতীক্ষায় রহিয়াছি আজি তোমারই বাসরে।
সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর বাণী চিরন্তনী: ১. “বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতির স্থায়ী সমাধানের জন্য এবং ধান উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃত্রিম সেচ ব্যবস্থার বিকল্প নেই।” ২. “আগে নিজের পরিবার, ঘর-সংসার ও পেশাগত দায়িত্বের প্রতি যত্নবান হও। তারপর আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য সময় দাও যদি তা সম্ভবপর হয়।” ৩. “পরিচ্ছন্নতা খোদায়ী গুণ। তুমি যদি কাজে-কর্মে, দেহ-প্রাণে, পোশাক-পরিচ্ছদে, মন-মানসিকতায়, আচার-ব্যবহারে পরিচ্ছন্ন না হও, তা’হলে তুমি খোদার নৈকট্য লাভ করতে পারবেনা।” ৪. “সৎভাবে হালাল ব্যবসা কর। দুর্নীতির আশ্রয় নিওনা। তেজারত রসূলের সুন্নত।” ৫. “অহমিকা বড় খারাপ। অহমিকা ও দম্ভ থেকে মুক্ত হবার চেষ্টা কর।” ৬. “জ্ঞানই শক্তি। জ্ঞান ছাড়া কোন জাতি জীবনে উন্নতি লাভ করতে পারেনা।” ৭. “তুমি যদি যোগ্য না হয়ে বুজুর্গী কামনা কর, তা তুমি পাবেনা। হযরত সাহেব (ক.)’র সাথে কেবলমাত্র রক্তের সম্পর্কের কারণে তুমি নিজেকে অলি দাবী করতে পারনা। অলি হতে হলে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।” ৮. “যাঁদের কামালিয়ত নেই তাঁরা মাইজভাণ্ডার শরিফের আওলাদ হলেও তাঁদের কবরের ওপর সৌধ বা রওজা নির্মাণ করা উচিৎ নয়। এটা মানুষকে বিভ্রান্ত করবে যেহেতু মানুষ প্রকৃত অলিকে তখন চিহ্নিত করতে পারবেনা।” ৯. “মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের যে কোন আওলাদে পাকের উরস অনুষ্ঠান করা ঠিক নয়। উরস অনুষ্ঠান কেবলমাত্র ওই সকল আওলাদের জন্য নির্ধারিত যাঁরা প্রকৃত অর্থে কামালিয়ত অর্জন করে অলি হয়েছেন। সারা বছরই যদি মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফে কোন না কোন আওলাদের উরস হতে থাকে, তাহলে লোকজনকে তাদের পরিবার এবং চাকুরীর প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন না করে কেবল দরবার শরিফে আসা যাওয়াতেই ব্যস্ত থাকতে হবে।” ১০. “সকলকে আমার মুনিব [হযরত আকদাছ (ক.)] কে সম্মান করতে হবে এবং তাঁর রওজা শরিফ জিয়ারত করতে হবে। যদি তোমরা তা কর, তবে তার অংশ আমি পাব।” ১১. “যদি কেউ মাইজভাণ্ডারী দর্শনের প্রচার ও প্রসারের কাজ করে, তবে সে হযরত আকদাছ (ক.)’র আসহাব বা সাথী হিসেবে গণ্য হবে।” ১২. “যদি মাইজভাণ্ডারী দর্শনের মর্মকথা সারা বিশ্বের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া যায়, তাহলে সারা বিশ্বের নজর মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের দিকে ঘুরে যাবে।” ১৩. “সমাজে আদলে মোতলাক (বিচার সাম্য) প্রতিষ্ঠা কর। কারও প্রতি অবিচার করনা।” ১৪. “ঈমানদার হও। হজ্ব কর, নামায পড়, রোজা রাখ, যাকাত দাও। যেনা করনা, মিথ্যা বলনা, মিথ্যা সকল অন্যায়ের মা-বাপ”। ১৫. “বিপদে আপদে, সকল সময়ে আল্লাহ’র ওপর নির্ভর কর। আল্লাহ’র ওপর বিশ্বাস হারাবে না। আল্লাহ্ সকল সময়ে তোমাকে সাহায্য করবেন।” ১৬. “আমি ছায়র পীরি ব্যবসা করিনা। পাক-সাফ হওয়ার জন্য মানুষ পুকুরের কাছে যায়। পুকুর মানুষের কাছে যায়না।”
তাঁর শানে গান: মাইজভাণ্ডার সংক্রান্ত বিভিন্ন গানের বইতে সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর শানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গান সংকলিত হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ্য মওলানা বজলুল করিম মন্দাকিনী, মওলানা আবদুল্লাহ্ বাঞ্ছারামপুরী, ডাঃ মুসা আলম, ফকির ফরিদ হোসেন এবং ডাঃ আবুল কাশেমের নাম। ডাঃ মুসা আলমের গানের বইয়ের নাম ময়না জগত (তিন খণ্ডে সমাপ্ত)। ফকির ফরিদ হোসেনের বইয়ের সংখ্যা ৮ (আট)। মুক্তি ভাণ্ডার এক, মুক্তি ভাণ্ডার দুই, সৌরভ ভাণ্ডার, গৌরব ভাণ্ডার, যুক্তি ভাণ্ডার, উদয় ভাণ্ডার, হৃদয় ভাণ্ডার, চেতন ভাণ্ডার। ডাঃ আবুল কাশেমের এক মাত্র গানের বইয়ের নাম প্রেমাকর।
🖋️ এক নজরে অছিয়ে গাউসুল আযমের বিশেষত্ব:
১. গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারীর পৌত্র হিসেবে, পুত্র-বংশীয় একমাত্র আওলাদ হিসেবে যুগপৎ তাঁর ব্যক্তিগত ও আধ্যাত্মিক সোহবত লাভের সৌভাগ্যে সৌভাগ্যবান এবং ‘অছিয়ে গাউসুল আযম’ লকবে অভিষিক্ত।
২. মাইজভাণ্ডারীয়া ত্বরিকার প্রচার-প্রসারের উদ্দেশ্যে সাংগঠনিকভাবে ১৯৪৯ সালে ‘আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউসে মাইজভাণ্ডারী’ সংগঠন প্রতিষ্ঠা সহ মানবিক সামাজিক ও জনহিতকর কার্যক্রমের উদ্যোগে ও এগুলোর যথাযথ পরিচালনার প্রয়োজনে পরিচালকের দায়িত্ব পালন।
৩. গাউসে পাকের গদী শরিফের উত্তরাধিকারী হিসেবে যাবতীয় আধ্যাত্মিক দায়িত্ব পালন।
৪. একইসাথে আধ্যাত্মিক ও জাগতিক উভয় ধারাকে প্রায় সমানতালে ধারণ, লালন ও প্রতিপালনের মাধ্যমে দরবারী পরিমণ্ডলে সমন্বয়ধর্মী ইতিহাস সৃষ্টি এবং সুদীর্ঘ অর্ধশতাব্দী কালেরও অধিক সময়কাল ধরে তা নিরবচ্ছিন্নভাবে সমানতালে অব্যাহত রাখার নতুন সংস্কৃতির সৃষ্টি।
৫. মাইজভাণ্ডারের অভাবনীয় ব্যাপক প্রচার-প্রসার, অনিয়ন্ত্রিত অলিখিত কর্মকাণ্ড ও নানা ডামাডোলের মধ্যে মাইজভাণ্ডারীয়া ত্বরিকা ও দর্শনকে ওরাল ট্র্যাডিশনের যুগ থেকে শুদ্ধতম উচ্চারণে লিখিতরূপ দেওয়ার পথিক ও পথিকৃতের ভূমিকা পালন।
৬. এ ধারায় বড় ছোট ন্যূনতম ১২টি গ্রন্থ রচনা, প্রকাশ ও বিপণনের ব্যবস্থাকরণ। বলাবাহুল্য, এটি শুধু তাঁর জন্য নয়, সমগ্র মাইজভাণ্ডারের প্রায় দেড়শতাধিক বছরের ইতিহাসের ক্ষেত্রেও এক অনন্য বিশেষত্ব, এক দৃষ্টি আকর্ষণীয় মাইলফলক।
৭. স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে আত্মনিবেদনের কঠোর-কঠিন অনুশীলন এবং সমাজ জীবনে এর অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপনের লক্ষ্যে নিজে ‘খাদেমুল ফোক্বারা’ (আল্লাহ’র ফকিরদের খাদেম) লকব গ্রহণ করে কথায়, কাজে ও চিন্তায় এর প্রতিফলন ঘটিয়েছেন জীবনাচরণের সর্বক্ষেত্রে, সর্বাবস্থায়। এককথায়, তাঁর প্রায় শতবর্ষের পুরা জীবনটাই ছিল এ স্বঘোষিত লকবের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সফল বাস্তবায়নের প্রতিচ্ছবি। বলাবহুল্য, ওফাতের পর তাঁকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতামূলক কোন স্থাপনা এবং বাহুল্য বর্জনের অসিয়ত তাঁর ‘খাদেমুল ফোক্বারা’ লকবের জীবন-মরণ সাধনার সার্থক রূপায়নের যথার্থ প্রতিফলন, কথা ও কাজের অনুসরণীয় অপূর্ব সমন্বয়ের শ্রেষ্ঠতম উদাহরণ।

03/09/2026

মুর্শিদ বা পথপ্রদর্শকের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে আমাদের প্রতিদিনের নামাজের দিকে তাকালেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়। আমরা প্রতিদিন প্রতিটি নামাজে আল্লাহর কাছে একটি বিশেষ দোয়া অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে করি:

اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ

“আমাদেরকে সরল সঠিক পথ দেখাও।”
(সূরা আল-ফাতিহা: ৬)

নামাজের এই প্রধান দোয়ায় সরল পথ বা ‘সিরাতাল মুস্তাকিম’ চাওয়ার ঠিক পরের আয়াতেই আল্লাহ তাআলা এই পথের বাস্তব পরিচয় ও সংজ্ঞা দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা কোনো বিমূর্ত ধারণা বা শুধু বই পড়ে পথ চেনার কথা বলেননি, বরং তিনি এই পথকে সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিবর্গের সাথে সম্পর্কিত করে দিয়েছেন। আল্লাহ এরশাদ করেন:

صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ

“তাদের পথ, যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন।”
(সূরা আল-ফাতিহা: ৭)

পবিত্র কুরআনের অন্য আয়াতে এই অনুগ্রহপ্রাপ্ত ও ধন্য দলটির পরিচয় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে:

مِّنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ ۚ وَحَسُنَ أُولَٰئِكَ رَفِيقًا

“(তারা হলেন) নবীগণ, সিদ্দিকীন (সত্যনিষ্ঠগণ), শহীদগণ এবং সালেহীন (সৎকর্মপরায়ণ আল্লাহওয়ালা বান্দাগণ)। আর সঙ্গী হিসেবে তারা কতই না চমৎকার!”
(সূরা আন-নিসা: ৬৯)

এই আয়াতসমূহ থেকে এটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, আল্লাহর কাছে সঠিক পথ পাওয়ার দোয়ার অর্থই হলো আল্লাহওয়ালা মানুষদের সান্নিধ্য ও পথনির্দেশনা পাওয়া। কারণ পথ কোনো ফাঁকা রাস্তা নয়, পথ চেনা যায় পথিকের পদাঙ্ক অনুসরণ করে। নবীগণের পর এই পৃথিবীতে ‘সিদ্দিকীন’ ও ‘সালেহীন’ তথা কামেল মুর্শিদ ও ওলী-আউলিয়াগণই হলেন সেই ধন্য কাফেলার প্রতিনিধি। তাঁদের হাত ধরাই মূলত ‘সিরাতাল মুস্তাকিম’-এ পথ চলার বাস্তব রূপ।

শরীয়তের দৃষ্টিতে আত্মশুদ্ধি অর্জন করা ফরজে আইন বা প্রত্যেকের জন্য আবশ্যিক কর্তব্য। কারণ কলব বা অন্তর যদি কলুষিত থাকে, তবে বাহ্যিক ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। আর এই আত্মিক ব্যাধির সুচিকিৎসার জন্যই একজন আধ্যাত্মিক চিকিৎসকের প্রয়োজন, যাকে পরিভাষায় পীর বা মুর্শিদ বলা হয়।

১. আল-কুরআনের আরও কিছু আলোকপাত

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন আয়াতে সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে কামেল ওলীদের সাহচর্য গ্রহণ এবং তাঁদের অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের (সাদিকীন) সঙ্গী হও।”
(সূরা আত-তাওবা: ১১৯)

এখানে আল্লাহ তাআলা শুধু তাকওয়া অর্জনের নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং তাকওয়া ধরে রাখার জন্য ‘সাদিকীন’ বা সত্যবাদী আল্লাহর ওলীদের সাথে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন:

وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ

“এবং তুমি তার পথ অনুসরণ করো, যে আমার অভিমুখী হয়েছে।”
(সূরা লুকমান: ১৫)

২. সুন্নাহ ও আসারে সাহাবা

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন এবং সাহাবায়ে কেরামের গঠনপদ্ধতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ইসলাম শুধু কিতাব পড়ার ধর্ম নয়; এটি মূলত ‘সোহবত’ বা সাহচর্যের ধর্ম।

রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন:

الْمَرْءُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ مَنْ يُخَالِلُ

“মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের অনুসারী হয়। সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকেরই লক্ষ্য করা উচিত, সে কার সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করছে।”
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৮৩৩)

সাহাবায়ে কেরামের আদর্শ: সাহাবায়ে কেরাম (রা.) শুধু ইসলামের বিধানগুলো জেনে নিয়ে ঘরে বসে যাননি। তাঁরা বছরের পর বছর আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর পবিত্র সোহবতে থেকে নিজেদের চরিত্র গঠন করেছেন। কিতাব বা লিখিত কোনো কপির মাধ্যমে নয়, বরং নবীজির পবিত্র নূরানী চেহারা, তাঁর ওঠাবসা এবং সামগ্রিক আচরণের প্রতিচ্ছবি ধারণ করেই তাঁরা ‘সাহাবী’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

পীর-মুরিদীর এই ধারা মূলত রাসূল (সা.) ও সাহাবাদের সেই সোহবতের ধারারই একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ।

৩. উম্মতের ইজমা বা ঐকমত্য

ইসলামের ইতিহাসে চার মাযহাবের ইমামগণ, মুহাদ্দিসীন, মুফাসসিরীন এবং বড় বড় ফকীহগণ একমত হয়েছেন যে, অন্তরের ব্যাধি দূর করার জন্য একজন কামেল শায়খের তত্ত্বাবধান অত্যন্ত জরুরি।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.): তাঁর জীবনের শেষ দুই বছর সম্পর্কে বিখ্যাত উক্তি রয়েছে:

“যদি শেষ দুই বছর আমি শায়খ (ইমাম জাফর সাদিক (আঃ)-এর সোহবত না পেতাম, তবে নোমান (আবু হানিফা) ধ্বংস হয়ে যেত।”

ইমাম শাফেয়ী (রহ.): তিনি সুফিদের সান্নিধ্যে গিয়ে বলেছিলেন:

“আমি সুফিদের সুহবতে থেকে দুটি মূল্যবান জিনিস শিখেছি—

১. সময় তরবারির মতো, তাকে ভালো কাজে না কাটলে সে তোমাকে কেটে ফেলবে (নষ্ট হবে)।

২. তোমার নফসকে যদি তুমি হকের কাজে ব্যস্ত না রাখো, তবে সে তোমাকে বাতিলের কাজে লিপ্ত করবে।”

ইমাম গাজালী (রহ.): তাঁর যুগান্তকারী গ্রন্থ ‘এহয়াউ উলুমিদ্দীন’-এ স্পষ্ট লিখেছেন যে, মানুষের নিজের দোষ নিজে ধরা কঠিন। তাই একজন আধ্যাত্মিক চিকিৎসকের (মুর্শিদ) কাছে গিয়ে নিজের নফসের ব্যাধিগুলোর চিকিৎসা করানো ওয়াজিব বা আবশ্যক।

৪. কিয়াস বা যৌক্তিক বিশ্লেষণ

মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রার দিকে তাকালে কিয়াসের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়।

একজন মানুষ বাজার থেকে সব ধরনের চিকিৎসার বই কিনে ঘরে বসে তা মুখস্থ করলেই ডাক্তার হতে পারে না। তাকে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে হাসপাতালে থেকে প্র্যাক্টিক্যাল ইন্টার্নি করতে হয়। অন্যথায় তার ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে।

ঠিক তেমনি, একজন মানুষ কুরআন-হাদিসের অনুবাদ পড়ে হয়তো তথ্য জানতে পারবে, কিন্তু নামাজে কীভাবে মনোযোগ (খুশু-খুজু) আনতে হয়, কীভাবে রাগ দমন করতে হয়, কীভাবে অহংকার থেকে মুক্ত হতে হয়—তা কেবল একজন আধ্যাত্মিক শিক্ষকের প্র্যাক্টিক্যাল তত্ত্বাবধান ও ট্রেইনিংয়ের মাধ্যমেই শেখা সম্ভব।

নিজের বিচার-বুদ্ধি দিয়ে মনের ভেতরের সূক্ষ্ম অহংকার বা রিয়া ধরা সম্ভব নয়।

উপসংহার

অতএব, কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াসের আলোচনায় একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—ইবাদত যেমন শরীয়তের বিধান অনুযায়ী পালন করা অপরিহার্য, তেমনি অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা এবং চরিত্রকে সংশোধন করাও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। আর এই আত্মশুদ্ধির পথে অভিজ্ঞ ও আল্লাহমুখী মানুষের সোহবত মানুষের জন্য সহায়ক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।

পীর বা মুর্শিদ কোনো নতুন ইবাদত বা নতুন শরীয়ত নিয়ে আসেন না। তাঁর ভূমিকা হলো শরীয়তের বিধান অনুসরণে মানুষকে সহযোগিতা করা, নিজের নফসের ত্রুটি চিনতে সাহায্য করা এবং আল্লাহর দিকে অগ্রসর হওয়ার পথে আত্মিক প্রশিক্ষণ ও সোহবতের মাধ্যমে মুরিদকে পরিচালিত করা।
#মাইজভাণ্ডার_দরবার_শরীফ

 #মাইজভাণ্ডার_দরবার_শরীফ  #গাউসিয়া_হক_মনজিল
02/09/2026

#মাইজভাণ্ডার_দরবার_শরীফ
#গাউসিয়া_হক_মনজিল

27/08/2026

আউলাদে রাসুল ﷺ, মারাজাল বাহরাইন, মাজমাউল বাহরাইন, সিরাজুস সালেকীন, রুহুল আশেকীন,শামসুল আরেফীন, আশেকুল মাশেকীন, বিশ্বঅলি, শাহানশাহ্, শাহ্ সুফী হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী কাদ্দাসাস সির্রাহুল বারী প্রকাশ শাহানশাহ বাবাজান এর পবিত্র বার্ষিক ওরশ মোবারক মহান ২৬শে আশ্বিন আসতে আর মাত্র ৪৫ দিন বাকি।

মহান মুনিব যাতে আমাদের সুশৃঙ্খলভাবে, সুষ্ঠুভাবে দরবারে হাজিরার মাধ্যমে সকল কার্যক্রম সুসম্পন্ন করার তৌফিক দান করেন এই কামনা করি, আমিন।

মাইজভাণ্ডারী দর্শনের কর্মপন্থাউসুলে সাব'আ নামাকরণ বৈশিষ্ট্য----------------------------------------------মাইজভাণ্ডারী তর...
26/08/2026

মাইজভাণ্ডারী দর্শনের কর্মপন্থা
উসুলে সাব'আ নামাকরণ বৈশিষ্ট্য
----------------------------------------------

মাইজভাণ্ডারী তরিকতপন্থীদের সাতটি অনুশীলনীয় কর্মপন্থা ব্যক্তি মানসে পরিশুদ্ধি অর্জনে কার্যকর ও সহজে পালনীয় একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচির অবতারণা করা হয়েছে, এই পদ্ধতি সমূহকে সমম্বিতভাবে উসুলে সাব'আ বা সপ্তকর্ম পদ্ধতি শিরোনামে পরিচিহ্নিত করা হয়েছে।

সাত সংখ্যাটি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের মনোনীত ধর্ম ইসলামের ধর্মাচরণের নিয়ম বিধানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্ব সহকারে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। পবিত্র কোরআনপাকে বিভিন্ন পর্যায়ে 'সাত'- এর উল্লেখ রয়েছে-

১। "তোমাদের উপর সপ্তাকাশ বানাইয়া উজ্জ্বল প্রদীপ দিলাম।"- [সুরা আন্নাবা : ১২-১৩]।

২। "আপনাকে পুনঃআবৃত্ত সাত আয়াত ও কুরআন দিয়াছি।"- [সুরা আলহিজর : ৮৭]।

৩। "আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন সপ্ত আকাশ এবং পৃথিবী।"- [সুরা আত্ত্বালাক : ১২]।

৪। "তিনি সৃষ্টি করেছেন স্তরে স্তরে সপ্তাকাশ। দয়াময় আল্লাহর সৃষ্টিতে তুমি কোন খুঁত দেখতে পাবেনা; আবার তাকিয়ে দেখো কোন ত্রুটি পাও কি? অতঃপর তুমি বারবার দৃষ্টি ফিরাও সেই দৃষ্টি ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে তোমার দিকেই ফিরে আসবে।"- [সুরা আলমূলক : ৩-৪]।

৫। "আর আমিই তোমাদের উপর সাতটি পথ সৃষ্টি করেছি, বস্তুত: আমি সৃষ্টি সম্পর্কে অমনোযোগী নই।"- [সুরা আল মুমিনু'ন]।

৬। "অতঃপর সে ধোঁয়াগুলোকে দুইদিনে সাত আসমানে রূপান্তরিত করে দিলেন এবং প্রত্যেক আসমানকে তার কাজের নির্দেশ দিলেন।"- [সুরা সাজদাহ : ১২]।

৭। "যাহারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন ব্যয় করে তাহাদের উপমা একটি বীজ যাহা সাতটি শীষ উৎপন্ন করে এবং প্রত্যেক শীষ-এ একশত শষ্য বীজ হয়, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বৃদ্ধি করে দেন।"- [সুরা বাকারাহ : ২৬১]।

√ ইসলাম ধর্মের অন্যতম ফরজ পবিত্র হজ্বব্রত পালনে ওয়াহেদানিয়তের অস্তিত্ব অনুভবে মানবের মধ্যে প্রেরণা উজ্জীবণী 'কেবলা' আল্লাহর ঘর, পবিত্র কাবা শরীফ জেয়ারতের উদ্দেশ্য হজ্ব ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য সাতবার চক্রাকারে তাওয়াফের বিধান প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের পাদদেশেও সাতবার দৌড়ানোর বিধানও হজ্ব ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য অপরিহার্য আমল নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

√ 'উম্মুল কোরআন' অভিধায় পরিচিহ্নিত 'আফজল মোনাজাত', নামাযের প্রতি রাকাতে অনিবার্যভাবে পঠিতব্য 'সাবউল মাসানী' বা বার বার পঠিত সুরা ফাতেহা সর্বমোট সাতটি আয়াতে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

√ পবিত্র কোরআনে পাকে ৭নং সূরা আল আরাফের সর্বশেষ আয়াতে মহান আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের সর্বোচ্চ প্রকাশ প্রথম সিজদা প্রদানের অবকাশ তৈরি করে মোট ১৪টি [৭\২] সিজদা আদায়ের মাধ্যমে কোরআন খতমের পরিশুদ্ধ পন্থা নির্ধারণ করা হয়েছে।

√ পবিত্র কোরআন পাকে [৭×৩৩৯]= ২৩৭৩ বার বিসমিল্লাহ শব্দটি প্রয়োগ এবং সর্বমোট ১১৪টি সুরার মধ্যে [৭×৪]= ২৮টি মাদানী সুরা সন্নিবেশিত হয়েছে।

√ সামাজিক ক্ষেত্রে মুসলিম সমাজে সন্তান জন্মগ্রহণের সপ্তম দিবসে আকিকাহ অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে নামাকরণ (Identity) নির্ধারণের নবজাতকের ব্যবস্থা হয়ে থাকে।

√ পবিত্র কোরআনের বর্ণনায়ও আসহাবে কাহাফদের মধ্যে সাতজনের উল্লেখও রয়েছে।

√ সর্বসম্মত ও গ্রহণযোগ্যতায় পৃথিবীকে সাতটি মহাদেশে ভাগ করা হয়েছে।

√ কেবল মুসলিম ধর্মেই নয় অপরাপর ধর্মাচারীদের মধ্যেও সাত এর কল্যাণকামী অবস্থান বহুভাবে স্বীকৃত হয়ে এসেছে। হিন্দু ধর্মে বৈবাহিক সম্পর্কের পবিত্র বন্ধন সাতপাকে আবদ্ধ হওয়া।

√ সংগীত চর্চায় স্বরগ্রামে সাতটি সুরের সমাহার।

√ নভোমণ্ডলে সাতটি নক্ষত্রের সমবায়ে গঠিত সপ্তর্ষিমণ্ডল, সাতদিনে সপ্তাহ গননাসহ জীবনের চলার পথে বহু ক্ষেত্রে 'সাত'- এর সচেতন প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়।

ব্যক্তি বিবেচনায় মানবজীবনের অনেক ক্ষেত্রেই সৌভাগ্যপূর্ণ সংখ্যা (Lucky Seven) হিসাবে সর্বমহলে একটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা লাভে সমর্থ রয়েছে। গাউসুলআজম মাইজভাণ্ডারীর জীবনী ও কেরামত গ্রন্থে দ্বাদশ পরিচ্ছেদে বর্ণিত 'বেলায়তের প্রথম বিকাশ' পর্বে 'ফানা-আনিল-খাল্ক' এর নির্ভরতা সম্বলিত কেরামতে 'মান্না' 'সালওয়া' সম খোদায়ী মেহেরবানীর 'প্রথম ফতুহাত' মাইজভাণ্ডারী দর্শনের তাৎপর্যবহ সংখ্যা 'সাত'জন মেহমানকে সঙ্গে নিয়েই হুজুর গাউছুলআজম মাইজভাণ্ডারী (ক.) সেইদিন কবুল করেছিলেন।

বিশ্বাসবোধ একজন মানুষকে অন্তর্গতভাবে ও চারিত্রিক শুদ্ধতায় সামর্থবান করতে সক্ষম। মাইজভাণ্ডারী তরিকা বা দর্শন অনুশীলনকারীকে অন্তর্গতভাবে সমৃদ্ধ ও ঋদ্ধ করাতে কার্যকরভাবে সহায়ক। সাতটি স্বতন্ত্র এবং সম্পূরক কর্মপন্থায় সন্নিবেশিত হয়ে গাউছুলআজম মাইজভাণ্ডারী হযরত মাওলানা শাহসুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.) কর্তৃক প্রবর্তিত মাইজভাণ্ডারী দর্শনের এই নির্দেশনা সমূহ উল্লেখিত হয়েছে বলেই মাইজভাণ্ডারী তরিকার স্বাতন্ত্র্য নির্ণায়ক চিহ্নিত এই কর্মপন্থাকে "'সুলে সাব'আ' বা সপ্তকর্ম পদ্ধতি নামাকরণ করা হয়েছে।

#মাইজভাণ্ডার_দরবার_শরীফ
#গাউসিয়া_হক_মনজিল

✅ আজ দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার পাতা-০৫ এ প্রকাশিত:🕐 ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি ২৬ অগাস্ট ২০২৬ বুধবার📍 ‘পবিত্র ঈদে মিলাদুন্ন...
26/08/2026

✅ আজ দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার পাতা-০৫ এ প্রকাশিত:
🕐 ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি ২৬ অগাস্ট ২০২৬ বুধবার
📍 ‘পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ উদযাপন উপলক্ষে ‘এস জেড এইচ এম ট্রাস্ট’-এর ব্যবস্থাপনায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত

24/08/2026

আপনারা লক্ষ্য করলে দেখবেন এই ফরিয়াদ থেকে সমগ্র পৃথিবীর কেউ বাদ পরে না! গত শুক্রবার সকলের শান্তি কামনায় মুনাজাতের দৃশ্য এটি।

#মাওলা_হুজুর
#ফরিয়াদ

Address

Jobberhat, Hathazari
Chittagong
4333

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ, জব্বার হাট শাখা, চট্টগ্রাম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category