15/08/2026
১ - শাহাদাত সাহেবকে ধন্যবাদ আমার আপলোড করা অফিস অর্ডারটা যে সত্য, তা স্বীকার করে নেয়ায়। সত্য না হলে তো আর সেটা বাতিলের জন্য তাড়াহুড়া করে ব্যাক-ডেট দিয়ে একটি জগাখিচুড়ি মার্কা ফেইক অফিস অর্ডার তৈরি করার প্রয়োজন পড়তো না, তাও গতকাল শুক্রবারে, যেদিন সিটি কর্পোরেশন অফিসই বন্ধ।
২ - আপনার অনুমতি ছাড়াই কি প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ঐ অফিস অর্ডারটি সার্কুলেট করেছিলো? তাহলে তো আপনার যোগ্যতা নিয়ে আপনি নিজেই প্রশ্ন তুলছেন। যার অধীনস্থ কর্মকর্তা নিজের ইচ্ছা মতো অফিস অর্ডার জারি করে দেয়, যাকে তাকে চাঁদাবাজির অনুমতি দিয়ে দেয়, তার তো মেয়রের চেয়ারে বসার কোনো যোগ্যতাই নাই। সিটি কর্পোরেশন আপনার হাতে নাই, বস। আল্লাহর ওয়াস্তে এই প্রতিষ্ঠান চলছে, আর চলছে আপনার দুর্নীতি।
৩ - যদি প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আপনার অনুমতি ছাড়াই এ কাজ করে থাকে, তাহলে আপনি তাকে এই সাত মাসে সাসপেন্ড করলেন না কেন? কেন তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করলেন না? কেন তাকে শো-কজ করলেন না? যদি আসলেই আপনার অগোচরে এই কাজ করে থাকে, তাহলে এসব তো ২২ জানুয়ারিতেই আপনার করার কথা।
৪ - প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা যদি নিজে নিজেই কাউকে রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দিয়ে থাকে, তাহলে সেটা তিনি নিজের আত্মীয়-স্বজন বা কাছের মানুষকে দেয়ার কথা। তিনি সেই দায়িত্ব কেন আপনারই অনুসারী বিএনপির কর্মীদের দেবে? তাহলে তো প্রশ্ন ওঠেই, তিনি নিজে থেকে সেই দায়িত্ব দিয়েছেন কি না। নাকি আপনিই এখন তাকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছেন?
৫ - রাজস্ব আদায়ের জন্য সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব টিম আছে, মেজিস্ট্রেট আছে। সেখানে এরকম একটা সেনসিটিভ ও জরুরি কাজ কেন বিএনপির কর্মীদের দেয়া হয়েছিলো? কোন আইনে তাদেরকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে? যদি একদিনের জন্যও এরকম কাউকে রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেয়া হয়, তা অবৈধ এবং এর জন্য আপনাকেই শাস্তির মুখে পড়তে হবে। কারণ, এটা পুরোটাই চসিকের নিজস্ব সিটি কর্পোরেশন আইন, ২০০৯-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন।
৬ - আপনার ভাষ্যমতে, দশ দিন পর নতুন অফিস অর্ডার জারি করে খাস কালেকশনের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। এই দশ দিনের হিসাব কই? ১২ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত কত টাকা আদায় হয়েছে? কতগুলো রসিদ ইস্যু হয়েছে? যাদের থেকে টাকা তোলা হয়েছে তাদের ট্রেড লাইসেন্স আছে? কোন হিসাব খাতে টাকা জমা হয়েছে? কোন তারিখে কর্পোরেশনের ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হয়েছে? চালান নম্বর কত? এই দশ দিনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করুন।
আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, এক দিনের খাস কালেকশনের টাকাও সিটি কর্পোরেশনে জমা দেয়া হয়নি।
৭ - যদি খাস কালেকশনের অনুমতি বাতিল হয়েই থাকে, তাহলে আপনার কর্মীরা এখনো কিভাবে টাকা উঠিয়ে যাচ্ছে? সেটা কি তাহলে? সিটি কর্পোরেশনের ভেতরকার খবর তো বলছে, অনুমতি এখনো বহাল আছে। অবশ্য, ফেসবুকে ছড়ানো ফেইক ডকুমেন্ট দিয়ে তো এমনিতেও অনুমতি বাতিল হয় না। এই অনিয়ম ও দুর্নীতির জবাব দিতে হবে আপনাকে।
৮ - নতুন আপলোড করা আপনার অফিস অর্ডারটি যে ফেইক, সেটা তো এর চেহারা দেখলেই বুঝা যায়। প্রথম অফিস অর্ডারটির সাথে দৃশ্যগতভাবে দ্বিতীয় অর্ডারটির কি কোনো মিল আছে? কি কি অমিল আছে তা আমি বিষদে উল্লেখ করছি -
* প্রথম অফিস অর্ডারে ‘বিষয়’ ও ‘সূত্র’ উল্লেখ করা হয়েছে, যা অরিজিনাল অফিস অর্ডারের ফর্ম্যাট। কিন্তু দ্বিতীয়টিতে এসব কিছুই নাই। তাছাড়া, প্রথম অর্ডারে স্মারক নম্বরের সাথে দ্বিতীয়টায় রেফারেন্স হিসেবে দেয়া আগের স্মারক নম্বরের হাইফেন, ডট - এসব মিলে না কেন?
* প্রথমটায় যাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো, তাদেরকে অনুলিপি দেয়া হয়েছে। যারা যারা এসব অর্ডারে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাদেরকে অনুলিপি দেয়াটাই নিয়ম। কিন্তু দ্বিতীয়টায় কোনো অনুলিপি দেয়া হয়নি কেন?
* প্রথমটায় প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার সাক্ষরের নিচে তার নাম আছে, পদবির পাশে তার পদমর্যাাদা (উপসচিব) দেয়া আছে, দ্বিতীয়টিতে নেই কেন? তাড়াহুড়ায় ভুলে গিয়েছেন মনে হয়!
* স্মারক নম্বরের সাথে মিলিয়ে আপনি রেজিস্টার কপিটাও একটু জনসমক্ষে দেখান। যদি ব্যাক ডেইটে এই জিনিস বানানো না হয়, তাহলে রেজিস্টারে কোনো ঘষামাজা বা কাটাকুটি থাকবে না। আপনি যদি সৎ হয়ে থাকেন, দেখান।
* সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী, আগের কোনো আদেশ ভুলবশত বা বেআইনিভাবে জারি হলে নতুন আদেশে বাতিল করার সময় লিখতে হয় - "কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে" অথবা "অনিবার্য কারণবশত/প্রশাসনিক ভুলের কারণে আগের আদেশ বাতিল করা হলো"। কিন্তু দ্বিতীয় আদেশে সরাসরি বলা হয়েছে "ইহা কর্পোরেশনের স্বার্থে জারি করা হলো"। একটি বেআইনি আদেশ জারি করার পর তা বাতিলের সময় "কর্পোরেশনের স্বার্থে" বলে দিলেই সেটা অফিস অর্ডার হয়ে যায় না।