08/09/2026
*সংকটে
*সংগ্রামে
*কঠিন সময়ে..
#জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে বিশ্বস্ত কর্মী ও সহচর হিসেবে পাশে থাকার নাম বীর চট্টলার অহংকার,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১নং যুগ্ম.সাধারণ সম্পাদক এবং সফল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ এম'পি মহোদয় #
Mohammed Hasan Mahmud
আজকাল অনেকের ফেসবুক পোস্ট, অপপ্রচার ও বিভিন্ন মন্তব্য দেখলে সত্যিই কষ্ট লাগে। বিশেষ করে ৫ আগস্ট ২০২৪-এর কঠিন সময়ের বাস্তবতা ভুলে গিয়ে আজ যখন দুঃসময়ে দলের পাশে থাকা নেতাদের নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—আমরা কি সত্যিই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়েছি?
কারও রাজনৈতিক মূল্যায়ন শুধু ফেসবুকের পোস্ট, কমেন্ট কিংবা অপপ্রচারের ভিত্তিতে হওয়া উচিত নয়। বরং ফিরে দেখা উচিত—দুঃসময়ে কে কোথায় ছিলেন, কে দলের পাশে ছিলেন এবং কে দায়িত্ব নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
🔴 দলের তিন কঠিন সময়ে জননেতা ড. হাছান মাহমুদের ভূমিকা
১️⃣ ওয়ান-ইলেভেনের দুঃসময় — যখন দুই নেত্রী কারাগারে
দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাসে ওয়ান-ইলেভেন ছিল এক কঠিন ও অনিশ্চিত সময়। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যখন কারাগারে, তখন আওয়ামী লীগের জন্যও ছিল চরম প্রতিকূল সময়।
সেই কঠিন সময়ে দল ও আদর্শের প্রতি একাগ্র থেকে জননেতা ড. হাছান মাহমুদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক চাপ, প্রতিকূলতা ও নানা ঝুঁকির মধ্যেও দলের প্রতি তাঁর অবস্থান ছিল দৃঢ় ও পরীক্ষিত।
২️⃣ ২১ আগস্টের রক্তাক্ত দিন — নিজেই গ্রেনেড হামলার শিকার
২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা ছিল আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার এক ভয়াবহ অপচেষ্টা।
সেই বর্বর হামলায় জননেতা ড. হাছান মাহমুদ নিজেও গ্রেনেড হামলার শিকার হন। ভয়াবহ সেই হামলার ক্ষত আজও তিনি শরীরে বহন করে চলেছেন। শরীরে এখনো ৪০টিরও বেশি স্প্লিন্টার বহন করে তিনি সেই দিনের ভয়াবহ স্মৃতি ও শারীরিক কষ্ট নিয়ে জীবনযাপন করছেন।
নিজের শরীরে সেই ক্ষত ও যন্ত্রণা বহন করার পরও দল, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি তাঁর একাগ্রতা ও দায়িত্ববোধে কখনো ছেদ পড়েনি।
৩️⃣ ২০২৪-এর জুলাই–আগস্ট — যখন দল সবচেয়ে কঠিন সংকটে
১৮ জুলাইয়ের পর পরিস্থিতি যখন ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছিল, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, এমপি, মন্ত্রীসহ অনেকেই যখন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দেশ ছাড়তে শুরু করেছিলেন, ঠিক সেই সময়ে বিদেশ সফর শেষে ৩ আগস্ট ২০২৪—সরকার পতনের মাত্র দুই দিন আগে—দেশে ফিরেছিলেন বীর চট্টলার অহংকার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সফল পররাষ্ট্রমন্ত্রী জননেতা ড. হাছান মাহমুদ এমপি।
তিনি চাইলে অন্য অনেকের মতো নিরাপদ দূরত্বে থাকতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। দল, আদর্শ ও প্রিয় নেত্রীর প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কঠিন সময়েও দেশে ছিলেন।
পরবর্তীতে নিরাপদে দেশ ত্যাগ করতে সক্ষম হলেও তাঁর দায়িত্ব শেষ হয়নি। দেশের বাইরে থেকেও তিনি তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের পাশে থেকেছেন—অসহায় নেতা-কর্মীদের আর্থিক সহযোগিতা, প্রয়োজনীয় আইনজীবী সহযোগিতা, নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া, বিপদগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো এবং সাংগঠনিকভাবে দলকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━
⭐ তিন দুঃসময়, এক পরীক্ষিত অবস্থান
━━━━━━━━━━━━━━━━━━
ওয়ান-ইলেভেনের সংকট → ২১ আগস্টের রক্তাক্ত আঘাত → ২০২৪-এর জুলাই–আগস্টের ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকট
সময় বদলেছে, পরিস্থিতি বদলেছে; কিন্তু দল, আদর্শ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি তাঁর একাগ্রতা ও দায়িত্ববোধের জায়গাটি বদলায়নি।
আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—একজন ছাত্রনেতা থেকে যুবনেতা, আর যুবনেতা থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা হওয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পাড়ি দিয়েও তিনি আজও তাঁর শেকড় ও আদর্শের জায়গা থেকে বিচ্যুত হননি।
আজও তাঁর কণ্ঠে আমরা শুনতে পাই আমাদের প্রিয় স্লোগানগুলো—
“শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনা”
“ঝড়-বৃষ্টি আধার রাতে, শেখ হাসিনা তোমার সাথে”
“তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা”
“তোমার আমার ঠিকানা, শেখ হাসিনার ঠিকানা”
“জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।”
এই স্লোগানগুলো যখন তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত হয়, তখন আমরা যারা তরুণ প্রজন্মের ছাত্রনেতা ও আওয়ামী লীগের কর্মী, তাঁর কণ্ঠস্বরের মধ্যে নতুন করে সাহস খুঁজে পাই, উজ্জীবিত হই, অনুপ্রেরণা পাই। তাঁর কণ্ঠের দৃঢ়তা আমাদের কাছে শুধু একটি স্লোগান নয়—এটি কঠিন সময়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি শক্তি ও প্রেরণার উৎস।
সুসময়ে পাশে থাকার মানুষের অভাব হয় না। কিন্তু দুঃসময়ে যে পাশে থাকে, ঝুঁকি নেয় এবং দলের জন্য নিজের অবস্থানকে অটুট রাখে—সেই নেতৃত্বই প্রকৃত পরীক্ষিত নেতৃত্ব।
ইউরোপের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত, আমেরিকা থেকে ভারত—দলের জন্য, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের জন্য তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে দুঃসময়ের শুরু থেকেই গণমাধ্যমের সামনে এসে দলের পক্ষে কথা বলার ক্ষেত্রেও তিনি অন্যতম সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
তাই ফেসবুকের পোস্ট, কমেন্ট কিংবা অপপ্রচারের ভিত্তিতে নয়—ইতিহাসের কঠিন সময়গুলোতে একজন নেতার ভূমিকা বিবেচনা করেই তাঁর রাজনৈতিক মূল্যায়ন হওয়া উচিত।
আমাদের বিশ্বাস, ত্যাগ, অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং দুঃসময়ে দলের প্রতি পরীক্ষিত আনুগত্যের বিবেচনায় জননেতা ড. হাছান মাহমুদ এমপি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদের একজন যোগ্য দাবিদার।
ইতিহাস একদিন অবশ্যই হিসাব করবে—
কে দুঃসময়ে পাশে ছিলেন,
কে দলের জন্য ঝুঁকি নিয়েছিলেন,
আর কে নিরাপদ দূরত্বে ছিলেন।
দুঃসময়ের পরীক্ষিত নেতৃত্বই দলের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
জয় বাংলা।
জয় বঙ্গবন্ধু
জয়তু শেখ হাসিনা।