06/08/2026
তোমরা শফিকুল ইসলাম মাসুদকে চিনো? রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক বিপ্লবী শিবির সভাপতিকে চিনো? বক্তৃতা ও বাকপটুতার গুণে গুণান্বিত শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতিকে চিনো? দিজ ইজ পটুয়াখালীর এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
আজকে সচিবালয়ে ঘেরাও কর্মসূচিতে শফিকুল ইসলাম মাসুদকে অনেকে নতুন করে চিনেছে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণের দাবিতে জামায়াত জোট সংশ্লিষ্ট সচিবালয়ে ঘেরাও কর্মসূচি আয়োজন করে। স্বয়ং আমীরে জামায়াত জেনজি স্টাইলে সচিবালয় ঘেরাও করেন। সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, কর্ণেল অলি, হামিদুর রহমান আজাদ ও নাহিদ ইসলাম- কে না ছিল সেখানে।
আমীরে জামায়াত আজকে শান্তিপূর্ণভাবে ঘেরাও কর্মসূচি আয়োজনের পক্ষে ছিলেন। তাই, সচিবালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চেয়েছিলেন। কারণ, প্রথমদিনেই এরকম তীব্র আন্দোলনে যাওয়া কল্যাণকর নয়। কিন্তু সবার অবস্থানকে একসাইডে রেখে বিপ্লবী শফিকুল ইসলাম মাসুদ আজকেই সচিবালয়ে প্রবেশ করতে জোরাজোরি করেছিলেন। আজকেই তিনি জনগণের কষ্ট লাঘবের সুরাহা করবেন। জনগণের কষ্ট আর একদিনও দেখতে আগ্রহী না। তাই, আমীরকে বললেন, আপনারা চলে যান। আমরাই সচিবালয়ে প্রবেশ করবো। আজকেই এর সুরাহা করবো।
দাদুর উপরে জোরাজোরি করার কারণে দাদু একটু শাসন করেছেন। হামিদুর রহমান আজাদ সাহেবও যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন- তাঁকে শান্ত করার জন্য। থমথমে পরিস্থিতি। আমীরে জামায়াতের শাসনটা একেবারে দাদুর স্টাইলে হয়েছে। পুলিশের বিপরীতে জেনজি স্টাইলে সচিবালয়ে ঘেরাও করতে গিয়েছেন। আবার শাসনের সময় দাদুর স্টাইলে শাসন করেছেন। পাশাপাশি প্রোগ্রাম শেষে সবার সামনে কপালে চুমু দিয়ে স্নেহময় পরিবেশও সৃষ্টি করেছেন। আর এই গুণাবলির জন্যই আমীরে জামায়াত সেরাদের সেরা।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ আমীরে জামায়াতকে খুবই সমীহ করেন। বিভিন্ন জায়গায় আমীরে জামায়াতের ভ্যানগার্ড হিসাবে নিরাপত্তা বাহিনীর মতো আচরন করেন। একদিকে বিপ্লবী; আরেকদিকে ছোট বাচ্চার মতো কাঁদোনি। ত্যাগ কুরবানির দিকেও বেশ পরীক্ষিত। কোনদিকে তাঁর রিচ নেই? সবদিকেই আছে। ইন্টারেস্টিং বিষয় হচ্ছে, মাসুদ সাহেবের ২০০৬ সালের একটা বক্তব্য আমাকে ব্যাপকভাবে মোটিভেট করেছে। সংগঠনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে বক্তব্যটা যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে। শতবারের অধিক শুনেছি।
যাইহোক, শফিকুল ইসলাম মাসুদ আজকে জনগণের দুঃখকষ্টে কাতর হয়ে এরকম আচরণ করেছেন। তিনি জনদরদী। জনগণের কষ্টকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেন না। তাই, আমীরের সিদ্ধান্তের বিপরীতে অবস্থান নিতে গিয়েছিলেন। যদিও পরক্ষণেই আমীরের আনুগত্য মেনে নিয়েছেন। এটা গুড সাইন। সর্বোপরি, তিনি আমীরের অবাধ্য হননি। বরং আমীরে স্নেহের স্পর্শ পেয়েছেন। শুকরিয়া।