16/04/2026
সমাজ যখন ক্রমশ অনিরাপদ হয়ে উঠছে, তখন কোমলমতি শিশুদের সুরক্ষায় এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। পাঠ্যপুস্তকের বাঁধাধরা নিয়মের বাইরে গিয়ে তিনি বাচ্চাদের শেখাচ্ছেন কোনটি ‘স্নেহের স্পর্শ’ আর কোনটি ‘কু-মতলব’। তাঁর এই প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।
কেন এই ক্লাস জরুরি?
আমাদের চারপাশে সুযোগ সন্ধানী মানুষের অভাব নেই। অনেক সময় আদর করার ছলে বা কোলে নেওয়ার নাম করে শিশুদের শরীরে আপত্তিকর স্পর্শ করা হয়। শিশুরা ছোট হওয়ায় কোনটি ভালোবাসা আর কোনটি লালসা—তা বুঝতে পারে না। শিক্ষিকা তাঁর ক্লাসে খুব সহজভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছেন শরীরবৃত্তীয় সেই পার্থক্যগুলো, যাতে বাচ্চারা শুরুতেই সতর্ক হতে পারে এবং এমন পরিস্থিতিতে ‘না’ বলতে শেখে।
এত চমৎকার একটি উদ্যোগের পরও কিছু মানুষ নেতিবাচক মন্তব্য করতে ছাড়ছেন না। আসলে সত্য এটাই যে, যারা এই সচেতনতামূলক ক্লাসকে বাঁকা চোখে দেখছেন, সম্ভবত তাঁরাও সেই ‘ব্যাড টাচ’ মানসিকতারই লোক। শিশুদের সুরক্ষার এই বার্তাকে যারা বিতর্কিত করতে চায়, তারা মূলত সমাজের শত্রু।
ম্যাডাম যে কাজটি করেছেন, সেটি কেবল একটি ক্লাস নয়—এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। আমাদের দেশে শৈশবে যৌ*ন নি*র্যাতনের হার কমাতে এমন উদ্যোগ প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেওয়া উচিত। শিক্ষক মানেই শুধু বইয়ের পাতা ওল্টানো নয়, বরং জীবনমুখী শিক্ষা দেওয়া। সমালোচনা থাকবেই, কিন্তু শিশুদের উজ্জ্বল ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য এই ম্যাডামদের মতো সাহসী শিক্ষকদের আজ বড্ড প্রয়োজন।
প্রশংসার দাবিদার এই শিক্ষিকা আজ সমাজের চোখ খুলে দিয়েছেন। সমালোচনা এড়িয়ে তিনি তাঁর কাজ চালিয়ে যাবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
একটাই কথা: আদরের নামে কু-দৃষ্টি আর নয়! গুড টাচ ও ব্যাড টাচ চিনে নিয়ে জয়ী হোক আগামীর শিশুরা। ম্যাডাম, আপনার এই সাহসী ক্লাসই হোক শিশুদের বর্ম। শিক্ষিকার অনন্য উদ্যোগ বনাম সংকীর্ণ মানসিকতা! শিশুদের সুরক্ষায় নতুন পাঠ। ব্যাড টাচ থেকে সাবধান। আপনি আপনার কাজ চালিয়ে যান, শুভকামনা!
আপনার কি মনে হয় না, প্রতিটি স্কুলে সপ্তাহে অন্তত একদিন শিশুদের এমন ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে ক্লাস নেওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত? আপনার মতামত জানান।
পোস্টটি জনগুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন।
@সংগৃহীত।