علم

علم المكتبة الرقمية
Digital library

সত্যের সন্ধানে(পর্ব–৩/৫)আদম (আ.) থেকে মুহাম্মদ (ﷺ)-আল্লাহপ্রদত্ত দ্বীনের ধারাবাহিক ইতিহাসঃমানবজাতির প্রথম মানুষ ও প্রথম ...
03/08/2026

সত্যের সন্ধানে
(পর্ব–৩/৫)
আদম (আ.) থেকে মুহাম্মদ (ﷺ)-
আল্লাহপ্রদত্ত দ্বীনের ধারাবাহিক ইতিহাসঃ

মানবজাতির প্রথম মানুষ ও প্রথম নবী ছিলেন আদম (আ.)। তাঁর মাধ্যমেই এক আল্লাহর ইবাদত (তাওহীদ)-এর শিক্ষা শুরু হয়। মানুষ যখন সত্যপথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তখন আল্লাহ যুগে যুগে নবী ও রাসূল প্রেরণ করে একই আহ্বান জানিয়েছেন— "আর অবশ্যই আমি প্রত্যেক জাতির কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছি (এই নির্দেশ দিয়ে যে), ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগূতকে বর্জন করো।’"
— সূরা আন-নাহল, ১৬:৩৬

আরও বলেন— "আপনার পূর্বে আমি যে রাসূলই প্রেরণ করেছি, তার কাছে এ ওহীই পাঠিয়েছি যে, ‘আমি ছাড়া কোনো (সত্য) উপাস্য নেই; সুতরাং তোমরা শুধু আমারই ইবাদত করো।’"
— সূরা আল-আম্বিয়া, ২১:২৫

কুরআনে উল্লেখিত ২৫ জন নবীর সম্ভাব্য কালানুক্রমিক ধারাবাহিকতা

১. আদম (আ.)
মানবজাতির প্রথম মানুষ ও প্রথম নবী। আল্লাহ তাঁকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেন, সব বস্তুর নাম শিক্ষা দেন এবং পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি (খলিফা) হিসেবে প্রেরণ করেন। ইবলিস তাঁকে সিজদা করতে অস্বীকার করে অহংকার প্রদর্শন করে। পরে শয়তানের প্ররোচনায় নিষিদ্ধ গাছের ফল খাওয়ার পর আল্লাহ তাঁদের পৃথিবীতে পাঠান এবং তাঁদের তাওবা কবুল করেন।

২. ইদরীস (আ.)
তিনি ছিলেন সত্যবাদী (সিদ্দীক), ধৈর্যশীল ও আল্লাহর অনুগত বান্দা। আল্লাহ তাঁকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেন।

৩. নূহ (আ.)
তিনি তাঁর জাতির মধ্যে ৯৫০ বছর অবস্থান করে তাওহীদের দাওয়াত দেন। অল্পসংখ্যক মানুষ ঈমান আনে। আল্লাহর নির্দেশে তিনি নৌকা নির্মাণ করেন। মহাপ্লাবনে অবাধ্যরা ধ্বংস হয়; এমনকি তাঁর স্ত্রী ও এক পুত্রও ঈমান না আনায় রক্ষা পায়নি।

৪. হূদ (আ.)
তিনি 'আদ জাতির কাছে প্রেরিত হন। তারা শক্তি ও সম্পদের অহংকারে আল্লাহকে অস্বীকার করেছিল। অবশেষে আল্লাহ প্রবল ঝঞ্ঝাবায়ুর মাধ্যমে তাদের ধ্বংস করেন।

৫. সালিহ (আ.)
তিনি সামূদ জাতির নবী ছিলেন। আল্লাহ তাদের জন্য উটনীকে একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে পাঠান। তারা উটনীকে হত্যা করলে আল্লাহ তাদের ওপর ভয়াবহ শাস্তি নাযিল করেন।

৬. ইবরাহিম (আ.)
তিনি ছিলেন তাওহীদের মহান দাঈ ও খলিলুল্লাহ। মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করায় তাঁকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হলেও আল্লাহ আগুনকে তাঁর জন্য শীতল ও নিরাপদ করে দেন। আল্লাহর নির্দেশে পুত্র ইসমাঈল (আ.)-কে সঙ্গে নিয়ে কাবার প্রাচীন ভিত্তির ওপর কাবা পুনর্নির্মাণ করেন।

৭. লূত (আ.)
তিনি সাদূমবাসীদের কাছে প্রেরিত হন। তাদের অশ্লীলতা ও সমকামিতার মতো পাপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। অবাধ্য জাতি ধ্বংস হয় এবং তাঁর স্ত্রীও অবাধ্যদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় রক্ষা পাননি।

৮. ইসমাঈল (আ.)
তিনি ইবরাহিম (আ.)-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও একজন সম্মানিত নবী। কাবা পুনর্নির্মাণে পিতাকে সহযোগিতা করেন। কুরবানির কঠিন পরীক্ষায় আল্লাহর আদেশের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন এবং নিজ পরিবারকে সালাতের নির্দেশ দিতেন।

৯. ইসহাক (আ.)
তিনি ইবরাহিম (আ.)-এর পুত্র ও সম্মানিত নবী। তাঁর বংশ থেকেই পরবর্তীতে বনী ইসরাঈলের বহু নবীর আগমন ঘটে।

১০. ইয়াকূব (আ.)
তিনি ইসরাঈল নামে পরিচিত। বনী ইসরাঈলের বারো গোত্রের পূর্বপুরুষ। ইউসুফ (আ.)-এর বিচ্ছেদে দীর্ঘদিন ধৈর্য ধারণ করেন; পরে আল্লাহ তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন।

১১. ইউসুফ (আ.)
তিনি ধৈর্য, সততা, পবিত্রতা ও ক্ষমার অনন্য দৃষ্টান্ত। স্বপ্নের ব্যাখ্যার মাধ্যমে মিসরকে দুর্ভিক্ষ থেকে রক্ষার পরিকল্পনা করেন এবং আল্লাহ তাঁকে উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেন।

১২. শু'আইব (আ.)
তিনি মাদইয়ান জাতির কাছে প্রেরিত হন। ওজনে-পরিমাপে প্রতারণা ও অর্থনৈতিক দুর্নীতি থেকে মানুষকে সতর্ক করেন। অবাধ্য জাতি আল্লাহর শাস্তিতে ধ্বংস হয়।

১৩. আইয়ূব (আ.)
দীর্ঘ রোগ, সম্পদ ও সন্তান হারানোর পরীক্ষায়ও ধৈর্য ধারণ করেন। আল্লাহর নির্দেশে তিনি সুস্থতা লাভ করেন এবং পূর্বের চেয়েও অধিক নেয়ামত লাভ করেন।

১৪. যুল-কিফল (আ.)
কুরআনে তাঁকে ধৈর্যশীল, সৎকর্মপরায়ণ ও নেককারদের অন্তর্ভুক্ত বলা হয়েছে। তাঁর জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য কুরআনে উল্লেখ নেই।

১৫. মূসা (আ.)
আল্লাহ তাঁকে তাওরাত দান করেন। ফেরাউনের বিরুদ্ধে সত্যের সংগ্রাম করেন এবং বনী ইসরাঈলকে মুক্ত করেন। আল্লাহ তাঁর হাতে বহু মুজিযা প্রকাশ করেন; যেমন লাঠি সাপে পরিণত হওয়া ও সমুদ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়া।

১৬. হারূন (আ.)
তিনি মূসা (আ.)-এর ভাই ও সহকারী নবী। মূসা (আ.) তূর পাহাড়ে গেলে তিনি বনী ইসরাঈলের নেতৃত্ব দেন এবং তাদের সংশোধনের চেষ্টা করেন।

১৭. দাউদ (আ.)
তিনি ছিলেন নবী ও ন্যায়পরায়ণ শাসক। আল্লাহ তাঁকে যাবূর দান করেন। তিনি জালুতকে পরাজিত করেন এবং আল্লাহ তাঁর জন্য লোহা নরম করে দেন।

১৮. সুলাইমান (আ.)
তিনি দাউদ (আ.)-এর পুত্র। আল্লাহ তাঁকে বিরাট রাজত্ব দান করেন এবং জিন, বাতাস ও পাখিদের অনুগত করে দেন। সাবার রাণী তাঁর দাওয়াতে সাড়া দিয়ে আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ করেন।

১৯. ইলিয়াস (আ.)
তিনি বনী ইসরাঈলকে 'বা'ল' নামক মূর্তির উপাসনা ত্যাগ করে এক আল্লাহর ইবাদতের আহ্বান জানান।

২০. আল-ইয়াসা (আ.)
তিনি বনী ইসরাঈলের একজন নবী ছিলেন। কুরআনে তাঁকে সৎ ও নির্বাচিত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

২১. ইউনুস (আ.)
তিনি নিনেভেহবাসীদের কাছে প্রেরিত হন। আল্লাহর চূড়ান্ত অনুমতির পূর্বেই নিজ জাতিকে ছেড়ে চলে যাওয়ায় মাছের পেটে পরীক্ষার সম্মুখীন হন। সেখানে তিনি, "লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ-জালিমীন"—এই দোয়া করেন। আল্লাহ তাঁর তাওবা কবুল করেন এবং পরে তাঁর জাতি ঈমান আনলে তাদের থেকে শাস্তি প্রত্যাহার করে নেন।

২২. যাকারিয়া (আ.)
বৃদ্ধ বয়সে ও স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব সত্ত্বেও তিনি আল্লাহর কাছে নেক সন্তান প্রার্থনা করেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করে ইয়াহইয়া (আ.)-এর সুসংবাদ দেন।

২৩. ইয়াহইয়া (আ.)
তিনি যাকারিয়া (আ.)-এর পুত্র। আল্লাহ তাঁকে শৈশবেই প্রজ্ঞা দান করেন। তিনি পবিত্র চরিত্র, সংযম ও আল্লাহভীতির জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন।

২৪. ঈসা (আ.)
আল্লাহ তাঁকে ইনজিল দান করেন এবং বহু মুজিযা প্রদান করেন। আল্লাহর অনুমতিতে তিনি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করতেন এবং মৃতকে জীবিত করতেন। তাঁকে হত্যা বা ক্রুশবিদ্ধ করা হয়নি; বরং আল্লাহ তাঁকে নিজের কাছে উঠিয়ে নেন।

২৫. মুহাম্মদ (ﷺ)
তিনি সর্বশেষ নবী ও রাসূল (খাতামুন নবিয়্যীন)। আল্লাহ তাঁর ওপর পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ করেন, যা তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ ও চিরস্থায়ী মুজিযা। বিদায় হজ্জে আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করেন। তাঁর পরে আর কোনো নবী আসবেন না।

সুতরাং বুঝা যায় যেঃ
আদম (আ.) থেকে মুহাম্মদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর মূল দাওয়াত ছিল একটাই—এক আল্লাহর ইবাদত, শিরক বর্জন, ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং আখিরাতের প্রস্তুতি। শরীয়তের কিছু বিধান পরিবর্তিত হলেও তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাতের বিশ্বাস সর্বদা অপরিবর্তিত থেকেছে।

পরবর্তী পর্বেঃ
হিন্দুধর্ম, ইহুদিধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, খ্রিস্টধর্ম, ইসলামসহ বিশ্বের প্রধান ধর্মগুলোর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি ধর্মগুলোর মৌলিক পার্থক্য, ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কেন আলাদা, এবং সত্যের সন্ধানে একজন অনুসন্ধানীর নিরপেক্ষভাবে কীভাবে এগোনো উচিত—তা সংক্ষেপে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

﷽আসমাউল হুসনাঃ ২৬-৩০
22/07/2026


আসমাউল হুসনাঃ ২৬-৩০

সত্যের সন্ধানে(পর্ব–২/৫)পৃথিবীতে কতটি ধর্ম? প্রচলিত ধর্ম, আহলে কিতাব ও আল্লাহর মনোনীত দ্বীনপৃথিবীতে ঠিক কতটি ধর্ম রয়েছে...
14/07/2026

সত্যের সন্ধানে
(পর্ব–২/৫)
পৃথিবীতে কতটি ধর্ম? প্রচলিত ধর্ম, আহলে কিতাব ও আল্লাহর মনোনীত দ্বীন

পৃথিবীতে ঠিক কতটি ধর্ম রয়েছে, তার নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। বিভিন্ন গবেষণা ও বিশ্বকোষ অনুযায়ী বর্তমানে পৃথিবীতে বড়, ছোট ও আদিবাসী বিশ্বাসব্যবস্থা মিলিয়ে প্রায় ৪,০০০-এরও বেশি ধর্ম, উপধর্ম ও বিশ্বাসপ্রথার উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে এর মধ্যে অল্প কয়েকটি ধর্মের অনুসারীর সংখ্যাই বিশ্বব্যাপী উল্লেখযোগ্য।

বর্তমানে প্রচলিত অধিকাংশ ধর্ম ও বিশ্বাসব্যবস্থা ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তি, জাতি ও সংস্কৃতির প্রভাবে গড়ে উঠেছে অথবা পূর্ববর্তী বিশ্বাস ও ঐতিহ্য থেকে বিবর্তিত বা পরিবর্তিত হয়েছে। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহপ্রদত্ত দ্বীনের বাইরে প্রচলিত ধর্মগুলোর অনেকগুলো মানুষের সংযোজন, পরিবর্তন বা বিকৃতির মাধ্যমে বর্তমান রূপ লাভ করেছে।

ইসলামের দৃষ্টিতে আল্লাহ মানবজাতিকে পথভ্রষ্ট অবস্থায় ছেড়ে দেননি। তিনি যুগে যুগে অসংখ্য নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছেন। কুরআনে বলা হয়েছে, "এমন কোনো জাতি নেই, যার কাছে সতর্ককারী আসেনি।" (সূরা ফাতির, ৩৫:২৪)। কুরআনে আল্লাহর অবতীর্ণ বিভিন্ন কিতাব ও সহীফার কথা উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যেঃ
মূসা (আ.)-এর ওপর তাওরাত,
দাউদ (আ.)-এর ওপর যবূর,
ঈসা (আ.)-এর ওপর ইনজিল এবং
সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (ﷺ)-এর ওপর কুরআন নাযিল করা হয়েছে।
এছাড়া ইবরাহীম (আ.)-এর সহীফারও উল্লেখ রয়েছে। কুরআনে "আহলে কিতাব" বলতে প্রধানত ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বোঝানো হয়েছে, যাদের ওপর আল্লাহ পূর্বে কিতাব নাযিল করেছিলেন। কুরআন আরও জানায়, তাদের একাংশ সময়ের সঙ্গে আল্লাহর বাণী বিকৃত করেছে, গোপন করেছে অথবা পরিবর্তন করেছে। (সূরা আল-বাকারা, ২:৭৫, ২:৭৯; সূরা আল-মায়িদাহ, ৫:১৩–১৫)

ইসলামের ঘোষণা হলো, আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একটাই—ইসলাম। (সূরা আলে ইমরান, ৩:১৯)
এখানে ইসলাম বলতে আদম (আ.) থেকে মুহাম্মদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর প্রচারিত আল্লাহর একত্ববাদের (তাওহীদের) একই দ্বীনকে বোঝায়, যার সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ শরিয়ত নাযিল হয়েছে নবী মুহাম্মদ (ﷺ)-এর মাধ্যমে। তাই কুরআন ঘোষণা করে, "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম…" (সূরা আল-মায়িদাহ, ৫:৩)

পরবর্তী পর্বেঃ আদম (আ.) থেকে নূহ (আ.), ইবরাহীম (আ.), মূসা (আ.), ঈসা (আ.) এবং সর্বশেষ মুহাম্মদ (ﷺ) পর্যন্ত আল্লাহর মনোনীত দ্বীনের ধারাবাহিক ইতিহাস ও নবীদের সময়ক্রম নিয়ে আলোচনা করা হবে, ইনশা-আল্লাহ।

﷽আসমাউল হুসনাঃ ২১-২৫
09/07/2026


আসমাউল হুসনাঃ ২১-২৫

﷽✪ জানা–অজানা📖 পর্ব–৭ | গাউর (Gaur) গাউর (Gaur) পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বন্য গরুজাতীয় প্রাণী। একসময় বাংলাদেশের বনাঞ্চলে এদ...
07/07/2026


✪ জানা–অজানা
📖 পর্ব–৭ | গাউর (Gaur)

গাউর (Gaur) পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বন্য গরুজাতীয় প্রাণী। একসময় বাংলাদেশের বনাঞ্চলে এদের ব্যাপক বিচরণ ছিল। বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম চরম বিপন্ন বন্যপ্রাণী।

🔹 বিশেষত্ব: এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বন্য গরুজাতীয় প্রাণী। পূর্ণবয়স্ক একটি পুরুষ গাউরের ওজন ১ টনেরও বেশি হতে পারে।

🔹 সহজে চেনার উপায়: গাঢ় বাদামি-কালো দেহ, শক্তিশালী বাঁকানো শিং এবং চার পায়ের নিচের অংশ সাদা—দেখতে যেন সাদা মোজা পরেছে।

🔹 বাংলাদেশে কোথায় পাওয়া যায়: বর্তমানে গাউরের উপস্থিতির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সাম্প্রতিক তথ্য বান্দরবানের সাঙ্গু–মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে পাওয়া যায়। তবে এদের সংখ্যা অত্যন্ত কম।

🔹 খাদ্য: ঘাস, বাঁশের কচি পাতা, লতা-গুল্ম ও অন্যান্য বনজ উদ্ভিদ। এটি সম্পূর্ণ তৃণভোজী।

🔹 কেন বিলুপ্তপ্রায়: বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস, অবৈধ শিকার এবং মানুষের অনুপ্রবেশের কারণে বাংলাদেশে এটি চরম বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

🌿 আল্লাহ পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করতে নিষেধ করেছেন। তাই বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আসুন, আল্লাহর সৃষ্টির হেফাজতে সচেতন হই এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে নিজেদের ভূমিকা পালন করি।

﷽সত্যের সন্ধানে (পর্ব–১/৫)ধর্ম কী?মানুষের মতবাদ বনাম আল্লাহর ঘোষণাপৃথিবীতে “ধর্ম” শব্দটির একক কোনো সর্বজনস্বীকৃত সংজ্ঞা ...
05/07/2026


সত্যের সন্ধানে (পর্ব–১/৫)
ধর্ম কী?
মানুষের মতবাদ বনাম আল্লাহর ঘোষণা

পৃথিবীতে “ধর্ম” শব্দটির একক কোনো সর্বজনস্বীকৃত সংজ্ঞা নেই। সমাজবিজ্ঞানী, দার্শনিক ও বিভিন্ন ধর্মতত্ত্ববিদ ধর্ম সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন সংজ্ঞা দিয়েছেন। কেউ ধর্মকে মানুষের আধ্যাত্মিক চাহিদার ফল বলেন, কেউ সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার উপায়, আবার কেউ মনে করেন এটি মানুষের অস্তিত্বের প্রশ্নের উত্তর খোঁজার প্রচেষ্টা। তাই ইতিহাসে ধর্ম সম্পর্কে বহু মতবাদ গড়ে উঠেছে।
কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে বিষয়টি ভিন্ন। কুরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেনঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম।” (সূরা আলে ইমরান ৩:১৯) এ আয়াত থেকে বোঝা যায় যে,"মানুষের মধ্যে ধর্ম সম্পর্কে নানা মত থাকলেও, কুরআন ধর্মের উৎস ও প্রকৃতি সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে।"

এখানে “ইসলাম” বলতে শুধু শেষ নবী মুহাম্মদ (ﷺ)-এর শরিয়ত নয়; বরং আদম (আ.) থেকে মুহাম্মদ (ﷺ) পর্যন্ত সকল নবীর একই মূল দাওয়াত—এক আল্লাহর ইবাদত, শিরক বর্জন এবং তাঁর আনুগত্য—বোঝানো হয়েছে। কুরআনে আল্লাহ বলেন: “আপনার আগে আমি যে রাসূলই পাঠিয়েছি, তার কাছে এই ওহিই প্রেরণ করেছি যে, ‘আমি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। অতএব তোমরা শুধু আমারই ইবাদত কর।’” (সূরা আল-আম্বিয়া ২১:২৫)

আবার আল্লাহ বলেন: “তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধান নির্ধারণ করেছেন, যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন এবং যা আমি আপনার প্রতি ওহি করেছি, আর যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে—তোমরা দ্বীন প্রতিষ্ঠা কর এবং এতে বিভেদ সৃষ্টি করো না।” (সূরা আশ-শূরা ৪২:১৩)

তবে প্রত্যেক নবীর শরিয়তের কিছু বিধান যুগ ও জাতি অনুযায়ী ভিন্ন ছিল। কুরআন আরও জানায় যে, আল্লাহ প্রত্যেক জাতির কাছে রাসূল পাঠিয়েছেন, যাতে তারা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করে এবং তাগুতকে বর্জন করে। (সূরা আন-নাহল ১৬:৩৬)

অর্থাৎ ইসলামী দৃষ্টিতে ধর্ম মানুষের কল্পনা বা সামাজিক চুক্তি নয়; বরং আল্লাহপ্রদত্ত ওহির ধারাবাহিকতা।
ঐতিহাসিক গবেষণায় পৃথিবীতে হাজারো ধর্ম ও বিশ্বাসের অস্তিত্বের কথা বলা হয়। কিন্তু কুরআন জানায়, সময়ের সঙ্গে পূর্ববর্তী অনেক সম্প্রদায় আল্লাহর বাণী বিকৃত করেছে এবং তাদের প্রদত্ত উপদেশের একটি অংশ পরিত্যাগ করেছে। আল্লাহ বলেন: “...তারা কথাগুলোকে তাদের যথাস্থান থেকে বিকৃত করে এবং যে উপদেশ তাদের দেওয়া হয়েছিল তার একটি অংশ ভুলে গেছে...” (সূরা আল-মায়িদা ৫:১৩)

আরও বলেন: “...তাদের একদল আল্লাহর কালাম শুনত, তারপর তা ভালোভাবে বুঝে নেওয়ার পরও জেনে-শুনে বিকৃত করে দিত।” (সূরা আল-বাকারা ২:৭৫)
"এসব আয়াত থেকে জানা যায়, পূর্ববর্তী অনেক সম্প্রদায় মূল ওহির শিক্ষা বিকৃত করেছে এবং তা থেকে বিচ্যুত হয়েছে। ইসলামী দৃষ্টিতে এ ধরনের বিচ্যুতি ও বিকৃতির ফলে বিভিন্ন ধর্মীয় মতবাদ ও সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটেছে।"

পরবর্তী পর্বে: পৃথিবীতে বর্তমানে কত ধর্ম রয়েছে, কোনগুলোকে গবেষকরা মনুষ্যসৃষ্ট বলেন, আর ইসলামের দৃষ্টিতে “আহলে কিতাব” কারা এবং কেন—তা আলোচনা করা হবে ইনশা-আল্লাহ।

✪ জানেন কি?পৃথিবীতে মাত্র একটি মাকড়সা আছে, যা পুরো জীবন পানির নিচে কাটায়!নাম: ডাইভিং বেল স্পাইডার (Argyroneta aquatica...
01/07/2026

✪ জানেন কি?
পৃথিবীতে মাত্র একটি মাকড়সা আছে, যা পুরো জীবন পানির নিচে কাটায়!

নাম: ডাইভিং বেল স্পাইডার (Argyroneta aquatica)

🔹 আকার ও গঠন
পুরুষ: ১০–১৯ মিমি।
স্ত্রী: ৮–১৫ মিমি।
দেহের সূক্ষ্ম লোম বাতাস ধরে রাখতে সাহায্য করে।
পানির নিচে দেহ রূপালি দেখায়।
🌿 আবাস
মিঠা পানির পুকুর, ছোট লেক, জলাভূমি ও ধীরগতির নদী।
ইউরোপ ও এশিয়ার কিছু অঞ্চলে পাওয়া যায়।
🍽️ খাদ্য
মশার লার্ভা
জলজ পোকামাকড়
ছোট ক্রাস্টেশিয়ান
কখনও ট্যাডপোল বা মাছের বাচ্চা
🌊 আশ্চর্য জীবনধারা
পানির নিচে বাতাসভরা জালের ঘর তৈরি করে।
শরীরের লোমে বাতাস এনে সেই ঘরে জমা রাখে।
ঘরের বাতাস কমলে আবার ওপরে উঠে নতুন বাতাস আনে।
সেই ঘরেই বিশ্রাম, শিকার খাওয়া ও ডিম পাড়া সম্পন্ন করে।
🌍 প্রকৃতির বিস্ময়
ডাইভিং বেল স্পাইডার অভিযোজনের এক অনন্য উদাহরণ এবং স্রষ্টার সৃষ্টির এক বিস্ময়কর নিদর্শন।

Short Video about - Diving Bell Spider:
https://youtu.be/OcFVKTeldAw?si=Py7iV4Ax5h4vomMC

--- জানা অজানাঃ ৬

﷽আসমাউল হুসনাঃ ১৬-২০
28/06/2026


আসমাউল হুসনাঃ ১৬-২০

Address

Chittagong Port
Chittagong
4100

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when علم posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category