Nature & Nurture

Nature & Nurture প্রকৃতি ও প্রাণবৈচিত্রের ছোঁয়ায়
চলুন, একসাথে হারিয়ে যাই...🌿

07/08/2026

চলন্ত ট্রেন: আনন্দ নাকি আতঙ্কের যাত্রা?

ট্রেন যাত্রা সবসময়ই রোমাঞ্চকর ও সুন্দর। রেললাইনের দুইপাশের সবুজ প্রান্তর, নদী, গ্রামবাংলার চিত্র মন জুড়িয়ে দেয়। কিন্তু এর পাশাপাশি কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিপজ্জনক ঘটনা যাত্রীদের আনন্দকে ম্লান করে দেয়।

🚆🛤️

একিডনা কি বিষাক্ত? জানুন সত্যিটা!মাটির নিচে গর্তে বা গাছের শেকড়ের জটলায় লুকিয়ে থাকা একিডনা (Echidna), যাকে অনেক সময় '...
06/08/2026

একিডনা কি বিষাক্ত? জানুন সত্যিটা!

মাটির নিচে গর্তে বা গাছের শেকড়ের জটলায় লুকিয়ে থাকা একিডনা (Echidna), যাকে অনেক সময় 'স্পাইনি অ্যান্টইটার' বা কাঁটাবিহীন পিঁপড়েখোর বলা হয়, তবে এটি বিষাক্ত নয়। অনেক সময় প্লাটিপাসের সঙ্গে গুলিয়ে অনেকে একিডনাকে বিষাক্ত মনে করেন কারণ প্লাটিপাস এবং একিডনা উভয়ই মোনোট্রিম বা ডিম পাড়া স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পুরুষ প্লাটিপাসের পেছনের পায়ে বিষাক্ত স্পার থাকে; কিন্তু পুরুষ একিডনার পেছনের পায়ে কাঁটার মতো অবশেষ থাকলেও তাতে কোনো কার্যকর বিষগ্রন্থি বা বিষ প্রয়োগের ক্ষমতা নেই। আত্মরক্ষার জন্য এরা বিষের বদলে মূলত তাদের শরীরের তীক্ষ্ণ কাঁটা বা স্পাইন ব্যবহার করে এবং বিপদে পড়লে বলের মতো কুঁকড়ে যায়।

বাংলাদেশ বা বিশ্বের অন্যান্য দেশের বন্যপ্রকৃতিতে প্রাকৃতিকভাবে একিডনা দেখা যায় না, কারণ এটি বাংলাদেশের স্থানীয় বা দেশীয় কোনো প্রাণী নয় এবং এগুলোর মূল আবাসস্থল হলো মূলত অস্ট্রেলিয়া এবং নিউ গিনি দ্বীপের বিভিন্ন অঞ্চল। ক্যাঙ্গারু বা মানুষের মতো এরা সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে না বরং অদ্ভুতভাবে স্তন্যপায়ী হয়েও ডিম পাড়ে, আর ডিম ফোটার পর মায়ের শরীরের লোম বা চামড়া থেকে নিঃসৃত দুধ চেটে খেয়ে বাচ্চা বড় হয় কারণ এদের কোনো স্তন্যবৃন্ত বা বাঁট থাকে না।

এদের মুখে কোনো দাঁত থাকে না এবং লম্বা ও চিকন নাক এবং অত্যন্ত চটচটে দীর্ঘ জিহ্বার সাহায্যে এরা মাটি খুঁড়ে বা গাছের শেকড়ের নিচ থেকে পিঁপড়া, উইপোকা এবং বিভিন্ন পোকামাকড় শিকার করে খায়। বেঁচে থাকার জন্য এবং লুকিয়ে থাকার জন্য এরা সাধারণত মাটির নিচে গর্তে, পাথরের ফাঁকে কিংবা গাছের শেকড়ের জটলার নিচে থাকতে পছন্দ করে।

🦔

05/08/2026

কাঁচা কাঁকড়াখেকো ও মলা মাছ ধরার মুহূর্ত

বড় পুকুরে বড় জাল দিয়ে শুধু নির্দিষ্ট মলা মাছ শিকার করে বাকি মাছগুলো অক্ষত অবস্থায় পুনরায় পানিতে ছেড়ে দেওয়ার এই সচেতন গ্রামীণ পদ্ধতি জলজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অনন্য ভূমিকা রাখে। অবাধে মাছ নিধনের বিপরীতে এই পরিবেশবান্ধব কৌশল স্থানীয় মৎস্যসম্পদ টিকিয়ে রাখতে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই গ্রামীণ সংস্কৃতি গড়ে তুলতে দারুণভাবে শিক্ষণীয়।

🐟🤽‍♀️🎣🥅🦀

ফুলুরি হাঁস: প্রকৃতির রূপালী পরিযায়ী অতিথিফুলুরি হাঁস (বৈজ্ঞানিক নাম: Anas falcata) অ্যানাটিডি পরিবারের অন্তর্গত মাঝারি...
04/08/2026

ফুলুরি হাঁস: প্রকৃতির রূপালী পরিযায়ী অতিথি

ফুলুরি হাঁস (বৈজ্ঞানিক নাম: Anas falcata) অ্যানাটিডি পরিবারের অন্তর্গত মাঝারি আকৃতির একটি সুন্দর পাখি। পুরুষ হাঁসের ডানার প্রাবস্থের পালকগুলো লম্বা, কুঁচকানো এবং দেখতে কাস্তের মতো (Sickle-shaped) হওয়ায় এর নাম ফুলুরি হাঁস হয়েছে। বৈজ্ঞানিক নাম falcata-র অর্থও 'কাস্তের মতো পালকযুক্ত'। প্রজনন মৌসুমে পুরুষ হাঁসের মাথার রঙ চকচকে সবুজ ও তামাটে ব্রোঞ্জবর্ণের হয় এবং গলার কাছে সাদা রঙের পটি ও রূপালি-ছাই রঙের নিখুঁত আঁশযুক্ত নকশা দেখা যায়। এছাড়া এরা শান্ত স্বভাবের এবং দলবদ্ধভাবে থাকতে পছন্দ করে।

জীববৈজ্ঞানিক দিক থেকে ফুলুরি হাঁস মাত্র এক প্রকার বা একক প্রজাতি, অর্থাৎ এদের কোনো উপ-প্রজাতি নেই। তবে বয়স ও লিঙ্গভেদে বাহ্যিক রূপের কিছুটা পার্থক্য থাকে; যেমন—স্ত্রী হাঁস ও অপ্রজননকালীন পুরুষ হাঁস কালচে-বাদামী বা ফ্যাকাশে রঙের হয়। বাংলা ভাষায় ফুলুরি হাঁস ছাড়াও একে শিকাবিশিষ্ট হাঁস বা ঝুটি হাঁস বলা হয়। এর ইংরেজি নাম Falcated Duck বা Falcated Teal এবং ফরাসি, জার্মান ও স্প্যানিশ ভাষাতেও একে কাস্তের মতো পালকের নামানুসারে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়।

এটি স্থায়ীভাবে কোনো বাংলাদেশি আবাসিক হাঁস নয়, বরং শীতকালে সাইবেরিয়া, পূর্ব এশিয়া, মঙ্গোলিয়া ও চীন থেকে আসা একটি পরিযায়ী পাখি। শীতের সময় বরফ পড়া থেকে বাঁচতে এরা বাংলাদেশের হাওড়-বাওড় ও বড় জলাশয়গুলোতে দল বেঁধে আসে এবং জলজ উদ্ভিদের বীজ ও ছোট জলজ প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ ইউনিয়নের (IUCN) লাল তালিকা অনুযায়ী এরা বিশ্বব্যাপী 'প্রায়-বিপদগ্রস্ত' (Near Threatened) হলেও বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এটি একটি সম্পূর্ণ সংরক্ষিত পাখি।

🦆

এওচিয়া ছড়া খাল (সাতকানিয়া)এওচিয়া ছড়া খাল সাতকানিয়া উপজেলার ৬নং এওচিয়া ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত একটি গুরুত্বপূর্...
03/08/2026

এওচিয়া ছড়া খাল (সাতকানিয়া)

এওচিয়া ছড়া খাল সাতকানিয়া উপজেলার ৬নং এওচিয়া ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত একটি গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি ও সমতলীয় জলধারা, যার নামানুসারেই এই ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে। পাহাড়ি পাদদেশের কাছাকাছি অবস্থিত এই খালটি পাহাড়ি ঝিরি ও ছড়ার বৈশিষ্ট্য বহন করে এবং অতীতে এর দুই পাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও জীববৈচিত্র্যময়। স্থানীয় এলজিইডি ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার তথ্য অনুযায়ী এটি সেচ ও মৎস্য চাষের জন্য একটি তালিকাভুক্ত জলধারা, যা এওচিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও এর আশপাশের এলাকা অতিক্রম করেছে এবং মূলত পাহাড়ি ঢল ও স্থানীয় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

ঐতিহাসিককাল থেকেই এই খালটি এওচিয়া ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার কৃষিকাজের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে আসছে, যেখানে শুকনো মৌসুমে কৃষকরা খালের পানি ব্যবহার করে বোরো ধান ও শাকসবজি চাষ করতেন। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল কিংবা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথমের দিকে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অনুপস্থিতিতে বর্ষাকালে স্থানীয় মানুষ ছোট ডিঙি নৌকায় করে এই খালের মাধ্যমে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া করতেন। তবে বর্তমান সময়ে খালটি নানা মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যেমন—অপরিকল্পিত বসতি স্থাপন ও অবৈধ দখলের কারণে খালের স্বাভাবিক প্রশস্ততা কমে যাওয়া এবং তলদেশে পলি মাটি ও বর্জ্য জমে গভীরতা হ্রাস পাওয়া, যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এবং কৃষকদের সেচ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তি পোহাতে হয়।

বর্তমান এই সংকট থেকে উত্তরণে স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি হলো—খালটি সঠিকভাবে খনন বা ড্রেজিং করা এবং দুই তীরের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা, যা এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন এবং রবি ও আমন মৌসুমে সেচ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটাতে পারে। এওচিয়া ছড়া খাল কেবল একটি জলপথই নয়, বরং এটি সাতকানিয়ার এওচিয়া অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও সংস্কৃতির সাথে গভীরভাবে মিশে থাকা একটি ঐতিহ্য, যার প্রাণ ফিরিয়ে আনতে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সরকারি উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।

🏞️

02/08/2026

অবুঝ পশুর ফসল নষ্ট

গৃহপালিত পশুর দ্বারা অন্যের ক্ষেত বা বাগান নষ্ট হওয়া রোধে মালিকের যেমন সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা থাকা প্রয়োজন, তেমনি ফসলের মালিকেরও অবুঝ প্রাণীর প্রতি উদার ও সহনশীল মনোভাব বজায় রেখে পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা উচিত।

🐄🐮🤠

গাছের ডালে লুকিয়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন ব্রোঞ্জব্যাক সাপব্রোঞ্জ পিঠে সাপ (Bronzeback Tree Snake বা সাধারণ ব্রোঞ্জব্যাক) হলো ক...
01/08/2026

গাছের ডালে লুকিয়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন ব্রোঞ্জব্যাক সাপ

ব্রোঞ্জ পিঠে সাপ (Bronzeback Tree Snake বা সাধারণ ব্রোঞ্জব্যাক) হলো কলোব্রিডি পরিবারের অন্তর্গত একটি অত্যন্ত সুন্দর ও চমৎকার গেছো সাপের প্রজাতি, যা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপকভাবে পাওয়া যায়। বৈজ্ঞানিক দিক থেকে এদের প্রজাতিভেদে বিভিন্ন নামে ডাকা হলেও, এদের সাধারণ শারীরিক বৈশিষ্ট্য হলো এদের দীর্ঘ ও সরু শরীর এবং পিঠের ওপর তামাটে বা ব্রোঞ্জ রঙের একটি স্পষ্ট রেখা। এরা মূলত বৃক্ষবাসী এবং দিনের বেলা সচল থাকতে পছন্দ করে, যার ফলে গাছের ডালপালা বা পাতার মধ্যে এদের খুব সহজেই ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকতে দেখা যায়।

শারীরিক গঠন ও স্বভাবের দিক থেকে এই সাপগুলো অত্যন্ত চটপটে এবং দ্রুতগতির হয়ে থাকে। এদের মাথাটি কিছুটা সূচ্যগ্র এবং চোখগুলো অপেক্ষাকৃত বড় আকারের হয়। গাছের ডালে বা পাতার ভিড়ে চমৎকারভাবে নিজেদের লুকিয়ে রাখতে পারার কারণে এরা খুব সহজেই শিকারের নাগাল পায়। এদের প্রধান খাদ্যতালিকায় রয়েছে টিকটিকি, গোঁসফড়িং জাতীয় ছোট প্রাণী, ছোট পাখি এবং মাঝে মাঝে ব্যাঙ। এরা মাটিতে চলাফেরা করার চেয়ে গাছের চূড়ায় বা উঁচুতে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্রোঞ্জ পিঠে সাপ সম্পূর্ণ বিষহীন এবং মানুষের জন্য এটি একেবারেই নিরাপদ। বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতিতে এরা মূলত ছোট প্রাণী ও টিকটিকির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রেখে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রজননকালে এরা সাধারণত গাছের কোটরে বা পচা পাতার নিচে ডিম পাড়ে এবং নির্দিষ্ট সময় পর ডিম ফুটে ছানা বের হয়। মানুষের কাছাকাছি বাগান বা গ্রামীণ ঝোপঝাড়ে দেখা মিললেও এই সাপগুলো অত্যন্ত লাজুক স্বভাবের হয় এবং মানুষের মুখোমুখি হলে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে।

🌳🐍🌿

জলাশয়ের মায়াবী রূপ: শাপলা, হেলে সাপ আর ব্যাঙের রাজ্যএই বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য এক অপূর্ব দৃশ্য ফুটিয়ে তু...
31/07/2026

জলাশয়ের মায়াবী রূপ: শাপলা, হেলে সাপ আর ব্যাঙের রাজ্য

এই বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য এক অপূর্ব দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছে। জলাশয়ের স্বচ্ছ পানিতে ফোটা শাপলা ফুল (Water Lily) এই পরিবেশের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। শাপলা শুধু বিলের শোভাই বাড়ায় না, বরং জলজ ecosystems-এর ভারসাম্য রক্ষায়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

জলাশয়ের এই নান্দনিক পরিবেশে একটি হেলে সাপ (Checkered Keelback) খুব দক্ষতার সাথে তার শিকার ধরছে। হেলে সাপ সাধারণত জলাশয়ে সাঁতার কেটে ছোট মাছ ও জলজ প্রাণী শিকার করে খায়। প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খল (Food chain) বজায় রাখতে এই সাপগুলোর ভূমিকা অপরিহার্য, যা প্রাকৃতিকভাবেই জলাশয়ের মাছের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

জলাশয়ের সবুজ পাড়ে ঘাসের মধ্যে লুকিয়ে থাকা দুটি ব্যাঙ এই পরিবেশের প্রাণচাঞ্চল্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্যাঙগুলো ডাঙ্গায় ও পানিতে সমানভাবে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে এবং ক্ষতিকর পোকা-মাকড় খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। শাপলা, হেলে সাপ ও ব্যাঙের এই সহাবস্থান গ্রামীণ প্রকৃতির এক বাস্তব ও শিক্ষামূলক জীববৈচিত্র্যের রূপ তুলে ধরে।

🍀🪷☘️🐍🐸

বাংলার চিরচেনা প্রকৃতিতে রাজহাঁসের রাজকীয় চালচলন গ্রামীণ বাংলার চিরচেনা প্রকৃতি, স্নিগ্ধ জলাশয় আর গ্রামীণ জনপদের সৌন্দ...
30/07/2026

বাংলার চিরচেনা প্রকৃতিতে রাজহাঁসের রাজকীয় চালচলন

গ্রামীণ বাংলার চিরচেনা প্রকৃতি, স্নিগ্ধ জলাশয় আর গ্রামীণ জনপদের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে রাজহাঁস এক অনন্য উপাদান। রাজহাঁস অ্যানাটিডি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত জলচর পাখি, যা আকারে হাঁসের চেয়ে অনেক বড় ও দীর্ঘ গলার অধিকারী হয় এবং কাদা ও জলে চলার উপযোগী শক্ত ঠোঁট ও মজবুত পা বহন করে। বাংলাদেশে সাধারণত চীনা রাজহাঁস এবং বুনো গ্রেল্যাগ গুজ বা সোয়ান গুজের বংশধর সাধারণ গৃহপালিত রাজহাঁস দেখা যায়, যারা মূলত তৃণভোজী হওয়ায় জলাশয়ের কচুরিপানা, কচি ঘাস, শ্যাওলা, জলজ উদ্ভিদের শেকড়, শস্যদানা ও পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে এবং দলবদ্ধভাবে থেকে অপরিচিত মানুষ বা প্রাণীর উপস্থিতিতে উগ্রস্বরে ডেকে ওঠে বিশ্বস্ত পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।

গ্রামীণ প্রকৃতিতে গ্রামীণ বাংলার সবুজ মাঠের পাশে কোনো শান্ত পুকুর, ডোবা বা বাঁধানো ঘাটের কিনারে রাজহাঁসের দল চরে বেড়ানোর দৃশ্য চারপাশকে সজীব ও প্রাণবন্ত করে তোলে। সকালের নরম রোদে কিংবা গোধূলি বেলায় কচি ঘাসের সবুজ গালিচার ওপর সাদা বা ধূসর রঙের রাজহাঁসগুলোর ধীরেসুস্থে হেঁটে বেড়ানোর দৃশ্যটি দেখে মনে হয় যেন কোনো শিল্পী ক্যানভাসে বাংলার আসল রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন।

এ ছাড়া দলবেঁধে পানিতে নেমে রাজহাঁসগুলোর সাঁতার কাটা, ডানায় ভর করে পানি ছিটানো এবং ডুব সাঁতার দেওয়ার দৃশ্য গ্রামীণ শিশুদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের স্নিগ্ধতা বাড়িয়ে দেয়। বাংলার অনেক পরিবারে ঐতিহ্যগতভাবে রাজহাঁস পালন করা হয়, যা কেবল গ্রামীণ গৃহস্থালির সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না বরং গ্রামীণ অর্থনীতির একটি ছোট অংশ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

🦢

বাংলার পরিচিত পাতিহাঁস বা শিসহাঁসপাতিহাঁস (Lesser Whistling Duck বা Indian Whistling Duck, বৈজ্ঞানিক নাম: Dendrocygna ja...
29/07/2026

বাংলার পরিচিত পাতিহাঁস বা শিসহাঁস

পাতিহাঁস (Lesser Whistling Duck বা Indian Whistling Duck, বৈজ্ঞানিক নাম: Dendrocygna javanica) জলাভূমি এবং গ্রামীণ পরিবেশের একটি অত্যন্ত পরিচিত ও সচরাচর দৃশ্যমান পাখি, যা বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপমহাদেশে সচরাচর দেখা যায়। শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও স্বভাবের দিক থেকে এরা মাঝারি আকৃতির হয়ে থাকে এবং সাধারণ দেশি হাঁসের চেয়ে ছোট ও গোলগাল দেখতে হয়, যাদের পা ও গলা কিছুটা লম্বা এবং গায়ের রঙ সোনালী ও কালচে আভাযুক্ত বাদামী হয়। দলবদ্ধ থাকতে পছন্দ করা এই পাখিগুলো জলাশয়, হাওর, বিল, পুকুর বা ধানক্ষেতের আশেপাশে বসবাস করে এবং ওড়ার সময় বা ডেকে ওঠার সময় তীক্ষ্ণ শিস বা বাঁশির মতো শব্দ করে (সিব-সিব) বলেই এদের ইংরেজি নাম 'Whistling Duck' হয়েছে। মূলত নিরামিষভোজী প্রকৃতির পাতিহাঁস জলাশয়ের জলজ উদ্ভিদ, ঘাসের বীজ, কুঁড়ি, ছোট শস্যদানা এবং ধানক্ষেতের পাকা ধান খাওয়ার পাশাপাশি কিছু ছোট জলজ পোকা-মাকড়ও খেয়ে থাকে।

পাতিহাঁস বা শিস হাঁস (Dendrocygna) গণের বিভিন্ন প্রজাতি বিশ্বজুড়ে থাকলেও, বাংলাদেশে প্রধানত দুই ধরনের পাতিহাঁস বা শিস হাঁস সচরাচর বা নিয়মিত দেখা যায়, যার মধ্যে প্রথমটি হলো পাতি শিসহাঁস বা সচরাচর পাতিহাঁস (Dendrocygna javanica), যা আমাদের দেশের স্থানীয় ও সবচেয়ে পরিচিত প্রজাতি এবং সারা বছরই গ্রামীণ জলাশয়গুলোতে যার দেখা মেলে; আর দ্বিতীয়টি হলো বড় শিসহাঁস (Dendrocygna bicolor), যা পাতিহাঁসেরই একটি নিকটাত্মীয় বড় প্রজাতি এবং আকারে কিছুটা বড় ও গায়ের রঙের ভিন্নতাযুক্ত এই হাঁসগুলোও পরিযায়ী বা আংশিক স্থানীয় হিসেবে জলাশয়ে বিচরণ করে। (উল্লেখ্য, পোলট্রি শিল্পে গৃহপালিত দেশি হাঁস হিসেবে যেগুলোকে লালন-পালন করা হয়, সেগুলোর বেশিরভাগই বন্য ম্যালার্ড বা অন্যান্য প্রজাতির গৃহপালিত রূপ, তবে প্রাকৃতিকভাবে বন্য পরিবেশে বাঁশিওয়ালা এই ছোট হাঁসগুলোই 'পাতিহাঁস' নামে পরিচিত।)

বর্ষাকাল এবং বর্ষার পরবর্তী সময়টি (সাধারণত জুন থেকে অক্টোবর) এদের প্রজননের মূল সময়, যে সময়ে এরা সাধারণত গাছের কোটরে, পুরনো দালানের ফাঁকে বা জলাশয়ের কাছের ঘাস বা ঝোপঝাড়ের মধ্যে শুকনো পাতা ও ডালপালা দিয়ে বাসা বাঁধে এবং একবারে ৬ থেকে ১২টি পর্যন্ত সাদা রঙের ডিম পাড়ে। তবে জলাশয় সংকোচন, নির্বিচারে পাখি শিকার এবং কৃষিকাজে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে এদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল বর্তমানে হুমকির মুখে পড়ছে, তাই আমাদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এদের সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।

🦆

Address

Dhaka
Chittagong
4212

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nature & Nurture posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share