29/07/2026
বাংলার পরিচিত পাতিহাঁস বা শিসহাঁস
পাতিহাঁস (Lesser Whistling Duck বা Indian Whistling Duck, বৈজ্ঞানিক নাম: Dendrocygna javanica) জলাভূমি এবং গ্রামীণ পরিবেশের একটি অত্যন্ত পরিচিত ও সচরাচর দৃশ্যমান পাখি, যা বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপমহাদেশে সচরাচর দেখা যায়। শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও স্বভাবের দিক থেকে এরা মাঝারি আকৃতির হয়ে থাকে এবং সাধারণ দেশি হাঁসের চেয়ে ছোট ও গোলগাল দেখতে হয়, যাদের পা ও গলা কিছুটা লম্বা এবং গায়ের রঙ সোনালী ও কালচে আভাযুক্ত বাদামী হয়। দলবদ্ধ থাকতে পছন্দ করা এই পাখিগুলো জলাশয়, হাওর, বিল, পুকুর বা ধানক্ষেতের আশেপাশে বসবাস করে এবং ওড়ার সময় বা ডেকে ওঠার সময় তীক্ষ্ণ শিস বা বাঁশির মতো শব্দ করে (সিব-সিব) বলেই এদের ইংরেজি নাম 'Whistling Duck' হয়েছে। মূলত নিরামিষভোজী প্রকৃতির পাতিহাঁস জলাশয়ের জলজ উদ্ভিদ, ঘাসের বীজ, কুঁড়ি, ছোট শস্যদানা এবং ধানক্ষেতের পাকা ধান খাওয়ার পাশাপাশি কিছু ছোট জলজ পোকা-মাকড়ও খেয়ে থাকে।
পাতিহাঁস বা শিস হাঁস (Dendrocygna) গণের বিভিন্ন প্রজাতি বিশ্বজুড়ে থাকলেও, বাংলাদেশে প্রধানত দুই ধরনের পাতিহাঁস বা শিস হাঁস সচরাচর বা নিয়মিত দেখা যায়, যার মধ্যে প্রথমটি হলো পাতি শিসহাঁস বা সচরাচর পাতিহাঁস (Dendrocygna javanica), যা আমাদের দেশের স্থানীয় ও সবচেয়ে পরিচিত প্রজাতি এবং সারা বছরই গ্রামীণ জলাশয়গুলোতে যার দেখা মেলে; আর দ্বিতীয়টি হলো বড় শিসহাঁস (Dendrocygna bicolor), যা পাতিহাঁসেরই একটি নিকটাত্মীয় বড় প্রজাতি এবং আকারে কিছুটা বড় ও গায়ের রঙের ভিন্নতাযুক্ত এই হাঁসগুলোও পরিযায়ী বা আংশিক স্থানীয় হিসেবে জলাশয়ে বিচরণ করে। (উল্লেখ্য, পোলট্রি শিল্পে গৃহপালিত দেশি হাঁস হিসেবে যেগুলোকে লালন-পালন করা হয়, সেগুলোর বেশিরভাগই বন্য ম্যালার্ড বা অন্যান্য প্রজাতির গৃহপালিত রূপ, তবে প্রাকৃতিকভাবে বন্য পরিবেশে বাঁশিওয়ালা এই ছোট হাঁসগুলোই 'পাতিহাঁস' নামে পরিচিত।)
বর্ষাকাল এবং বর্ষার পরবর্তী সময়টি (সাধারণত জুন থেকে অক্টোবর) এদের প্রজননের মূল সময়, যে সময়ে এরা সাধারণত গাছের কোটরে, পুরনো দালানের ফাঁকে বা জলাশয়ের কাছের ঘাস বা ঝোপঝাড়ের মধ্যে শুকনো পাতা ও ডালপালা দিয়ে বাসা বাঁধে এবং একবারে ৬ থেকে ১২টি পর্যন্ত সাদা রঙের ডিম পাড়ে। তবে জলাশয় সংকোচন, নির্বিচারে পাখি শিকার এবং কৃষিকাজে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে এদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল বর্তমানে হুমকির মুখে পড়ছে, তাই আমাদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এদের সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
🦆