09/10/2025
ওয়েলফেয়ার পলিটিক্স মূলত এক ধরনের রাজনৈতিক কৌশল, যেখানে নাগরিকদের ডেইলি নিডস বা অধিকারকে অনুদানের মাধ্যমে সাময়িক তুষ্টি দেয়া। নাগরিকদের সাময়িক খুশি করার মাধ্যমে নাগরিক অধিকারকে সঙ্কুচিত করা, এবং নাগরিকদের গোলাম বানানোর কৌশল বাস্তবায়ন করা ওয়েলফেয়ার পলিটিক্সের মূল লক্ষ্য।
আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বিভিন্ন ভাবে ওয়েলফেয়ার পলিটিক্স করা হয়। তার মধ্যে অন্যতম, প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েলফেয়ার ব্যবস্থা। যেমন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ফিল্টার সরবরাহ, স্টুডেন্টদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাতে বিশেষ ফ্যাসিলিটি প্রদান করা ইত্যাদি।
আমাদের উপমহাদেশে ওয়েলফেয়ার পলিটিক্সের হিস্ট্রি অনেক পুরাতন। সামাজিক ভ্যালুর তারতম্যের জন্য ওয়েলফেয়ার পলিটিক্সকে আরো জনপ্রিয় করে তোলা হয়েছে এই অঞ্চল। আইয়ুব খানের সামরিক শাসন থেকে শুরু করে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী; সবাই ওয়েলফেয়ার পলিটিক্সের চর্চা করে গেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জামায়াত-শিবির, বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীসহ অনেকেই ওয়েলফেয়ার পলিটিক্সের চর্চা বিদ্যমান রাখছে।
ওয়েলফেয়ার পলিটিক্সের আসলে ক্ষতি কোন জায়গায়? ওয়েলফেয়ার পলিটিক্স শুধু অর্থনৈতিক নয়, মনস্তাত্ত্বিক এক প্রকল্প, যা জনগণকে নির্ভরশীল করে তোলে। মানুষ যত বেশি অনুদানের ওপর নির্ভর হবে, তত কম রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করবে। একে বলা যেতে পারে "ডিপেন্ডেন্সি কনসেন্ট" যেখানে জনগণ নিজেই শাসিত হতে সম্মতি দেয়, কারণ সে মনে করে শাসকই তার জীবনধারণের একমাত্র ভরসা। ওয়েল ফেয়ার পলিটিক্সের মাধ্যমে সমাজ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে কোনো একটা গোষ্ঠীর দিকে ধাবিত হতে থাকে। ফলে, জনগণ রাষ্ট্রীয় নাগরিক থেকে বিচ্যুতি লাভ করে। নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা কমে যায়, নাগরিক গোলামে পরিণত হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়।
একটি সুস্থ রাষ্ট্রব্যবস্থা তখনই সম্ভব, যখন মানুষ প্রাপক নয়, অধিকারভোগী হিসেবে নিজেকে চিনতে শুরু করে। আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ওয়েলফেয়ার পলিটিক্স মুক্ত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিরোনাম – ওয়েলফেয়ার পলিটিক্স
আলাপ – খান মোহাম্মদ আহাদ
চিত্রচিন্তা – ফায়াকুন মাইজভাণ্ডারী