18/05/2026
চট্টগ্রাম-১৪ আসনের নির্বাচন, জনগণের রায় এবং কিছু গুরুতর প্রশ্ন
১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৪ আসনে জনগণের ভোটে আমি বিজয়ী হয়েছিলাম—এ বিশ্বাস আমার এলাকার মানুষের মধ্যেও আজও অটুট। কিন্তু নির্বাচন প্রকৌশলের মাধ্যমে জনগণের রায় বিকৃত করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী দেখানো হয়েছে। (বাতিলকৃত ভোট ৪৫৬২, ব্যবধান ১০২৬)
এখন কিছু কিছু পত্র-পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এলডিপি থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দিচ্ছে—এমন ভিত্তিহীন, অতিরঞ্জিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এলডিপি আদর্শের দল; ব্যক্তিস্বার্থে দু-একজন কোথাও গেলে সেটিকে কোনোভাবেই গণদলত্যাগ বলা যায় না। অর্থের জোরে অপপ্রচার দিয়ে সততা ও আদর্শের রাজনীতি দুর্বল করা যায় না।
বরং যাকে চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে, তিনি নিজ দল বিএনপির ভেতরেও কতটা গ্রহণযোগ্য—সে প্রশ্ন আজ জনমনে রয়েছে। তাঁর অতীত ভূমিকা, আর্থিক উৎস, কর-সংক্রান্ত তথ্য, বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য, মামলা-মোকদ্দমা এবং বিভিন্ন মহলে প্রচলিত গুরুতর অভিযোগ সম্পর্কে জনগণের সামনে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।
কক্সবাজারে Ramada by Wyndham Hotel প্রকল্প নিয়েও জনমনে গুরুতর প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদ ও প্রকাশ্য চুক্তির তথ্য অনুযায়ী, ভারত-নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি, প্রকল্পের অর্থায়ন কাঠামো, প্রকৃত মালিকানা, অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দরকার।
বিশেষ করে মাত্র ২০ লক্ষ টাকা মূলধন নিয়ে তার মালিকানাধীন Hotel IBIS Ltd.-এর এত বড় একটি কথিত পাঁচতারকা হোটেল প্রকল্পের মালিক হওয়ার বিষয়টি সাধারণ ব্যবসায়িক বাস্তবতায়ও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। এত বড় প্রকল্পের অর্থের উৎস কী? প্রকৃত বিনিয়োগকারী কারা? প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা? জনগণের সামনে এসব প্রশ্নের জবাব আসতেই হবে।
সম্পাদিত চুক্তির কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট ভারত-নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা বিবেচনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—এই চুক্তির আওতায় অর্থের প্রবাহ কীভাবে নির্ধারিত হয়েছে? কোনো সার্ভিস ফি, ম্যানেজমেন্ট ফি, ব্র্যান্ডিং ফি, কনসালটেন্সি ফি, রেমিট্যান্স, রয়্যালটি বা অন্য কোনো আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ভারতে অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হয়েছে কি না—তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এটি কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়; এটি চট্টগ্রাম-১৪ আসনের জনগণের অধিকার, ভোটের মর্যাদা এবং জনস্বার্থের প্রশ্ন। একজন ঘোষিত জনপ্রতিনিধির সঙ্গে যদি বড় বিনিয়োগ, বিদেশি ব্যবসায়িক সংযোগ, কর-সংক্রান্ত অসঙ্গতি, মামলা-মোকদ্দমা বা সম্ভাব্য অর্থপাচার-সংক্রান্ত প্রশ্ন ওঠে, তাহলে তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই—তার সম্পদের উৎস, কর দাখিলের তথ্য, প্রবাসী ব্যবসায়ী হিসেবে বিদেশে কোনো মামলা বা আইনি জটিলতা আছে কি না, Ramada by Wyndham Hotel Cox’s Bazar প্রকল্পের প্রকৃত মালিকানা, অর্থায়নের উৎস, ভারত-নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির শর্ত, Hotel IBIS Ltd.-এর আর্থিক সক্ষমতা এবং চুক্তির মাধ্যমে কোনোভাবে অর্থপাচারের পথ তৈরি হয়েছে কি না—সবকিছু নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জনগণের সামনে প্রকাশ করা হোক।
এলডিপির নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের বলছি—গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না। জনগণকে পাশ কাটিয়ে কেউ ক্ষমতার বৈধতা পাবে না। অপপ্রচার, ভয়ভীতি, প্রলোভন বা ব্যক্তিস্বার্থের রাজনীতি আমাদের আদর্শিক অবস্থানকে দুর্বল করতে পারবে না। আমরা জনগণের ভোটাধিকার, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং সত্যের পক্ষে অটল আছি।
সত্য শেষ পর্যন্ত জয়ী হবেই।
Hotel IBIS Ltd. - Ramada Hotel signing ceremony
From left: Mehedi Hasan, Kawsar Ahmed, Jashim Uddin Ahammed, Govind Mundra, Animesh Kumar (03 August 2023)