07/07/2026
ইরান আমাদের নতুন করে শিখিয়ে দিল—কুরআন কীভাবে পড়তে হয়।
সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার জানাজা অনুষ্ঠানে তারা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের জন্য কুরআনের ভিন্ন ভিন্ন আয়াত নির্বাচন করেছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, আয়াতগুলো এমনভাবে বাছাই করা হয়েছিল যে মনে হচ্ছিল, প্রতিটি আয়াত যেন সেই দেশকেই উদ্দেশ্য করে বলা।
যেমন, সৌদি আরবের জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল সূরা আলে ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত। যেখানে বদর যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে—পৃথিবীতে সবসময়ই সত্য ও বাতিলের দুটি শিবির থাকবে; প্রশ্ন হলো, তুমি কোন শিবিরে দাঁড়িয়ে আছো।
বাংলাদেশের জন্য ছিল সূরা আল-আহযাবের ২৩ নম্বর আয়াত। কী অসাধারণ এক বার্তা! সেখানে বলা হয়েছে, মুমিনদের মধ্যে কেউ আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার পূরণ করে শহীদ হয়েছেন, আর কেউ সেই দিনের অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু কেউই তাদের অঙ্গীকার থেকে এক চুলও সরে যাননি।
তুরস্কের জন্য সংগ্রামের আয়াত, কাতারের জন্য শান্তি ও মীমাংসার আয়াত, লেবাননের জন্য ত্যাগের শিক্ষা—আর নিজেদের মিত্রদের জন্য ন্যায় ও ইনসাফের পথে অবিচল থাকার বার্তা।
এটাই কুরআনকে পড়ার সৌন্দর্য। শুধু তিলাওয়াত নয়, উপলব্ধি করা; শুধু অক্ষর নয়, বার্তাকে জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা। তখন কুরআন যেন মানুষের সঙ্গেই কথা বলে।
আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা অনেক সময় কুরআনকে ব্যবহার করি তর্কে জিততে, অন্যকে ফতোয়া দিতে বা ভয় দেখাতে। অথচ কুরআনের আসল কাজ মানুষকে জাগানো, সাহস দেওয়া, চরিত্র গঠন করা এবং আলোর পথ দেখানো।
হয়তো এ কারণেই কুরআনের সঙ্গে যাদের সম্পর্ক শুধু মুখস্থের নয়, উপলব্ধিরও—তাদের মধ্যে আলাদা এক দৃঢ়তা জন্ম নেয়। কুরআন যখন মানুষের হৃদয়ের ভাষা হয়ে যায়, তখন ভয় নয়, সাহসই তার স্বাভাবিক পরিচয় হয়ে ওঠে।