16/07/2026
যারা ছাড় দেওয়ার মানসিকতা রাখে, তাদের দ্বারা কখনোই এই দীন প্রতিষ্ঠিত হবে না।
দীন ইসলাম একটি পরিপূর্ণ প্যাকেজ। ঈমান কবুল করলে পুরো প্যাকেজটিই গ্রহণ করতে হবে। আমরা দীনের জন্য রাজপথে সংগ্রাম করব, আবার পশ্চিমা অ্যাম্বাসি থেকে ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার আশায় নিজেকে লিবারেল-সেক্যুলার হিসেবে পরিচয় দেব—এটা তো হতে পারে না। আমরা দীন নেব মুহাম্মাদ ﷺ–এর কাছ থেকে, আর দীন কায়েমের পদ্ধতি নেব আব্রাহাম লিংকনের তত্ত্ব থেকে—এ ধরনের ধোঁকাবাজি আল্লাহর সঙ্গে চলবে না। ধোঁকাবাজরা কখনো আল্লাহর সাহায্য পায় না। তারা বাস করে লাঞ্ছনার সাগরে।
﴿أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ ۚ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَٰلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۖ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَىٰ أَشَدِّ الْعَذَابِ ۗ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ﴾
অর্থ: “তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস করো এবং কিছু অংশকে প্রত্যাখ্যান করো? অতএব, তোমাদের মধ্যে যারা এমনটি করে, পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা ও অবমাননা ছাড়া তাদের জন্য আর কী প্রতিদান হতে পারে? আর কিয়ামতের দিন তারা কঠিন শাস্তির দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে। তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে আল্লাহ মোটেই গাফিল নন।”
আমরা এই আয়াতের বাস্তবতা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। যারা পশ্চিমের সঙ্গে আপস করে দীনের কিছু অংশ ছেড়ে দিয়েছে, অপমান ও লাঞ্ছনা তাদের ওপর চেপে বসেছে। অর্ধশত বছরেও তারা এক ইঞ্চি জায়গায় আল্লাহর দীন কায়েম করতে পারেনি। উল্টো ‘ইসলামি খিলাফত’ শব্দটি বদলে সেখানে ‘কল্যাণরাষ্ট্র’ কিংবা ‘ইসলামি গণতন্ত্র’—এ ধরনের পরিভাষা আমদানি করেছে, যাতে পশ্চিমা অ্যাম্বাসিগুলোর সামান্য অনুগ্রহ পাওয়া যায়। কেন এই অধঃপতন?
“আল্লাহর দীন কেবল সেসব লোকের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব, যারা সব দিক থেকে এ দীনকে মানতে প্রস্তুত।”
দীনকে কাটছাঁট করলে লাঞ্ছনা ছাড়া আর কিছুই কপালে জুটবে না। এই উম্মাহর সমাধান একমাত্র পূর্ণাঙ্গ দীনের মধ্যেই নিহিত। দীন নেই, তো ইজ্জত নেই। দীন নেই, তো কাঙ্ক্ষিত সাফল্যও নেই।
আমাদের নেতা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন:
“একসময় আমরা অসহায়, তুচ্ছ ও লাঞ্ছিত ছিলাম। তারপর আল্লাহ আমাদের ইসলাম দ্বারা সম্মানিত করেছেন। এরপর যদি আমরা আল্লাহর দেওয়া পথ ব্যতীত অন্য কোনো পথে ইজ্জত ও সম্মান তালাশ করি, তবে আল্লাহ তাআলা পুনরায় আমাদের লাঞ্ছিত করে ছাড়বেন।”(আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৭/১১৪–১১৫)