12/11/2024
অপরিকল্পিত উন্নয়ন
বড় প্রকল্পের আয়ে উঠছে না পরিচালন ব্যয়, ভর্তুকি দিয়ে কিস্তি শোধ
একদিকে মেগা প্রকল্পের নামে লুটপাট আর অন্য দিকে অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে বড় প্রকল্পের আয়ে উঠছে না পরিচালন ব্যয়। কক্সবাজারে নতুন রেলপথ, ঢাকায় মেট্রোরেল, চট্টগ্রামে টানেল ও পদ্মা সেতু সংযোগ রেলপথ চালু হয়েছে গত দুই বছরে। দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো খাতের মেগা এ চার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণের টাকায়। চালুর পর প্রকল্পগুলোর আয়-ব্যয়ের যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে দেখা যায়, আয় দিয়ে পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ই উঠছে না। এর মধ্যে যুক্ত হয়েছে ঋণ পরিশোধ ব্যয়। চার প্রকল্পে ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা। সুদ ছাড়া বার্ষিক গড় কিস্তি দিতে হচ্ছে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। আয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান না হওয়ায় ঋণ পরিশোধে সরকারকে দিতে হচ্ছে ভর্তুকি।
বিদেশী ঋণে বাস্তবায়ন করা বেশ কয়েকটি প্রকল্পে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে মনে করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। বিশেষ করে কর্ণফুলী টানেল ও পদ্মা সেতু রেল সংযোগ বর্তমান সরকারের বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি এ সপ্তাহেই কর্ণফুলী টানেল পরিদর্শনের পরিকল্পনা করছি। কী করলে টানেল দিয়ে যানবাহন চলাচল বাড়বে, সেই চেষ্টা আমাদের রয়েছে। আরেকটি মাথাব্যথার প্রকল্প পদ্মা রেল। পদ্মা সেতু সংযোগ রেলপথ দিয়ে কয়টা ট্রেন চলল, এটা তো আর বিদেশীরা (ঋণদাতা) দেখবে না। তাদের ঋণ শোধ করতেই হবে। আমরা চেষ্টা করছি, এ রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়ে আয় বাড়ানোর। তারপরও এসব প্রকল্প দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। কিন্তু এখন আর তেমন কিছুই করার নেই। দায়িত্বজ্ঞানহীন এসব প্রকল্পের কারণে পুরো দেশ ভুগছে।’