Abdul Gaffar

Abdul Gaffar I don’t care what you think of me!

একদিন এক ক্ষুধার্ত ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর কাছে এসে খাবারের আবেদন করলেন।নবীজি ﷺ ঘরে খাবার আছে কি না জানতে খবর পাঠালেন।ক...
29/05/2026

একদিন এক ক্ষুধার্ত ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর কাছে এসে খাবারের আবেদন করলেন।
নবীজি ﷺ ঘরে খাবার আছে কি না জানতে খবর পাঠালেন।

কিন্তু ঘর থেকে উত্তর এলো, “পানি ছাড়া আর কিছুই নেই।”

তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ সাহাবীদেরকে বললেন,“কে আছো, যে এই মেহমানকে নিজের ঘরে নিয়ে খাওয়াবে?”

একজন আনসারী সাহাবী রাজি হলেন। তিনি ছিলেন আবু তালহা আনসারী রা.।

তিনি মেহমানকে নিয়ে বাড়িতে গেলেন এবং স্ত্রীকে বললেন,“আজ আমাদের ঘরে রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর একজন মেহমান এসেছেন।”

স্ত্রী বললেন,“ঘরে তো শুধু বাচ্চাদের খাবারটুকুই আছে।”

তখন সাহাবী বললেন,
“খাবার প্রস্তুত করো। আর বাচ্চারা চাইলে তাদের বুঝিয়ে-শুনিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও।”

খাবার সামনে আনা হলো। এরপর স্ত্রী বাতি ঠিক করার অজুহাতে সেটি নিভিয়ে দিলেন।
ঘর অন্ধকার হয়ে গেল।

মেহমান যেন বুঝতে না পারেন, তাই স্বামী-স্ত্রী দুজনেই খাওয়ার ভান করতে লাগলেন। মুখে শব্দ করছিলেন, যেন মনে হয় তারাও খাচ্ছেন।

কিন্তু বাস্তবে — তারা নিজেরা না খেয়ে পুরো খাবারটুকু মেহমানকে খাইয়ে দিলেন।

সেই রাত তারা ক্ষুধার্ত অবস্থায় কাটালেন, কিন্তু মেহমান যেন ক্ষুধার্ত না থাকেন সেটিই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

পরদিন সকালে সেই সাহাবী রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর কাছে গেলে নবীজি ﷺ বললেন,
“গত রাতে তোমরা যা করেছ, আল্লাহ তা দেখে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়েছেন।”

এবং এ উপলক্ষে আয়াত নাজিল হয়:

“তারা নিজেদের অভাব থাকা সত্ত্বেও অন্যদেরকে নিজেদের ওপর প্রাধান্য দেয়। আর যাদেরকে অন্তরের কৃপণতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফল।” (সূরা হাশর: ৯)

নেক আমল সবসময় মানুষের চোখে পড়তেই হবে, এমন নয়। অন্ধকার ঘরে, লোকচক্ষুর আড়ালে করা একটি ছোট ত্যাগও আল্লাহর কাছে এত প্রিয় হতে পারে যে, তার জন্য কুরআনের আয়াত নাজিল হয়। প্রকৃত ঈমান হলো, নিজের কষ্ট হলেও অন্যকে প্রাধান্য দেওয়া।

উল্লেখ্য, এখানে সন্তানদের ওপর জুলুম করা উদ্দেশ্য ছিল না। বরং পরিস্থিতির কারণে সেদিন তাদের সাময়িকভাবে বুঝিয়ে ঘুম পাড়ানো হয়েছিল। এটি ছিল এক রাতের ত্যাগ—মেহমানের সম্মান ও ইখলাসের একটি অসাধারণ দৃষ্টান্ত।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদিস নং: (৩৭৯৮)

05/05/2026

‎বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত হাসান বসরি (রহ.)-এর হাতে 'আব্বাস' নামের এক যুবক তওবা করেছিল। কিন্তু সে ছিল দুর্বলচিত্তের। সে তওবা করত, আবার গুনাহে লিপ্ত হতো। এভাবে সে সত্তর বারের অধিক তওবা করেছে এবং প্রতিবারই তা ভঙ্গ করেছে।

‎জীবনের শেষ মুহূর্তে যখন তার মৃত্যু ঘনিয়ে এল, সে তার মাকে বলল,

‎"মা! দয়া করে হযরত হাসান বসরি রহ. এর কাছে যাও।

‎তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো, যাতে আমি শেষবারের মতো তার হাতে তওবা করতে পারি। হয়তো আল্লাহ আমাকে মাফ করবেন।"

‎বৃদ্ধা মা হাসান বসরি রহ. এর কাছে গেলেন এবং সালাম দিয়ে বললেন, "আমি আব্বাসের মা। আমার ছেলে মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। সে আপনার হাতে তওবা নবায়ন করতে চায়।"

‎হযরত হাসান বসরি (রহ.) ভাবলেন, বারবার তওবা ভাঙলে মানুষের মনে পাপের প্রতি ভয় কমে যায়। তাই তিনি তাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এবং তার মনে সত্যিকার অনুশোচনা জাগানোর জন্য কঠোরতা দেখালেন। তিনি বললেন: "যাও, এমন লোকের আমার কোনো প্রয়োজন নেই, যে বারবার তওবা করে আর তা ভাঙে।"

‎মা কাঁদতে কাঁদতে ফিরে এসে ছেলেকে জানালেন: "বাবা! তোমার খারাপ কাজের কারণে শায়খ আসতে রাজি হননি।"

‎এ কথা শুনে আব্বাস আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করল, "হে আমার ইলাহ! হে আমার মাওলা! শায়খ (হযরত হাসান বসরি রহ.) আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু তুমি আমাকে তাড়িয়ে দিও না। তুমি আমার আশা ভেঙো না।"

‎সে মাকে বলল: "মা! আমি মারা গেলে তুমি আমার কপালে পা রেখো এবং আমার গলায় রশি বেঁধে আমাকে বাজারের রাস্তায় টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যেও। আর বলবে, 'যে আল্লাহর অবাধ্য হয়, তার শাস্তি এটাই।' হয়তো আল্লাহ আমার এই অপমান দেখে দয়া করবেন।" এ কথা বলেই আব্বাস ইন্তেকাল করল।

‎মা যখন তার কপালে পা রাখতে উদ্যত হলেন, তখন তিনি যেন একটি আওয়াজ শুনতে পেলেন, "থামো! সিজদার জায়গায় (কপালে) পা রেখো না। জেনে রেখো, আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন।" মা খুশি হয়ে তাকে গোসল দিয়ে দাফন করলেন।

‎সেদিন রাতে হযরত হাসান বসরি (রহ.) এক আশ্চর্য স্বপ্ন দেখলেন। কেউ তাঁকে বলছেন,

‎"হে হাসান! তোমাকে কিসে বাধ্য করল আমার বান্দাকে আমার রহমত থেকে নিরাশ করতে? আমিই তো তাকে সৃষ্টি করেছি এবং আমার রহমত সব কিছুকে ঘিরে আছে। আমার ইজ্জতের কসম! ভবিষ্যতে আর কখনো এমন করলে তোমাকেও ছাড় দেয়া হবে না।"

‎আল্লাহর রহমত মানুষের ধারণার চেয়েও বিশাল। কোনো পাপী বারবার তওবা ভাঙলেও তাকে নিরাশ করা উচিত নয়। আল্লাহ আমাদের সকলের গুনাহ ক্ষমা করে দিন। আমিন

‎[সূত্র: আয যাহরুল ফাতিহ- ইবনুল জাওযি রহ.]

সময় থাকতে সংগ্রহ করে রাখা উচিত হোক অর্থ বা জ্ঞান.......!!!প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রী একবার হলেও পড়ুন....!!একবার এক রাজা তাঁ...
29/04/2026

সময় থাকতে সংগ্রহ করে রাখা উচিত হোক অর্থ বা জ্ঞান.......!!!
প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রী একবার হলেও পড়ুন....!!

একবার এক রাজা তাঁর তিনজন মন্ত্রীকে ডেকে দিলেন। প্রত্যেককে একটি করে খালি বস্তা হাতে তুলে দিয়ে বললেন“তোমাদের কাজ হলো বনে গিয়ে যতটা পারো ফল কুড়িয়ে এই বস্তা ভর্তি করে আনবে। দেখি কে কেমনভাবে কাজ করো।”

তিন মন্ত্রী বনে রওনা হলেন।
প্রথম মন্ত্রী ভাবলেন, রাজা যখন বলেছেন, নিশ্চয়ই এর মধ্যে গভীর কোনো অর্থ আছে। তাই তিনি বেছে বেছে ভালো ফল কুড়িয়ে বস্তা ভর্তি করলেন।

দ্বিতীয় মন্ত্রী মনে করলো, রাজা তো আর সব ফল একে একে দেখবেন না। তাই নিচে পচা ফল ভরে, ওপরে সামান্য কিছু ভালো ফল সাজিয়ে নিয়ে এলো।

তৃতীয় মন্ত্রী মনে করল, রাজা তো শুধু দেখবেন বস্তা ভর্তি হয়েছে কিনা, ভেতরে কী আছে তা খোঁজার সময় তাঁর নেই। তাই সে শুকনো পাতা, কাঠি, ঘাস ইত্যাদি দিয়ে বস্তা ভরে ফেলল।

রাজপ্রাসাদে ফেরার পর রাজা তিনজনের বস্তা দেখলেন। বস্তা ভর্তি দেখে তিনি কিছু বললেন না, শুধু হাসলেন। মন্ত্রীরা ভাবলেন কাজ শেষ, এবার পুরস্কার মিলবে। কিন্তু রাজা ঘোষণা করলেন“তোমাদের এই বস্তা সহ সাত দিনের জন্য আলাদা আলাদা কারাগারে পাঠানো হবে। খাবার কিছু দেওয়া হবে না, শুধু বস্তার ভেতরের জিনিসগুলোই তোমাদের ভরসা।”

যেমন বলা তেমন কাজ। তিন মন্ত্রীকে বন্দি করা হলো।
প্রথম মন্ত্রী সাত দিন ধরে নিজের কুড়িয়ে আনা ফল খেয়ে বেঁচে গেল।
দ্বিতীয় মন্ত্রী শুরুতে কিছু ভালো ফল পেলেও, পরের দিনগুলোতে পচা ফল খেতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল।
আর তৃতীয় মন্ত্রীর বস্তায় যখন কিছুই খাওয়ার মতো ছিল না, সে অনাহারে প্রাণ হারাল।

এই কাহিনির শিক্ষা সহজ জীবনে পড়াশোনা, কাজ কিংবা সম্পর্ক যাই করি না কেন, ফাঁকি দিয়ে যদি ভরাট করি, সময়ের সাথে সেই ফাঁকিই আমাদের পতনের কারণ হবে। আর পরিশ্রম ও সততা দিয়ে জমা করা জিনিসই ভবিষ্যতে আমাদের রক্ষা করবে।
সংগৃহীত।

আশা করি এই গল্পটা অনেকের মাইন সেট পরিবর্তন করে দিতে বাধ্য 👇 অন্ধকারে লক্ষ্যভেদ: এক জাপানি মাস্টারের 'ভুতুড়ে' আর্চারি সেশ...
29/04/2026

আশা করি এই গল্পটা অনেকের মাইন সেট পরিবর্তন করে দিতে বাধ্য 👇

অন্ধকারে লক্ষ্যভেদ: এক জাপানি মাস্টারের 'ভুতুড়ে' আর্চারি সেশন! 🏹🌙

এক জাঁদরেল জাপানি মাস্টার, নাম কেনজো আওয়া। তাঁর কাছে এক পশ্চিমা ছাত্র গিয়ে বায়না ধরল, "ওস্তাদ, আমাকে ধনুর্বিদ্যায় বিশ্বসেরা বানিয়ে দিন!"

মাস্টার রাজি হলেন। কিন্তু বিপদ হলো, ছাত্রটি ছিল আমাদের মতোই অস্থির। সে সারাদিন ধনুকের ছিলা টানে আর টার্গেটের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে - "কবে যে ঠিক মাঝখানে লাগবে!" মাসের পর মাস গেল, তীর এদিক-সেদিক যায় কিন্তু ঠিক মাঝখানে আর লাগে না।

ছাত্র তো হতাশ! সে মাস্টারকে গিয়ে বলল, "ওস্তাদ, আপনি বোধহয় আমাকে ঠিকমতো শেখাচ্ছেন না। আমি তো লক্ষ্যবস্তু দেখেই তীর ছুড়ছি, তাও লাগছে না কেন?"

মাস্টার মুচকি হেসে বললেন, "বেটা, তোর সমস্যা হলো তুই ওই গোল চাক্তিটাকেই শুধু দেখছিস। ওটা দেখা বন্ধ করলেই তীর ঠিক জায়গায় লাগবে।"

ছাত্র ভাবল, মাস্টার কি আমাকে পাগল পেলেন? কী সব ধুনপুন বুঝায় আমাকে? লক্ষ্য না দেখে তীর ছুড়লে তো সেটা মঙ্গল গ্ৰহে যাবে!

মাস্টার ছাত্রের চেহারা দেখেই তার মনের কথা বুঝলেন।বললেন, "ঠিক আছে, আজ রাতে খেলা হবে। রাত বারোটার সময় মাঠে আয়।"

মাঝরাতে মাঠে গিয়ে ছাত্রের তো হার্টফেল হওয়ার দশা! ঘুটঘুটে অন্ধকার। নিজের হাত দেখা যাচ্ছে না, তো টার্গেট! শুধু মরা চাঁদের সামান্য নিস্প্রভ আলো। মাস্টার শান্তভাবে দাঁড়ালেন। ধনুকে তীর জোরালেন। ছাত্র ভাবল— "এখন একটা জোক হবে, মাস্টার নিশ্চিত মিস করবেন।"

মাস্টার তীর ছাড়লেন। অন্ধকারের বুক চিরে আওয়াজ এল ‘ঠাস!’।

ঠিক মাঝখানে লেগেছে! ছাত্র অবাক হয়ে ভাবল— কপালজোরে লেগে গেছে!

মাস্টার দ্বিতীয় তীর ছুড়লেন। আবার আওয়াজ এল— ‘ঠাস!’।

ছাত্র যখন মশাল জ্বালিয়ে টার্গেটের কাছে গেল, তার চোখ কপালে! প্রথম তীরের পেছনের অংশ ফালি ফালি করে দ্বিতীয় তীরটা তার ভেতর ঢুকে গেছে! অন্ধকারের মধ্যে লক্ষ্য না দেখে মাস্টার নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদ করেছেন।

ছাত্র হাঁ করে তাকিয়ে থাকলে মাস্টার কাঁধে হাত রেখে বললেন— "আমি লক্ষ্যবস্তু খুঁজি না। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমি কীভাবে দাঁড়িয়েছি, আমার শ্বাস কতটা গভীর আর আমি কতটা একাগ্রতার সাথে তীরটা ছাড়ছি। আমি যখন নিজেকে নিখুঁত করি, তীর নিজেই তার গন্তব্য খুঁজে নেয়।"

আমরা কী শিখলাম?

মাস্টার আওয়া এখানে আমাদের জাপানিজ ফিলোসফি ‘Zanshin’ (জ্যানশিন) শিখিয়েছেন। এর সারকথা হলো:

১. ফলাফলের মায়া ত্যাগ করুন: আপনি যখন কেবল 'রেজাল্ট' বা 'টার্গেট' নিয়ে দুশ্চিন্তা করেন, তখন আপনার বর্তমান কাজে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

২. প্রক্রিয়াকে ভালোবাসুন: আপনি কীভাবে কাজটা করছেন, কতটা মনোযোগ দিচ্ছেন—সেটাই আসল। কাজের প্রক্রিয়া বা 'Process' যদি নিখুঁত হয়, তবে সাফল্য আপনার পিছু নিতে বাধ্য।

৩. বিশ্রাম নয়, প্রস্তুতি: কাজ শেষ হওয়ার পরও নিজের সচেতনতা ধরে রাখাই হলো জ্যানশিন। একবার লক্ষ্যভেদ করেই উৎসব শুরু করবেন না, বরং পরবর্তী তীরের জন্য নিজেকে একই রকম সজাগ রাখুন।

শেষ কথা: আমরা সবাই টার্গেটে মনোযোগ দিই, কিন্তু মাস্টারেরা মনোযোগ দেন প্রসেসে।

সংগৃহীত।

বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত হাসান বসরি (রহ.)-এর হাতে 'আব্বাস' নামের এক যুবক তওবা করেছিল। কিন্তু সে ছিল দুর্বলচিত্তের। সে তওবা কর...
23/04/2026

বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত হাসান বসরি (রহ.)-এর হাতে 'আব্বাস' নামের এক যুবক তওবা করেছিল। কিন্তু সে ছিল দুর্বলচিত্তের। সে তওবা করত, আবার গুনাহে লিপ্ত হতো। এভাবে সে সত্তর বারের অধিক তওবা করেছে এবং প্রতিবারই তা ভঙ্গ করেছে।

জীবনের শেষ মুহূর্তে যখন তার মৃত্যু ঘনিয়ে এল, সে তার মাকে বলল,

"মা! দয়া করে হযরত হাসান বসরি রহ. এর কাছে যাও।

তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো, যাতে আমি শেষবারের মতো তার হাতে তওবা করতে পারি। হয়তো আল্লাহ আমাকে মাফ করবেন।"

বৃদ্ধা মা হাসান বসরি রহ. এর কাছে গেলেন এবং সালাম দিয়ে বললেন, "আমি আব্বাসের মা। আমার ছেলে মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। সে আপনার হাতে তওবা নবায়ন করতে চায়।"

হযরত হাসান বসরি (রহ.) ভাবলেন, বারবার তওবা ভাঙলে মানুষের মনে পাপের প্রতি ভয় কমে যায়। তাই তিনি তাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এবং তার মনে সত্যিকার অনুশোচনা জাগানোর জন্য কঠোরতা দেখালেন। তিনি বললেন: "যাও, এমন লোকের আমার কোনো প্রয়োজন নেই, যে বারবার তওবা করে আর তা ভাঙে।"

মা কাঁদতে কাঁদতে ফিরে এসে ছেলেকে জানালেন: "বাবা! তোমার খারাপ কাজের কারণে শায়খ আসতে রাজি হননি।"

এ কথা শুনে আব্বাস আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করল, "হে আমার ইলাহ! হে আমার মাওলা! শায়খ (হযরত হাসান বসরি রহ.) আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু তুমি আমাকে তাড়িয়ে দিও না। তুমি আমার আশা ভেঙো না।"

সে মাকে বলল: "মা! আমি মারা গেলে তুমি আমার কপালে পা রেখো এবং আমার গলায় রশি বেঁধে আমাকে বাজারের রাস্তায় টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যেও। আর বলবে, 'যে আল্লাহর অবাধ্য হয়, তার শাস্তি এটাই।' হয়তো আল্লাহ আমার এই অপমান দেখে দয়া করবেন।" এ কথা বলেই আব্বাস ইন্তেকাল করল।

মা যখন তার কপালে পা রাখতে উদ্যত হলেন, তখন তিনি যেন একটি আওয়াজ শুনতে পেলেন, "থামো! সিজদার জায়গায় (কপালে) পা রেখো না। জেনে রেখো, আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন।" মা খুশি হয়ে তাকে গোসল দিয়ে দাফন করলেন।

সেদিন রাতে হযরত হাসান বসরি (রহ.) এক আশ্চর্য স্বপ্ন দেখলেন। কেউ তাঁকে বলছেন,

"হে হাসান! তোমাকে কিসে বাধ্য করল আমার বান্দাকে আমার রহমত থেকে নিরাশ করতে? আমিই তো তাকে সৃষ্টি করেছি এবং আমার রহমত সব কিছুকে ঘিরে আছে। আমার ইজ্জতের কসম! ভবিষ্যতে আর কখনো এমন করলে তোমাকেও ছাড় দেয়া হবে না।"

আল্লাহর রহমত মানুষের ধারণার চেয়েও বিশাল। কোনো পাপী বারবার তওবা ভাঙলেও তাকে নিরাশ করা উচিত নয়। আল্লাহ আমাদের সকলের গুনাহ ক্ষমা করে দিন। আমিন

[সূত্র: আয যাহরুল ফাতিহ- ইবনুল জাওযি রহ.]

এক স্বর্ণকারের মৃত্যুর পর তার পরিবারটা বেশ সংকটে পড়ে গেলো। খাদ্য-বস্ত্রে দেখা দিল চরম অভাব। স্বর্ণকারের বিধবা স্ত্রী তার...
19/04/2026

এক স্বর্ণকারের মৃত্যুর পর তার পরিবারটা বেশ সংকটে পড়ে গেলো। খাদ্য-বস্ত্রে দেখা দিল চরম অভাব।
স্বর্ণকারের বিধবা স্ত্রী তার বড় ছেলেকে একটা হীরের হার দিয়ে বললো--এটা তোমার কাকার দোকানে নিয়ে যাও সে যেন এটা বেচে কিছু টাকার ব্যবস্থা করে দেয়

ছেলেটা হারটি নিয়ে কাকার কাছে গেল। কাকা হারটা ভালো করে পরীক্ষা করে বললো- বেটা, তোমার মাকে গিয়ে বলবে যে এখন বাজার খুবই মন্দা, কয়েকদিন পর বিক্রি করলে ভাল দাম পাওয়া যাবে। কাকা কিছু টাকা ছেলেটিকে দিয়ে বললেন--আপাতত এটা নিয়ে যাও আর কাল থেকে তুমি প্রতিদিন দোকানে আসবে আমি কোন ১দিন ভাল খদ্দোর পেলেই যেন তুমি দৌড়ে হার নিয়ে আসতে পার তাই সারাদিন থাকবে।

পরের দিন থেকে ছেলেটা রোজ দোকানে যেতে লাগলো।সময়ের সাথে সাথে সেখানে সোনা-রুপা-হীরে কাজ শিখতে আরম্ভ করলো।
ভাল শিক্ষার ফলে অল্প দিনেই খুব নামি জহুরত বনে গেল। দূর দূরান্ত থেকে লোক তার কাছে সোনাদানা বানাতে ও পরীক্ষা করাতে আসত। খুবই প্রসংশীত হচ্ছিল তার কাজ।

একদিন ছেলেটির কাকা বললো-- তোমার মাকে গিয়ে বলবে যে এখন বাজারের অবস্থা বেশ ভালো, তাই সেই হারটা যেন তোমার হাতে দিয়ে দেন। এখন এটা বিক্রি করলে ভালো দাম পাওয়া যাবে।

ছেলেটি ঘরে গিয়ে মায়ের কাছ থেকে হারটি নিয়ে পরীক্ষা করে দেখলো যে এটা একটা নকল হীরের হার। তাই সে হারটা আর কাকার কাছে না নিয়ে বাড়িতেই. রেখে দিলো।

কাকা জিজ্ঞেস করলো-- হারটি এনেছো ?ছেলেটি বললো-- না কাকা পরীক্ষা করে দেখলাম এটা একটা নকল হার।

তখন কাকা বললো- তুমি যেদিন আমার কাছে হারটি প্রথম নিয়ে এসেছিলে সেদিন আমি দেখেই বুঝে নিয়েছিলাম যে এটা নকল, কিন্তু তখন যদি আমি তোমাকে এই কথাটা বলে দিতাম, তাহলে তোমরা হয়তো ভাবতে যে আজ আমাদের মন্দা সময় বলেই কাকা আমাদের আসল জিনিষকে নকল বলছে।

আজ যখন এ ব্যাপারে তোমার পুরো জ্ঞান হয়ে গেছে, তখন তুমি নিজেই বলছো এটা নকল হার।
এই দুনিয়াতে প্রকৃত জ্ঞান ছাড়া তুমি যা কিছু দেখছো যা কিছু ভাবছো সবটাই এই হারের মতই নকল, মিথ্যে।

জ্ঞান ছাড়া কোন জিনিসের বিচার সম্ভব নয়। আর এই ভ্রমের শিকার হয়েই অনেক সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়। তোমাদের সাথে আমার সেই সম্পর্কটা নষ্ট হোক আমি তা চাইনি।
সংগৃহীত।

- এক যুবকের বাবা মারা গেলেন। কিন্তু লোকটির কর্ম হয়তো এমন ছিল যে, তাঁর জানাযায় অংশ নিতে একজন মানুষও এগিয়ে এল না।শেষ পর্যন...
18/04/2026

- এক যুবকের বাবা মারা গেলেন। কিন্তু লোকটির কর্ম হয়তো এমন ছিল যে, তাঁর জানাযায় অংশ নিতে একজন মানুষও এগিয়ে এল না।

শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে তার ছেলেই নিজের বাবার নিথর দেহটি টেনে নিয়ে মরুভূমির দিকে চলল। উদ্দেশ্য ছিল, লোকচক্ষুর অন্তরালে মরুভূমির কোনো এক প্রান্তে বাবাকে দাফন করে দেবে।

মরুভূমিতে এক রাখাল তার ভেড়া চরাচ্ছিল। সে দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে এগিয়ে এল। ছেলেটিকে একা দেখে জিজ্ঞেস করল, "অন্যরা কোথায়? তুমি একা কেন দাফন করছ?"

ছেলেটি লজ্জায় বাবার কোনো বদনাম প্রকাশ করতে চাইল না। সে শুধু মাথা নিচু করে বলল, "লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।"

রাখালটি ছেলেটির চোখের ভাষা আর নিরবতা দেখে সব বুঝে নিল। সে ছেলেটির সাথে কবর খুঁড়ল এবং তার বাবাকে দাফন করতে সাহায্য করল। দাফন শেষে রাখালটি আকাশের দিকে হাত তুলে মনে মনে খুব সংক্ষেপে একটি দোয়া করল এবং নিজের ভেড়ার পালের কাছে ফিরে গেল।

সেই রাতেই ছেলেটি স্বপ্নে তার বাবাকে দেখল। তিনি অত্যন্ত উজ্জ্বল পোশাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের এক উঁচু স্থানে খুব খুশি মনে বসে আছেন। ছেলেটি বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা! আপনার জানাযায় তো কেউ ছিল না, তবে আপনি জান্নাতের এত সম্মানের জায়গায় কীভাবে পৌঁছালেন?"

বাবা মুচকি হেসে বললেন, "বাবা, সেই মরুভূমির রাখালটির দোয়ার বরকতে আল্লাহ আজ আমাকে এই রাজকীয় সম্মান দিয়েছেন।"

পরদিন সকালে ছেলেটি পাগলের মতো সেই রাখালকে খুঁজতে শুরু করল। পুরো মরুভূমি চষে ফেলার পর যখন তাকে পেল, তখন তার হাত জড়িয়ে ধরে আকুতি জানাল, "আল্লাহর দোহাই লাগে! আমাকে বলুন আপনি আমার বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কী দোয়া করেছিলেন? আমি তাঁকে জান্নাতে দেখেছি!"

রাখালটি অবাক হয়ে বলল, "আমি তো খুব সাধারণ একটা কথা বলেছিলাম। আমি আল্লাহর কাছে বলেছিলাম,

'হে আল্লাহ! আমি একজন অতি সাধারণ মানুষ। আমার ঘরে যখন কোনো মেহমান আসে, আমি আমার সাধ্যমতো তাকে সম্মান করি এবং খাওয়াই। আজ এই বান্দা আপনার মেহমান হয়ে আপনার জমিনে এসেছে। আর আপনি তো মহাবিশ্বের সবথেকে বড় দাতা! আপনি তাকে মেহমান হিসেবে গ্রহণ করে ধন্য করুন'।"

অনেক সময় বড় বড় আমল কিংবা বংশমর্যাদা নয়, বরং কোনো এক অপরিচিত মানুষের সরল মনের ছোট্ট একটি দোয়াই আল্লাহর কাছে মুক্তির উসিলা হয়ে দাঁড়ায়।

মরুভূমির সেই রাখাল বড় কোনো কিতাব দেখে দোয়া করেনি। সে তার মনের কথাগুলো খুব সহজভাবে আল্লাহর কাছে পেশ করেছে। অলংকৃত ভাষার চেয়ে হৃদয়ের আকুতি আল্লাহর কাছে বেশি পৌঁছায়।

আল্লাহ আমাদের গুনাহ ক্ষমা করুন এবং আমাদের অন্তরকে নরম করে দিন। পরকালে আমাদের সবাইকে জান্নাতুল ফেরদাউসে প্রিয় নবী ﷺ-এর প্রতিবেশী হিসেবে কবুল করুন। আমীন।

(আরবি আর্টিকেল থেকে অনূদিত)

18/04/2026

🌟 উম্মতের মায়ায় সিক্ত এক প্রতিশ্রুতি: সূরা আদ-দোহা ও নবীজির (সা.) ভালোবাসা 🌟

আরবের তপ্ত দিন। চারদিকে প্রখর রোদ। এই কঠিন পরিবেশের মাঝেই রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর নাজিল হচ্ছিল পবিত্র ওহী। ওহী নাজিলের সময়টি তাঁর জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল। তাঁর কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছিল, শরীরে প্রচণ্ড চাপ অনুভূত হচ্ছিল। এই কঠিন অবস্থার মাঝেই ওহী নিয়ে এলেন আসমানের বিশ্বস্ত ফেরেশতা হযরত জিবরাইল (আ.)।

১. ওহীর ভার ও একটি আয়াত
জিবরাইল (আ.) সূরা আদ-দোহা তিলাওয়াত করতে লাগলেন। পড়তে পড়তে তিনি যখন একটি বিশেষ আয়াতে পৌঁছালেন—

"ওয়া লাসাওফা ইউ‘তীকা রাব্বুকা ফাতারদা।" > (এবং অচিরেই আপনার রব আপনাকে এতোই দান করবেন যে, আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন।)

আয়াতটি শোনা মাত্রই নবীজি ﷺ জিবরাইল (আ.)-কে থামিয়ে দিলেন। ওহীর এতো কষ্টের মাঝেও তিনি ব্যাকুল হয়ে বলে উঠলেন, "থামো জিবরাইল! থামো! আমার কিছু কথা আছে।"

২. জিবরাইল (আ.)-কে সাক্ষী রেখে শর্ত
জিবরাইল (আ.) অবাক হয়ে গেলেন। তিনি বিনীতভাবে জিজ্ঞেস করলেন, "হে আল্লাহর নবী! আপনি আল্লাহর কাছে কী চান?"

নবীজি ﷺ তখন এক ঐতিহাসিক ও হৃদয়বিদারক ঘোষণা দিলেন। তিনি বললেন—

"হে জিবরাইল! তুমি সাক্ষী থাকো। আল্লাহ বলেছেন তিনি আমাকে এত দেবেন যে আমি খুশি হয়ে যাব। কিন্তু আমি তোমাকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমার একজন উম্মতও যদি জাহান্নামের আগুনে জ্বলে, তবে আমি আল্লাহর ওপর খুশি হব না! না, না, না! আমার সব উম্মতকে জান্নাতে না নেওয়া পর্যন্ত আমি কখনোই সন্তুষ্ট হব না!"

সুবহানাল্লাহ! তিনি ছিলেন এমন এক নবী, যিনি নিজের কষ্টের কথা ভুলে গিয়েও উম্মতের নাজাতের চিন্তায় ব্যাকুল থাকতেন।

৩. শেষ বিদায়ের প্রহর ও উম্মতের ভাবনা
বছর গড়িয়ে গেল। নবীজি ﷺ-এর জীবনের শেষ প্রহর ঘনিয়ে এল। তিনি মৃত্যুশয্যায় শায়িত। তাঁর দুই চোখে অশ্রু। আজরাইল (আ.) নবীজির প্রাণবায়ু হরণ করার জন্য বুকের ওপর হাত রাখার অপেক্ষায় বসে আছেন। কিন্তু আল্লাহর নির্দেশ হলো—নবীজির অনুমতি ছাড়া তাঁর জান কবজ করা যাবে না।

জিবরাইল (আ.) পাশে বসে নবীজি ﷺ-কে অত্যন্ত মোলায়েম স্বরে বললেন, "হে আল্লাহর নবী! মহান আল্লাহ আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন। আপনি কি তাঁর সান্নিধ্যে যেতে চান না?"

নবীজি ﷺ ডুকরে কেঁদে উঠলেন। তিনি বললেন, "না জিবরাইল, না। আগে আল্লাহকে জিজ্ঞেস করো, আমি চলে গেলে আমার এই দুর্বল উম্মতকে কে দেখে রাখবে? তাদের কী হবে?"

৪. রবের সান্ত্বনা ও চিরস্থায়ী ছায়া
নবীজির এই ব্যাকুলতা দেখে আরশের মালিক মহান আল্লাহ জিবরাইল (আ.)-কে জানিয়ে দিলেন—

"আমার হাবিবকে গিয়ে বলো, আমি তাঁর উম্মতকে কখনোই একা রাখব না। আমি তাদের দেখে রাখব, আমি তাদের আপন করে আগলে রাখব।"

গল্পের শিক্ষা ও আমাদের জীবনের প্রতিচ্ছবি:
মহান আল্লাহর সেই ওয়াদা আজও বহাল আছে এবং হাশরের কঠিন ময়দানেও থাকবে। জীবনে যখনই আমরা কোনো কঠিন বিপদে পড়ি, হতাশা যখন চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে, তখন মনে হয় সব শেষ। কিন্তু আল্লাহ কখনোই আমাদের একা ছেড়ে দেন না। কোনো না কোনোভাবে, অপ্রত্যাশিত কোনো দিক থেকে তিনি ঠিকই একটা উপায় বের করে দেন।

আমাদের নিঃস্ব না করে তিনি সবসময় রহমতের ছায়া দিয়ে আগলে রাখেন। এই অসীম দয়া ও নবীজির ﷺ ভালোবাসার কথা স্মরণ করে আমাদের অন্তর থেকে কেবল একটি শব্দই বেরিয়ে আসে— আলহামদুলিল্লাহ!

18/04/2026

খলিফা হারুন অর রশিদ পানি পান করতে যাবেন, গ্লাস ঠিক ঠোঁটের কাছে নিয়েছেন, এমন সময় হযরত বহলুল (রহঃ) বললেন, "আমিরুল মুমিনীন! একটু থামুন। পানি পান করার আগে আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দিন।"

খলিফা বললেন, "বলো কি জানতে চাও?"

বহলুল (রহঃ) বললেন, "মনে করুন আপনি প্রচন্ড তৃষ্ণার্ত হয়ে এমন মাঠে আছেন যেখানে পানি নাই। পিপাসায় আপনার প্রাণ ওষ্ঠাগত। এমন অবস্থায় আপনি এক গ্লাস পানির জন্য কতটা মূল্য ব্যয় করবেন?"

খলিফা বললেন, "যেহেতু পানি না পেলে আমার মৃত্যু হবে তাই আমার পুরো সম্পত্তিও ব্যয় করে দিতে পারবো।"

হযরত বহলুল (রহঃ) বললেন, "ঠিক আছে এবার বিসমিল্লাহ বলে পানি পান করেন।"

খলিফা পানি পান করলেন। এবার হযরত বহলুল (রহঃ) বললেন, "আমার আর একটি প্রশ্ন আছে।"

খলিফা বললেন, "বলো।"

বহলুল (রহঃ) বললেন, "এই পানি যদি আপনার শরীর থেকে না বের হয়, পেটেই জমা থাকে। প্রসাব বন্ধ হয়ে যায়, সেই পানি বের করবার জন্য কত টাকা ব্যয় করবেন?"

-প্রসাব বন্ধ হলে তো আমি সহ্য করতে পারবো না। মারা যাবো। জীবন বাঁচাতে একজন ডাক্তার যতটা চায় ততটাই দিবো। আমার পুরো রাজত্ব চাইলেও দিয়ে দিবো।"

হযরত বহলুল (রহঃ) বললেন, তাহলে বোঝা গেল আপনার পুরো রাজত্ব এক গ্লাস পানির দামের সমানও নয়। মাত্র এক গ্লাস পানি পান করতে বা বের করতে আপনি পুরো রাজত্বও দিয়ে দিতে চান। তাহলে কত গ্লাস পানি নিয়মিত পান করেন আর বের করেন, এটা একটু ভাবেন আর এই নেয়ামত যিনি দিয়েছেন তার শুকরিয়া আদায় করেন।"

শরীর থেকে পানি বের করার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় যে অঙ্গ তাহলো কিডনি। করাচির এক ডাক্তারকে (কিডনি বিশেষজ্ঞ) একবার একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, "বিজ্ঞান এখন এতো উন্নত, আপনারা একজনের কিডনি অন্যের শরীরে প্রতিস্থাপন করেন তাহলে কৃত্রিম কিডনি তৈরি করতে পারছেন না কেন?"

ডাক্তারের উত্তরটি ছিলো খুবই আশ্চর্যজনক।

তিনি বলেছিলেন, "সায়েন্সের এই উন্নতি সত্ত্বেও কৃত্রিম কিডনি তৈরি করা খুব কঠিন। কারণ আল্লাহ তায়ালা কিডনির ভেতরে যে চালনি যুক্ত করেছেন তা খুব সুক্ষ্ম এবং পাতলা। এখনো পর্যন্ত এমন যন্ত্র আবিষ্কার হয়নি যা এমন সুক্ষ্ম ও পাতলা চালনি তৈরি করতে পারে। আর যদি কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে চালনি তৈরি করাও হয় তবুও কিডনির ভেতর এমন একটি জিনিস আছে যা তৈরি করা আমাদের ক্ষমতার বাইরে। জিনিসটি হলো একটি মস্তিষ্ক (sensor)। এই মস্তিষ্ক ফায়সালা করে যে, এই মানুষের শরীরে কতটুকু পানি রাখা চাই আর কতটুকু ফেলে দেওয়া চাই। তার ফায়সালা শতভাগ সঠিক হয়।
ফলে আমরা যদি কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে কৃত্রিম কিডনি তৈরি করেও ফেলি, তবুও আমরা এতে মস্তিষ্ক তৈরি করতে পারবো না, যা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রতিটি মানুষের কিডনিতে সৃষ্টি করেছেন।"

পানি পান এবং নিষ্কাশনের প্রক্রিয়াটি খুব করে মনে পড়ে যখন সূরা যারিয়াতের ২১ নং আয়াত পড়ি। সেখানে মহান রব বলেছেন-

"আমরা কী নিজেদের সত্ত্বা নিয়ে কখনো চিন্তা করে দেখেছি?"

একটা কাক ভালোবেসেছিল এক ময়ূরকে। সে প্রায়ই ময়ূরের পিছে পিছে ঘুরে বেড়াত। ময়ূর এটা বুঝতে পারলেও না বোঝার ভান করে কাককে এড়িয়...
17/04/2026

একটা কাক ভালোবেসেছিল এক ময়ূরকে। সে প্রায়ই ময়ূরের পিছে পিছে ঘুরে বেড়াত। ময়ূর এটা বুঝতে পারলেও না বোঝার ভান করে কাককে এড়িয়ে চলতো। এভাবে দীর্ঘদিন কেটে যায়।
একদিন ময়ূর তার বাসার সামনে একটা হলুদ খাম দেখতে পেল। সেই খামের ভিতরে একটা ছোট্ট কালো রঙের ফুল। ময়ূর বুঝতে পারল কাকই খামের ভিতরে ফুল পাঠিয়েছে।
কয়েকদিন পর কাকের সাথে ময়ূরের দেখা হলো। ময়ূর বলল, "তোমার শরীর যেমন কালো রঙের, তেমনি তোমার রুচিও কালো। তাই তো এত ভালো ভালো রঙের ফুল থাকতে কালো ফুল পাঠিয়েছো!"
কাক ময়ূরের কথা শুনে দু:খ পেয়ে চলে গেল।
বেশ কিছুদিন ময়ূর আর কাকের দেখা পেল না। এভাবে সপ্তাহ গেল, মাস গেল, বছর পেরিয়ে গেল। কাকের সন্ধান আর ময়ূর পেল না। অবশ্য ময়ূর কাকের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টাও কখনো করে নি।
কয়েক বছর পর হঠাৎ করে কাকের সাথে ময়ূরের দেখা হয়ে গেল। ময়ূর কাককে দেখে বলল, "আমার রূপ দেখে সবাই আমাকে ভালোবাসতে চায়। তুমিও তো ভালোবাসতে চেয়েছিলে। তবে আমাকে জয় করার চেষ্টা আর করলে না কেন?"
কাক জবাব দিল, "তোমার সাথে জীবনে একদিনই আমার কথা হয়েছিল। তুমি যতদিন আমার সাথে কথা বলো নি; ততদিন মনে হয়েছিল, সুন্দর রূপের আড়ালে একটা সুন্দর মনও লুকিয়ে আছে। কিন্তু যখন দেখলাম, ফুলের মতো জিনিসকেও তুমি রঙ দেখে বিচার করো; তখনই বুঝেছিলাম মরীচিকার পিছে ছুটে চলেছি। তাইতো নিজেকে সরিয়ে নিলাম।"
ময়ূর বলল, "এখন যদি তোমাকে পেতে চাই, তবে কি তুমি আমাকে ভালোবাসবে?"
কাক বলল, "চোখের নেশা কেটে গেছে। চোখের নেশা কেটে গেলে ময়ূরের সৌন্দর্যও আর চোখে ধরা পড়ে না। তখন ময়ূরকেও কাকের মতো লাবণ্যহীন মনে হয়। জীবনের আসল বাস্তবতা তখন চোখের সামনে দীপ্তিমান হয়ে ফুটে ওঠে। এই বাস্তবতা-ই সঠিক পথের দিশা দেয়। বাস্তবতাকে ভুলে আবেগে আবার গা ভাসালে দিশাহীন নাবিকের মতো অথই সাগরে ঘুরপাক খাব।"
কাক ও ময়ূর বিপরীত দিকে হাঁটা শুরু করল। ধীরে ধীরে দু'জনার দূরত্ব বাড়তে লাগল। এ দূরত্ব যত বাড়বে "জীবন" নামক সমুদ্র থেকে তারা তত বেশি মুক্তা সংগ্রহ করতে পারবে।
সংগৃহীত।

Address

Village/Titir Char, Post Office/Chandanpur, Upazila/Meghna
Cumilla
3515

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Abdul Gaffar posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Abdul Gaffar:

Share