29/05/2026
একদিন এক ক্ষুধার্ত ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর কাছে এসে খাবারের আবেদন করলেন।
নবীজি ﷺ ঘরে খাবার আছে কি না জানতে খবর পাঠালেন।
কিন্তু ঘর থেকে উত্তর এলো, “পানি ছাড়া আর কিছুই নেই।”
তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ সাহাবীদেরকে বললেন,“কে আছো, যে এই মেহমানকে নিজের ঘরে নিয়ে খাওয়াবে?”
একজন আনসারী সাহাবী রাজি হলেন। তিনি ছিলেন আবু তালহা আনসারী রা.।
তিনি মেহমানকে নিয়ে বাড়িতে গেলেন এবং স্ত্রীকে বললেন,“আজ আমাদের ঘরে রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর একজন মেহমান এসেছেন।”
স্ত্রী বললেন,“ঘরে তো শুধু বাচ্চাদের খাবারটুকুই আছে।”
তখন সাহাবী বললেন,
“খাবার প্রস্তুত করো। আর বাচ্চারা চাইলে তাদের বুঝিয়ে-শুনিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও।”
খাবার সামনে আনা হলো। এরপর স্ত্রী বাতি ঠিক করার অজুহাতে সেটি নিভিয়ে দিলেন।
ঘর অন্ধকার হয়ে গেল।
মেহমান যেন বুঝতে না পারেন, তাই স্বামী-স্ত্রী দুজনেই খাওয়ার ভান করতে লাগলেন। মুখে শব্দ করছিলেন, যেন মনে হয় তারাও খাচ্ছেন।
কিন্তু বাস্তবে — তারা নিজেরা না খেয়ে পুরো খাবারটুকু মেহমানকে খাইয়ে দিলেন।
সেই রাত তারা ক্ষুধার্ত অবস্থায় কাটালেন, কিন্তু মেহমান যেন ক্ষুধার্ত না থাকেন সেটিই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
পরদিন সকালে সেই সাহাবী রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর কাছে গেলে নবীজি ﷺ বললেন,
“গত রাতে তোমরা যা করেছ, আল্লাহ তা দেখে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়েছেন।”
এবং এ উপলক্ষে আয়াত নাজিল হয়:
“তারা নিজেদের অভাব থাকা সত্ত্বেও অন্যদেরকে নিজেদের ওপর প্রাধান্য দেয়। আর যাদেরকে অন্তরের কৃপণতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফল।” (সূরা হাশর: ৯)
নেক আমল সবসময় মানুষের চোখে পড়তেই হবে, এমন নয়। অন্ধকার ঘরে, লোকচক্ষুর আড়ালে করা একটি ছোট ত্যাগও আল্লাহর কাছে এত প্রিয় হতে পারে যে, তার জন্য কুরআনের আয়াত নাজিল হয়। প্রকৃত ঈমান হলো, নিজের কষ্ট হলেও অন্যকে প্রাধান্য দেওয়া।
উল্লেখ্য, এখানে সন্তানদের ওপর জুলুম করা উদ্দেশ্য ছিল না। বরং পরিস্থিতির কারণে সেদিন তাদের সাময়িকভাবে বুঝিয়ে ঘুম পাড়ানো হয়েছিল। এটি ছিল এক রাতের ত্যাগ—মেহমানের সম্মান ও ইখলাসের একটি অসাধারণ দৃষ্টান্ত।
তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদিস নং: (৩৭৯৮)