05/07/2026
দান-খয়রাত অনেকেই করেন। কিন্তু একজন কর্মহীন মানুষকে আত্মসম্মান নিয়ে স্বাবলম্বী করার বাস্তব ফর্মুলা সবাই বোঝেন না। দেবিদ্বারের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এবার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেটি শুধু সহযোগিতা নয়—এটি একটি চিন্তার পরিবর্তন, একটি কার্যকর মডেল।
নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তিনি ৮ জন কর্মহীন মানুষের মাঝে রিকশা বিতরণ করেছেন। শুনতে সাধারণ উদ্যোগ মনে হলেও, আসল নতুনত্ব লুকিয়ে আছে এর পদ্ধতিতে।
রিকশা পাওয়া ব্যক্তি রিকশাটি বিক্রি করতে পারবেন না, কাউকে হস্তান্তর করতে পারবেন না, এমনকি ভাড়াও দিতে পারবেন না। অর্থাৎ যিনি রিকশা পেয়েছেন, পরিশ্রমটা তাকেই করতে হবে। প্রতিদিন ১০০ টাকা করে সপ্তাহে মাত্র ৭০০ টাকা উপজেলা প্রশাসনে জমা দিতে হবে।
প্রতি রিকশার মূল্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। ৩০ মাস নিয়মিত টাকা পরিশোধ করলে মোট জমা হবে ৯০ হাজার টাকা। বাকি ৩৫ হাজার টাকা সম্পূর্ণ মওকুফ।
মানে, একদিকে মানুষটি নিজের শ্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে রিকশার মালিক হবেন; অন্যদিকে তিনি সুদ, চাপ, এনজিও কিস্তি বা ঋণের ফাঁদে পড়বেন না। ফ্রি পেয়ে অবহেলা করার সুযোগও নেই, আবার চড়া সুদের বোঝায় পিষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও নেই।
এটাই আসল উন্নয়ন ভাবনা।
কারণ প্রকৃত সহায়তা মানে শুধু হাতে কিছু তুলে দেওয়া নয়; প্রকৃত সহায়তা হলো মানুষকে এমন একটি পথে দাঁড় করানো, যেখানে সে নিজের পরিশ্রমে নিজের ভাগ্য বদলাতে পারে।
এই মডেল গরিব মানুষকে অলস করে না, বরং দায়িত্বশীল করে। করুণা নয়, কর্মসংস্থান দেয়। দান নয়, আত্মমর্যাদার পথ খুলে দেয়।
হাসনাত আবদুল্লাহর এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। দেশের জনপ্রতিনিধিরা যদি এমন বাস্তবভিত্তিক, সুদমুক্ত ও আত্মনির্ভরশীল কর্মসংস্থান মডেল অনুসরণ করেন, তাহলে অনেক কর্মহীন মানুষের জীবন বদলে যেতে পারে।
স্যালুট এমপি Hasnat Abdullah 🫡
এমন চিন্তাই বদলে দিতে পারে দেবিদ্বারকে,
এমন মডেলই পথ দেখাতে পারে বাংলাদেশকে।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ ✊