13/11/2021
ছোটবেলা থেকেই আমি ক্রিকেটভক্ত একজন মানুষ।আগের মতো না হলেও এখনও প্রতিনিয়ত শুধুমাত্র মনের খোরাক মেটানোর জন্য মাঝে-মধ্যে আমার নিজ দলের পাশাপাশি বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক দলগুলোর ক্রিকেট ম্যাচ দেখে যাচ্ছি।এখন আমরা সবাই মনে-প্রাণে শুধু আমাদের জাতীয় ক্রিকেট টীম টাকে সার্পোট করলেও নব্বই দশকের শুরু থেকে এ্কটা সময় পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশীরা কম বেশি সবাই উপমহাদেশের তিন ক্রিকেট পরাশক্তি ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার রীতিমত অন্ধভক্ত ছিলাম। শুধু আমরা এই তিন দলের অন্ধভক্তই ছিলাম না, সনাথ জয়সুরিয়া, অর্জনা রানাতুঙ্গা, চামিন্দা ভাস, শচীন টেনন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি, সাইদ আনোয়ার, ওয়াসিম আকরাম, সাকলাইন মুস্তাক প্রমুখ সব মেগাস্টাররা সবসময় আমাদের মনের গহীনে বসত করতেন। আমি নিজেও এই সিলেবাসের বাইরের কোন মানুষ ছিলাম না।শুরুতে সাইদ আনোয়ার, আমির সোহেল, রমিজ রাজা, ইনজামামুল হক, ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস এবং পরবতীর্তে মইন খান, আব্দুল রাজ্জাক, আজাহার মাহমুদ সহ আরো কিছু খেলোয়ারদের পারফর্মেন্স দেখতে দেখতে বড় হয়েছি বিধায় আমি ছিলাম পাকিস্তান ক্রিকেট দলের একজন সার্পোটার।দীর্ঘ একটা সময় শুধুমাত্র পাকিস্তান ক্রিকেট টীমকেই সার্পোট করার কারনেই হয়তোবা সময়ের সাথে সাথে আমার জীবনের গতিপথটা অনেকাংশে হয়ে গেছে পাকিস্তান ক্রিকেট টীমের মতোই আনপ্রেডিক্টেবল।জীবনের রানওয়েতে চলতে গিয়ে নিশ্চিত জেতা ম্যাচ যেমন হেরেছি, ঠিক তেমনি খানিকটা ভাগ্যের সহয়তায় জিতে গেছি নিশ্চিত ভাবে হেরে যাওয়া কিছু ম্যাচ।
ছোটবেলায় আমাদের বাসায় টিভিতে ক্যাবল টিভির কোন সংযোগ ছিলো না। আমার পড়াশুনার ক্ষতি হবে ভেবেই আম্মু এই কঠিনতম সিন্ধান্তটা সেই সময় নিয়েছিলেন। আব্বুও খবর দেখা ছাড়া খুব একটা টিভি দেখতেন না বিধায় আমার অনুরোধ সংসোদের নিয়মিত অধিবেশনগুলোতে কখনোই খুব একটা ধোপে টিকতো না। তাই সেই সময়টাতে শুধুমাত্র বিটিভিতে যে আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করা হত, শুধু সেই খেলাগুলো দেখার সুযোগ পেতাম।তবে মাঝে-মধ্যে কিছু গুরত্বপূর্ণ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের খেলাগুলো দেখার জন্য তিন তলায় ছোটমামার বাসায় চলে যেতাম ক্রিকেট ম্যাচ দেখার জন্য। ছোটমামার বাসায় ২০ ইঞ্চি প্যানাসনিক কালার টিভিতে সবাই মিলে হইহই করে খেলা দেখতাম। খেলা দেখার সময় রাত বেশি হয়ে গেলে বাসায় বাইরে থাকার অনুমতি অটো ডিএক্টিভেটেড হয়ে যেতো বিধায় যদি অনুমতিটা নতুনরুপে রিনিউ না হয়, সেই ভয়ে খেলার টান-টান উত্তেজনাপূর্ণ মূহুর্ত্বে খেলা না দেখেই বাসায় ফিরে আসতাম।মাঝে-মধ্যে সবার সাথে হইহই করে খেলা দেখার জন্য নানা বাসার নীচ তলায় সৌরভদের বাসায় চলে যেতাম।সেখানে অনেক সময় ক্লাব ঘরের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হত। এ কারনে অনেক সময় আন্টি বিরক্ত বোধ করতেন। কিন্তু তারপরও হাসিমুখে আমাদের এই মধুর অত্যাচার তিনি সবসময় মেনে নিয়েছেন।আবার অনেকসময় ক্রিকেট ম্যাচগুলো দেখার জন্য নানাবাড়ী সংলগ্ন ট্রান্সপোর্টের অফিসে চলে যেতাম। সেখানে সবার সাথে কিছুটা সময় ক্রিকেট ম্যাচ উপভোগ করে বাসায় ফিরে আসতাম।
আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা সবই ফরিদপুর শহরে। ১৯১৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য প্রথম বড়মাপের আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট উইলস মিনি বিশ্বকাপের সময় বিশ্বের সেরা সেরা খেলোয়ারদের নিজ চোখের সামনে দেখার জন্য কেন যেন বার বার আমার মন যেতে চাইতো বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে।তখন মাত্রই ক্লাস সিক্সের ছাত্র হওয়ায় তৎকালীন সময়ে আমার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি।এর ফলস্বরুপ সাদাকালো আবার কখনো কালার টিভির পর্দায় পুরো টুর্নামেন্টটাই আমাকে দেখতে হয়েছিলো। পরবর্তীতে ২০০০ সালে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সময়ও আমার মনের মধ্যে সেই একই ইচ্ছা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তখনও সেই ইচ্ছা আমার পূরণ হয়নি। তখন থেকেই মনে মনে প্লানিং করলাম যদি কখনো ঢাকায় থাকার সুযোগ পাই তাহলে সবার আগে এই ইচ্ছা টা পূরণ করব।আল্লাহপাক একটু দেরীতে হলেও আমার ফরিয়াদ শুনেছেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে জীবিকার তাগিদে এখন ঢাকাতেই থাকি।শুধু তাই নয় আমাদের বাসা থেকে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দুরত্ব খুব বেশি নয়। তারপরও পূরণ না হওয়া সেই অতৃপ্ত ইচ্ছাটার সাময়িক মৃত্যু ঘটায় এখনো গ্যালারীতে বসে সাকিব, তামিম, মুশফিক দের খেলা দেখা হয়নি। যদি কখনো বা সেই অতৃপ্ত ইচ্ছা জীবন্ত হয়ে আমার মনের মধ্যে পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে তাহলে হয়তোবা আসন্ন বাংলাদেশ-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজের যে কোন একটা ম্যাচ শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্যালারীতে বসে সরাসরি উপভোগ করার মধ্য দিয়ে আমার সেই অতৃপ্ত ইচ্ছাটা এবার পূরণ হয়ে যাবে....................