13/09/2026
পূর্ববাংলার প্রায় সবগুলো রাজনৈতিক সংগ্রামে মওলানা ভাসানী ছিলেন, সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন থেকে শুরু করে কংগ্রেস, মুসলিম লীগ হয়ে নিজের হাতে গড়া আওয়ামী লীগ ছেড়ে গড়েছিলেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি। কৃষকের স্বার্থ বিরোধী জমিদারদের দল বলে কংগ্রেসী রাজনীতি ছেড়েছেন, পূর্ববাংলার জনগণের শত্রু বলে ছেড়েছেন মুসলিম লীগ। আওয়ামী লীগ ছেড়েছিলেন, কারণ তারা যুদ্ধবাজ মার্কিন সামরিক বলয়ে দেশটাকে টেনে নিয়েছিল, আর একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল, সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ তখন স্বায়ত্বশাসনের দাবির সাথে বিশ্বাসভঙ্গ করেছিল।
নির্দিদ্বায় ছাড়তে পারাটা মওলানার একটা অসম্ভব বড় গুন, অন্য যে কোন রাজনৈতিক নেতার আগে পাকিস্তানকে তিনি হৃদয় থেকে মুছে ফেলেছিলেন, এবং লাগাতার রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছিলেন যা প্রথমত স্বায়ত্তশাসনে দাবি তুলতেও অনিচ্ছুক নেতৃবৃন্দকে এই দাবিতে আসতে বাধ্য করে, তারও পরে ৬৯ এর গণঅভ্যূত্থানের পর মওলানাকে আমরা পাবো ক্রমাগত স্বাধীন বাংলাদেশের দাবিতে দেশজুড়ে একের পর এক জনসভার আয়োজন করতে, অনেকেই যখন মন্ত্রীত্বের স্বপ্নে বিভোর। তখন মওলানার বয়স ৮৫রও বেশি।
দল ছেড়েছেন, নিজের শ্রমে গড়া রাষ্ট্রকে মন থেকে মুছে ফেলেছেন অনায়াসে। কারণ মওলানা কখনো তার নীতি বদলাননি। সেই নীতিটা ছিল কৃষকের পক্ষে-শ্রমিকের পক্ষে থাকার নীতি, মানুষের পক্ষে থাকার নীতি। মওলানার মাঝে তাই দ্বিচারিতা নাই।