14/11/2023
🎯 আয়কর রিটার্ন দাখিল করার ১০টি নিঞ্জা টেকনিক:
⛳ আয়কর আইনের ব্যাপ্তি সীমাহীন। আয়কর রিটার্ন দাখিল আয়কর আইনের একটি অংশ। যদিও রিটার্ন জমা দেয়া আইনের একটি অংশ কিন্তু এই আইনের প্রয়োগ শুরু হয় রিটার্ন দাখিলের মাধ্যমে। তাই সঠিকভাবে রিটার্ন দাখিল করা অতীব জরুরি। তাই আমরা চাই বা না চাই, আমাদের ভালো লাগুক বা না লাগুক তথাপি আয়কর আইনের অনুশাসন ও সুনাগরিকের দায়িত্ব প্রতিপালন সরূপ কিছু ব্যতিক্রম প্রত্যেক ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতাদের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যাদের আয় আছে এবং যাদের আয় নাই কিন্তু ই-টিন আছে তাদের প্রত্যেকেই আবশ্যিকভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
আমাদের দেশে রিটার্ন দাখিল করাকে অনেকে ঝক্কি বা ধকল হিসেবে গণ্য করে। অনেকের মাঝে অনেকেরই বদ্ধমূল ধারণা আছে যে, ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করলেই ট্যাক্স অফিসের নজরে পড়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন, বরঞ্চ, আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে ট্যাক্স অফিসের নজরে পড়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু, আয়কর রিটার্ন দাখিল করতেই হবে তাই কৌশলী হওয়ার বিকল্প ব্যতীত অন্য কিছু নেই। কেননা, শুধুমাত্র কৌশলী হলেই আমরা আমাদের করের বোঝাই শুধু কমাতেই পারব না বরঞ্চ যেকোন ঝামেলা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারব।
🔎 নিম্নে রিটার্ন দাখিল করার ১০টি নিঞ্জা টেকনিক নিয়ে আলোচনা করা হলঃ
🔴 নিঞ্জা টেকনিক:-১
প্রথমেই আমাদের দেখতে হবে যে, একজন ব্যক্তির ই-টিন থাকলেই কি আয়কর রিটার্ন বা ট্যাক্স রিটার্ন জমা বা দাখিল করার প্রয়োজন আছে কিনা? যারা রিটার্ন দাখিল করবেন তাদেরকে দুইটি শর্তের আলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। শর্ত-ক) যাদের করযোগ্য আছে এবং শর্ত-খ) যাদেরকে আবশ্যিকভাবে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। শর্তের প্রথম অংশ অর্থাৎ ‘ক’ খুবই সুস্পষ্ট। আমরা ‘খ’ অংশ নিয়ে আলোচনা করব অর্থাৎ যাদের আবশ্যিকভাবে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। যেমনঃ ধরুন, যারা চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ী কিংবা কোন ধরণের সেবা দিতে চায়, দেশে বা দেশের বাহিরে করমুক্ত আয় করে কিংবা জমি কিনতে চায়, জমি বিক্রি করতে চায়, লোন বা ঋণ নিতে চায়, ফার্মের অংশীদার হতে চায় কিংবা কোন ধরণের লাইসেন্স নিতে চায় ইত্যাদি যে কোন কাজে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র বা প্রাপ্তি স্বীকারপত্র প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক। যেহেতু এই সব ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র বা প্রাপ্তি স্বীকারপত্র প্রয়োজন হবে তাই অনায়েসে বলা যায় যে, এই সব ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। তাই, রিটার্ন দাখিল ব্যতীত ভিন্ন কিছু আছে বলে আমাদের জানা নেই।
🎯 নিঞ্জা টেকনিক-২
দ্বিতীয় নিঞ্জা টেকনিক হচ্ছে, যে কোন মুল্যে ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, স্বনির্ধারিত পদ্ধতিতে যদি যেকোন সময় রিটার্ন জমা দেয়া যায় তাহলে ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে কেন আয়কর রিটার্ন দাখিল করব? এর উত্তর হচ্ছে যে, ৩০ শে নভেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে যেকোন ধরণের কর অব্যহতি, রেয়াত, অবকাশ বা হ্রাসকৃত হারে কর পরিশোধ ইত্যাদি কোন সুবিধা প্রাপ্ত হবেন না। তাই, আমরা যদি ট্যাক্স আইনের আওতায় কোন সুবিধা নিতে চাই তাহলে মাথায় রাখতে হবে যে, ৩০ শে নভেম্বর আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ এবং বর্তমান আইনে সময়ের আবেদনের কোন সুযোগ নাই।
🎯 নিঞ্জা টেকনিক-৩
তৃতীয় নিঞ্জা টেকনিক হচ্ছে যে, আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে যে, করমুক্ত আয় মানেই ট্যাক্স রিটার্ন (রিটার্ন দাখিল) মুক্ত নয়। আমার আয় করমুক্ত এর অর্থ এই নয় যে, আমার ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে হবে না। উদাহরণ সরূপ, আমরা ফ্রিলান্সারদের আয় নিয়ে আলোচনা করতে পারি।
আমাদের মধ্যে যারা ফ্রিলান্সিং করে যারা আয় করে তাদের মধ্যে অনেরকেরই মনে প্রশ্ন জাগে “ফ্রিলান্সিং বা প্রবাসীদের আয় কি সত্যিই করমুক্ত?” এক কথায় এর উত্তর হচ্ছে যদি আয়টি আয়কর আইন, ২০২৩ এর ৬ষ্ঠ তফসীলের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে আনয়ন করা হয় এবং আবশ্যিকভাবে যদি ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করা হয় তবেই তা করমুক্তের আওতায় পড়বে। মোদ্দকথা, করমুক্ত দাবি করতে হলে ৩টি প্রধান শর্ত পালন করতে হবে। যথাঃ
১) সংশ্লিষ্ট আয়টি আয়কর আইন, ২০২৩ এর ৬ষ্ঠ তফসীলের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে;
২) অর্জিত অর্থ (ফরেন রেমিট্যান্স) ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে আনতে হবে;
৩) প্রতি বছর ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
এরপরেও অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, “আমার আয় তো আইননুযায়ী করমুক্ত এবং এবার স্বনির্ধারিত পদ্ধতিতে যদি যেকোন সময় রিটার্ন জমা দেয়া যায় তাহলে ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে কেন আয়কর রিটার্ন দাখিল করব?” এর উত্তর হচ্ছে যে, ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে আমার এই করমুক্ত আয় করযোগ্য আয় হিসেবে গণ্য হবে, তাই ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এছাড়াও, ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে করমুক্ত, রেয়াত ইত্যাদি কোন সুবিধাতো পাবই না বরঞ্চ অতিরিক্ত হিসেবে ১৭৪ ধারা অনুযায়ী কর জমা দিতে হবে।
🎯 নিঞ্জা টেকনিক-৪
চতুর্থ নিঞ্জা টেকনিক হচ্ছে যে, আয়, ব্যয়, সম্পত্তি, বিনিয়োগ, লোন বা ঋণ ইত্যাদি উপাদান চিহ্নিত করা ও আয়কর রিটার্নে সঠিকভাবে উল্লেখ করা এবং প্রমাণসরূপ ডকুমেন্ট দাখিল করা। এক্ষেত্রে এই উপাদানগুলোকে ৬টি ভাগে ভাগ করে নিলে আমাদের ট্যাক্স রিটার্ন পূরণ করতে সুবিধা হবে। যথাঃ ১) আয়ের হিসাব {কোন কোন খাত থেকে আয় হচ্ছে যেমন, বেতন খাত, FDR এর মুনাফা, করমুক্ত আয় (ফ্রিলান্সারদের আয়) ইত্যাদি}। ২) ব্যয়ের খাত (কোন কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে যেমন, পারিবারিক খরচ, বাড়ি ভাড়া, সন্তানদের লেখাপড়া ইত্যাদি)। ৩) পূর্ববর্তী সম্পদ (৩০ শে জুন ২০২২ পর্যন্ত যেই সম্পদ গুলো অর্জিত হয়েছে, যেমন, জমি-জমা, ব্যাংকের টাকা, গাড়ি ইত্যাদি)। ৪) বর্তমান সম্পদ (১ লা জুলাই ২০২২ থেকে ৩০ শে জুন ২০২৩ পর্যন্ত অর্জিত সম্পদ, যেমন, জমি-জমা, ব্যাংকের টাকা, গাড়ি ইত্যাদি)। ৫) দান ও ঋণ ৬) বিনিয়োগ (সরকার নির্ধারিত বিনিয়োগের খাত, যেমন, সঞ্চয় পত্র, জীবন বীমার প্রিমিয়াম ইত্যাদি)। মোদ্দকথা, একটি ট্যাক্স রিটার্নে সাম্ভাব্য সকল তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করুন । প্রথমেই বের করার চেষ্টা করুন আপনার আয় কোনটি। এই আয়ের উপরই কর নির্ধারণ হবে। তারপর সারা বছর কি কি খাতে খরচ করেছেন তার একটি হিসাব করুন। এরপর আপনার সম্পত্তি চিহ্নিত করুন। যেমন ধরুন, আপনি গাড়ি কিনেছেন। এই গাড়ি ক্রয় করা ব্যয় নয় বরঞ্চ সম্পদ। এভাবে সম্পদগুলো আলাদা করুন। এবার দান নিয়ে কথা বলা যাক। তারপর ধরুন, আপনি যদি আপানর স্ত্রীকে ব্যাংকিং চ্যানেলে কোন অর্থ দান করে থাকেন তাহলে তার স্বপক্ষে ডকুমেন্ট সংগ্রহ করুন। এখানে একটি বিষয় হচ্ছে যে, দানের ক্ষেত্রে দানের বিষয় দুইজনের ট্যাক্স ফাইলে প্রতিফলন থাকতে হবে। যেমনঃ ধরুন, জনাব রহিম তার স্ত্রী মিসেস করিমন বিবিকে ৫ লক্ষ টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলে দান করেছেন। এখানে উল্লেখ্য যে, দুই জনের ট্যাক্স ফাইলে এই ৫ লক্ষ টাকা দানের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। অর্থাৎ জনাব রহিমের ট্যাক্স ফাইল থেকে ৫ লক্ষ টাকা দান হিসেবে বিয়োগ হবে অন্যদিকে মিসেস করিমন বিবির ফাইলে ৫ লক্ষ টাকা দান হিসেবে যোগ হবে। তথাপি, দানের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করতে হবে। অর্থাৎ, তাদের বলতে হবে যে, তারা কি কারণে একজন আরেকজনকে দান করেছেন। সর্বশেষে হচ্ছে, ঋণ। ঋণ অবশ্যই ব্যাংকিং চ্যানেলে হতে হবে এবং ঋণের স্বপক্ষে ডকুমেন্ট সংগ্রহ করতে হবে।
🎯 নিঞ্জা টেকনিক-৫
পঞ্চম নিঞ্জা টেকনিক হচ্ছে যে, একটি চেকলিস্ট তৈরি করা অর্থাৎ কি লাগবে, কি লাগবে না কিংবা কি দিব এবং কি দিব না। এভাবে ১,২,৩ সিরিয়াল করে সব লিখব। তারপর চেকলিস্ট অনুযায়ী দলিলাদি সংগ্রহ করব। ইতিমধ্যেই আমরা আমাদের চতুর্থ নিঞ্জা টেকনিকে দেখেছি যে, কিভাবে আয়, ব্যয়, সম্পত্তি, বিনিয়োগ, লোন বা ঋণ ইত্যাদি উপাদান চিহ্নিত করতে হবে। চিহ্নিত উপাদানগুলোর জন্য ডকুমেন্ট সংগ্রহ করব। আমাদের এই পেজে একটি চেকলিস্ট দেওয়া আছে, এক্ষেত্রে , আমরা চাইলে পেজে দেওয়া চেকলিস্ট এর সহযোগিতা নিতে পারি।
এই চেকলিস্টে আমরা দেখতে পারব যে, আয়ের খাত যদি হয় চাকুরী তাহলে আমাদের কি কি ডকুমেন্ট সংগ্রহ করতে হবে অথবা আয়ের খাত যদি হয় ব্যবসা তাহলে কি কি ডকুমেন্ট লাগবে। এই ভাবে সকল ডকুমেন্ট একাট্টা করব।
🎯 নিঞ্জা টেকনিক-৬
ষষ্ঠ নিঞ্জা টেকনিক হচ্ছে যে, কর গণনা, রেয়াত, অব্যহতি ইত্যাদি সঠিকভাবে পরিগণনা করা। আমরা যদি আমাদের আয়ের খাত চিহ্নিত করতে পারি তাহলে এর পর আমাদের চিহ্নিত করতে হবে কোন আয়ের খাত নিয়মিত কর হার সম্বলিত কিংবা কোন আয়ের খাত নুন্যতম কর হার সম্বলিত অথবা কোন আয়ের খাত হ্রাসকৃত কর হার সম্বলিত বা কর অব্যহতিপ্রাপ্ত। সেক্ষেত্রে, আমরা অবশ্যই আয়কর আইন, ২০২৩; আয়কর নির্দেশিকা ২০২৩-২৪, আয়কর পরিপত্র ২০২৩-২৪ এর নিয়ম ও ব্যাখ্যা অনুসরণ করব। কেননা, একমাত্র সঠিকভাবে আইন পালনই আমাদের কর ভার হ্রাস হবে।
🎯 নিঞ্জা টেকনিক-৭
সপ্তম নিঞ্জা টেকনিক হচ্ছে যে, আয়কর রিটার্ন ফরমের ঘরগুলো অর্থাৎ যেই রিটার্ন ফরমটা আমরা পূরণ করব সেই আয়কর রিটার্ন ফরমটা ভালো ভাবে বুঝতে হবে। রিটার্ন ফরমের ঘরগুলোতে কোন ঘরে কি লিখতে হবে তা আমাদের আয়ত্ত করতে হবে। যেমনঃ সম্পত্তির ঘরগুলোতে কোন ঘরে কোন সম্পত্তি কিংবা আয়ের ঘরগুলোতে কোন ঘরে কোন আয় বসবে এই সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা আবশ্যক। শুধু তাই নয়, কোন ঘরগুলোতে কোন তথ্য দিয়ে পূরণ করছি তা জানাও আবশ্যক। এই বছর নতুন আইন পাস হওয়ার দরুন নতুন রিটার্ন ফরম প্রকাশ হয়েছে। তবে, আয়কর নির্দেশিকা ২০২৩-২৪ এর ভাষ্যমতে, পূর্বের আয়কর রিটার্ন ফরম প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়ন সাপেক্ষে জমা বা দাখিল করা যাবে।
🎯 নিঞ্জা টেকনিক-৮
অষ্টম নিঞ্জা টেকনিক হচ্ছে যে, রিটার্নের সাথে কি কি ডকুমেন্ট জমা দিব। আয়কর রিটার্নের সাথে অবশ্যই সকল সংশ্লিষ্ট বা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের অনুলিপি জমা দিব। রিটার্ন ফরম আমরা যেসব ডকুমেন্টের উপর ভিত্তি করে পূরণ করেছি তার অনুলিপি বা ফটোকপি জমা দিতে হবে। উদাহরণসরূপ, জনাব রানা একজন বেসরকারি চাকুরীজীবী, তার আয়ের একমাত্র খাত হচ্ছে বেতন খাত। তাহলে জনাব রানাকে তার অফিস বেতন খাতের স্বপক্ষে বেতন বিবরণী বা স্যালারি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে। সেই সার্টিফিকেটের ফটোকপি ট্যাক্স রিটার্নের সাথে জমা দিতে হবে।
🎯 নিঞ্জা টেকনিক-৯
নবম নিঞ্জা টেকনিক হচ্ছে যে, ট্যাক্স রিটার্নটি সঠিকভাবে গুছিয়ে জমা দেয়া। ট্যাক্স রিটার্ন যদি হাতে লিখে পূরণ করা হয় তাহলে কাটাকাটি বা ফ্লুইড ব্যবহার না করাই উত্তম। ট্যাক্স রিটার্ন পূরণ করার পর যেসব পাতায় করদাতার স্বাক্ষর প্রয়োজন সেসব পাতায় স্বাক্ষর করতে হবে। যদি নতুন রিটার্ন ফরম জমা দিতে চাই সেক্ষেত্রে প্রাপ্তিস্বীকারপত্রটি সবার উপরে রাখতে হবে তাহলে ট্যাক্স অফিস সহজেই আপনার ট্যাক্স রিটার্ন জমা করতে পারবে এবং প্রাপ্তিস্বীকারপত্রটি দ্রুত আপনার হাতে ফেরত দিতে পারবে। এরপর রিটার্ন ও রিটার্নের সাথে যেসব ডকুমেন্ট (অবশ্যই ফটোকপি) দাখিল করব তা একসাথে বাঁধাই করব। বাঁধাই করার পর সকল ডকুমেন্ট (রিটার্ন ফরম সহ) একসেট ফটোকপি করে নথি সংরক্ষণের স্বার্থে নিজের কাছে রেখে দিব। এভাবেই আমাদের রিটার্নটি প্রস্তুত করার পর আয়কর অফিসে জমা দিব।
🎯 নিঞ্জা টেকনিক-১০
দশম নিঞ্জা টেকনিক হচ্ছে যে, ‘ইকরা’ অর্থাৎ পড়। পড়ুন, পড়ুন এবং পড়ুন। নিজের রিটার্ন নিজে পূরণ করতে চাইলে অন্যের কাছে আইনের ধারা জানতে না চেয়ে সবার আগে নিজেকে বই নিয়ে বসতে হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কোন বই পড়ব? আপনি সবার আগে আয়কর নির্দেশিকা ২০২৩-২৪; তারপর আয়কর আইন,২০২৩ এবং সর্বশেষ আয়কর পরিপত্র ২০২৩-২৪ পড়ুন। দেখুন, আমাদের প্রকাশিত এই নিবন্ধ কিংবা কোন মানুষের মুখের কথাও কোন আইন না। আমাদের প্রকাশিত এই নিবন্ধ শুধুই একটি দিকনির্দেশনা। এই নির্দেশনা না মানলে কোন অপরাধ হবে না। কিন্তু আইনের বইয়ের আইন না মানলে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তাই আবারও বলছি, ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করার সময় একবার নয়, বেশ কয়েকবার আয়কর আইন, ২০২৩; আয়কর নির্দেশিকা; আয়কর পরিপত্র ইত্যাদি বইগুলো ভালোভাবে পড়া উচিৎ। তথ্য সমৃদ্ধ না হয়ে আয়কর রিটার্ন পূরণ না করাই শ্রেয়।
পরিশেষে বলতে হয়, যদিও ৩০ নভেম্বর আয়কর দিবস তথাপি, ৩০ নভেম্বর এর জন্য অপেক্ষা না করে আগভাগেই রিটার্ন তৈরি করে জমা দিন।
🖊লেখকঃ মোঃ রাজু আহমেদ।
🛡 আয়কর আইনজীবী।
🚦বিঃদ্রঃ এই নিবন্ধ এর সাথে যদি আইনের কোন পার্থক্য ঘটে অবশ্যই আইন প্রাধান্য পাবে।