Chairman of UGC Bangladesh

Chairman of UGC Bangladesh Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Chairman of UGC Bangladesh, Government Official, UGC Bhaban, Plot # E-18/A, Agargaon Administrative Area, Sher-e-Bangla Nagar, Dhaka.

Official page of the Chairman of the University Grants Commission of Bangladesh | Working towards excellence in higher education, research and innovation.

07/09/2026

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে তিনি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এ সময় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, কমিশনের সদস্যবৃন্দ এবং ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইস্রাফীলসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি রোধে অভিন্ন নীতিমালা করছে ইউজিসিশিক্ষা ও গবেষণায় নৈতিকতা, মৌলিকত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দেশের পাব...
06/09/2026

গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি রোধে অভিন্ন নীতিমালা করছে ইউজিসি

শিক্ষা ও গবেষণায় নৈতিকতা, মৌলিকত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দেশের পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য একটি অভিন্ন চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধ নীতিমালা প্রণয়ন করছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।

খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করার অংশ হিসেবে দেশের ১৮টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও মনোনীত প্রতিনিধিদের নিয়ে অংশীজন সংলাপ করেছে কমিশন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ইউজিসি ভবনে আয়োজিত এ সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধে নীতিমালা অনুসরণ করা হলেও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। এ বাস্তবতায় দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি অভিন্ন ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চাইলে এই ফ্রেমওয়ার্ক সরাসরি অনুসরণ করতে পারে। আবার এই ফ্রেমওয়ার্কের ভিত্তিতে নিজেদের প্রয়োজন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পৃথক নীতিমালাও প্রণয়ন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক স্বাধীনতা বজায় থাকবে।”

নীতিমালা প্রণয়নের আগে ইউজিসির উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজনের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, এসব কর্মশালা ও সেমিনার থেকে পাওয়া মতামত ও সুপারিশের পাশাপাশি উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শগুলো খসড়া নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনের পর নীতিমালাটি কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সভায় উপস্থাপন করে চূড়ান্ত করা হবে। এরপর তা বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব বলেন, শিক্ষা ও গবেষণায় নৈতিকতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চৌর্যবৃত্তি গবেষণার মৌলিকত্ব ও গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে।

তিনি বলেন, গবেষণায় নৈতিকতা লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন কারণে ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বনামধন্য জার্নাল থেকে বাংলাদেশি গবেষকদের সম্পৃক্ততা থাকা অন্তত ৩২৫টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ পরিস্থিতি গবেষণায় নৈতিকতা, সততা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধে ভিন্ন ভিন্ন নীতিমালা ও পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে অধ্যাপক মাছুমা হাবিব বলেন, একটি অভিন্ন কাঠামো থাকলে গবেষণার নৈতিকতা, মৌলিকত্ব ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে এটি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণার গুণগত পরিবেশ উন্নয়ন এবং গবেষণামুখী জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অংশীজন সংলাপে প্রস্তাবিত নীতিমালার পটভূমি ও উদ্দেশ্য, চৌর্যবৃত্তির ধরন ও সংজ্ঞা, চৌর্যবৃত্তি শনাক্তকরণ, অভিযোগ উত্থাপন ও তদন্ত, দায় নির্ধারণ, অভিযোগ নিষ্পত্তি, শাস্তির বিধান এবং আপিলসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় গবেষণা ও একাডেমিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ক্ষেত্রে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করার বিষয়টি নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন অংশীজনেরা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন এবং অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী।

এ ছাড়া ইউজিসির সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান, এসপিকিউএ বিভাগের পরিচালক দুর্গা রানী সরকার এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মোছা. জেসমিন পারভীনসহ কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে খসড়া চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধ নীতিমালার বিভিন্ন দিক ও প্রস্তাবিত কাঠামো তুলে ধরেন ইউজিসির সংশ্লিষ্ট বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ মনির উল্লাহ ও সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাক আহমেদ।

মোহাম্মদ জামিনুর রহমান
পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব)
জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ, ইউজিসি।

আইন মেনে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান বেসরকারিবিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে: ইউজিসি চেয়ারম্যানবিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পরিচ...
03/09/2026

আইন মেনে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান বেসরকারি
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে: ইউজিসি চেয়ারম্যান

বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, সংশ্লিষ্ট বিধি ও নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুসরণে ব্যত্যয় ঘটলে এবং অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির নবীনবরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল হাসান এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির ডিপার্টমেন্ট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস-এর প্রফেসর ড. মো. জামাল উদ্দীন।

শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বৈষম্য না রেখে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ইউজিসি কাজ করছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীর সাফল্য নির্ভর করে সে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে তার চেয়ে বেশি—সে কী শিখছে, কী ধরনের দক্ষতা অর্জন করছে এবং নিজেকে কর্মক্ষেত্রের জন্য কতটা প্রস্তুত করছে তার ওপর। বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর উল্লেখ করে তিনি বলেন, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের জ্ঞান ও তথ্য এখন শিক্ষার্থীদের হাতের নাগালে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় নতুন না পুরোনো, সেটি নিয়ে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে জ্ঞান, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও গবেষণায় নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারলে কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা হয়েছে, সেটি মুখ্য নয়।

অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষায় প্রায় ৫০ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে এবং ইউজিসি তাদের সবার অভিভাবক। সরকারি-বেসরকারি, পুরোনো-নতুন কিংবা প্রকৌশল-কৃষি—কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেই বৈষম্য করা হবে না। পারস্পরিক যোগাযোগ, জ্ঞান বিনিময় ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সমন্বিত উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাট ৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। আরও ৫ শতাংশ কমানোর জন্য সরকারের সঙ্গে ইউজিসি আলোচনা করছে। ভ্যাট কমার ফলে সাশ্রয় হওয়া অর্থ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কল্যাণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় ব্যয় করার প্রত্যাশা করছে কমিশন।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ট্রাস্টি বোর্ডের হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়। উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হতে হবে।

শিক্ষাকে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হবে শিক্ষার্থী, জ্ঞান, গবেষণা ও মুক্তচিন্তার কেন্দ্র। কোনো প্রতিষ্ঠান প্রচলিত আইন, বিধি ও ইউজিসির নির্দেশনা অনুসরণ না করলে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রয়োজন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির প্রায় ২০ হাজার প্রাক্তন শিক্ষার্থীর অ্যালামনাই নেটওয়ার্কের প্রশংসা করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, অ্যালামনাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বর্তমান শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ ও সহযোগিতা শিক্ষার পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে।

অনুষ্ঠানে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট উম্মে সালমা, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের উপদেষ্টা আজিজুল বারী শিপুসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ডিন, বিভাগীয় প্রধান, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক, গণমাধ্যমকর্মী এবং নবীন ও কৃতি শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মোহাম্মদ জামিনুর রহমান
পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব)
জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ, ইউজিসি।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিকায়নে এডিবির ১৮০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প: ইউজিসিদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা, গবেষণা ও প...
02/09/2026

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিকায়নে এডিবির ১৮০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প: ইউজিসি

দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় ১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি প্রকল্প সরকারি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদি ‘স্ট্রেনদেনিং এগ্রিকালচারাল টারশিয়ারি এডুকেশন প্রজেক্ট (এসএটিইপি)’–এর মাধ্যমে কৃষি উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি শিক্ষা ও গবেষণা জোরদার এবং কৃষিশিল্পের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে (বাকৃবি) কৃষি গবেষণার উৎকর্ষকেন্দ্র এবং দক্ষিণ এশিয়ার একটি আঞ্চলিক গবেষণা ও জ্ঞান হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা দেওয়া হবে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে এডিবির প্রতিনিধিদলের এক পরামর্শ সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। ইউজিসি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সভাকক্ষে ‘স্ট্রেনদেনিং এগ্রিকালচারাল টারশিয়ারি এডুকেশন প্রজেক্ট (এসএটিইপি)’ নিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে এডিবি ১০৫ মিলিয়ন এবং কোরিয়া এক্সিম ব্যাংক/ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (কেএক্সিম/ইডিসিএফ) ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করবে। অবশিষ্ট অর্থ বাংলাদেশ সরকার বহন করবে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৭ থেকে ২০৩২ সাল পর্যন্ত নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় কৃষি উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কৃষি শিক্ষাকে শিল্প ও কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পাশাপাশি আধুনিক ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে।

এ ছাড়া উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা, আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়ন, পাঠক্রম ও একাডেমিক কাঠামোর আধুনিকায়ন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং শিক্ষক ও গবেষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষি গবেষণা সংক্রান্ত একটি আধুনিক ইনস্ট্রুমেন্টেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ কেন্দ্রের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশগত বিভিন্ন বিষয়ে আধুনিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্পের আওতায় কৃষি গবেষণা ও শিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হবে। রিমোট সেন্সিং, জিপিএস, জিআইএস, ড্রোন, ডিজিটাল টুইন, ওয়েদার অ্যানালিটিকস, বিগ ডেটা অ্যানালিটিকস, বায়োটেকনোলজি ও রোবটিকসের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনের ফলাফলকে কৃষি খাত ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা। গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ, কৃষিশিল্পের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যকর অংশীদারত্ব এবং গবেষণা-শিল্প-উদ্যোক্তা সংযোগ জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রি-স্টার্টআপ, স্টার্টআপ ও ইনকিউবেশন সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সভায় এডিবির সিনিয়র সোশ্যাল সেক্টর ইকোনমিস্ট ও মিশন লিডার রিওতারো হায়াশি বলেন, আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা ও গবেষণার সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। গবেষণা, উদ্ভাবন, শিল্প ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাও প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

তরুণদের কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রি-স্টার্টআপ থেকে শুরু করে স্টার্টআপ ও ইনকিউবেশন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, এডিবির প্রস্তাবিত প্রকল্পটি দেশের কৃষি, উচ্চশিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নে ইউজিসি কাজ করছে।

তিনি বলেন, দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিদ্যমান সক্ষমতার বৈষম্য কমিয়ে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য শুধু তরুণদের সরকারি বা প্রচলিত চাকরির উপযোগী করে গড়ে তোলা নয়; তাদের একটি অংশকে দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এ জন্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্টার্টআপ, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

তিনি বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আবাদি জমি কমে যাওয়া এবং খাদ্য ও পুষ্টির ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও গবেষণা আরও বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ইউজিসি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, প্রকল্পটি শিক্ষার্থীদের আধুনিক দক্ষতায় দক্ষ করে কর্মবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় ইউজিসির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান ভূঁইয়া, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পটির ফোকাল পয়েন্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামসুল আলম ভূঁইয়া, ইউজিসির অতিরিক্ত পরিচালক সুরাইয়া ফারহানাসহ ইউজিসি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও এডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মোহাম্মদ জামিনুর রহমান
পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব)
জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ, ইউজিসি।

ক্লিন ও গ্রিন ক্যাম্পাস গড়ার আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানেরদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব ‘...
01/09/2026

ক্লিন ও গ্রিন ক্যাম্পাস গড়ার আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব ‘ক্লিন ক্যাম্পাস’ ও ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। একই সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ইউজিসির পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ২৩তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন বলতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নকে বোঝায় না। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও গবেষণাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একই সঙ্গে ‘ক্লিন ক্যাম্পাস’ ও ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। রুয়েটের শান্ত ও সবুজ পরিবেশের কথা উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ক্যাম্পাসকে আরও পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।

দেশে গবেষণার জন্য অর্থের সংকট নেই উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বাজেটে গবেষণার জন্য অর্থ বরাদ্দ রয়েছে। তবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের গবেষণা কার্যক্রম এবং অর্থ বরাদ্দের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি গবেষণায় বরাদ্দ অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের কার্যকর ব্যবস্থাও প্রয়োজন।

এই সমন্বয়হীনতা দূর করতে ইউজিসি একটি সমন্বিত গবেষণা রিপোজিটরি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান অধ্যাপক মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, দেশের কোথায়, কোন বিষয়ে এবং কী ধরনের গবেষণা প্রয়োজন, কোথায় কী ধরনের গবেষণা হয়েছে এবং গবেষণার ফলাফল কীভাবে বাস্তবে প্রয়োগ করা যেতে পারে—এসব তথ্য এই রিপোজিটরিতে সংরক্ষণ করা হবে। এর মাধ্যমে গবেষণার পুনরাবৃত্তি কমানোর পাশাপাশি প্রয়োজনভিত্তিক গবেষণায় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

সমন্বিত এই গবেষণা তথ্যভান্ডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বিশেষভাবে কার্যকর হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণার মাধ্যমে কার্যকর ও টেকসই সমাধান দিতে পারবে। গবেষণার ফলাফল যাতে শুধু গবেষণাপত্রে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তব প্রয়োজনে কাজে লাগে, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

গবেষণা শুধু প্রকাশনা, সাইটেশন কিংবা ব্যক্তিগত গবেষণা-প্রোফাইল সমৃদ্ধ করার জন্য নয় উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, গবেষণার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন এবং দেশের বাস্তব সমস্যার সমাধান। দেশের ছোট-বড় সমস্যা চিহ্নিত করে গবেষণার মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের এগিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইউজিসির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

রুয়েটে গবেষণার সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি ওঠার বিষয়টির প্রশংসা করে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানোর দাবি বেশি শোনা যায়। কিন্তু রুয়েটে গবেষণার পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। গবেষণাগার স্থাপন, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন এবং গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে ইউজিসি সহযোগিতা করবে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু শিক্ষার্থীদের সনদ দেওয়া নয়। তাদের জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও একাডেমিক পরিবেশের সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও দায়িত্বশীল সম্পর্কেরও গভীর যোগসূত্র রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি তুলে ধরে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্পর্ক ভালো ছিল, সেসব প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ ও অনুকূল শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।

প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য কমানো এবং দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, শুধু জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করলেই হবে না; উচ্চ নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের গড়ে উঠতে হবে। প্রযুক্তির জ্ঞানকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, দেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষার উন্নয়নে রুয়েট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। শিক্ষা ও গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের অগ্রযাত্রায় ইউজিসির সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন। এ ছাড়া বক্তব্য দেন মেকানিক্যাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম, সিভিল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বশির আহমেদ এবং অ্যাপ্লাইড সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল কাদের জিলানী।

স্বাগত বক্তব্য দেন রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মোহাম্মদ জামিনুর রহমান
পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব)
জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ, ইউজিসি।

গবেষণায় বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা ইউজিসিরপিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপের সংখ্যা বাড়ছেদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুণগত ও আন্...
31/08/2026

গবেষণায় বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা ইউজিসির
পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপের সংখ্যা বাড়ছে

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুণগত ও আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার পরিমাণ বাড়ানো এবং গবেষণার পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।

একই সঙ্গে গবেষণা খাতে বিশেষ বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কার্যকর ও টেকসই গবেষণা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।

ইউজিসির নিজস্ব পিএইচডি স্কলারশিপের সংখ্যা ৭৫ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছর থেকে এ সংখ্যা পর্যায়ক্রমে ৫০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে পিএইচডি করার সুযোগ ১০টি থেকে বাড়িয়ে ৩৫টি করা হয়েছে। পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপের সংখ্যাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল গবেষণায় বিশেষ বরাদ্দের জন্য আগামী অর্থবছরে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ইউজিসি’র ১৭৯তম পূর্ণ কমিশন সভায় সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এসব কথা বলেন।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুণগত শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি পিএইচডির সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। গুণগত ও মানসম্পন্ন গবেষণা নিশ্চিত করতে ইউজিসি ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এ লক্ষ্যে গবেষণাবান্ধব ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি পিএইচডির সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনতে গবেষণাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান কার্যক্রমে পরিণত করাই ইউজিসির লক্ষ্য। গবেষণার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি এর মান, প্রভাব ও ব্যবহারিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাও কমিশনের অন্যতম অগ্রাধিকার।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, দক্ষ ও যোগ্য গবেষক তৈরি, আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো গড়ে তোলা, পর্যাপ্ত ও টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করা, দেশি-বিদেশি গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল বাস্তবে প্রয়োগের সুযোগ তৈরিতে ইউজিসি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটি কার্যকর গবেষণা ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সমন্বিতভাবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশের মধ্যেই গবেষণার সাফল্য সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। গবেষণাকে দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধান এবং শিল্প ও অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন, যৌথ গবেষণা এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও উদ্ভাবনের বাণিজ্যিক ও সামাজিক প্রয়োগকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

গবেষণায় অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্মদক্ষতা, অর্জন ও গবেষণার ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও জোর দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। গবেষণা, উদ্ভাবন এবং গবেষণালব্ধ ফলাফলের বাস্তব প্রয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতার ভিত্তিতে তাদের কার্যক্রম মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ভবিষ্যতে গবেষণায় বিনিয়োগকে আরও কৌশলগত ও ফলাফলভিত্তিক করা হবে। যে বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে কার্যকর অবদান রাখবে, তাদের গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

সভায় ‘ইউজিসি প্রমোশনাল অ্যান্ড একাডেমিক স্টাফ ডেভেলপমেন্ট গবেষণা প্রকল্প নীতিমালা, ২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভায় ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক মোঃ মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন এবং অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আতিকুর রহমান, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান সরকার, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাকির হুসাইন এবং সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সভায় কার্যপত্র উপস্থাপন করেন ইউজিসির সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম।

মোহাম্মদ জামিনুর রহমান
পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব)
জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ, ইউজিসি।

মেধার পাশাপাশি দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হতে হবে: ইউজিসি চেয়ারম্যানরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের মেধার পাশা...
29/08/2026

মেধার পাশাপাশি দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হতে হবে: ইউজিসি চেয়ারম্যান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের মেধার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধে সমৃদ্ধ হয়ে দেশ ও সমাজের জন্য যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। যারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে, তারা মেধাবীদের মধ্যে মেধাবী। ভর্তির মাধ্যমে তাদের মেধার উৎকর্ষ ও স্বপ্ন পূরণের যে যাত্রা শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে হবে। মানুষ স্বপ্ন না দেখলে স্বপ্ন পূরণ হয় না। তাই নিজেদের স্বপ্ন পূরণে শিক্ষার্থীদের নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, জ্ঞানের আলোয় নিজেদের আলোকিত করতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছে। অর্জিত জ্ঞান, মেধা ও সৃজনশীলতা দিয়ে তাদের দেশ ও সমাজকে আলোকিত করতে হবে। জ্ঞান যত বেশি অর্জন করা যাবে, জীবন তত সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা সুযোগ ও অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে।

শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হতে হবে। সমাজে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে হবে। জীবনে ব্যর্থতা বা হতাশা এলে নিজের সক্ষমতার ওপর আস্থা রেখে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার উঠে দাঁড়াতে হবে।

মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্তিনির্ভর মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের সুযোগ থাকতে হবে। তবে নিজের মত প্রকাশের সময় অন্যের অধিকার, মর্যাদা ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। অধিকার ও দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রেখে স্বাধীনতার চর্চা করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা, খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। যোগাযোগ, নেতৃত্ব, দলগতভাবে কাজ করা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রের জন্যও প্রস্তুত হতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের মধ্যে কার্যকর সংযোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সমাজ ও দেশের প্রয়োজনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎপাদিত জ্ঞান ও গবেষণার ফল মানুষের কল্যাণ ও জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।

রাবির উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির উন্নয়নে ইউজিসির মনোযোগ রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ধাপে ধাপে স্মার্ট ক্যাম্পাসে রূপান্তরের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. আব্দুল আলিম ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ। এছাড়া বক্তব্য দেন ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর এ এইচ এম খুরশীদ আলম ও প্রক্টর প্রফেসর মো. মাহবুবর রহমান।
উল্লেখ্য, ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে রাবির ১২টি অনুষদের ৫৯টি বিভাগ ও পাঁচটি ইনস্টিটিউটে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। ভর্তির জন্য প্রায় ২ লাখ ৭৩ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন।

মোহাম্মদ জামিনুর রহমান
পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব)
জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ, ইউজিসি।

বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান উন্নয়নের পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা, গবেষণার সক্ষমতা...
27/08/2026

বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান উন্নয়নের পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা, গবেষণার সক্ষমতা বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে- ইউজিসি চেয়ারম্যান

বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান উন্নয়নের পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা, গবেষণার সক্ষমতা বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

27/08/2026

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের কিভাবে নতুন নতুন সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করা যায় তা তুলে ধরেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
গ্রামীণফোন ও দ্য ডেইলি স্টারের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘Future-ready Bangladesh: AI, Skills and Youth Employability in the Digital Economy’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিল্পখাত ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা গেলে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ, চাকরি ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ আরও সহজ করা সম্ভব।

যৌন হয়রানি সংক্রান্ত অভিযোগ আমলে না নিলে ব্যবস্থা নেবে ইউজিসিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠন কর...
27/08/2026

যৌন হয়রানি সংক্রান্ত অভিযোগ আমলে না নিলে ব্যবস্থা নেবে ইউজিসি

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠন করাই যথেষ্ঠ নয়; কমিটিকে অর্পিত দায়িত্ব পালনে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। যৌন হয়রানি সংক্রান্ত সকল অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। যৌন হয়রানি রোধে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

তিনি বলেছেন, নারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আগারগাঁও ইউজিসি ভবনে ইউজিসি ও ইউএন উইমেনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কর্মক্ষেত্র, জনপরিসর ও উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রকল্পের আওতায় এ সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে ইউজিসির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রেই এসব কমিটি প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে না।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ‘কমিটি শুধু গঠন করলেই হবে না, সেটিকে কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে। কোনো নারী অভিযোগ করার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ যেন বলতে না পারে, “এটা আমার কাজ নয়”।’

প্রতিটি অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সমাধান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ইউজিসি ব্যবস্থা নেবে।

যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকির জন্য জাতীয় পর্যায়েও একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান। প্রস্তাবিত এ কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ইউজিসির প্রতিনিধিরা থাকবেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিকারব্যবস্থা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকিতে এ কমিটি কাজ করবে।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শূন্য সহনশীলতার নীতি কার্যকর করতে হবে। ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে ক্যাম্পাসগুলোকে আরও নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশে পরিণত করা সম্ভব।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের ডেপুটি হেড বেইবা জেরিনা বলেন, গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এবং উচ্চশিক্ষাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নিরসন গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য কর্মক্ষেত্র ও উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ইউজিসি ও ইউএন উইমেনের এই সমঝোতার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিকারব্যবস্থা জোরদার এবং নিরাপদ ও বৈষম্যহীন শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়বে।

সমঝোতার আওতায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশে যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

অভিযোগ কমিটি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, অভিযোগ গ্রহণ ও রেফারেল ব্যবস্থা উন্নত করা এবং শিক্ষার্থী ও কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ইউএন উইমেন ও আইন ও সালিশ কেন্দ্র যৌথভাবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক ড. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়া, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন টাস্ক টিমের আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মেহেরুন নেছা তাসলিমা খাতুন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. শওকত আলী, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম, প্রতিনিধি ফারহীন হাসান ও নাজিয়া ফারহানা, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আর. কবির, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. শরীফা সুলতানা এবং কর্মক্ষেত্র, জনপরিসর ও উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে গঠিত কমিটির সদস্য ও ইউজিসি’র পরিচালক জেসমিন পারভীনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ইউজিসি ও ইউএন উইমেনের কর্মকর্তারা।

ইউজিসির পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন কমিশনের সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম এবং ইউএন উইমেনের পক্ষে বাংলাদেশ প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের জাতীয় জরিপের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণীদের মধ্যে ১৬ শতাংশ প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

মোহাম্মদ জামিনুর রহমান
পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব)
জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ, ইউজিসি।

Address

UGC Bhaban, Plot# E-18/A, Agargaon Administrative Area, Sher-e-Bangla Nagar
Dhaka
1207

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Chairman of UGC Bangladesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share