24/04/2022
ইসলাম ও ঈমান মানুষের আশা আকাংখাকে উৎসাহিত করে, পক্ষান্তরে হতাশা বা নিরাশাকে, করে নিরুৎসাহিত।
প্রকৃতপক্ষে যিনি আল্লাহকে প্রভু, রাসূলকে (সা.) অনুসরণীয় অনুকরণীয় নেতা ও ইসলামকে দ্বীন বা জীবনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেছে তার কি কোনো হতাশা থাকতে পারে? না, কখনো না, হতাশা-নিরাশা তাকে স্পর্শ করতে পারে না।
পবিত্র কোরআনে হতাশা বা নিরাশা সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে,
يَا بَنِيَّ اذْهَبُواْ فَتَحَسَّسُواْ مِن يُوسُفَ وَأَخِيهِ وَلاَ تَيْأَسُواْ مِن رَّوْحِ اللّهِ إِنَّهُ لاَ يَيْأَسُ مِن رَّوْحِ اللّهِ إِلاَّ الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ
বঙ্গানুবাদ: ‘হে আমার পুত্রগণ! তোমরা যাও, ইউসুফ ও তার সহোদর ভাইয়ের অনুসন্ধান করো এবং আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হইও না। কারণ আল্লাহর রহমত হতে কেউই নিরাশ হয় না, কাফির সম্প্রদায় ব্যতীত।’ (সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৮৭)।
শাব্দিক ব্যাখ্যা: ‘হে আমার পুত্রগণ! তোমরা যাও অতঃপর তোমরা অনুসন্ধান করো ইউসুফ ও তার সহোদর ভাইকে এবং তোমরা নিরাশ হইও না আল্লাহর রহমত হতে। নিশ্চয়ই কেউই নিরাম হয় না আল্লাহর রহমত হতে কাফির সম্প্রদায় ব্যতীত।’
আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট:
এখানে আল্লাহ তায়ালা ইয়াকুব (আ.) এর ১১ ছেলের ত্রাণ সংগ্রহে মিসর সফরকালে ইউসুফ (আ.) কর্তৃক তার সহোদর ভাই বিন ইয়ামীনকে তার নিকট আটক রাখার পর তার ভাইয়েরা তাদের বৃদ্ধ পিতা ইয়াকুব (আ.) এর নিকট ফিরে আসলে তার কষ্ট জর্জরিত কন্ঠে ছেলেদের উদ্দেশ্যে তিনি যে কথা বলেছিলে তারই বর্ণনা করেন।
মূল বক্তব্য:
ইয়াকুব (আ.) তার দুই ছেলে হারিয়েও কঠিন বিপদে হতাশ হলেন না এবং তার ছেলেদেরও ধিক্কার দিলেন না বরং তিনি ধৈর্যের পরিচয় দিলেন আর তাদেরকেও হতাশ বা নিরাশ হতে বারণ করলেন আর এটাই প্রত্যেক মুমিনের উচিৎ। কারণ হতাশ হওয়া কোনো মুমিনের কাজ নয়। আমরা আলোচ্য আয়াতে লক্ষ্য করেছি আল্লাহ সুবাহানু ওয়া তায়ালা বলেছেন,
أَخِيهِ وَلاَ تَيْأَسُواْ مِن رَّوْحِ اللّهِ إِنَّهُ لاَ يَيْأَسُ
অর্থাৎ: ‘আল্লাহর রহমত হতে কেউই নিরাশ হয় না, কাফির সম্প্রদায় ব্যতীত। (সূরা: ইউনুস, আয়াত: ৮৭)।