21/07/2026
বিদেশের স্বপ্ন ভেঙে, নতুন স্বপ্নের পথে আব্দুল হাই
বিদেশে গিয়ে পরিবারকে সুখে রাখার স্বপ্ন ছিল খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর গ্রামের মোঃ আব্দুল হাইয়ের। একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে স্বল্প বেতনের চাকরি করে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে সংসার চালানো ছিল অত্যন্ত কঠিন। তাই ভালো আয়ের আশায় তিনি ৭ লাখ টাকা খরচ করে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান।
যাওয়ার আগে তাকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল মাসে ৫০–৬০ হাজার টাকা বেতন, থাকা-খাওয়া সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে একটি দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে প্রতিদিন ১২–১৫ ঘণ্টা কাজ করেও তিনি মাসে মাত্র ২০ হাজার টাকা পেতেন, তাও নিয়মিত নয়। একই কক্ষে কাজ, রান্না, খাওয়া, গোসল ও বিশ্রাম—সবকিছু করতে হতো। নিরাপত্তাহীনতা, অনিশ্চয়তা এবং প্রতারণার মধ্যে দুই বছর কাটানোর পর দেশে ফিরে আসার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
২০২২ সালের ৮ জুন দেশে ফিরে নতুন করে শুরু হয় সংগ্রাম। বিদেশ যাওয়ার জন্য নেওয়া ঋণ পরিশোধ, পরিবারের দায়িত্ব এবং জীবিকা—সবকিছুই যেন একসাথে এসে দাঁড়ায় তার সামনে।
ঠিক সেই সময় তিনি খুলনা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার সম্পর্কে জানতে পারেন এবং সেখানে নিবন্ধন করেন। সেন্টারের মাধ্যমে তিনি ডাটাবেজ নিবন্ধন, কাউন্সেলিং, প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা এবং রেইজ প্রকল্পের আওতায় ১৩,৫০০ টাকার ক্যাশ ইনসেন্টিভ গ্রহণ করেন।
প্রাপ্ত পরামর্শ, নিজের সঞ্চয়, প্রকল্পের ইনসেন্টিভ এবং কিছু ঋণের সমন্বয়ে তিনি একটি সাইকেল মেরামত ও যন্ত্রাংশ বিক্রয়ের দোকান প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং ভবিষ্যতে একটি বড় সাইকেল শোরুম গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন। ব্যবসা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণের জন্য আবেদন করেছেন এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
আজ মোঃ আব্দুল হাই বিশ্বাস করেন—সঠিক দিকনির্দেশনা, সাহস এবং সরকারি সহায়তা পেলে প্রত্যাগত অভিবাসীরাও আবার নতুন করে নিজেদের জীবন গড়ে তুলতে পারেন।
তার ভাষায়—
"প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের কল্যাণে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড যে ধরনের কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এই কার্যক্রম যেন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকে। প্রত্যাগত অভিবাসীদের পুনঃএকত্রীকরণে এমন উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।"
বিদেশের তিক্ত অভিজ্ঞতাকে পেছনে ফেলে আজ তিনি একজন উদ্যমী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। তার এই পথচলা প্রমাণ করে—সুযোগ ও সঠিক সহায়তা পেলে প্রত্যাবর্তনই হতে পারে নতুন সাফল্যের শুরু।
#প্রবাসীকল্যাণসেন্টার #বিদেশফেরতকর্মী #পুনঃএকত্রীকরণ #উদ্যোক্তা #স্বাবলম্বিতা #ওয়েজআর্নার্সকল্যাণবোর্ড #নতুনজীবনেরশুরু #বাংলাদেশ