08/09/2026
জামিনে বের হওয়ার পাঁচ মাস পর, ঘুমন্ত বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে
যে ঘরে বাবা-ছেলে পাশাপাশি ঘুমিয়েছিলেন, ভোররাতে সেই ঘর থেকেই ভেসে এলো অস্বাভাবিক শব্দ। পরিবারের সদস্যরা ছুটে গিয়ে দেখলেন, ঘুমন্ত বাবা আব্দুল বাছেদ মিয়া রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। অভিযোগ, তারই বড় ছেলে শাকিল চৌধুরী তাকে ছুরিকাঘাত ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছেন।
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ভরতেরকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামের এই ঘটনায় ৬৫ বছর বয়সী আব্দুল বাছেদ মিয়া নিহত হয়েছেন। তিনি পেশায় ছিলেন ভ্রাম্যমাণ ওষুধ বিক্রেতা। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে শাকিল (৩৫) বড় ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে বাবা-ছেলে একই ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, তাদের মধ্যে তখন কোনো ঝামেলাও ছিল না। রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ঘর থেকে শব্দ শুনে পরিবারের লোকজন সেখানে ছুটে যান। তখন তারা দেখতে পান, শাকিল তার বাবাকে ছুরিকাঘাত করছেন।
বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে শাকিলের মা সখিনা বেগম ও ভাই নুরুন্নবী রাশেদও হামলার শিকার হন। পরে শাকিল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। গুরুতর আহত আব্দুল বাছেদ ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আহত মা ও ভাইকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের তথ্যটি এসেছে পুলিশের কাছ থেকে। শিবপুর থানার ওসি মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া জানিয়েছেন, শাকিলের বিরুদ্ধে আগেও মামলা ছিল এবং প্রায় পাঁচ মাস আগে তিনি জামিনে কারাগার থেকে বের হয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। ব্যবহৃত অস্ত্র এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
নিহতের মেয়ে হাফসা বেগমের কান্নাজড়িত বক্তব্য আরও হৃদয়বিদারক। তিনি বলেছেন, তারা বাবার হত্যার বিচার চান এবং পরিবারের সবাই এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
একই ঘরে ঘুমানো বাবা-ছেলের রাত শেষ হলো বাবার মৃত্যু আর ছেলের পলায়নে। কী কারণে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের অপেক্ষায়।
আইনের চোখে অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপরাধী বলা যায় না। তবে ঘটনাটি আবারও সামনে আনল একটি কঠিন বাস্তবতা: পরিবারের ভেতরের সংঘাত, অপরাধের ইতিহাস এবং জামিনে থাকা ব্যক্তিদের নজরদারি নিয়ে আরও কার্যকর ব্যবস্থা কতটা জরুরি?
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত পরিষ্কার হবে।