15/07/2026
পুরুষতান্ত্রিক সমাজ থেকে বেড়িয়ে নিজ পায়ে দাঁড়াচ্ছেন নারীরা-
আজকের সমাজে এই কথা খুবই জনপ্রিয়। নারীরা নাকি এখন স্বাধীন হচ্ছে, পুরুষতান্ত্রিকতার শৃঙ্খল ভেঙে নিজের পায়ে দাঁড়াচ্ছে। এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে।
এই সমাজে নারীদের গুরুত্ব কতটুকু?
বর্তমান সমাজব্যবস্থায় একজন মানুষের মূল্য নির্ধারিত হয় তার উৎপাদনশীলতা দিয়ে। সে কতটুকু অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারছে, কতটুকু ভোগ করতে পারছে এবং কতটুকু বাজারের জন্য উপযোগী, এসবের ভিত্তিতেই তার মূল্য নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এই চিত্র স্পষ্ট। দেশের মোট শ্রমশক্তি সাত কোটির বেশি, যার মধ্যে দুই কোটিরও বেশি নারী, যা মোট শ্রমশক্তির প্রায় ঊনচল্লিশ শতাংশ। গার্মেন্টস শিল্পে চার মিলিয়নেরও বেশি মানুষ নিয়োজিত, যাদের সিংহভাগ নারী, আর এই শিল্পই দেশের রপ্তানি আয়ের আশি শতাংশের বেশি এনে দেয়। এই তথ্যই বলে দেয়, নারীকে গুরুত্ব দেওয়া হয় ঠিকই, কিন্তু সেই গুরুত্ব মানবিক মর্যাদার কারণে কিনা সেটা দেখার বিষয়, এবং সেই নারী কতটা অর্থনৈতিক ইউনিট হিসেবে কাজে লাগছে তার ভিত্তিতে মাপছেন কিনা!
নারীদের কিভাবে মাপা হয়?
আধুনিক সমাজে নারীকে মাপার মানদণ্ড দুটো ধারায় বিভক্ত। একদিকে তাকে মাপা হয় তার শারীরিক সৌন্দর্য দিয়ে। বৈশ্বিক সৌন্দর্য শিল্পের বাজারমূল্য এখন ৬৭৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, আর এর রাজস্বের বড় অংশই আসে নারীদের লক্ষ্য করে তৈরি পণ্য থেকে। মার্কিন নারীরা গড়ে বছরে প্রায় ৩.৫ হাজার ডলার শুধু সৌন্দর্যপণ্য ও সেবায় ব্যয় করেন।
অন্যদিকে তাকে মাপা হয় তার কর্মজীবনের সাফল্য দিয়ে। বাংলাদেশের কৃষি খাতে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও কৃষিজমির মালিকানায় তাদের অংশ মাত্র বারো শতাংশ, আর মৌসুমি শ্রমিক হিসেবে তাদের মজুরি পুরুষের তুলনায় গড়ে ত্রিশ শতাংশ কম, কারণ তাদের কাজকে প্রায়ই সংসারের সহায়ক শ্রম হিসেবে দেখা হয়, স্বতন্ত্র শ্রম হিসেবে নয়। এই দুই মানদণ্ডের কোনোটিতেই নারীর প্রকৃত পরিচয়, তার আত্মিক মর্যাদা কিংবা একজন মানুষ হিসেবে তার অন্তর্নিহিত সম্মানের কোনো স্থান নেই।
অধিকারের কথা যারা বলে তারা কতটুকু সচেতন?
সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে বাংলাদেশে সমান মজুরি আইন পাস হওয়ার প্রায় দুই দশক পরও একই কাজ করে নারী শ্রমিকেরা পুরুষদের তুলনায় অনেক কম মজুরি পান। এই বাস্তবতা দেখায়, শুধু আইন পাস করলেই বা অধিকারের স্লোগান দিলেই বাস্তব পরিবর্তন আসে না। যেসব নারী তথাকথিত অধিকার আন্দোলনের কথা বলেন, তাদের বড় অংশই আসলে সচেতনভাবে জানেন না যে তারা কোন কাঠামোর ভেতরে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন। তারা মুক্তির স্বপ্ন দেখেন সেই একই পুঁজিবাদী কাঠামোর ভেতরে থেকে, যে কাঠামোটাই তাদের পণ্য বানিয়েছে। যারা অধিকারের কথা বলেন তাদের বড় অংশ কাঠামোগত সমস্যার গভীরে না গিয়ে উপরিভাগের সংস্কার নিয়েই সন্তুষ্ট থাকেন, ফলে দুই দশক পরও মূল বৈষম্য অপরিবর্তিত থেকে যায়।
নারীদের প্রতি বর্তমান বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গি কি?
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী পূর্ণ লিঙ্গসমতা অর্জনে এখনো ১২৩ বছর লাগবে, আর কোনো একটি অর্থনীতিও এখনো সম্পূর্ণ লিঙ্গসমতা অর্জন করতে পারেনি। নারী বিশ্বব্যাপী মোট শ্রমশক্তির প্রায় অর্ধেক হলেও শীর্ষ ব্যবস্থাপনার পদে তাদের অংশগ্রহণ তিরিশ শতাংশেরও কম। এই ব্যবধান শুধু কোনো নির্দিষ্ট শিল্পের সমস্যা নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবা থেকে প্রযুক্তি, আর্থিক খাত থেকে রাজনীতি, সব জায়গাতেই একই কাঠামোগত প্যাটার্ন বিদ্যমান। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলে, কিন্তু সেই ক্ষমতায়নের সংজ্ঞা মূলত শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণের হার বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
সেক্যুলার পুঁজিবাদীরা নারীদের কিভাবে দেখে?
পুঁজিবাদী দর্শনের কেন্দ্রে আছে মুনাফা, আর এই দর্শনে নারীকে দুইভাবে ব্যবহার করা হয়। একদিকে শ্রমশক্তি হিসেবে, অন্যদিকে ভোক্তা ও পণ্য হিসেবে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোম্পানিগুলোর তালিকা ফরচুন ফাইভ হান্ড্রেডে ২০২৬ সালে মাত্র ১১ শতাংশ কোম্পানির প্রধান নির্বাহী নারী, যা এই তালিকার বাহাত্তর বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অনুপাত হওয়া সত্ত্বেও অত্যন্ত সামান্য। ম্যাককিনসি ও লিনইন ডট অর্গের গবেষণায় দেখা গেছে, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় অর্ধেকই নারীর ক্যারিয়ার অগ্রগতিকে অগ্রাধিকার হিসেবে দেখে না। এমনকি সবচেয়ে অভিজাত করপোরেট পরিবেশেও একই বৈষম্য কাজ করে। দুই হাজার তেইশ সালে বিনিয়োগ ব্যাংকিং জায়ান্ট গোল্ডম্যান স্যাকস প্রায় আটাশশো নারী কর্মীর একটি সম্মিলিত মামলার নিষ্পত্তিতে ২১৫ মিলিয়ন ডলার দিতে বাধ্য হয়, যেখানে অভিযোগ ছিল একই কাজের জন্য পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় নারীদের কম বেতন দেওয়া এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে বারবার উপেক্ষা করার। এর আগে মরগ্যান স্ট্যানলিও একই ধরনের অভিযোগে প্রায় ৪৬ মিলিয়ন ডলার দিয়ে মামলা মিটিয়েছিল।
মামলাগুলো বছরের পর বছর ধরে চলেছিল, প্রমাণ করে বৈষম্যের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার পেতে নারীকে কতটা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের ব্যাংক খাতে উচ্চপর্যায়ের পদে নারীর উপস্থিতি মাত্র সাড়ে দশ শতাংশের কাছাকাছি, আর মাত্র ছয় মাসেই ব্যাংক খাতে ৭২১ জন এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৪৯ জন নারী কর্মী কমে গেছে। কারখানার মেঝে থেকে ওয়াল স্ট্রিটের বোর্ডরুম পর্যন্ত, বাংলাদেশের ব্যাংক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম কোম্পানি পর্যন্ত একই সিস্টেম। যেখানে নারীর শ্রম সস্তা রাখা যায় সেখানে তাকে ব্যবহার করা হয়, আর যেখানে ক্ষমতা ও সিদ্ধান্তগ্রহণের প্রশ্ন আসে সেখানে তাকে পেছনে ফেলে রাখা হয়। ওয়াও!
নারী পুরুষ কি আদৌ প্রতিদ্বন্দ্বী?
প্রকৃতপক্ষে নারী ও পুরুষ কখনোই একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। মানব সমাজের ইতিহাসে দীর্ঘকাল ধরে নারী ও পুরুষ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করেছে। পরিবার নামক প্রতিষ্ঠানে তাদের ভূমিকা ছিল একে অপরকে শক্তিশালী করার, প্রতিযোগিতা করার নয়।
কে বানালো নারী পুরুষের প্রতিদ্বন্দ্বী এবং কেন?
শিল্প বিপ্লবের সময় থেকে ইউরোপ ও আমেরিকায় নারীকে কারখানার শ্রমবাজারে টেনে আনা হয়েছিল, কারণ তখন সস্তা শ্রমের প্রয়োজন ছিল। নারী মুক্তির নামে এমন একটি আখ্যান তৈরি করা হলো যেখানে পরিবার, মাতৃত্ব এবং ঘরের দায়িত্বকে দুর্বলতা এবং বন্দিত্বের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হলো, আর কর্মক্ষেত্রকে উপস্থাপন করা হলো মুক্তি ও ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পেই একই প্যাটার্ন দেখা যায়, যেখানে নারী শ্রমিকদের বেছে নেওয়া হয় মূলত তাদের মজুরি পুরুষের তুলনায় কম রাখা যায় বলে। এভাবেই নারী ও পুরুষকে একই সীমিত সম্পদের জন্য, অর্থাৎ চাকরি, বেতন এবং সামাজিক মর্যাদার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী বানিয়ে দেওয়া হলো। এর পেছনে মূল কারণ অর্থনৈতিক।
শ্রমশক্তির সরবরাহ যত বাড়বে, মজুরি তত কমবে, আর পুঁজির মালিকদের মুনাফা তত বাড়বে। পাশাপাশি পরিবার প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দিলে মানুষ আরো বেশি ভোগবাদী এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, যা বাজার অর্থনীতির জন্য অনুকূল। তাই পরিবারের ভাঙন এবং নারী পুরুষের এই তথাকথিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা আসলে একটি পরিকল্পিত অর্থনৈতিক কাঠামোর ফসল, যদিও প্রকৃতপক্ষে উভয়েই একই শোষণের শিকার, ভিন্ন মাত্রায়।
ইসলাম কি নারীদের চাকরি করতে নিষেধ করে?
ইসলামি ইতিহাসে নবী মুহাম্মদ সাঃ এর স্ত্রী খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন, যিনি নিজের অর্থ দিয়ে বাণিজ্যিক কাফেলা পরিচালনা করতেন এবং সেই যুগেই সম্পদের স্বাধীন মালিকানা রাখতেন, যখন বিশ্বের অধিকাংশ সভ্যতায় নারীর নিজস্ব সম্পত্তির অধিকারই স্বীকৃত ছিল না। এই ঐতিহাসিক দৃষ্টান্তই দেখায়, ইসলাম নারীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে নিষিদ্ধ করে না, বরং তাকে একটি সুরক্ষিত কাঠামোর মধ্যে স্বাধীনতা দেয়। ইসলামি ব্যবস্থায় পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব মূলত পুরুষের ওপর ন্যস্ত। এর অর্থ এই নয় যে নারী কাজ করতে পারবে না, বরং এর অর্থ হলো নারীকে বাধ্য করে জীবিকার জন্য ঘর থেকে বের হতে হবে না, যেমনটা আজ বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিক নারীকে করতে হচ্ছে টিকে থাকার তাগিদে।
নারীদের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কি?
কুরআনে বলা হয়েছে নারী ও পুরুষ একই সত্তা থেকে সৃষ্ট এবং উভয়ের ওপরই ঈমান ও আমলের ভিত্তিতে প্রতিদান নির্ধারিত হবে। তবে ইসলাম নারী ও পুরুষকে সব ক্ষেত্রে অভিন্ন ভূমিকায় দেখে না, বরং তাদের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টন করেছে। এই বণ্টন কোনো বৈষম্য নয়, বরং একটি ভারসাম্যপূর্ণ সামাজিক কাঠামো তৈরির প্রচেষ্টা। মাতৃত্বকে ইসলাম দুর্বলতা নয়, বরং একটি মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে উপস্থাপন করেছে। নারীর সম্মান, তার নিরাপত্তা এবং তার ভরণপোষণের নিশ্চয়তা ইসলামি বিধানে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। এই নীতিগত সমতা আজকের করপোরেট মামলা ও বৈষম্যের পরিসংখ্যানের বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে থাকে।
বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা কেন নারীদের প্রকৃত সুরক্ষা দিতে পারছে না?
আজকের পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় আইন তৈরি হয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে অথবা প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর চাপে, কোনো স্থায়ী নৈতিক নীতির ভিত্তিতে নয়। ২০১৩ সালে সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়ার ঘটনা এই বাস্তবতার সবচেয়ে করুণ দৃষ্টান্ত। ১১০০+ বেশি পোশাক শ্রমিক মারা যান, যাদের অধিকাংশই ছিলেন নারী, শুধুমাত্র কম খরচে দ্রুত উৎপাদনের চাপে ভবনের ফাটল উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কারণে। একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী শুধু সেই ঘটনার পর থেকেই কারখানায় অবহেলাজনিত দুর্ঘটনায় হাজারেরও বেশি শ্রমিক মারা গেছেন। একদিকে নারীকে যৌন পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করার স্বাধীনতা দেওয়া হয় বিজ্ঞাপন ও বিনোদন শিল্পে, অন্যদিকে তার নিরাপত্তাহীনতা, বৈষম্য এবং পারিবারিক ভাঙনের ঘটনা প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকে। বৈশ্বিকভাবেও একই চিত্র। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের হিসাব অনুযায়ী বর্তমান গতিতে চললে পূর্ণ লিঙ্গসমতা অর্জনে আরো ১২৩ বছর লাগবে। এই দীর্ঘ সময়সীমাই প্রমাণ করে, বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক কাঠামো আইন প্রণয়ন করেও নারীর প্রকৃত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, কারণ যে অর্থনৈতিক দর্শনের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে মুনাফাই চূড়ান্ত মানদণ্ড, নারীর মর্যাদা নয়।
এজন্য প্রয়োজন খিলাফাহ ব্যবস্থাঃ
নারীর প্রকৃত সুরক্ষা তখনই সম্ভব যখন একটি ব্যবস্থা তার নীতি প্রণয়নের ভিত্তি হিসেবে মানুষের সীমিত এবং পরিবর্তনশীল মতামতের ওপর নির্ভর না করে একটি স্থায়ী ও ন্যায়ভিত্তিক আইনি কাঠামোর ওপর দাঁড়ায়। রানা প্লাজার মতো ঘটনা কিংবা সাতক্ষীরার নারী শ্রমিকদের দুই দশক ধরে চলা মজুরি বৈষম্য, গোল্ডম্যান স্যাকসের মতো প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর ধরে চলা বৈষম্যের মামলা, এসব কিছুই একই সিস্টেমের ফসল, যেখানে নীতিনির্ধারণ হয় বাজারের চাপে, স্থায়ী নৈতিক নীতির ভিত্তিতে নয়। ইসলামি খিলাফাহ ব্যবস্থায় নারীর অধিকার, তার নিরাপত্তা এবং তার মর্যাদা কোনো রাজনৈতিক দর কষাকষির বিষয় নয়, বরং এটি শরিয়াহর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা কোনো সংসদীয় ভোটে বা কর্পোরেট চাপে পরিবর্তন করা যায় না। খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার যুগে নারীর যে সম্মান ও সুরক্ষা ছিল, তা কোনো আইন সংস্কারের ফসল ছিল না, বরং একটি সামগ্রিক আদর্শিক কাঠামোর স্বাভাবিক ফল ছিল। এই ব্যবস্থায় পরিবারকে সমাজের মূল ভিত্তি হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়, নারীর ভরণপোষণের দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়, তার সম্মান রক্ষার জন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা রাখা হয় এবং তাকে পণ্যায়িত করার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আজকের বিশ্বে যে বিপুল পরিসংখ্যান, যে দুর্ঘটনা এবং যে বৈষম্যের গল্প বারবার সামনে আসে, তার সমাধান আরেকটি সংস্কার আইনে নেই, বরং একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন আদর্শিক ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো রাষ্ট্রব্যবস্থায় নিহিত, যা তার সৃষ্টিকর্তার দেওয়া বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়।