25/05/2026
প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ ২৪/০৫/২০২৬
রামিসা থেকে এপস্টেইনের শিকার যত শিশু — বিশ্বের আজ প্রয়োজন ন্যায়পরায়ণ খিলাফত ব্যবস্থা
পিডিএফ আকারে পড়ুন: https://shorturl.at/TzWEE
আট বছরের নিস্পাপ শিশু রামিসা আক্তার, যে স্কুলে যেতে ভালোবাসত এবং যার স্বপ্নগুলো আর কেউ কখনও জানতে পারবে না; এক প্রতিবেশীর ঘরে প্রবেশ করার পর তাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করা হয় এবং শিরশ্ছেদ করে হত্যা করা হয়। সে কেবল একটি হ্যাশট্যাগের চেয়ে অনেক বেশি কিছু পাওয়ার যোগ্য ছিল।
বাংলাদেশ আজ ক্ষোভে ফুঁসছে। রাজনীতিবিদগণ অপরাধীর ফাঁসি চাইছেন। কেউ কেউ শারী‘আহ্ আইনের কথাও বলছেন, কিন্তু সেই আইন বাস্তবায়নকারী পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা — খিলাফতের কথা তুলছেন না। মোমবাতি প্রজ্বলন আর হ্যাশট্যাগ কোনো পরিবর্তন আনে না। এগুলোর কোনোটাই পরবর্তী রামিসাকে বাঁচাতে পারবে না। একই নির্মম চক্রের পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে: একটি শিশু প্রাণ হারায়, জনগণ ক্ষোভে ফেটে পড়ে, নেতারা ক্ষোভের অভিনয় করেন, আইনে সামান্য রদবদল হয়, তারপর নীরবতা। এরপর আবার আরেকটি শিশুর নির্মম পরিণতি।
আমরা এমন এক পুঁজিবাদী সংস্কৃতির মধ্যে বসবাস করছি, যা মুনাফার জন্য মানবদেহকে পণ্যে পরিণত করে। পর্নোগ্রাফি আজ এক মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের দানবীয় শিল্প। পুঁজিবাদ হিডোনিজম (ভোগবাদ)-কে উৎসাহিত করে — যেখানে আনন্দ ও ইন্দ্রিয়-সুখকে জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য হিসেবে গণ্য করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্নোগ্রাফি মানুষের মানসিক বিকৃতি ঘটায়, আগ্রাসন বাড়ায়, এবং শিশুদেরকে ভোগের বস্তু হিসেবে গণ্য করার বিষয়টিকে স্বাভাবিক করে তোলে। একটি সংস্কৃতি বা সমাজকে যদি প্রতিনিয়ত এই বিষাক্ত জিনিসে অভ্যস্ত করানো হয়, তবে সেখানে তো এমন দানবের জন্ম হবেই।
রামিসার হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী এই হিংস্র-শিকারী সংস্কৃতি মূলত সেই একই পুঁজিবাদী ও ভোগবাদী সংস্কৃতি — যা সমাজের অভিজাত মহলে মহাসমারোহে উদযাপিত হয়। জেফ্রি এপস্টেইন কোনো একাকী ও বিচ্ছিন্ন দানব ছিল না। দশকের পর দশক ধরে সে একটি শিশু পাচার ও যৌন নিপীড়ন নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এ সম্পর্কে অবগত ছিল। ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা সব জেনেও চোখ বুজে ছিল। যে উদারপন্থী, লাগামহীন, সম্পদপূজারী পুঁজিবাদ বিশ্বকে স্বাধীনতার সবক দেয়, সেই একই পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ স্তরে সগৌরবে চলেছে শিশু পাচার ও নির্যাতনের মতো জঘণ্য কর্মকান্ড। আট বছরের রামিসা ছিল পল্লবীর একটি ঘিঞ্জি ফ্ল্যাটে। আর এপস্টেইনের শিকাররা ছিল সুরক্ষিত ব্যক্তিগত দ্বীপে। কিন্তু ব্যবস্থার এই চরম ব্যর্থতা হুবহু এক — এটি এমন এক পুঁজিবাদী ও ভোগবাদী সংস্কৃতি যা শিশুদের সুরক্ষা দেয় না, কারণ এটি শিশুদেরকে কেবল ভোগের বস্তু কিংবা মুনাফার হাতিয়ার হিসেবে দেখে।
প্রতিবার যখনই রামিসার মতো কোন মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি ঘটে, তথাকথিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে কেবল লোকদেখানো প্রতিক্রিয়াশীল বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে: গ্রেপ্তার করো, বিচার করো, ফাঁসি দাও। ব্যাস, মামলা শেষ! কিন্তু আসল সত্য হলো, আমাদের সমাজ এতে সুরক্ষিত হয় না। যে সমাজ আজ ধর্ষক ও খুনির ফাঁসির দাবীতে সোচ্চার, সেই একই সমাজ নরপিশাচ-ধর্ষকদের জন্মদাতা এই ভোগবাদী সংস্কৃতিকেই প্রতিনিয়ত গিলছে। ধর্মনিরপেক্ষ পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শিশুদের সুরক্ষার জন্য কার্যকর কোনো বাস্তব উদ্যোগ নেই — নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছে আগ্রাসী ও নোংরা কন্টেন্ট, নেই সামাজিক জবাবদিহিতা, আর বছরের পর বছর ধরে আদালতে বিচার ঝুলে থাকাতো রয়েছেই। অতএব, পুঁজিবাদী-গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অধীনে এই প্রতিক্রিয়াশীল বিচার ব্যবস্থা আসলে একটি প্রতারণা। এই সংস্কৃতিকে অবাধে চলতে দিয়ে কেবল একজন মানুষকে ফাঁসি দেয়ার মানে ন্যায়বিচার নয়; এটি স্রেফ লোকদেখানো নাটক।
হে দেশবাসী! আমাদের নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় চরমভাবে ব্যর্থ এই পঁচে যাওয়া ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থার একটি বাস্তব ও কার্যকর বিকল্প খোঁজার সময় কি এখনো আসেনি? দীর্ঘ ১৪০০ বছর ধরে ইসলামী খিলাফত এক অনন্য পথের দিশা দেখিয়েছে — যা কোনো রূপকথার অবাস্তব স্বর্গ বা কাল্পনিক ‘ইউটোপিয়া’ ছিল না (কারণ ইসলাম কখনোই দাবী করে না যে সমাজ থেকে অপরাধ পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে), বরং এটি ছিল এমন এক ব্যবস্থা যা অপরাধের উৎসগুলোকেই উপড়ে ফেলে এবং যখনই কোনো অপরাধ বা আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে, তখনই এটি দ্রুত, কঠোর, ও মর্যাদাপূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে। যখন একজন দাস-তত্ত্বাবধায়ক এক দাসীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাধ্য করেছিল, তখন খলিফা উমর (রা.) তাকে বেত্রাঘাত করেছিলেন এবং নির্বাসিত করেছিলেন; আর ভুক্তভোগী নারীকে কোনো শাস্তি দেননি, কারণ সে ছিল বাধ্য ও অসহায় — এভাবে তিনি চিরতরে প্রতিষ্ঠা করেন যে ইসলাম কেবলমাত্র নিপীড়ক ও অপরাধীকেই এককভাবে দায়ী করে, কখনোই অসহায়, দুর্বল ও ভুক্তভোগীকে নয়। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে সিন্ধুর রাজা দাহির যখন বণিকদের এতিম কন্যাদের বন্দি করেছিল, তখন আল-হাজ্জাজ মুহাম্মাদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে এক অকুতোভয় সেনাবাহিনী প্রেরণ করেছিলেন, যারা অবরুদ্ধ এতিম কন্যাদের উদ্ধার করেছিল এবং ওই অঞ্চল বিজয় করেছিল। একইভাবে, আব্বাসীয় খলিফা আল-মাহদি এর আমলে যখন একটি শিশুকে অপহরণ করার পর তাকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা হয়, তখন তিনি অবিলম্বে শিশুটিকে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন এবং অপহরণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি করেন। সেসময়ে খিলাফত ব্যবস্থা কেবল মোমবাতি প্রজ্বলন ও হ্যাশট্যাগ প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকেনি কিংবা হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি — বরং এটি অসহায় ও নিপীড়িত শিশুদের সুরক্ষায় তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছিল।
খিলাফত এমন এক সমাজ গঠন করেছিল যেখানে অশ্লীলতা কোনো বিনোদন ছিল না, নারী ও শিশুরা কোনো পণ্য ছিল না, পর্নোগ্রাফি মানুষের মনকে বিষাক্ত করত না, এবং রাষ্ট্র সবসময় অসহায় ও দুর্বলদের রক্ষা করত। সেখানে একজন নারীর একটিমাত্র আর্তনাদ একটি পুরো সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য মার্চ করাতে পারত। এটাই হলো পার্থক্য। নবুয়্যতের আদলে প্রতিশ্রুত খিলাফত রাশিদাহ্ কেবল শাস্তিদানের একটি ব্যবস্থা নয় — বরং এটাই হলো একমাত্র শাসন কাঠামো যা সমাজ থেকে ধর্ষক ও শিশু হত্যাকারীদের মতো নরপিশাচদের প্রজননক্ষেত্রকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে সক্ষম।
হিযবুত তাহ্রীর, উলাই‘য়াহ্ বাংলাদেশ-এর মিডিয়া অফিস