ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ Aware Members of DU-BUET

পুঁজিবাদী নীতিই চলমান জ্বালানি সংকটের জন্য দায়ীজনস্বার্থভিত্তিক জ্বালানি নীতি: প্রস্তাবিত ইসলামী মডেলPDF আকারে পড়ুন: htt...
21/09/2026

পুঁজিবাদী নীতিই চলমান জ্বালানি সংকটের জন্য দায়ী
জনস্বার্থভিত্তিক জ্বালানি নীতি: প্রস্তাবিত ইসলামী মডেল

PDF আকারে পড়ুন: https://shorturl.at/9vR4E

হে দেশবাসী, বর্তমান জ্বালানি সংকট সাম্রাজ্যবাদী প্রতিষ্ঠান আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক এর পরামর্শ এবং ক্যান্সারাস পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অবাধ বেসরকারিকরণ নীতির একটি বাস্তব প্রতিফলন, যার নির্মম পরিণতি হচ্ছে গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, দেশব্যাপী অসহনীয় লোডশেডিং, শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত এবং কারখানা-শ্রমিকদের জীবিকার অনিশ্চয়তা।
বর্তমান সরকার এই সংকটের দায় পতিত হাসিনা সরকারের উপর চাপালেও, বাস্তবে তারা সেই একই সাম্রাজ্যবাদী ও পুঁজিবাদী নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে আরও বেসরকারিকরণের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে।
আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক এর শর্তের কারণে দেশের একমাত্র তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান BAPEX-এর রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা প্রত্যাহার করা হচ্ছে এবং জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পরিবর্তে আমদানি ও প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) নির্ভর জ্বালানি নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, জাতীয় বাজেট (২০২৫-২৬)-এ এলএনজি আমদানিতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ৫৮,০০০ কোটি টাকা, অথচ গ্যাস অনুসন্ধান, জরিপ ও কূপ খনন প্রকল্পে বরাদ্দ কেবল ১,১২৯ কোটি টাকা।
পুঁজিবাদী নীতি উৎপাদন বন্টন চুক্তি (PSC)-এর মাধ্যমে ১৯৭৪ সাল থেকেই দেশের তেল-গ্যাস সম্পদের উপর লুটেরা বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানির আধিপত্য বিস্তার করছে। যার একটি নির্মম দৃষ্টান্ত হলো, মার্কিন বহুজাতিক জ্বালানি কোম্পানি শেভরন (Chevron) একাই দেশের মোট গ্যাস উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
হে দেশবাসী, পুঁজিবাদী ব্যবস্থার এসব ধ্বংসাত্মক নীতি জ্বালানির মতো কৌশলগত খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথে প্রধান বাধা এবং জনগণের দুর্দশার মূল কারণ। এই সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে আমরা, হিযবুত তাহ্‌রীর, উলাই’য়াহ্ বাংলাদেশ খিলাফত রাষ্ট্রের জনস্বার্থভিত্তিক ইসলামী জ্বালানি নীতি উপস্থাপন করছি:
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) এবং পেট্রোবাংলার যৌথ গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখনও গড়ে প্রায় ৩২.১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (TCF) অ-আবিষ্কৃত গ্যাস মজুত রয়েছে। বর্তমানে বাৎসরিক উৎপাদন (০.৭১ TCF) হিসাব করলে, এই পরিমাণ গ্যাস প্রায় ৪৫ বছরের উৎপাদনের সমান। আবার, জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশ (GSB)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের পাঁচটি প্রধান কয়লাক্ষেত্রে প্রায় ৭,৯৬২ মিলিয়ন টন উচ্চমানের বিটুমিনাস কয়লার মজুত রয়েছে। কিন্তু এই বিপুল কয়লা সম্পদের খুব সামান্য অংশই এখন পর্যন্ত উত্তোলন ও ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ, U.S. Energy Information Administration (EIA)-এর সর্বশেষ বিশ্লেষণ (২০২৩) অনুযায়ী চীনের মোট প্রাথমিক জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬২% এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫৯.৩% কয়লা থেকে আসে। তাছাড়া, BAPEX সিলেটের কৈলাশটিলা ও হরিপুরে নতুন তেল মজুতের সন্ধান পেয়েছে।
শারী’আহ্ আইন অনুযায়ী তেল-গ্যাস-কয়লা জনগণের সম্পদ (গণমালিকানাধীন সম্পদ), যা ইজারা দেয়া বা বেসরকারিকরণ ইসলামে নিষেধ। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: “মুসলিমরা (জনগণ) তিনটি বিষয়ে পরস্পরের অংশীদার (শরীক): পানি, চারণভূমি এবং আগুন (জ্বালানি)” [আবু দাউদ]। আনাস (রা.) ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করার সময় এর সাথে যুক্ত করেছেন, “এবং এর মূল্য গ্রহণ করা হারাম (নিষিদ্ধ)।”
খিলাফত রাষ্ট্র, তেল-গ্যাস-কয়লাসহ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ থেকে উপনিবেশবাদী কোম্পানীসমূহকে উচ্ছেদ করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় উত্তোলন করবে এবং এগুলোর সুবিধা সর্বসাধারণের নিকট পৌঁছে দিবে।
বিদ্যুৎখাতে কুইক রেন্টাল প্রকল্পের নামে দেশি-বিদেশি কোম্পানীসমূহের (আদানি গ্রুপ, সামিট গ্রুপ) সাথে চুক্তিসমূহ বাতিল করবে এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। এই বিদ্যুৎ সুলভ মূল্যে জনগণের মধ্যে বন্টন করবে, এবং কল-কারখানায় সরবরাহ করবে।
জ্বালানি একটি কৌশলগত সম্পদ, তাই এই খাতকে সাম্রাজ্যবাদীদের দখলে প্রদান করা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। এর মাধ্যমে তারা আমাদের উপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। আল্লাহ্ (ﷻ) বলেন, “...আর কিছুতেই আল্লাহ্ মু‘মিনদের উপর কাফিরদের কর্তৃত্বকে মেনে নিবেন না” [সূরা আন-নিসা : ১৪১]। তাই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে খিলাফত রাষ্ট্র অন্যতম অগ্রাধিকার দিবে।
সোলার, বায়োগ্যাসের মত প্রকল্পসমূহ বেসরকারি কিংবা রাষ্ট্রীয় মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এই লক্ষ্যে রাষ্ট্র যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রদান করবে।
হে দেশবাসী, আমরা হিযবুত তাহ্‌রীর, আপনাদের নিকট আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ উৎপাদনের দাবী জানান; জ্বালানি খাতকে দেশি-বিদেশি পুঁজিবাদী কোম্পানির কবল থেকে উদ্ধার করতে সকল রাজনৈতিক দলের উপর চাপ অব্যাহত রাখুন; পুঁজিবাদের বেসরকারিকরণ এজেন্ডাকে রুখে দাঁড়ান। সর্বোপরি, হিযবুত তাহ্‌রীর-এর সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে খিলাফত প্রতিষ্ঠার কাজকে আরও শক্তিশালী করুন।
আল্লাহ্ (ﷻ) বলেন, “আর যে আমার স্মরণ (বিধি-বিধান) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, নিশ্চয়ই তার জীবিকা হবে সংকীর্ণ, আর তাকে কিয়ামাতের দিন উত্থিত করব অন্ধ অবস্থায়” [সূরা ত্বহা : ১২৪]।

18/08/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: ১৭/০৮/২০২৬
সোমবার, ৪ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮

بسم الله الرحمن الرحيم

মুসলিম ভূমিগুলোর শাসকেরা আমেরিকার নির্দেশ পালনে প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পাদনে সক্ষম, অথচ মুসলিমরা যখন সাহায্যের জন্য আহ্বান জানায় তখন তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে!

(অনুবাদকৃত)

পিডিএফ আকারে পড়ুন: https://shorturl.at/AXgqT

ওহী নাযিলের পবিত্র ভূমি মক্কায়, মুসলিমদের কিবলা ও পবিত্র নিদর্শনাদির সন্নিকটে, তিন মুসলিম দেশ—তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরব এর শাসকগণ এক সম্মেলনে একত্রিত হয়ে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

সম্মেলনের চূড়ান্ত বিবৃতি বা ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো তিন দেশের মধ্যে যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও কার্যকর করে তোলা। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্বাক্ষরকারী যেকোনো একটি দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলা হলে তা তাদের সকলের উপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই চুক্তি তিন দেশের মধ্যকার ‘ঐতিহাসিক সম্পর্ক’ ও অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত, এবং এর উদ্দেশ্য হলো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে তাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করা।

হিযবুত তাহ্‌রীর-এর কেন্দ্রীয় মিডিয়া অফিস নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিশেষভাবে তুলে ধরছে:

প্রথমত: এই শাসকেরা তাদের সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণাপত্রে ‘ইসলাম’ শব্দটি উল্লেখ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, এবং এর পরিবর্তে তারা কেবল “ঐতিহাসিক সম্পর্কের” কথা উল্লেখ করেছে। ইসলাম ছাড়া আর কোন ইতিহাস এই ভূমিগুলোকে যুক্ত রেখেছিল? এবং তারা কি একসময় খিলাফত নামক একক রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল না? এতদসত্ত্বেও তারা তাদের প্রভূ আমেরিকার সামনে বশ্যতা স্বীকার করে এবং অপমানিত অবস্থায় থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তারা তাদের বিবৃতিতে মিথ্যাচার করেছে, কারণ এই বৈঠকে তাদের একত্রিত হওয়ার পেছনে একমাত্র কারণ ছিল আমেরিকার নির্দেশসমূহের প্রতি তাদের নিঃশর্ত আনুগত্য প্রদর্শন।

দ্বিতীয়ত: আল্লাহ্ যা অবতীর্ণ করেছেন তার পরিবর্তে অন্যকিছু দিয়ে শাসন করার অপরাধ, এবং মুসলিম ভূমিগুলোকে খণ্ড-বিখণ্ড করার অপরাধ সংঘটনের পাশাপাশি এই শাসকেরা এখন এই প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে মূলত আমেরিকার নির্দেশই বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে মুসলিম ভূমিগুলোতে আমেরিকার প্রভাব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে তার নতুন নিরাপত্তা কাঠামো বাস্তবায়নকে সহায়তা করা হচ্ছে, যাতে চীনের সাথে সংঘাতে এই অঞ্চলকে আমেরিকা একটি প্রবেশদ্বার ও অভিযান পরিচালনার কৌশলগত ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। অতএব, এই শাসকেরা স্বেচ্ছায় আমেরিকার হাতিয়ারে পরিণত হওয়াকে মেনে নিয়েছে।

তৃতীয়ত: এই তিন রাষ্ট্রের সামরিক জোট প্রমাণ করেছে, মুসলিম সামরিক বাহিনীগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। অতএব, অবৈধ ইহুদি রাষ্ট্র যখন নির্বিচারে গণহত্যা চালাচ্ছিল এবং গাজার মুসলিমরা যখন এসব শাসকদের নিকট সাহায্যের আকুল আবেদন জানাচ্ছিল, তখন তারা তাদের সহায়তা করতে পুরোপুরি সক্ষম ছিল। অথচ, তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিল। এমনকি, তাদের মধ্যে কেউ কেউ গাজায় গণহত্যা চালানোরত অবস্থায় অবৈধ ইহুদি রাষ্ট্রটিকে সমর্থনও জুগিয়েছিল। অতএব, গাজার মুসলিমদের সাহায্যের আহ্বান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে, আমেরিকার সামরিক চুক্তির আহ্বানে আগ্রহের সাথে সাড়া দেওয়ার পর, এই নীচ ও অযোগ্য শাসকদের আত্মসম্মানের শেষ বিন্দুটিও আর অবশিষ্ট থাকল না!

চতুর্থত: আমেরিকা যদি মনে করে, এই জোট বা অন্য কোনো জোটের মাধ্যমে সে খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে প্রতিহত করতে পারবে, তবে তার সেই প্রত্যাশা ব্যর্থ হয়েছে এবং তার নিক্ষিপ্ত তীর লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। উম্মাহ্ তার খিলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে; এবং আমেরিকা শীঘ্রই দেখতে পাবে, তার সবগুলো দালাল হাওয়ায় বিলীন হয়ে গেছে—যাদের প্রতি তার বিশ্বাস যে তারা তার উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়ন করে দেবে। উম্মাহ্ তাদেরকে পদদলিত করে পবিত্র ভূমি থেকে অবৈধ ইহুদি রাষ্ট্রকে সমূলে উপড়ে ফেলার অভিযানে বের হবে, এবং জুলুমকারী, উপনিবেশ স্থাপনকারী এবং সম্পদ লুণ্ঠনকারীদেরকে এমনভাবে মোকাবেলা করবে যাতে তারা শয়তানের কুমন্ত্রণা ও বিভ্রমসমূহ ভুলে যায়—যেগুলোর মাধ্যমে তারা এতদিন নিজেদেরই প্রতারিত করে এসেছে।

পঞ্চম ও সর্বশেষ: আমরা সকল মুসলিম এবং তাদের মধ্যে যারা ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অধিকারী তাদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানাচ্ছি: আপনারা প্রত্যক্ষ করেছেন, আপনাদের শাসকেরা তাদের বিশাল সামরিক বাহিনী নিয়ে জোট গঠন করেছে—কিন্তু তা আল্লাহ্’র পথে জিহাদের মাধ্যমে মুসলিম ভূখণ্ডসমূহ মুক্ত করতে নয়, কিংবা নবুয়্যতের আদলে খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্যও নয়। এই শাসকেরা আর কতকাল পরাশক্তিদের স্বার্থ হাসিলের জন্য আপনাদেরকে এবং আপনাদের সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করতে থাকবে?! অতএব, এই শাসকদের কবল থেকে মুক্তি পেতে এবং নবুয়্যতের আদলে দ্বিতীয় খিলাফতে রাশিদাহ্ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে হিযবুত তাহ্‌রীর-এর সাথে কাজ করতে দ্রুত অগ্রসর হোন:

إِنْ يَنْصُرْكُمُ اللهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ

“যদি আল্লাহ্ তোমাদেরকে সাহায্য করেন, তবে কেউই তোমাদের উপর বিজয়ী হতে পারবে না” [সূরা আলি ইমরান: ১৬০]

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ ১০/০৮/২০২৬জেগে উঠো বাংলাদেশ: হাসিনার দাসত্বের পথ নয়, বরং আওরঙ্গজেবের বীরত্বের পথই হোক আমাদের আলোকবর্তিক...
12/08/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ ১০/০৮/২০২৬

জেগে উঠো বাংলাদেশ: হাসিনার দাসত্বের পথ নয়, বরং আওরঙ্গজেবের বীরত্বের পথই হোক আমাদের আলোকবর্তিকা

PDF আকারে পড়ুনঃ https://shorturl.at/2ZVyR

সম্প্রতি দিল্লিতে পতিত যালিম শাসক শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখার যে সুযোগ দেয়া হয়েছে, তা বাংলাদেশের প্রতিটি সচেতন মুসলিমের জন্য এক কঠোর সতর্কবার্তা। এটি আমাদের বিরুদ্ধে চলমান শত্রুতা ও ষড়যন্ত্রের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।
হিন্দুত্ববাদী ভারতের ‘অখণ্ড ভারত’ মতাদর্শই বাংলাদেশ নামক মুসলিম ভূখণ্ডের উপর তাদের আধিপত্যবাদী আচরণ এবং এই অঞ্চলের মুসলিমদের উপর তাদের অব্যাহত নিপীড়নের মূল চালিকাশক্তি। কাশ্মীর থেকে শুরু করে আসাম পর্যন্ত, নিপীড়নের শিকার আমাদের মুসলিম ভাই-বোনেরা আজও আর্তনাদ করছেন। এই মুশরিক রাষ্ট্র গাজায় গণহত্যায় লিপ্ত অবৈধ ইহুদী রাষ্ট্র ও তার মদদদাতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক দিনকে দিন আরও জোরদার করে চলেছে। তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় একটি স্বাধীন মুসলিম বাংলাদেশের কোনো স্থান নেই। অথচ, এসব প্রত্যক্ষ করার পরও, আমাদের শাসকগোষ্ঠী অতীতের ভুলগুলোরই পুনরাবৃত্তি করে চলেছে। তারা দেশের দীর্ঘমেয়াদী অস্তিত্ব ও নিরাপত্তার মত কৌশলী চিন্তা না করে, সাময়িক স্বস্তি কিংবা সুবিধার পেছনে ছুটছেন। ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, ইসলামের প্রতি শত্রুতা পোষণকারীদের সাথে সামরিক কিংবা অর্থনৈতিক যেকোন জোট ও সমঝোতা আমাদেরকে ক্রমান্বয়ে দুর্বল করা ছাড়া আর কিছুই দেয়নি।
রাসূলুল্লাহ্ ﷺ আমাদের জন্য একটি সুস্পষ্ট কাঠামো রেখে গেছেন: হয় তারা ইসলামের সুমহান বাণী গ্রহণ করে ইসলামী উম্মাহ্‌’র অংশ হবে, নতুবা মুসলিম ভূমি মুক্ত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত যুদ্ধের মুখোমুখি হবে। যারা হুদায়বিয়ার সন্ধির উদাহরণ টানেন, তাদের জানা উচিত সেটা ছিল সাময়িক যুদ্ধ বিরতি। সুলতান আওরঙ্গজেব রাসূলুল্লাহ্‌ ﷺ-এর দেখানো কাঠামোটি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। বৌদ্ধ শাসকেরা যখন মুসলিমদের উপর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল, তখন তিনি চট্টগ্রামকে মুক্ত করেন এবং আরাকানে বৌদ্ধদের পাঁচশত বছরের পুরোনো সাম্রাজ্যকে ধ্বংস করে দেন। তিনি জানতেন, সাময়িক যুদ্ধ বিরতি অনুমোদিত, কিন্তু স্থায়ী আত্মসমর্পণ কখনোই নয়। আজকে আমাদের শাসকগোষ্ঠী যেখানে ছাড় দিচ্ছেন, আওরঙ্গজেব সেখানে দেখিয়েছেন সাহস; আর আজকের শাসকগোষ্ঠী যেখানে আপসের পথ বেছে নিয়েছেন, আওরঙ্গজেব সেখানে ইসলাম প্রদত্ত সমাধানের নীতিতে অটল ছিলেন।
হে দেশবাসী! আমরা, হিযবুত তাহ্‌রীর এই মুশরিক শত্রুরাষ্ট্রের ব্যাপারে কখনোই নীরব ছিলাম না। ২০০৯ সালে পিলখানা ষড়যন্ত্রের পর থেকে আমরা যালিম হাসিনা ও তার প্রভু মার্কিন-বৃটেন-ভারতের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছি। পনেরো বছরের কঠিন রাজনৈতিক সংগ্রামে আমাদের অসংখ্য নেতা-কর্মী গ্রেফতার, গুম, অকথ্য নির্যাতনের শিকার হয়েছে, এবং অনেকের শিক্ষাজীবন, পেশা কিংবা ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে গেছে। আমাদের প্রচারবিমুখ সেইসব বীরেরা নীরবে আড়ালে থেকে নিরলসভাবে জনগণকে জাগিয়ে তোলার কাজ করে গেছেন, আর একই সময়ে আমাদের দলের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলোতে তরুণ প্রজন্মকে জাগিয়ে তুলেছেন। এরপর যখন ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিস্ফোরিত হলো, তখনও ছাত্র-জনতা ও সামরিক বাহিনীর প্রতি আমাদের ছিল গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। আমরা দাবী করি না, আমরাই এই আন্দোলনের একমাত্র কারিগর; বরং এর প্রকৃত নায়ক ছিল দেশের আপামর জনসাধারণ। তবে যালিমের সিংহাসন কাঁপিয়ে দিতে এবং তার ভারতে পলায়নের প্রেক্ষাপট তৈরিতে আমরা পনেরো বছর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছি। কিন্তু গণঅভ্যুত্থান আজ বেহাত হয়ে গেছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ইসলামের ন্যায়ের শাসন ব্যবস্থা এবং কাফির-মুশরিক রাষ্ট্রসমূহের আধিপত্যমুক্ত প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জনের যে স্বপ্ন, তা অসম্পূর্ণই রয়ে গেছে। কাফির-মুশরিক শক্তিগুলো আবারও তাদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে তুলছে।
তবে এখনো আশা আছে—আর তা নিহিত রয়েছে আমাদের ঐক্যে। আমরা সামরিক বাহিনীর নিষ্ঠাবান অফিসারগণ, তরুণ প্রজন্ম, এবং সকল আন্তরিক মুসলিমের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা আমাদের পাশে দাঁড়ান। আমরা একসাথে অসম্পূর্ণ এই গণঅভ্যুত্থানকে সফল করতে পারি। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অন্তরে আজও আওরঙ্গজেবের সেই চেতনা জীবিত আছে—শুধু তা সুযোগের অপেক্ষায়। তারা হচ্ছেন এমন ঈমানদার ও মর্যাদাবান, যারা দুনিয়ার যেকোন শক্তির পরিবর্তে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র প্রতি তাদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতাকে বেশী উপলব্ধি করেন।
সাময়িক স্বস্তি বা সুবিধা নামক আপোষমূলক কৌশল ত্যাগ করার সময় এসেছে। মুসলিমদের মর্যাদাকে অবমাননা করে এমন চুক্তি ও সমঝোতা সমূহকে প্রত্যাখ্যান করুন। নিজেদের হারানো সম্মান পুনরুদ্ধারে জেগে উঠুন। সমগ্র উপমহাদেশজুড়ে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। এটি কোনো স্বপ্ন নয়, বরং স্বয়ং আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা ও তাঁর রাসূল ﷺ এর প্রতিশ্রুতি: খিলাফত অবশ্যই ফিরে আসবে, নবুয়্যতের আদলে। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন: ﴿وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُم فِي الأَرْضِ...﴾ “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে আল্লাহ্ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে খিলাফত (শাসন-কর্তৃত্ব) দান করবেন…” [আন-নূর: ৫৫]। শত্রুরা যতই এটি অপছন্দ করুক, আল্লাহ্’র বাণীই সর্বদা সত্য ও বিজয়ী হবে। অতএব, খিলাফত প্রতিষ্ঠার কাজে সর্বশক্তি দিয়ে নিয়োজিত হওয়ার এখনই সময়।

07/08/2026

জুলাই গণঅভ্যুত্থান: অসম্পূর্ণ গণঅভ্যুত্থানকে পূর্ণাঙ্গ করার লক্ষ্যে হিযবুত তাহ্‌রীর-এর আহ্বান
যালিম শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর সেই ঐতিহাসিক মুহুর্তের পর আজ দুই বছর পার হয়ে গেছে। দেশের জনগণের জন্য সেই মুহুর্তটি ছিল যেমন স্বস্তির, তেমনি ছিল গভীর আত্মউপলব্ধির—পূর্বের ভুল থেকে শিক্ষা নেয়ার এবং ভবিষ্যতকে সঠিক পথে পরিচালিত করার। আজ যখন বিভিন্নজন এই অর্জনের বাহবা কুড়াতে ও নিজেদের জয়গানে ব্যস্ত, তখন আমরা হিযবুত তাহ্‌রীর সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, সেই দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ পথটির কথা—যা আমাদেরকে আজ এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
যালিম হাসিনার বিরুদ্ধে এই রাজনৈতিক লড়াই ২০২৪ সালের জুলাই থেকে শুরু হয়নি; বরং স্বৈরাচারীর বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন শুরু হয় ২০০৯ সাল থেকে—যখন হাসিনা ক্ষমতাসীন হওয়ার পরপর ভারতের সহযোগী হয়ে পিলখানায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ভারতের সাথে তার সেই ঘৃণ্য আঁতাত আমরা জাতির সামনে প্রকাশ করেছি এবং তার সরকারের হুমকি, গ্রেফতার ও নির্যাতনের মুখে আপসহীন অবস্থান নিয়েছি। যখন সব রাজনৈতিক দল নীরব দর্শক ছিল, তখন আমরা হিযবুত তাহ্‌রীর অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি, কিন্তু রাজপথ ছাড়িনি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যখন গণঅভ্যুত্থানের দাবানল জ্বলে উঠল এবং রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে উঠল, সেই সময়গুলোতেও আমরা দেশবাসী ও সামরিক অফিসারদের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা দিয়ে মাঠে ছিলাম।
এটা সত্য যে, স্বৈরাচার পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে; কিন্তু সেই বিজয় অর্জনটাই শেষ কথা ছিলনা। আরও স্পষ্টভাবে বললে বলতে হয়—এই গণঅভ্যুত্থান এখনো অসম্পূর্ণই আছে।
দেশের জনগণ কেবলমাত্র একজন ব্যক্তিকে সরানোর জন্য এই আন্দোলন করেনি। তাদের চিন্তা ও চেতনার মূল ছিল আরও গভীরে—অর্থাৎ, তাদের ইসলামী বিশ্বাস এবং প্রকৃত মুক্তির স্বপ্ন ঔপনিবেশিকদের আধিপত্য থেকে। দেশের জনগণ যেমন ভারতের গোলামি মেনে নেয়নি, ঠিক তেমনি তারা আমেরিকার পুতুল হতেও রাজি নয়। তারা বিদেশী আধিপত্যবাদের চির অবসান চায়। কিন্তু বর্তমানে বাস্তবতা দেখলে মনে হয়, ছাত্র-জনতার রক্তে অর্জিত স্বাধীনতাকে তুলে দেওয়া হচ্ছে পশ্চিমা উপনিবেশবাদীদের হাতে। আমাদের তরুণরা এর জন্য রক্ত দেয়নি, এটি তাদের কাঙ্ক্ষিত 'প্রকৃত স্বাধীনতা' হতে পারে না।
হে দেশবাসী! গণঅভ্যুত্থানের গতিপথ সংশোধন করার সময় ফুরিয়ে যায়নি, বরং এটাই উপযুক্ত সময়। কারণ বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদীগোষ্ঠীর প্রভাব-প্রতিপত্তি আজ ক্ষয়িষ্ণু। এটিই আমাদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ, আর তাই বিলম্ব না করে আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে, আমরা হিযবুত তাহ্‌রীর আপনাদেরকে আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা গতানুগতিক কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী নই। 'অসম্পূর্ণ গণঅভ্যুত্থান’ থেকে এই জাতিকে 'পূর্ণাঙ্গ গণঅভ্যুত্থানের' দিকে পরিচালিত করার মতো স্পষ্ট রোডম্যাপ কেবল আমাদেরই প্রস্তুত করা আছে। আমাদের হাতে রয়েছে খসড়া সংবিধান, শাসনকার্য পরিচালনার সুনির্দিষ্ট নীতিসমূহ এবং একদল নিষ্ঠাবান তরুণ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের সমন্বিত শক্তি।
বিগত দীর্ঘ বছরগুলোতে আমরা ইসলামী আদর্শের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র আপস করিনি এবং আজও করব না। নবুয়তের আদলে খিলাফত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই রাষ্ট্রকে একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ স্থানে পৌঁছে দেয়ার পর্যাপ্ত সক্ষমতা ও প্রস্তুতি উভয়ই আমাদের রয়েছে।
যদি জনগণ এবং দেশের নিষ্ঠাবান অংশ আজ হিযবুত তাহ্‌রীর-এর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ না হয়, তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চিরকালের জন্য এক অসম্পূর্ণ স্বপ্নই রয়ে যাবে। জনগণের এই মহান আত্মত্যাগকে আমরা কিছুতেই বৃথা যেতে দিতে পারি না।
এই ঐতিহাসিক সুযোগকে হাতছাড়া করবেন না। আল্লাহ্‌ ﷻ ও তাঁর রাসূল ﷺ এর আহ্বানে সাড়া দিন—কারণ তিনিই ﷻ প্রকৃতপক্ষে মৃতপ্রায় জাতিসমূহের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেনঃ
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ ...﴾
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের সেই আহ্বানে সাড়া দাও, যখন তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহ্বান করা হয় যা তোমাদের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার করে” [সূরা আল-আনফাল: ২৪]

05/08/2026

মার্কিন স্বার্থে সৌদি নেতৃত্বাধীন নৌ সামরিক জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি!
তাহলে কেন আমরা মসজিদুল-আকসাকে মুক্ত করতে উম্মাহ্‌কে নেতৃত্ব দিতে পারিনা?
বাব আল-মান্দেব প্রণালী ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরব ১৪টি দেশের সমন্বয়ে একটি নৌ সামরিক জোট গঠন করেছে, যেখানে বাংলাদেশ অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেয়া হয়েছে যখন ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়ে অবরোধ ঘোষণা করেছে এবং অন্যদিকে, মার্কিন-ইরান যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেছে। এই যুদ্ধ বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্যকে চরমভাবে ব্যাহত করেছে, ফলে এই সমুদ্রপথটি সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের গভীর কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। তাই, বাব-আল-মান্দেব প্রণালী উন্মুক্ত রাখার ব্যাপারে সৌদি আরবের উপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দালাল মুহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে।
এর পেছনে আমেরিকার ঘৃণ্য পরিকল্পনা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রকৃতিকে পরিবর্তন করা। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও অবৈধ ইহুদি রাষ্ট্র, ফিলিস্তিন ও ইরানের মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ চালাচ্ছে, সেটাকে সে মুসলিমদের মধ্যকার পারস্পরিক যুদ্ধে পরিণত করতে চায়। যাতে করে ক্রুসেডার বাহিনী ও অবৈধ ইহুদি রাষ্ট্রের উপর চাপ কমে। এই নির্লজ্জ পদক্ষেপের মধ্যে দিয়ে, বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের শাসকেরা ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমিকে মুক্ত করতে সামরিক শক্তি ব্যবহার না করে, আমাদের সৈন্যদের নামিয়ে দিচ্ছে এক ফেতনার যুদ্ধে—যেখানে এক মুসলিম আরেক মুসলিমের রক্ত ঝড়াবে!
পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির বলেছেন, মক্কা ও মদিনার দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম হিসেবে সৌদি আরবের একটি বিশেষ মর্যাদা রয়েছে, এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ “নৈতিক ও আদর্শিক কারণে” নিরাপত্তা সহায়তা সংক্রান্ত বিষয়ে সৌদি আরবের যেকোন অনুরোধে সাড়া দেবে। কিন্তু এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে: যখন মুসলিমদের প্রথম কিবলা, রাসূলুল্লাহ্‌ ﷺ ইসরা-মিরাজের স্থান—মসজিদ আল-আকসা আজ অভিশপ্ত ইহুদিদের দ্বারা আক্রান্ত, যখন এর সম্মান ও মর্যাদাকে প্রতিনিয়ত পদদলিত করা হচ্ছে, যখন এই পবিত্র ভূখন্ডের সম্মানিত মুসলিমদের নৃশংস ও নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে, তখন এই জোট কোথায়? বাংলাদেশ যদি লোহিত সাগরে মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় বাহিনী পাঠাতে প্রস্তুত থাকে, তবে ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান যখন আক্রমণের শিকার হয় তখন তার নীরব থাকার আদৌ কি কোন নৈতিক ভিত্তি আছে?
হে মুসলিমগণ!
আমেরিকার চাপিয়ে দেয়া এই ধ্বংসাত্মক ফেতনার যুদ্ধে আমাদের সামরিক বাহিনীকে ব্যবহৃত হতে দেয়া আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। আমাদের দাবী অত্যন্ত স্পষ্ট এবং এই দাবীই আমরা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছি যে, মহিমান্বিত মসজিদুল আকসা ও ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমিকে সম্পূর্ণ মুক্ত করতে আমাদের সামরিক বাহিনীর সাহসী সন্তানদের প্রেরণ করতে হবে। রাসূলুল্লাহ্‌ ﷺ বলেন: {هَذَا كِتَابٌ مِنْ مُحَمَّدٍ النَّبِىِّ ﷺ بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُؤْمِنِينَ مِنْ قُرَيْشٍ وَيَثْرِبَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ فَلَحِقَ بِهِمْ وَجَاهَدَ مَعَهُمْ أَنَّهُمْ أُمَّةٌ وَاحِدَةٌ دُونَ النَّاسِ} "এটি নবী মুহাম্মদ ﷺ কর্তৃক কুরাইশ ও ইয়াসরিব (মদীনা) এর মুসলিমদের এবং তাদের অনুগামী যোদ্ধাদের মধ্যকার লিখিত চুক্তি। তারা অন্য সকল মানুষ থেকে আলাদা, তারা সবাই মিলে একটি একক উম্মাহ্‌" [বায়হাকী, আল-সুনান আল-কুবরা]। নিঃসন্দেহে, মুসলিম উম্মাহ্‌ এক এবং পশ্চিমা আগ্রাসনকারীদের বিরুদ্ধে তাদের লড়াইও এক ও অভিন্ন। যেখানে ক্রুসেডার ও ইহুদিরা আমাদের রক্ত ঝরাচ্ছে, আমাদের সম্পদ ও ভূখণ্ড দখল করছে—সেখানে একজন মুসলিম কীভাবে অন্য মুসলিমের বুকে অস্ত্র তাক করতে পারে?
আর কেনইবা আমরা মুসলিম দেশগুলোর মধ্যকার বর্তমান বিভেদ কিংবা পরাজয় থেকে মুসলিম উম্মাহ্‌‘কে বের করে আনার নেতৃত্বে থাকব না? শত শত বছর ধরে মুসলিম উম্মাহ্‌’র মধ্যে আমরাই তো এক বুদ্ধিমান, সাহসী, নীতিবান ও উদ্যমী জাতি। ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশ দখলদারদের বিরুদ্ধে জিহাদের অন্যতম কেন্দ্র ছিল আমাদের ঢাকা ও চট্টগ্রাম। আল্লাহ্‌’র অশেষ রহমতে আমরা সবসময়ই ইসলামকে ভালোবেসেছি এবং বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের পাশে দাঁড়িয়েছি। এখন সময় এসেছে দ্বিতীয় খিলাফতে রাশিদাহ্‌ প্রতিষ্ঠা করার—যা পুরো উম্মাহ্‌ এবং এর সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়ে ক্রুসেডার বাহিনী ও অভিশপ্ত ইহুদীদের বিরুদ্ধে উম্মাহ্‌’র চূড়ান্ত বিজয়কে ছিনিয়ে আনবে, ইনশা‘আল্লাহ্‌।

04/08/2026

প্রতি বছর বাজেটে শুধু ডিজিট পরিবর্তন হয়, কাঠামোগত কোন পরিবর্তন নাই। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে...




#বাজেট

22/07/2026

ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে স্বনির্ভর ইসলামী বাজেটের রূপরেখা
দেখুন Friday 24 July, সন্ধ্যা ৭.৩০
ALWAQIYAH.TV

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ ২৪/০৫/২০২৬রামিসা থেকে এপস্টেইনের শিকার যত শিশু — বিশ্বের আজ প্রয়োজন ন্যায়পরায়ণ খিলাফত ব্যবস্থাপিডিএফ ...
25/05/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ ২৪/০৫/২০২৬

রামিসা থেকে এপস্টেইনের শিকার যত শিশু — বিশ্বের আজ প্রয়োজন ন্যায়পরায়ণ খিলাফত ব্যবস্থা

পিডিএফ আকারে পড়ুন: https://shorturl.at/TzWEE

আট বছরের নিস্পাপ শিশু রামিসা আক্তার, যে স্কুলে যেতে ভালোবাসত এবং যার স্বপ্নগুলো আর কেউ কখনও জানতে পারবে না; এক প্রতিবেশীর ঘরে প্রবেশ করার পর তাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করা হয় এবং শিরশ্ছেদ করে হত্যা করা হয়। সে কেবল একটি হ্যাশট্যাগের চেয়ে অনেক বেশি কিছু পাওয়ার যোগ্য ছিল।

বাংলাদেশ আজ ক্ষোভে ফুঁসছে। রাজনীতিবিদগণ অপরাধীর ফাঁসি চাইছেন। কেউ কেউ শারী‘আহ্ আইনের কথাও বলছেন, কিন্তু সেই আইন বাস্তবায়নকারী পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা — খিলাফতের কথা তুলছেন না। মোমবাতি প্রজ্বলন আর হ্যাশট্যাগ কোনো পরিবর্তন আনে না। এগুলোর কোনোটাই পরবর্তী রামিসাকে বাঁচাতে পারবে না। একই নির্মম চক্রের পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে: একটি শিশু প্রাণ হারায়, জনগণ ক্ষোভে ফেটে পড়ে, নেতারা ক্ষোভের অভিনয় করেন, আইনে সামান্য রদবদল হয়, তারপর নীরবতা। এরপর আবার আরেকটি শিশুর নির্মম পরিণতি।

আমরা এমন এক পুঁজিবাদী সংস্কৃতির মধ্যে বসবাস করছি, যা মুনাফার জন্য মানবদেহকে পণ্যে পরিণত করে। পর্নোগ্রাফি আজ এক মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের দানবীয় শিল্প। পুঁজিবাদ হিডোনিজম (ভোগবাদ)-কে উৎসাহিত করে — যেখানে আনন্দ ও ইন্দ্রিয়-সুখকে জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য হিসেবে গণ্য করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্নোগ্রাফি মানুষের মানসিক বিকৃতি ঘটায়, আগ্রাসন বাড়ায়, এবং শিশুদেরকে ভোগের বস্তু হিসেবে গণ্য করার বিষয়টিকে স্বাভাবিক করে তোলে। একটি সংস্কৃতি বা সমাজকে যদি প্রতিনিয়ত এই বিষাক্ত জিনিসে অভ্যস্ত করানো হয়, তবে সেখানে তো এমন দানবের জন্ম হবেই।

রামিসার হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী এই হিংস্র-শিকারী সংস্কৃতি মূলত সেই একই পুঁজিবাদী ও ভোগবাদী সংস্কৃতি — যা সমাজের অভিজাত মহলে মহাসমারোহে উদযাপিত হয়। জেফ্রি এপস্টেইন কোনো একাকী ও বিচ্ছিন্ন দানব ছিল না। দশকের পর দশক ধরে সে একটি শিশু পাচার ও যৌন নিপীড়ন নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এ সম্পর্কে অবগত ছিল। ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা সব জেনেও চোখ বুজে ছিল। যে উদারপন্থী, লাগামহীন, সম্পদপূজারী পুঁজিবাদ বিশ্বকে স্বাধীনতার সবক দেয়, সেই একই পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ স্তরে সগৌরবে চলেছে শিশু পাচার ও নির্যাতনের মতো জঘণ্য কর্মকান্ড। আট বছরের রামিসা ছিল পল্লবীর একটি ঘিঞ্জি ফ্ল্যাটে। আর এপস্টেইনের শিকাররা ছিল সুরক্ষিত ব্যক্তিগত দ্বীপে। কিন্তু ব্যবস্থার এই চরম ব্যর্থতা হুবহু এক — এটি এমন এক পুঁজিবাদী ও ভোগবাদী সংস্কৃতি যা শিশুদের সুরক্ষা দেয় না, কারণ এটি শিশুদেরকে কেবল ভোগের বস্তু কিংবা মুনাফার হাতিয়ার হিসেবে দেখে।

প্রতিবার যখনই রামিসার মতো কোন মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি ঘটে, তথাকথিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে কেবল লোকদেখানো প্রতিক্রিয়াশীল বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে: গ্রেপ্তার করো, বিচার করো, ফাঁসি দাও। ব্যাস, মামলা শেষ! কিন্তু আসল সত্য হলো, আমাদের সমাজ এতে সুরক্ষিত হয় না। যে সমাজ আজ ধর্ষক ও খুনির ফাঁসির দাবীতে সোচ্চার, সেই একই সমাজ নরপিশাচ-ধর্ষকদের জন্মদাতা এই ভোগবাদী সংস্কৃতিকেই প্রতিনিয়ত গিলছে। ধর্মনিরপেক্ষ পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শিশুদের সুরক্ষার জন্য কার্যকর কোনো বাস্তব উদ্যোগ নেই — নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছে আগ্রাসী ও নোংরা কন্টেন্ট, নেই সামাজিক জবাবদিহিতা, আর বছরের পর বছর ধরে আদালতে বিচার ঝুলে থাকাতো রয়েছেই। অতএব, পুঁজিবাদী-গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অধীনে এই প্রতিক্রিয়াশীল বিচার ব্যবস্থা আসলে একটি প্রতারণা। এই সংস্কৃতিকে অবাধে চলতে দিয়ে কেবল একজন মানুষকে ফাঁসি দেয়ার মানে ন্যায়বিচার নয়; এটি স্রেফ লোকদেখানো নাটক।

হে দেশবাসী! আমাদের নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় চরমভাবে ব্যর্থ এই পঁচে যাওয়া ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থার একটি বাস্তব ও কার্যকর বিকল্প খোঁজার সময় কি এখনো আসেনি? দীর্ঘ ১৪০০ বছর ধরে ইসলামী খিলাফত এক অনন্য পথের দিশা দেখিয়েছে — যা কোনো রূপকথার অবাস্তব স্বর্গ বা কাল্পনিক ‘ইউটোপিয়া’ ছিল না (কারণ ইসলাম কখনোই দাবী করে না যে সমাজ থেকে অপরাধ পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে), বরং এটি ছিল এমন এক ব্যবস্থা যা অপরাধের উৎসগুলোকেই উপড়ে ফেলে এবং যখনই কোনো অপরাধ বা আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে, তখনই এটি দ্রুত, কঠোর, ও মর্যাদাপূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে। যখন একজন দাস-তত্ত্বাবধায়ক এক দাসীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাধ্য করেছিল, তখন খলিফা উমর (রা.) তাকে বেত্রাঘাত করেছিলেন এবং নির্বাসিত করেছিলেন; আর ভুক্তভোগী নারীকে কোনো শাস্তি দেননি, কারণ সে ছিল বাধ্য ও অসহায় — এভাবে তিনি চিরতরে প্রতিষ্ঠা করেন যে ইসলাম কেবলমাত্র নিপীড়ক ও অপরাধীকেই এককভাবে দায়ী করে, কখনোই অসহায়, দুর্বল ও ভুক্তভোগীকে নয়। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে সিন্ধুর রাজা দাহির যখন বণিকদের এতিম কন্যাদের বন্দি করেছিল, তখন আল-হাজ্জাজ মুহাম্মাদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে এক অকুতোভয় সেনাবাহিনী প্রেরণ করেছিলেন, যারা অবরুদ্ধ এতিম কন্যাদের উদ্ধার করেছিল এবং ওই অঞ্চল বিজয় করেছিল। একইভাবে, আব্বাসীয় খলিফা আল-মাহদি এর আমলে যখন একটি শিশুকে অপহরণ করার পর তাকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা হয়, তখন তিনি অবিলম্বে শিশুটিকে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন এবং অপহরণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি করেন। সেসময়ে খিলাফত ব্যবস্থা কেবল মোমবাতি প্রজ্বলন ও হ্যাশট্যাগ প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকেনি কিংবা হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি — বরং এটি অসহায় ও নিপীড়িত শিশুদের সুরক্ষায় তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছিল।

খিলাফত এমন এক সমাজ গঠন করেছিল যেখানে অশ্লীলতা কোনো বিনোদন ছিল না, নারী ও শিশুরা কোনো পণ্য ছিল না, পর্নোগ্রাফি মানুষের মনকে বিষাক্ত করত না, এবং রাষ্ট্র সবসময় অসহায় ও দুর্বলদের রক্ষা করত। সেখানে একজন নারীর একটিমাত্র আর্তনাদ একটি পুরো সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য মার্চ করাতে পারত। এটাই হলো পার্থক্য। নবুয়্যতের আদলে প্রতিশ্রুত খিলাফত রাশিদাহ্ কেবল শাস্তিদানের একটি ব্যবস্থা নয় — বরং এটাই হলো একমাত্র শাসন কাঠামো যা সমাজ থেকে ধর্ষক ও শিশু হত্যাকারীদের মতো নরপিশাচদের প্রজননক্ষেত্রকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে সক্ষম।

হিযবুত তাহ্‌রীর, উলাই‘য়াহ্‌ বাংলাদেশ-এর মিডিয়া অফিস

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : ২০/০৫/২০২৬আকসা (ACSA) ও জিসোমিয়া (GSOMIA): দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সচেতন দেশবাসী ও নিষ্ঠাবান রা...
23/05/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : ২০/০৫/২০২৬

আকসা (ACSA) ও জিসোমিয়া (GSOMIA): দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সচেতন দেশবাসী ও নিষ্ঠাবান রাজনীতিবিদদের এখনই এগিয়ে আসা উচিত

বাংলাদেশের জনগণের জন্য এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক যে, পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জিসোমিয়া (GSOMIA) বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতা কেবলমাত্র তাত্ত্বিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে ২০২২ সালের মার্চে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপে রূপ নেয়, যখন তৎকালীন মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড- ২০১৭ সালে ঘোষিত ও ২০১৯ সালে বিধিবদ্ধ মার্কিন ‘ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি (IPS)’-এর কাঠামোর আওতায়- জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট (GSOMIA)-এর একটি খসড়া হস্তান্তর করে। সেই সময় নুল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর জিসোমিয়ার জন্য চূড়ান্ত মাইলফলক হলেও ‘অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট’ (ACSA) আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৯ সালের এপ্রিলে উত্থাপিত হয় এবং ঢাকায় সপ্তম নিরাপত্তা সংলাপের সময় তা আরও জোরদার করা হয়। হিযবুত তাহ্‌রীর, উলাই‘য়াহ্‌ বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দেশের জনগণ ও রাজনীতিবিদদের সতর্ক করে আসছে যে, বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বড় ধরণের দুটি সামরিক চুক্তি-জিসোমিয়া ও আকসা স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব হরণকারী এই চুক্তিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন লবিং এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এগুলোর প্রকৃত বিপদসমূহ দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। এই কাঠামোর আওতায় জিসোমিয়া চুক্তি বাংলাদেশের গোয়েন্দা কার্যক্রমকে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক লক্ষ্য অনুযায়ী সাজাতে বাধ্য করবে, যা আমাদেরকে অনাকাঙ্ক্ষিত দ্বন্দ্ব বা সংঘাতে জড়িয়ে ফেলবে। অন্যদিকে, আকসা চুক্তি কক্সবাজারের মতো কৌশলগত এলাকায় মার্কিন বাহিনীকে পরোক্ষ সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ করে দিবে, যা নব্য-উপনিবেশবাদী প্রভাবেরই একটি রূপ। এতে বাংলাদেশ তার কৌশলগত নিরপেক্ষতা হারিয়ে সুস্পষ্টভাবে মার্কিন ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের পক্ষে অবস্থান নিবে।
সেই ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশে মার্কিন নব্য-উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা একমাত্র রাজনৈতিক দল হচ্ছে হিযবুত তাহ্‌রীর। আমরা উম্মাহ্-কে সতর্ক করছি, কৌশলগত জলসীমা নিয়ন্ত্রণের জন্য ৯/১১-এর পর শ্রীলঙ্কার উপর চাপিয়ে দেয়া একই ধরনের আকসা সামরিক চুক্তি আজ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য একই রকম হুমকি। আমরা হিযবুত তাহ্‌রীর, উলাই‘য়াহ্‌ বাংলাদেশ, ২০২৬ সালের মার্চে, মার্কিন সহকারী সচিব পল কাপুরের সফর এবং জিসোমিয়া ও আকসা চুক্তির বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী লবিংয়ের বিপক্ষে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করি, যা ঢাকায় ও চট্টগ্রামে জুমু'আ’র নামাজের পর অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়, সার্বভৌমত্ব হরণকারী এই চুক্তিগুলো চূড়ান্ত করতে “দৃঢ় পদক্ষেপ” নিতে কীভাবে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জোর তাগিদ দিচ্ছে।
এমতাবস্থায়, এদেশের শাসকগোষ্ঠীর নিকট প্রশ্ন, তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকা কি ওয়াশিংটনের উপর নির্ভরশীল? অথচ ইতিহাস সাক্ষী, ওয়াশিংটন কখনোই কোনো শাসককে জনরোষ থেকে রক্ষা করতে পারেনি। বরং, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জনবিচ্ছিন্ন শাসকগোষ্ঠীর পতনের সময়ে জনগণের সাথে একাত্ম হওয়ার ভন্ডামি করে নিজেদের হাত ধুয়ে ফেলে, এবং এরপর নতুন বিকল্পের সন্ধান করে। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ আমাদেরকে সেসব “রুওয়াইবিদাহ্” (নিকৃষ্ট ও মূর্খ) শাসকদের সম্পর্কে সতর্ক করেছেন, যারা পশ্চিমাদের গোলামী করে এবং জনগণের আস্থার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। এতদসত্ত্বেও, এসব শাসকেরা উম্মাহ্’র ভবিষ্যৎকে বন্ধক রেখে নিজেদের সাময়িক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, এবং অনুগত দাসের মতো আচরণ করে। আমরা কি বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে কোনো আশা রাখতে পারি, যারা ওয়াশিংটনকে জোরালোভাবে ‘না’ বলতে এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে বিন্দুমাত্র প্রস্তুত নয়?
আর, জুলাই অভ্যুত্থানের সেই ‘তরুণ তুর্কিরা (Young Turks)’ আজ কোথায়? মার্কিন নব্য-উপনিবেশবাদ এবং এই সার্বভৌমত্ববিরোধী চুক্তিগুলোর বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ নীরব, অন্য সব দলের মতোই তারাও আমেরিকার সুনজরে থাকার আকুল চেষ্টায় লিপ্ত। তারাও কি উপনিবেশবাদী মার্কিনীদের ক্রীড়নকে পরিণত হচ্ছে? এই নীরবতা স্পষ্টতই এক চরম বিশ্বাসঘাতকতা। জনগণের প্রতিনিধি দাবী করা এই রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এই বাণিজ্য ও সামরিক চুক্তিগুলো হচ্ছে বিশেষ অগ্নিপরীক্ষা, যার সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা ইতিহাস বলে দেয়। তারা ‘ভারত’ থেকে রক্ষা পেতে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে’ আমন্ত্রণ জানানোর যুক্তি দেয়! এটা কি ‘ভাল্লুকের’ হাত থেকে রক্ষা পেতে ‘নেকড়ে’ ডেকে আনার শামিল নয়?
হিযবুত তাহ্‌রীর, উলাই‘য়াহ্‌ বাংলাদেশ দেশের প্রত্যেক সচেতন নাগরিক এবং নিষ্ঠাবান রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, আপনারা আর এসব দলের পেছনে নিজেদের শক্তি অপচয় করবেন না; এই প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলোর ব্যাপারে তাদের নীরবতা প্রমাণ করে যে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার কোনো সদিচ্ছাই তাদের নেই। তাদের চটকদার স্লোগানে বিভ্রান্ত হবেন না। তারা নিজেদের ক্ষমতার জন্য আপনাদেরকে বিক্রি করে দিতে চায়। কেবলমাত্র নবুয়তের আদলে খিলাফত প্রতিষ্ঠার রাজনীতিই প্রকৃত অর্থে আন্তরিক ও সত্যনিষ্ঠ। খিলাফত রাষ্ট্রেরই রয়েছে সেই সাহস ও সক্ষমতা, যা দ্বারা এটি মার্কিন সামরিক ব্ল্যাকমেইল, অর্থনৈতিক চাপ, এবং কৌশলগত পরিবেষ্টনের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়াবে। খিলাফত কখনও নিজের ভূখণ্ডের বিনিময়ে বাণিজ্য চুক্তির জন্য ভিক্ষা করবে না। এটি কখনও পোশাক রপ্তানির শুল্ক সুবিধার বিনিময়ে নিজের সমুদ্র বন্দর হস্তান্তর করবে না। খিলাফত শুধুমাত্র আল্লাহ্ ﷻ-এর সামনেই মাথা নত করবে।
﴿... وَلَنْ يَجْعَلَ اللَّهُ لِلْكَافِرِينَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ سَبِيلاً﴾
“...এবং কিছুতেই আল্লাহ্ মু‘মিনদের উপর কাফিরদের কর্তৃত্বকে মেনে নিবেন না।” [সূরা আন-নিসা: ১৪১]
হিযবুত তাহ্‌রীর, উলাই‘য়াহ্‌ বাংলাদেশ-এর মিডিয়া অফিস

Address

Dhaka
1000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category