11/07/2026
নাটোর রাজবাড়ী, নাটোর সদর, নাটোর।
অষ্টাদশ শতকের শুরুতে নাটোর রাজবংশের উৎপত্তি হয়। ১৭০৬ সালে পরগনা বানগাছির জমিদার গণেশ রায় ও ভবানী চরণ চৌধুরী রাজস্ব প্রদানে ব্যর্থ হয়ে চাকরিচ্যুত হন। বাংলার জমিদারির ইতিহাসে নাটোর রাজবংশের উত্থান এক নাটকীয় ও প্রভাবশালী অধ্যায়। ১৭০৬ বা ১৭১০ সালের দিকে পুঠিয়ার রাজবাড়ির নায়েব রামজীবন চৌধুরী নবাব মুর্শিদকুলি খানের সন্তুষ্টি অর্জন করে এই নাটোর রাজবংশের পত্তন করেন। পরবর্তীতে ১৭১০ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজা উপাধি লাভ করেন। রামজীবনের পর তাঁর দত্তক পুত্র রামকান্ত ১৭৩০ সালে নাটোরের সিংহাসনে বসেন। এই রামকান্তেরই সহধর্মিণী ছিলেন ছাতিয়ান (বর্তমান বগুড়া জেলা) গ্রামের মেয়ে ভবানী, যিনি পরবর্তীতে বাংলার ইতিহাসে 'অর্ধ-বঙ্গেশ্বরী' খ্যাত মহিয়সী নারী রানী ভবানী হিসেবে অমর হয়ে আছেন।
১৭৪৮ সালে রাজা রামকান্তের অকাল মৃত্যুর পর নাটোর জমিদারির বিশাল দায়িত্ব এসে পড়ে রানী ভবানীর কাঁধে। সেই সময়ে পুরুষশাসিত সমাজে এবং নবাবী আমলের জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একজন নারী হয়েও তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সাথে বিশাল জমিদারি পরিচালনা করেন। তাঁর রাজত্বকাল বর্তমান বাংলাদেশের রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও মালদহ জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
১৭৮৮ সালে রানী ভবানী তাঁর দত্তক পুত্র রাজা রামকৃষ্ণের হাতে জমিদারি অর্পণ করে মুর্শিদাবাদের বড়নগরে গঙ্গার তীরে আধ্যাত্মিক জীবনযাপন শুরু করেন এবং ১৮০২ সালে এই মহিয়সী নারী পরলোকগমন করেন। রানী ভবানীর পর তাঁর উত্তরসূরিদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ব্রিটিশদের সূর্যাস্ত আইন এবং প্রজাবিদ্রোহের কারণে ধীরে ধীরে এই বিশাল জমিদারির পতন ঘটে।
📸 Anayet Hossain