06/06/2026
চারজন সাক্ষী ছাড়াই যেভাবে শরীয়াহ আইনে ধ- র্ষ/ কের শা-/ স্তি দেওয়া হবে—ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী।
প্রথম হচ্ছে ইসলামী আইনের শুধু এটাই নিয়ম নয় যে, চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য দিলেই বিচার কার্যক্রম শুরু হবে। দ্বিতীয় হচ্ছে ইকরার (إقرار)। ইকরার হচ্ছে স্বীকৃতি; অর্থাৎ ধ- র্ষ-/ক নিজেই স্বীকার করবে যে, আমি ধ-/র্ষ- ণ করেছি।
চারজন প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষ্য যদি নাও পাওয়া যায়, তারপর যদি মেয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়, তাহলে আলামত জব্দ করা হবে, এবং সেখানে যে ব্যক্তি ধ -/র্ষ -/ণকে অস্বীকার করছে, তাকে প্রশ্ন ও জবাবদিহিতার মধ্যে আনা হবে। এতে এক সময় সে স্বীকার করবে। প্রচলিত আইনেও দেখা যায়, শুধু ডিএনএ টেস্টের উপর নির্ভর করে বিচার হচ্ছে না, বরং আলামত নেওয়া হচ্ছে, সাক্ষ্য গ্রহণ করা হচ্ছে। আর বার বার সাক্ষ্য নেওয়া হবে; এতে তার কথায় অসংলগ্নতা আসবে। তারপর তার উপর শা -/স্তি প্রয়োগ হবে অর্থাৎ হদ্দ হবে, না হলে তাযীর হবে।
আর চারজন প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষী না থাকলেও ধ র্ষি -/তা মামলা করতে পারবে। এক্ষেত্রে ধ র্ষি তা বলবে যে, এই পুরুষটি আমার সাথে সম্পর্ক করেছে, কিন্তু আমার সম্মতি ছিল না। আর মহিলার আবেদনের উপর মামলা রুজু হবে। চার জন সাক্ষী না থাকলে, সেক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান হচ্ছে—
البيِّنةُ على المدَّعي واليمينُ على من أنْكرَ
অর্থাৎ যে ব্যক্তি দাবি করবে, সে উপযুক্ত দলিল পেশ করবে যে, আমাকে এই এই ভাবে ধ র্ষ -/ণ করেছে—আমি প্রমাণ দিলাম। সেই প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার হবে। হাদীস থেকে ইসলামী শরীয়াহ আইনে স্পষ্ট আনা হয়েছে—
البيِّنةُ على المدَّعي واليمينُ على من أنْكرَ
যে ধ- র্ষি- তা, সে উপযুক্ত প্রমাণ পেশ করবে যে, আমি ধ -/র্ষ -/ণে র শিকার হয়েছি।
আর উপযুক্ত প্রমাণ হিসেবে ডিএনএ টেস্টও হতে পারে। শরীয়াহ আইন ডিএনএ টেস্টকে নিষেধ করে না। প্রচলিত আইনেও শুধু ডিএনএ টেস্টের ওপরে বিচারকার্য হয় না; বরং সেখানে মেডিকেল টেস্ট করা হয়, চুল, ঘাম ও বিছানা থেকে স্যাম্পল নেওয়া হয়। তারপরে যে ব্যক্তি ধ র্ষ -/ণ করেছে, তার স্বীকৃতি নেওয়া হয়, এবং সে এক মুহূর্তে স্বীকার করবে যে, সে ধ -/র্ষ ণ করেছে।
শরীয়তের মূল ভিত্তি হচ্ছে চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য যদি দেখে সুস্পষ্টভাবে ফিজিক্যাল রিলেশন হয়েছে, তখন হদ্দ কায়েম হবে। আর হদ্দ হচ্ছে (চূড়ান্ত শা-/ স্তি) মৃ -/ত্যু দ ণ্ড বা একশো কশাঘাত। আর যদি চারজন উপযুক্ত সাক্ষ্য না থাকে, কিন্তু অন্যান্য সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয়, তখন তাযীর হবে। অর্থাৎ শরীয়তের কাজী কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে উপযুক্ত শা -/স্তি দিবেন। তখন সেটা হদ্দ বলে গণ্য হবে না, বরং তাযীর বলে গণ্য হবে। কিন্তু কোন অবস্থায়ই জিনাকারী বা ধ -/র্ষ- ণ কারীর বিচারের আওতার বাইরে থাকার সুযোগ নেই। কিন্তু প্রচলিত আইনে যারা বিশ্বাসী, তারা ডিএনএ টেস্টকে মূল ভিত্তি ধরে—এটা ত্রুটিপূর্ণ ও অবৈজ্ঞানিক।
শরীয়তে অনেকগুলো বিষয় রয়েছে। যেমন: যদি ধ -/র্ষ -/ক অস্বীকার করে, তখন ধ-/ র্ষি তা তার পক্ষ থেকে প্রমাণ গুলো উপস্থাপন করবে। অর্থাৎ কখন এসেছে, কিভাবে প্রবেশ করেছে, কিভাবে ধ র্ষ ণ করেছে? সেই প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার হবে।
•চারজন সাক্ষীর সামনে কেউ কি করবে?
এটাই তো শরীয়াহ আইনের সৌন্দর্য এবং ঐতিহ্য। অর্থাৎ আইন যত কঠোর, প্রয়োগও তত কঠোর। আইনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স। শরীয়াহ আইনের উদ্দেশ্য এই নয় যে, মানুষকে নিধন করা, কষ্ট দেওয়া, হ ত্যা করা, হার্ড পেইন দেওয়া; বরং শরীয়াহ আইনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা রক্ষা করা।
ধ- র্ষি-/তাকে যদি হত্যা করা হয়, তখন যাকে সন্দেহ বা অভিযুক্ত করা হচ্ছে, তাকে শরীয়াহ আদালতে উপস্থিত করা হবে এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে এক সময় সে স্বীকৃতিতে আসবে।
এখন যে মহিলা বলল, আমাকে ধ -/র্ষ- ণ করা হয়েছে; কিন্তু সে চারজন সাক্ষী পেল না, তাহলে তার বিরুদ্ধে জিনার অভিযোগ দেওয়া হবে না। কারণ সে রাজি ছিল না, তার সাথে জোর করে সেটা করা হয়েছে। সুতরাং সে মেয়েটি সাক্ষী প্রমাণের ভিত্তিতে মাফ পেতে পারে।
আমরা যারা বিশ্বাসী মুসলমান, আমরা চাই যে, শরীয়াহ আইন বলবৎ হোক। আর শরীয়াহ আইনই পরিপূর্ণ, ত্রুটিমুক্ত—এতে কোন সন্দেহ নেই। এটা কুরআন-সুন্নাহ, বিজ্ঞান, নৈতিকতার আলোকে এবং যুক্তি হিসেবেও স্বীকৃত।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে—পৃথিবীতে যে ১০টি দেশে সবচেয়ে বেশি ধ র্ষ- ণ হচ্ছে, তাদের মধ্যে এক নম্বর রয়েছে আ মে রি কা। ব্রি -/টে -/নে প্রতি ৫৮ মিনিটে একজন নারী ধ- র্ষি -/তা হচ্ছে। সুইডেনের মতো একটি উন্নত ইউরোপীয় দেশেও নারীরা ধ- র্ষ -/ণের শিকার হচ্ছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB) অনুযায়ী: ২০১২ সালে ভা-/ র -/তে ২৪,৯২৩টি ধ -/র্ষ-/ ণের অভিযোগ জমা হয়েছে। ধ- র্ষ-/ণের শিকার ১০০ জন নারীর মধ্যে ৯৮ জন নারীই আত্মহ -/ত্যা করে। প্রতি বাইশ মিনিটে ভারতে একটি করে ধ-/ র্ষ-/ণে-/র শিকার হয়। প্রতিবছর ব্রিটেনে ৪ লাখ নারী ধ -/র্ষ ণের শিকার হয়, এবং জার্মানিতে প্রতিবছর ৬,৫০৭,৩৯৪টি ধ-/ র্ষ -/ণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত ধ -/র্ষ-/ ণে -/র মতো ঘটনাকে ফ্রান্সে বড় কোনো অপরাধ বলে ভাবা হতো না। ফ্রান্সের সরকারি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রতিবছর সেদেশে ধ-/ র্ষ -/ণে র শিকার হয় ৭৫ হাজার নারী। কানাডায় এখন পর্যন্ত ধ-/ র্ষ- /ণে-/র বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের সংখ্যা ২৫,০১৬,৯৫৮টি। আমার প্রশ্ন হচ্ছে— প্রচলিত আইন যেখানে ধ-/ র্ষ-/ ণে র বিচারে ব্যর্থ, সেখানে শরীয়াহ আইনে অন্তত ধ -র্ষ-/ ণে -/র বিচার হোক— এখানে আপত্তি কোথায়?
প্রচলিত আইন খুবই ত্রুটিপূর্ণ এবং যেখানে শতভাগ ইনজাস্টিস হতে পারে। যেমন: শরীয়াহ আইনে চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য দেখবে, তারপরে বিচার কার্যকর হবে। কিন্তু প্রচলিত আইনে সাক্ষ্য প্রমাণের বালাই নেই, বরং মূল হচ্ছে ডিএনএ টেস্ট। এখন ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে কি আসলেই ধ -/র্ষ-/ ণে র উপযুক্ত বিচার হতে পারে, বা ধ -/র্ষি -/তা কি জাস্টিস পেতে পারে? ডিএনএ হচ্ছে ডি অক্সি রাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড। এখানে জিনের সিমিলারিটি দেখা হয়। বাবা, মা, সন্তানের জিনে সিমিলারিটির মাধ্যমে এতটুকু নির্ধারণ হয় যে, পারিবারিক সম্পর্কটা কি।
এখন একজন পুরুষ ও একজন মহিলা সম্মতির ভিত্তিতে ফিজিক্যাল রিলেশন করলো, এবং ডিএনএ টেস্টে তা পাওয়া গেল; কিন্তু প্রচলিত আইনে ছেলেমেয়ে রাজি থাকলে— এটা কোন ধ -/র্ষ ণ বা অপরাধ নয়। কিন্তু ফিজিক্যাল রিলেশনের পরে যদি মেয়েটি বলে, আমাকে জোর করে ধ -/র্ষ- ণ করা হয়েছে, তাহলে ডিএনএ টেস্ট কি পারবে ডিটেক্ট করে দিতে যে, আসলেই সেটা জোর করে হয়েছে নাকি সম্মতির ভিত্তিতে হয়েছে? ডিএনএ টেস্টের ভিত্তিতে রায় কার্যকর করে দেওয়া কি ইনজাস্টিস নয়?
আর শুধু ছেলেরাই মেয়েদেরকে ধ -/র্ষ-/ ণ করে না; বরং মেয়েরাও ছেলেদেরকে ধ-/ র্ষ-/ ণ করতে পারে। আ -মে-/ রি -/কায় ধ-/র্ষ-/ ণে-র ঘটনায় ৮% ছেলেরাই ধ-/র্ষ-/ণে-/র শিকার হয়। এখন ছেলে ধ-/র্ষ-/ণ করলো নাকি মেয়ে ধ-/র্ষ-/ণ করলো— এটা ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে ডিটেক্ট করার কোন সুযোগ নেই। প্রচলিত আইনের এই বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ত্রুটিপূর্ণ ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।