15/04/2026
মিনিটে পৌনে ২ লাখ, দিনে সাড়ে ৮ কোটি: সংসদ কি তবে কেবলই ‘খরুচে’ আড্ডার কেন্দ্র?
বিশেষ প্রতিবেদন | বেঙ্গলি জার্নাল
ঢাকা: জাতীয় সংসদ—যেখানে জনগণের ভাগ্যলিপি নির্ধারিত হওয়ার কথা। কিন্তু গবেষণার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বলছে, এই সংসদের প্রতিটি মুহূর্তের মূল্য সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে। প্রতি মিনিটে সংসদ পরিচালনায় খরচ হয় প্রায় পৌনে ২ লাখ টাকা। এক কর্মদিবসে (৮ ঘণ্টা) এই ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। মাসে ২৫২ কোটি টাকা খরচ করে সেই সংসদে আসলে কী উৎপাদিত হয়? জনগণের 'বার্নিং ইস্যু'গুলো কি সেখানে জায়গা পায়, নাকি বিপুল অর্থের অপচয় ঘটে কেবলই আনুষ্ঠানিকতায়?
ব্যয়ের পাহাড় বনাম জনজীবন:
যখন সারা দেশে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, যখন জ্বালানি সংকটে কল-কারখানা স্থবির এবং সামনেই অনিশ্চিত বোরো মৌসুমের হাতছানি—তখন জাতীয় সংসদের এই বিলাসিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ সচেতন নাগরিক সমাজ। গবেষণা তথ্য বলছে, ৩০ দিনে প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে সংসদ চললে জনগণের পকেট থেকে খরচ হয় ২৫২ কোটি টাকা। কিন্তু সেই বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সংসদ কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে, তা এখন বড় প্রশ্ন।
কী আলাপ চলে জাতীয় সংসদে?
সরেজমিনে এবং সংসদীয় কার্যবিবরণী বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অনেক সময়ই জনগুরুত্বপূর্ণ সংকটের চেয়ে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি, একে অপরের গুণগান গাওয়া কিংবা অপ্রাসঙ্গিক স্তুতিবাক্যেই পার হয়ে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়া বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো গুরুতর সমস্যাগুলো যখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কথা, তখন সংসদের মূল্যবান সময় ব্যয় হয় বাগাড়ম্বরে।
জনগণের ট্যাক্সের টাকা কার স্বার্থে?
সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, মিনিটে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা খরচ করে তারা কী পাচ্ছেন? বোরো মৌসুমে সেচের অভাব কিংবা বাজারে চাল-ডাল-তেলের অগ্নিমূল্য নিয়ে যখন জোরালো আইনি পদক্ষেপ বা নীতিমালার প্রয়োজন, তখন সংসদের এই স্থবিরতা জনগণের সাথে এক ধরণের উপহাসের শামিল।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, সংসদকে কেবল আইন পাসের যন্ত্র বা রাজনৈতিক প্রচারণার মঞ্চ বানালে চলবে না। প্রতিটি মিনিটের হিসাব দিতে হবে জনগণের কাছে, কারণ এই আড়াইশ কোটি টাকা কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়—এটি এদেশের মেহনতি মানুষের ঘাম ঝরানো ট্যাক্সের টাকা।