28/05/2024
★ট্রাফিক লাইটের গল্প★
রাস্তার ধারে, একা একা দাঁড়িয়ে আছে ট্রাফিক লাইট। তার মাথায় তিনটা বাতি, লাল, হলুদ আর সবুজ। দিনের বেশিরভাগ সময় সেই তিন বাতিই তার কাজের কথা বলে। লাল বাতি জ্বললে থেমে যায় যানবাহন, হলুদ বাতি জ্বললে সাবধানে প্রস্তুতি নেয়, আর সবুজ বাতি জ্বললে ছুটে যায় সবাই।
এই ট্রাফিক লাইটের জীবন বেশ নিয়মিত। সকালে যখন স্কুলগুলো খোলে, তখন সে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াত নিরাপদে নিয়ন্ত্রণ করাই তার কাজ। বিকেলে যখন অফিসের ছুটি হয়, তখন আবারও ভিড় জমে যায়। ট্রাফিক লাইট তখন একটু বিরক্ত বোধ করে। কারণ, অনেক যানবাহন একসাথে চলে আসায় যানজট লেগে যায়। তবুও সে ধৈর্য ধরে তার কাজ করে যায়।
একদিন, ট্রাফিক লাইট লক্ষ্য করে, একজন ছোট্ট ছেলে রাস্তা পার হতে ভয় পাচ্ছে। লাল বাতি জ্বলছে। ছেলেটি দাড়িয়ে দাড়িয়ে চিন্তিত হচ্ছে। ট্রাফিক লাইটের মনটা ভারী হয়ে ওঠে। সে কিছু করতে চায়, কিন্তু তার কিছুই করার উপায় নেই।
হঠাৎ, ট্রাফিক লাইটের একটি চমৎকার ধারণা আসে। সে তার হলুদ বাতিটা একটু বেশি সময় জ্বালায়। এতে ছেলেটি সাবধানে রাস্তা পার হয়ে যেতে পারে। ছেলেটি রাস্তা পার হয়ে গেলে ট্রাফিক লাইটের মনটা ভরে যায়। সে বুঝতে পারে, তার কাজ শুধু যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং মানুষের সাহায্য করাও।
তারপর থেকে ট্রাফিক লাইট আরও সতর্ক থাকে। রাস্তায় যারা অসহায়, তাদের সে সাহায্য করার চেষ্টা করে।
একদিন, ট্রাফিক লাইট দেখতে পায়, একজন বৃদ্ধা রাস্তা পার হতে হচ্ছে। কিন্তু বৃদ্ধাটির পা দুর্বল, তিনি দ্রুত হেঁটে যেতে পারছেন না। ট্রাফিক লাইট তখন তার লাল বাতিটা একটু দেরিতে জ্বালায়। বৃদ্ধাটি নিরাপদে রাস্তা পার হয়ে যেতে পারেন।
বৃদ্ধাটি ট্রাফিক লাইটের দিকে তাকিয়ে হেসে বলেন, "ধন্যবাদ বাবা, তুমি আমার অনেক সাহায্য করেছো।"
ট্রাফিক লাইটের মনটা ভরে ওঠে। সে বুঝতে পারে, সাহায্য করার মাধ্যমে সে অনেক মানুষের জীবনে আনন্দ আনতে পারছে।
এইভাবেই ট্রাফিক লাইট তার কাজ করে যায়। দিনের পর দিন, সে রাস্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, মানুষকে সাহায্য করে এবং শহরকে আরও বাসযোগ্য করে তোলে।