14/08/2026
নিম্নমানের বুলেটপ্রুফ ভেস্ট নিয়ে যুদ্ধ করছে মায়ানমার সেনাবাহিনী।
মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের মান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি বিদ্রোহী বাহিনীর হাতে আটক এক মিয়ানমার সেনাসদস্যের কাছ থেকে পাওয়া বুলেটপ্রুফ ভেস্ট পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ভেস্টটির ভেতরে ব্যবহৃত শিল্ড/আর্মার প্লেটটি অত্যন্ত পাতলা ধাতব শিটের মতো।
এটি প্রচলিত আধুনিক হার্ড আর্মার প্লেটের তুলনায় অনেকটাই হালকা ও পাতলা। আধুনিক বডি আর্মারে সাধারণত নির্দিষ্ট ব্যালিস্টিক হুমকি মোকাবিলার জন্য সিরামিক, এরামিড, এবং UHMWPE, অথবা বিশেষভাবে তৈরি ballistic-grade steel ব্যবহার করা হয়। এগুলোর উদ্দেশ্য শুধু বুলেটকে থামানো নয়; একই সঙ্গে বুলেটের শক্তি শোষণ ও শরীরে আঘাতের মাত্রা কমানো।
অন্যদিকে সাধারণ পাতলা টিন বা মাইল্ড স্টিলের শিটকে একই ধরনের সুরক্ষা দেওয়ার উপযোগী নয। ৭.৬২ মিঃমি উচ্চগতির উচ্চ ভেদন শক্তির বুলেটের আঘাতে এ ধরনের পাতলা ধাতু সহজেই ছিদ্র বা ভেঙে যেতে পারে। এমনকি কোনো প্লেট বুলেটকে আটকে দিলেও প্লেটের পেছনের দিকে অতিরিক্ত বিকৃতি তৈরি হলে সেটি শরীরের জন্য গুরুতর blunt-force injury তৈরি করতে পারে।
মিয়ানমারের মতো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে যেখানে সেনাসদস্যরা অত্যাধুনিক স্নাইপার, এসল্ট রাইফেল ও মেশিনগানের গুলির মুখোমুখি হচ্ছে, সেখানে ব্যক্তিগত বডি আর্মারের মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিদ্রোহী বাহিনীগুলোর হাতে আধুনিক রাইফেল, স্নাইপার/মার্কসম্যান রাইফেল ও বিভিন্ন ধরনের ভারী অস্ত্র থাকার কারণে দুর্বল আর্মার একজন সৈনিকের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে। আর এতেই বিদ্রোহীদের হাতে নিয়মতি মার খাচ্ছে সরকারি বাহিনী।