06/09/2026
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিতরূপ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত।।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মহিলা বিভাগের উদ্যোগে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিতরূপ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারী নূরুন্নিসা সিদ্দিকা এমপি* বলেন, জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, আল্লাহভীতি, মানবিকতা, দায়িত্বশীলতা ও চরিত্র গঠনের সমন্বিত শিক্ষা একটি আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সময়ের পরিবর্তিত বাস্তবতায় নৈতিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার কার্যকর ভূমিকার বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারী আয়েশা সিদ্দিকা পারভীনের সভাপতিত্বে* অনুষ্ঠিত সেমিনারে “মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বিকাশে শিক্ষার ভূমিকা” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহকারী অধ্যাপক ড. রাশিদাহ। তিনি বলেন,* শিক্ষাকে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে নৈতিকতা, মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও মানবিক গুণাবলী বিকাশের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সেক্রেটারী আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন* বলেন, শিক্ষা শুধু সার্টিফিকেট অর্জন কিংবা জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম নয় বরং একজন মানুষের চিন্তা, চরিত্র, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ গঠনের প্রধান ভিত্তি। যে শিক্ষা মানুষের মধ্যে সত্য, ন্যায়, মানবিকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস তৈরি করে না, সে শিক্ষা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারে না।
বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক *লায়লা মরিয়মের সঞ্চালনায়* সেমিনারে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী *প্রক্টর রেহানা সুলতানা বলেন*, একটি সমাজের নৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের *সহযোগী অধ্যাপক ড. রাফিয়া সুলতানা*“জেন-জি প্রজন্মের শিক্ষা ব্যবস্থা: পরিবর্তিত বাস্তবতা এবং চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক বিষয়ে বক্তব্যে প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তিত বাস্তবতায় নতুন প্রজন্মের শিক্ষার ধরন, তাদের প্রয়োজন ও চ্যালেঞ্জ এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সাবেক সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ *ড. ফেরদৌস আরা বকুল*,“নারী শিক্ষা ও নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজন নারীবান্ধব শিক্ষা” শীর্ষক আলোচনায় নারীর শিক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও নারীবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
“সেমিনারে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা ব্যবস্থা সংষ্কারে ১৫ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ ও নারী নেত্রী জান্নাতুল কারীম সুইটি”।
উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবনা গুলো হলো:
১।শিক্ষার সকল স্তরে অর্থাৎ প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চ পর্যায়ে কুরআনিক সিলেবাস প্রণয়ন বাধ্যতামূলক করা;
২।শিক্ষা ও গবেষনায় আগ্রহীদের জন্য গবেষনা সেল তৈরী এবং গবেষনায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা তথা বাজেট বৃদ্ধি করা;
৩।সকল স্তরে মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহী করার জন্য শিক্ষক বাছাই এবং প্রশিক্ষণে উন্নত ব্যবস্থা গ্রহন এবং শিক্ষকদের জন্য সম্মানজনক বেতন কাঠামো তৈরি;
৪।শিক্ষার সর্বস্তরে নারী বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং নারীদের জন্য পর্যাপ্ত পৃথক উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা;
৫।স্বনির্ভর ও উন্নত নৈতিকতা সমৃদ্ধ জাতিগঠনে বিজ্ঞান ভিত্তিক, কর্মমুখী একটি পূর্নাঙ্গ ইসলামী শিক্ষা নীতি প্রণয়ন।
অনুষ্ঠিত সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারী মাহবুবা খাতুন শরিফা, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারী ও মানব সম্পদ উন্নয়ন বিভাগীয় সম্পাদিকা ডা.শিরিন আক্তার রুনা, রাহেমা চৌধুরী বেবী, কানিজ ফাতেমা, ড. জান্নাত আরা শেলী, তানহা আজমী, নার্গিস খান, রাবেয়া খানম,সেলিনা আক্তার, সেলিনা পারভীন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।