10/10/2026
তারেক রহমানের মদদে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নি'র্যাতন, বিরোধীদল দমন, রাজনৈতিক ও বিচারবহির্ভুত হ'ত্যাকাণ্ড
২০০১ সালে স্বাধীনতা বিরোধী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর তাদের দলের সন্ত্রাসীরা নানাভাবে নির্যাতন চালাতে থাকে। নির্বাচনে জয়লাভের পর তা ব্যপকভাবে শুরু হয়। নির্বাচনের রাত থেকে বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলের পরবর্তী পাঁচ বছর ছিলো ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য নারকীয় অভিজ্ঞতায় ভরা। খুন, গণধর্ষণ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, ডাকাতী-লুটপাট, ভীতি প্রদর্শন, দেশত্যাগে বাধ্য করাসহ এমন কোন ঘটনা ছিলো না যা খালেদা-নিজামীর শাসনামলে ঘটে নাই। আর এ সবই ঘটেছিলো তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ মদদে। কারণ, এই দেশে বরাবরই ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টানরা আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত ছিলো। আর এটাই ছিলো তাদের অপরাধ! বিএনপি-জামাতের নির্যাতনের মাত্রা এতোটাই ভয়াবহ ছিলো যে, নির্যাতিত মানুষদের প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয় নিতে হয়েছিলো আশ্রয় শিবিরে! নির্যাতিত মানুষদের হাহাকারে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিলো। এর বিপরীতে সরকার ছিলো নির্বিকার! বরং যারা এইসব নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলো, সেইসব মানুষদের জীবনে নেমে এসেছিলো তারেকের নির্যাতনের খড়গ! ভিডিও সাক্ষাতকারে তারেক রহমানের বক্তব্য ছিলো, "শান্তির জন্য শক্তি প্রয়োগ করতে হয়। ইসলাম ধর্মে আছে, সব জায়গায় আছে। প্রয়োজনে আমরা খালি হাতে নামবো না..."। এভাবে ধর্মের নামে উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদের প্রচার ও প্রসার ঘটাতো তারেক রহমান। আর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নেমে আসতো অবর্ণনীয় নির্যাতন।
শুধু ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন করেই খান্ত হয়নি তারেক গং। তারেক রহমানের দল বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ ও তাদের পরিবার। কৃষকদের গোলা, গৃহস্থের গরু, পুকুরের মাছ, নারীর সম্ভ্রম কিছুই বাদ যায়নি তাদের লুটের তালিকা থেকে। নাবালক শিশুরা পর্যন্ত রেহায় পায়নি তাদের পাশবিকতা থেকে। দলীয় সন্ত্রাসীদের কেবল লেলিয়ে দেয়নি, নির্যাতনে ব্যবহার করেছে আইন শৃঙ্ক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও। গুম-খুন, জঙ্গিবাদ লালন হেন অপকর্ম নেই যা বিএনপি এদের দিয়ে করাতো না। বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যার জনক জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই ১৬ অক্টোবর ২০০২ থেকে ৯ জানুয়ারি ২০০৩ পর্যন্ত সারাদেশে তারেক রহমানের পরিকল্পনায় ও খালেদা জিয়ার নির্দেশে অপারেশন ক্লিন হার্টের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড পরিচালিত হয়; আর সেই হত্যাকাণ্ড ঢাকতেই ক্ষতিপূরণমূলক আইন জারি করে দেন নতুন ইনডেমনিটি।
- আফিফা হোসেন অন্তরা