15/07/2026
গোপালগঞ্জ গণহত্যা : যে গণহত্যার বিচার আজও অধরা, যে কলঙ্ক মোছেনি কালের গর্ভে
১৬ জুলাই ২০২৪। গোপালগঞ্জের মাটি সেদিন রক্তে ভেসে গিয়েছিল। নিরীহ মানুষ, যাদের অপরাধ শুধু স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস করা, তাদের ওপর নেমে এসেছিল নৃশংসতার কালো থাবা। সেই গণহত্যার বর্ষপূর্তিতে যখন শহীদদের স্মরণ করছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, তখনই ইতিহাসের আয়নায় আরেকটি কলঙ্কিত অধ্যায় ভেসে উঠছে। যে অধ্যায়ের নায়করা আজও বিচারের আওতার বাইরে।
বিদেশী শক্তির মোটা অঙ্কের টাকা, ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সহায়তা আর সামরিক বাহিনীর নীরব সমর্থন, এই ত্রিমুখী ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশজুড়ে যে দাঙ্গা বাঁধানো হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় ঘটে গোপালগঞ্জের বর্বরতা। সেদিনের সেই ষড়যন্ত্রের মূল কারিগর এখন ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো এক কলঙ্কিত নাম, সুদী মহাজন ইউনুস। জনগণের রায়ে নির্বাচিত বৈধ সরকারকে ক্যু করে উৎখাত করা আর অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পেছনে তার প্রধান সহযোগী ছিল যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গি সংগঠন জামায়াতে ইসলামী। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা সেই অপশক্তির তৃতীয় পক্ষটি ছিল স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমানের আমলে সেনানিবাসে জন্ম নেয়া দুর্নীতি আর সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর বিএনপি। তারাও ছিল এই ষড়যন্ত্রের শরিক।
ইউনুসের সেই অভিশপ্ত শাসনামলেই গোপালগঞ্জের বুকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে চালানো হয় গণহত্যা। অথচ সেই সময়ে একটি সুষ্ঠু বিচার তো দূরের কথা, কোনো ধরনের জবাবদিহিতার মুখোমুখিই হতে হয়নি হত্যাকারীদের। বরং বিএনপি ও জামায়াত খোলাখুলিভাবে সহযোগিতা করেছে সেই নৃশংসতায়। আজ ২০২৬ সালের জুলাই। ইউনুস ক্ষমতাচ্যুত। কিন্তু তার দোসররা কি নিষ্কৃতি পেয়েছে? আদৌ নয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে প্রকাশ্যে ক্ষমতায় বিএনপি। আর এখনও পুরোদমে চলছে আওয়ামী লীগ নির্মূল কর্মসূচি, যেন কোনো অন্ধকারাচ্ছন্ন অধ্যায়ের শেষ পাতা উল্টোনোই হয়নি। ইউনুস ও জামায়াতের সেই কলঙ্কিত অধ্যায়ের বিচার আজও থমকে আছে, যেন ন্যায়বিচারের চিরায়ত পথ রুদ্ধ করে বসে আছে এক শয়তানি চক্রান্ত।