11/02/2026
ডক্টর ইউনূস তাঁর শেষ বক্তব্যটা দিয়ে ফেললেন।
ইউনূস ক্ষমতা ছাড়বে না, ইউনূস নির্বাচন দেবে না, ইউনূস আমেরিকার কাছে দেশ বিক্রি করে দেবে বলে বলে ফেনা তুলে ফেলা একজন বাটপারও কি আজ মাফ চাইবে?
চাইবে না।
যাওয়ার একদিন আগেও উনি আমেরিকার বাজারে আমাদের কিছু পোশাকের শুল্ক মুক্ত সুবিধা নিশ্চিত করে গেলেন।
ক্ষমতা ছাড়ার সাতদিন আগে জাপানে আমাদের ১১০০ পন্যের শুল্ক মুক্ত প্রবেশ নিশ্চিত করে গেছেন।
"আমেরিকার দালাল" ইউনূসের সময়েই আমেরিকার সবচেয়ে বড় শত্রু চীনের সাথে বাংলাদেশের ড্রোন চুক্তি হইসে।
ইউনূসের অপরাধ আমেরিকার দালাল হওয়া না।
ইউনূস আসলে ইন্ডিয়া বাদে প্রতিটা দেশের সাথে চুক্তি করেছেন। দেশের জন্য কোন না কোন ব্যবসায়িক লাভ বের করার ট্রাই করেছেন।
শুধু ভারতের কাছে মাথা নত না করার "অপরাধে" রাজনৈতিক বাটপার, বুদ্ধিবেশ্যার দলেরা গুজব ছড়াইলো, ইউনূস ইলেকশন দিবে না।
লিটারালি দেশে এই লোকটাকে কিচ্ছু করতে দেওয়া হয় নাই।
কিচ্ছু না।
যাই করতে গেছে, সবার আগে যাইয়া ভেড়ার পালের মত ঘিরে ধরসে, নির্বাচন দাও, নির্বাচন কই, নির্বাচন খাব......
এই এক বাল করতে করতে উনি শেষ হয়ে গেছেন।
অথচ একেবারে ক্ষমতা নেওয়ার শুরুতেই উনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ইলেকশন দিয়ে দেব।
ভদ্রলোকের এক জবান।
দুই বছরও নেন নাই। আজ দেড় বছরের মাথাতেই উনি নির্বাচন দিয়ে দিচ্ছেন।
সমস্যা হলো, এই লোকটা সারাজীবন উঠাবসা করেছে বড় বড় মানুষের সাথে। তাই রাজনৈতিক বাটপারদের সাথে উনি ডিল করতেই পারেন নাই।
ছোটলোকগুলার মাথায় খালি একটা জিনিসই ঘুরত, কবে ইলেকশন হবে, আর কবে খাওয়া শুরু করব।
এরা পাইত ভয়, যে ইউনূস মনে হয় তাদের সব খাওন শেষ করে ফেলতেসে।
অথচ এই ফকিন্নির পুতেরা জানেই না যে খাওয়ার জন্য ইউনূসের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দরকার ছিল না।
চাইলে ইউনূস এমন খাওন বহু আগেই খাইতে পারতেন।
সেইম সরকার।
বিদেশে এই সরকারটা একের পর এক সফল চুক্তি বের করে আনলো।
ইভেন মোদি সরকারের চেয়ে ইউনূস ট্রাম্পের থেকেও ভালো চুক্তি বের করে আনসে।
একইসাথে চীন আর আমেরিকা ডিল করসে।
অথচ এই সরকারটাই দেশ ভালো চালাইতে পারল না।
কেন?
বাটপার রাজনীতিবিদগুলার জন্য।
এই বাটপারের বাচ্চাগুলা জানত, ইউনূস একবার সফল হইতে পারলে এই দেশে ওদের বাটপারি আর লুটপাট করে খাওয়ার ব্যবসা শেষ হবে।
এই জানোয়াররা ভালো করেই জানে, একবার যদি মেধাবী, জেন্টলম্যানরা রাজনীতিতে আসা শুরু করে, তাইলে এদের পোষা কুকুরদের রাজনীতির নামে হাড্ডি খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।
তাই আমলা থেকে শুরু করে মিডিয়া পর্যন্ত ইউনূসের বিরুদ্ধে লেগেছিল সারাটা সময়।
কাজ কী করলো, এরচেয়ে ইউনূসকে বেশি উত্তর দিতে হইসে, নির্বাচন কবে দিবেন? এখনও দিচ্ছে না কেন? এসব প্রশ্নের।
কালকের দিনটা পরেই নির্বাচন।
ভয়ংকর সব সমালোচনা আর গালিগালাজ সহ্য করেও যে কাজ করে যাওয়া যায়, দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তিকে সুদখোর বলেও যে রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমানো যায়, গুম হইতে হয় না, এই স্বাধীনতাটুকু ইউনূস আমাদের দিয়েছিলেন।
কে কেমনে মনে রাখবে জানি না, ইউনূসের দেড় বছর আমার কোনদিন কী বোর্ডের ব্যাকস্পেস চেপে কিছু ডিলিট করতে হয় নাই, স্বাধীনতার এই আনন্দটুকু আমি সারাজীবন মনে রাখব।