স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, Ministry of Home Affairs, Bangladesh

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, Ministry of Home Affairs, Bangladesh

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, Ministry of Home Affairs, Bangladesh নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ, সুন্দর, সুখী ও শান্তিপূর্ণ আবাসভূমি নির্মাণের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরলস ও বদ্ধপরিকর।
(2)

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিতঢাকা, (৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি.):ত...
06/09/2026

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত

ঢাকা, (৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি.):

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন এর সভাপতিত্বে আজ জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (APBn) বিল, ২০২৬’ পরীক্ষাপূর্বক রিপোর্ট প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে বিলটি সংসদে প্রেরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বৈঠকে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তাদের মূল্যবান মতামত প্রদানের মাধ্যমে সহযোগিতার জন্য সভাপতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সেইসাথে বিলের কাজে সম্পৃক্ত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, মোঃ কামরুজ্জামান, মোঃ মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, মোঃ নূরুল ইসলাম এবং মোঃ আব্দুল বাতেন অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তরসমূহের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধানগণ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্বাক্ষরিত/-
তানজীনা তানীন
সহকারী পরিচালক
গণসংযোগ অধিশাখা-১
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়
মোবাইল: ০১৯৪৮০৩৯৮১৬

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীঢাকা, (৬ সেপ্টেম্বর, ২...
06/09/2026

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা, (৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি.):

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিশ্ব সম্প্রদায় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জোরালো সহযোগিতার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি যেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক রাডারে সর্বদা সক্রিয় থাকে এবং অন্য কোনো বৈশ্বিক রাজনৈতিক সংঘাত বা সংকটের আড়ালে চাপা পড়ে না যায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ প্রচেষ্টা ও কার্যকর কূটনীতির মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে দ্রুত মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী আজ সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কোঅপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ) কর্তৃক আয়োজিত "দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: ইমার্জিং চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড রিফ্রেমিং রেসপনসিবিলিটিজ" (The Rohingya Crisis: Emerging Challenges & Reframing Response Strategies) শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে 'গেস্ট অব অনার' হিসেবে বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মোঃ ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রশাসনিক সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব রাজনীতির নেতৃস্থানীয় দেশসমূহ এবং জাতিসংঘের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এ সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধান করা সম্ভব। তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) সহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আমাদের মূল লক্ষ্য একটাই—আশ্রিত প্রায় ১.৫ মিলিয়ন (ইউএনএইচসিআর -এর হিসাবে ১.২ মিলিয়ন) বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে (এফডিএমএন) যেন আমরা পূর্ণ মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারি। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহায়তা ও নেতৃস্থানীয় দেশগুলোর রাজনৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।"

সংকটের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রায় নয় বছর ধরে বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় ১.৫ মিলিয়নেরও বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয়, খাদ্য, জমি, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় জীবনধারণের মৌলিক নিরাপত্তা প্রদান করে আসছে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ক্যাম্পগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, মানবপাচার, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ক্যাম্প সংলগ্ন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং স্থানীয় নাগরিক উভয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পের চারপাশে সীমান্ত বেড়া (ফেন্সিং) ও সুনিয়ন্ত্রিত যাতায়াত ব্যবস্থার মতো প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার প্রতি স্মরণ করিয়ে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সফল নেতৃত্বে এবং ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী কূটনৈতিক উদ্যোগে বাংলাদেশ সফলভাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করেছিল। অতীতের সেই সফল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার আবারও শতভাগ সফল প্রত্যাবাসন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।

মন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে ইতিমধ্যে 'ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর্মুলেশন কমিটি অন রোহিঙ্গা অ্যাফেয়ার্স' গঠিত হয়েছে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক সমন্বয়ের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে অপর একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি সক্রিয় রয়েছে। তিনি বলেন, বেসামরিক প্রশাসন, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে সরকার একটি সর্বাত্মক 'হোল-অফ-গভর্নমেন্ট' দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা ছাড়া অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রদত্ত মানবিক সহায়তা দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সমাধানের তাগিদকে কমিয়ে দিতে পারে। তাই জরুরি ত্রাণ সহায়তার গণ্ডি পেরিয়ে আমাদের দ্রুত একটি 'ট্রানজিশনাল স্ট্র্যাটেজি' বা রূপান্তরকালীন কৌশলে যেতে হবে—যার মূল লক্ষ্য হবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ ও ফিরে যাওয়ার উপযোগী উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, টেকসই আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ, জাতীয় ঐক্য ও শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামোর সমন্বয়ে বাংলাদেশ দ্রুতই রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনে সক্ষম হবে।

আইজিসিএফ (IGCF)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) চৌধুরী আদনান রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে গোলটেবিল আলোচনাটি শুরু হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকী।

গোলটেবিল আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর (UNHCR) প্রতিনিধি আইভো ফ্রেইসেন (Ivo Freijsen), বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (RRRC) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শরণার্থী সেলের প্রধান ও যুগ্মসচিব মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘাত অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস, আইইউবি-র অধ্যাপক ড. কাজী মাহমুদুল রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নুরুল হুদা সাকিব এবং ইউল্যাব-এর সহকারী অধ্যাপক মিসেস অবন্তী হারুন, অ্যাকশন-এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির এবং দৈনিক প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি রাহীদ এজাজ প্রমুখ।

স্বাক্ষরিত/-
ফয়সল হাসান
জনসংযোগ কর্মকর্তা
(উপপ্রধান তথ্য অফিসার/পরিচালক)
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীঢাকা, (০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি.): স্বরাষ্ট্রমন...
04/09/2026

সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা, (০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি.):

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, বরং এ দেশের প্রতিটি মানুষ নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে। আমাদের সবার প্রধান ও প্রথম পরিচিতি হওয়া উচিত ‘আমরা সবাই বাংলাদেশী’।

মন্ত্রী আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানী ঢাকার পলাশী মোড়ে অবস্থিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষ্যে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত ‘ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, "আমাদের নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন—‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আর যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তবে আমরা প্রত্যেকেই ‘সবার আগে বাংলাদেশী’। আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় এর পরে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতিই হলো সবার জন্য বাংলাদেশ।"

অতীতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "অতীতে যারা মনে করত এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল যে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’, এ দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিগত ছয় মাসে দেশের সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আচার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনগণই বিচারক, আপনারা ইতোমধ্যে রায় দিয়েছেন এবং আগামীতেও গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় রাখতে এবং সব ধরনের অসুর শক্তি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আপনাদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা থাকবে।

সংবিধান ও ধর্মীয় অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। সংবিধানের চেতনা অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো প্রকার বৈষম্য করা যাবে না। তিনি বলেন, সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সরকার কেবল সংবিধানে এটি কিতাবী রূপে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না, বাস্তবেও এই সাম্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

ভাষার ব্যবহারে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, "আমরা সচরাচর ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু আমি মনে করি ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটির আর প্রয়োজন নেই। আজ থেকে আমাদের বলতে হবে—আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখব। এই ইতিবাচক চর্চাই সমাজকে আরও সুন্দর করবে।"

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ এর সভাপতিত্বে সমাবেশ ও মিছিলে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং ঢাকা-০৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

উল্লেখ্য, জন্মাষ্টমীর মিছিলটি পলাশী মোড় (ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন) থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।

স্বাক্ষরিত/-
ফয়সল হাসান
জনসংযোগ কর্মকর্তা
(উপপ্রধান তথ্য অফিসার/পরিচালক)
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীঢাকা, (৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি.): স্বরাষ্ট্রমন্ত্র...
03/09/2026

বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা, (৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি.):

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা এবং বিশ্ব ইজতেমা সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটিয়ে তাবলীগ জামাতের উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে ইজতেমা আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মন্ত্রী আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ এর প্রতিনিধিগণের (সাদপন্থী) সাথে ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।

বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি ও তারিখ নির্ধারণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তাবলীগ জামাতের সাদপন্থী অংশের মুরুব্বিদের সাথে আজকের বৈঠকে বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে জুবায়েরপন্থী অংশের প্রতিনিধিদের সাথেও আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, সবার মতামত বিবেচনা করে আগামী ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রথম পর্ব ৮ থেকে ১০ই জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ই জানুয়ারি টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে।

ইজতেমার স্থান ও অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, উভয় পক্ষই টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন। বিগত সরকারের সময় জুবায়েরপন্থী ও সাদপন্থীদের মধ্যে একমত হওয়ার ভিত্তিতে একটি সিদ্ধান্ত স্বাক্ষরিত হয়েছিল যে সাদপন্থী অনুসারীরা টঙ্গী ময়দানে ইজতেমা করবেন না। তবে আজকের আলোচনায় সাদপন্থী প্রতিনিধিরা সেই সিদ্ধান্তের প্রতি দ্বিমত পোষণ করে সেখানে তাদের অংশগ্রহণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, তারা দুই পর্বের ইজতেমা শেষের পর থেকে রমজানের আগে অথবা নভেম্বরের শেষ দিকে একটি যৌক্তিক সময় গ্যাপ দিয়ে টঙ্গী ময়দানে এক পর্বে ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষের সাথে আরও আলোচনা করে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

মাওলানা সাদ সাহেবের আগমনের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বিষয়টি ভিসা নীতি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।

দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিগত সময়ের তুলনায় দেশের সামগ্রিক অপরাধ চিত্র অনেক নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে। পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রাপ্ত কেন্দ্রভিত্তিক ও জেলাভিত্তিক সংকলিত তথ্যানুযায়ী হত্যা, অপহরণ, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের হার অনেক হ্রাস পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টায় জনগণের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

অপরাধ দমনে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা তুলে ধরে মন্ত্রী সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি জানান, রাজধানীতে এক শিক্ষিকা ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করার পর মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার, ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং অপরাধীদের ব্যবহৃত মালামাল জব্দ করে আদালতের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরের গোয়েন্দা মনিটরিং ব্যবস্থা অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা বা গাফিলতির কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সরকার অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়মিত তথ্য মনিটর করছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত ও টেকসই করতে সরকারের প্রচেষ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার। সভায় স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং তাবলীগ জামাতের (সাদপন্থী) প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, আইন-শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখা, ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুরূপ একটি সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে তাবলীগ জামাতের (জুবায়েরপন্থী অংশ) প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।

স্বাক্ষরিত/-
ফয়সল হাসান
জনসংযোগ কর্মকর্তা
(উপপ্রধান তথ্য অফিসার/পরিচালক)
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও জনকল্যাণে অঙ্গীকারবদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান সালাহউদ্দিন আহমদেরসিলেট, (১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি....
01/09/2026

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও জনকল্যাণে অঙ্গীকারবদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান সালাহউদ্দিন আহমদের

সিলেট, (১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি.):

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বৈষম্যহীন সাম্যভিত্তিক সমাজ গঠন এবং স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধে একটি সুদৃঢ় সাংবিধানিক কাঠামো গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিএনপি'র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী আজ বিকালে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সিলেট জেলা বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এড. এমরান আহমদ চৌধুরী এমপি-র পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রজীবনেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে যুক্ত হওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।
সংগ্রাম ও উন্নয়নের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে এদেশের সাধারণ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং ১৯৭৯ সালে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের মাধ্যমে বিচার বিভাগ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়। তিনি আরও বলেন, বিএনপি'র গৃহীত ১৯ দফা কর্মসূচির মূল ভিত্তিই ছিল এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও সামাজিক সমৃদ্ধি অর্জন। ৯০-এর দশকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তীতে সংসদীয় গণতন্ত্র ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত সূচিত হয়। বিশেষ করে নারী শিক্ষার প্রসার, যুব সমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপে বিএনপির অবদানের কথা তিনি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়ে আলোকপাত করে মন্ত্রী বলেন, ১/১১ পরবর্তী সময়ে দেশের গণতন্ত্র যে চরম সংকটে পড়েছিল, তা পরবর্তীতে ফ্যাসিবাদের রূপ নেয়। কিন্তু দেশের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা শত শত ও সহস্র প্রাণের বিনিময়ে দেশকে পুনরায় স্বৈরাচারমুক্ত করেছেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক তারেক রহমানের সুদৃঢ় নেতৃত্বে দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে সংগ্রাম সূচিত হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে একটি আধুনিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো সামরিক স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ বা অপশক্তির উত্থান না হতে পারে, সেজন্য সাংবিধানিক ধারা ও পদ্ধতি সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত "আই হ্যাভ এ প্ল্যান" (I have a plan)-এর আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড প্রদানসহ সকল নাগরিকের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইমাম, মুয়াজ্জিন, বিভিন্ন ধর্মের পুরোহিত এবং উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও ভাতা প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বৈষম্যহীন, সাম্যভিত্তিক এবং মানবিক মর্যাদাসম্পন্ন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিএনপি'র দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতকের ইতিহাসকে আন্দোলন, গৌরব, অর্জন, সংগ্রাম, উন্নয়ন এবং ধারাবাহিক পরিবর্তনের ইতিহাস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি নিজের রাজনৈতিক সূচনার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সমগ্র দেশবাসীসহ সিলেট জেলা ও মহানগরের সকল দলীয় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান। বক্তব্যের শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্রের চর্চা করা, সামাজিক বৈষম্য দূর করা এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার উদাত্ত আহ্বান জানান।

বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি অনুসরণে দেশকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, ৪৮ বছর আগে এক সংকটময় মুহূর্তে দেশপ্রেমিক স্বপ্নদ্রষ্টা শহীদ জিয়া এই দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। স্বাধীনতার পর যখন দেশের সার্বিক অস্তিত্ব ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা নিয়ে বিশ্ব দরবারে প্রশ্ন ছিল, তখন অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলেন এবং চাল রপ্তানির ব্যবস্থা করেন। কৃষি, শিল্প ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ রাষ্ট্রের প্রতিটি খাতে তাঁর যে ইতিবাচক প্রভাব ছিল, তা আজও দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তিনি আরো বলেন, দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা আমাদের অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও দেশের সার্বিক চ্যালেঞ্জগুলো দক্ষতার সঙ্গে সমাধান করবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ আব্দুল মালিক এমপি ও ড. এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপি'র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী ও সহ-ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, বিএনপি'র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী ও আবুল কাহের চৌধুরী প্রমুখ।

স্বাক্ষরিত/-
ফয়সল হাসান
জনসংযোগ কর্মকর্তা
(উপপ্রধান তথ্য অফিসার/পরিচালক)
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

অপরাধী সে অপরাধীই, রাজনৈতিক অ্যাফিলিয়েশন দেখে ছাড় দেওয়ার কোন সুযোগ নেই- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসিলেট, (০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্র...
01/09/2026

অপরাধী সে অপরাধীই, রাজনৈতিক অ্যাফিলিয়েশন দেখে ছাড় দেওয়ার কোন সুযোগ নেই- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সিলেট, (০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি.):

অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অপরাধী সে অপরাধীই, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় অ্যাফিলিয়েশন দেখে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্ত্রী আজ সিলেটের সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে সিলেট জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়ন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সিলেট অঞ্চলের সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাচালানিদের তালিকা সম্পূর্ণ নির্মোহভাবে তৈরির নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে অপরাধীদের পরিচয় সবার জানা আছে। তাই তালিকায় যেন কোনো নিরীহ মানুষকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানি করার জন্য না ঢোকানো হয় এবং কোনো প্রকৃত অপরাধীকে যেন রাজনৈতিক বিবেচনায় বাদ না দেওয়া হয়। আগামী এক মাসের মধ্যে এই নির্দেশনার দৃশ্যমান ফলাফল উপস্থাপনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, আমরা পুলিশ বাহিনীতে 'রিওয়ার্ড ও পানিশমেন্ট নীতি' চালু করেছি। তিনি রেঞ্জ পুলিশ ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) উভয়কেই এই নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেন।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-পরবর্তী দায়েরকৃত বিভিন্ন মামলা পর্যালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে এজাহারে ঢালাওভাবে ৫০০, ১০০০ বা ২০০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বহু জায়গায় ভুক্তভোগী পরিবার মামলা না করে তৃতীয় পক্ষ তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য বা ব্যবসায়ীদের হয়রানি ও চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে মামলা করেছে, যার ফলে প্রকৃত ভিকটিম বা শহীদ পরিবারগুলো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তার পরিবার বাদী হতে না পারলেও রাজনৈতিক আরেক ব্যক্তি বাদী হয়ে দেড় হাজার আসামি দিয়েছে, অথচ ভিডিও ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের মাধ্যমে প্রকৃত জড়িতদের চিহ্নিত করা সম্ভব ছিল। এই প্রেক্ষিতে তিনি সিলেট রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন এলাকার এ সংক্রান্ত মামলাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ ধারা অনুযায়ী নিরীহ ও অযথা হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সাথে তিনি সতর্ক করে দেন যে, এই প্রক্রিয়ায় যেন কোনো ধরনের দেনদরবার বা অনৈতিক লেনদেন না হয় এবং প্রকৃত নির্দেশদাতা ও অপরাধীদের যেন কোনোভাবেই বাদ দেওয়া না হয়।

সিলেটের বালি ও পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় তৈরি হওয়া পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ব্যাপক কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাঁর নেতৃত্বে ইতোমধ্যে একটি জাতীয় কমিটি কাজ করছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং আদালতের নির্দেশনা সমন্বয় করে প্রস্তুতকৃত রেজুলেউশন বা কার্যবিবরণী অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি এ সংক্রান্ত আদালতের মামলার দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সাথে সমন্বয় রেখে দ্রুত আইনি জটিলতা নিরসনের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় পাহাড়ি ঢলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও পরিবেশের ক্ষতি রোধে মনিটরিং টিমের মাধ্যমে সার্বিক তদারকি জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।

'মব' বা অরাজকতা সৃষ্টির অপসংস্কৃতি সরকার কোনোভাবেই সহ্য করবে না উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দাবিদাওয়া আদায়ের নামে সড়ক অবরোধ বা ঘেরাও না করে প্রচলিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, স্মারকলিপি প্রদান বা প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে বিষয়টি উপস্থাপন করতে হবে। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে মবের ঘটনা ৫০ শতাংশের বেশি কমে এসেছে জানিয়ে তিনি সিলেট অঞ্চলকেও সম্পূর্ণ মবমুক্ত রাখার আহ্বান জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির​ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, সিলেটকে মাদকমুক্ত করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে পুলিশ প্রশাসনকে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে হবে। তিনি বলেন, মাদকের সাধারণ সেবনকারীদের পেছনে না ছুটে শীর্ষ অন্তত ৫০ জন মাদক কারবারির একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রস্তুত করে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি আরো বলেন, দেশের ভৌগোলিক আয়তনে সর্ববৃহৎ মেট্রোপলিটন পুলিশ এলাকা হিসেবে এসএমপির লজিস্টিক সংকট দূরীকরণ, নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং পর্যাপ্ত পুলিশি যানবাহন সরবরাহ করতে হবে। এ বিষয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন। তিনি সাধারণ মানুষের উত্তরোত্তর আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে প্রতিটি পুলিশ ইউনিটকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মালেক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান ও বিজিবি মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। এ সময় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মশিউর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মোঃ যাবের সাদেক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকী সাহা।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের অপরাধ দমনে পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা এবং অপরাধীদের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

স্বাক্ষরিত/-
ফয়সল হাসান
জনসংযোগ কর্মকর্তা
(উপপ্রধান তথ্য অফিসার/পরিচালক)
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার দুর্গম সীমান্তে নিরাপত্তা ও নজরদারি সহজতর করবে- 'সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড...
01/09/2026

আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার দুর্গম সীমান্তে নিরাপত্তা ও নজরদারি সহজতর করবে-

'সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সিলেট, (০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি.):

আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার দুর্গম ও বনাঞ্চল বেষ্টিত এলাকা-সহ সামগ্রিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও নজরদারিকে আরো কার্যকর ও সহজতর করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী আজ সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সিলেট সেক্টর সদর দপ্তরে “সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার (SSSDW)”-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন। তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এ বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন।

মন্ত্রী বলেন, সীমান্তের যেসব দুর্গম ও বনাঞ্চলবেষ্টিত (ওয়াইল্ড) এলাকা রয়েছে, যেখানে সরেজমিন জনবল দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত দুষ্কর, সে সমস্ত জায়গায় নাইট ভিশন এবং থার্মাল প্রযুক্তি সংবলিত ড্রোন ব্যবহার করে সার্বক্ষণিক আধুনিক ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স পরিচালনা করা হবে। থার্মাল প্রযুক্তির এই ব্যবহারের ফলে রাতের আঁধারেও সীমান্তের ওপারে অপর পক্ষের তৎপরতা তদারকি এবং চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের রুট চিহ্নিত করে তা প্রতিহত করা সহজ হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ও মানবিক দুর্যোগেও ড্রোনের এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং সরাসরি দুর্গম পয়েন্টে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিতে বিজিবি সদস্যরা সফলভাবে ড্রোনের ব্যবহার নিশ্চিত করেছেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই ড্রোন স্কুলে বর্তমানে বিজিবি সদস্যদের সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন ওয়ারফেয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে বেসামরিক জনবলকেও উন্নত প্রযুক্তি ও ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তুলতে এই প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। সেই সাথে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের সব সর্বাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি এ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করে দেশের সর্বাত্মক সুরক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

মাদক মামলার প্রসিকিউশন ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারীদের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকে যুগোপযোগী করা হয়েছে এবং জেলা পর্যায়ে ল্যাব, হাজতখানা, ডগ স্কোয়াড ও আধুনিক অস্ত্রের মাধ্যমে বাহিনীর কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়ানো হচ্ছে। একই সাথে আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে ‘মব’ সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা প্রচলিত আইনের মাধ্যমে অত্যন্ত কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। স্বাগত বক্তৃতা করেন বিজিবি'র সিলেট সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীন।

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি উদ্বোধনের পূর্বে মন্ত্রীকে 'সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার (SSSDW)' সম্পর্কিত বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সার্বিক দিক নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং প্রদান করা হয়। উদ্বোধনের পর মন্ত্রী ড্রোন স্কুল কমপ্লেক্স ও ডিসপ্লে সেন্টার ঘুরে দেখেন এবং পরবর্তীতে বিজিবি'র দক্ষ পরিচালনায় একটি বাস্তবভিত্তিক অপারেশনাল মহড়া ও ডাইনামিক ড্রোন ডিসপ্লে প্রত্যক্ষ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবি সদর দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, তথ্যনির্ভর ও প্রযুক্তিসক্ষম করার লক্ষ্যে বিজিবি'র একটি বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ স্কুল/কেন্দ্র হিসেবে SSSDW-এর যাত্রা শুরু হলো। কেন্দ্রটি উদ্বোধনের মাধ্যমে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে আধুনিক আকাশভিত্তিক ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।

স্বাক্ষরিত/-
ফয়সল হাসান
জনসংযোগ কর্মকর্তা
(উপপ্রধান তথ্য অফিসার/পরিচালক)
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিতঢাকা, (২৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি.):ত্র...
30/08/2026

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত

ঢাকা, (২৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি.):

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন-এর সভাপতিত্বে আজ জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ পরীক্ষাপূর্বক রিপোর্ট প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে বিলটি সংসদে প্রেরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ এ বিল প্রণয়ন ও উত্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করায় কমিটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়।

বৈঠকে কমিটির সদস্য মোঃ নূরুল ইসলাম এবং মোঃ আব্দুল বাতেন ওয়াকআউট করেন। এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, “কমিটির সদস্য হিসেবে কোনো সংশোধনী বা মতামত থাকলে তা সভায় উপস্থাপন করা, পরামর্শ দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে বিরোধিতা করার সুযোগ রয়েছে। এটিই কমিটির সদস্যদের দায়িত্ব। তবে সভা থেকে ওয়াকআউট করা সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না।”

বৈঠকে আরও উল্লেখ করা হয় যে, গত ছয় মাসে দেশে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। একই সময়ে মব তৈরির চেষ্টা চললেও কোনো রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনা ঘটেনি বলেও সভায় উল্লেখ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেনি বলেও সভায় জানানো হয়।

মিরাজ শেখের অপহরণের দায় সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ ধরনের দোষারোপের রাজনীতি বা ‘ব্লেম গেম’ পরিহার করা উচিত বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, শিরীন সুলতানা, মো. নুরুল ইসলাম এবং মো. আব্দুল বাতেন অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তরসমূহের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধানগণ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্বাক্ষরিত/-
তানজীনা তানীন
সহকারী পরিচালক
গণসংযোগ অধিশাখা-১
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়
মোবাইল: ০১৯৪৮০৩৯৮১৬

রিপ্যাট্রিয়েশন ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (RDMS) চালু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ঢাকা (৩০ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি.):মানব পাচার ও...
30/08/2026

রিপ্যাট্রিয়েশন ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (RDMS) চালু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ঢাকা (৩০ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি.):

মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশ থেকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া আরও কার্যকর ও সমন্বিত করতে আজ রিপ্যাট্রিয়েশন ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (RDMS) চালু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আজ সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বোর্ডরুমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এর সভাপতিত্বে জাস্টিস এন্ড কেয়ার, বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রিপ্যাট্রিয়েশন ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (RDMS)-এর উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্পেশাল ব্রাঞ্চ বাংলাদেশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিন, স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিআইজি, এসসিও (SCO) জাহাঙ্গীর হোসেন ও অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের কাউন্সেলর রুবেন গ্রে (Ruben Grey)। স্বাগত বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান। RDMS সিস্টেম এর উদ্দেশ্য ও সুবিধা সম্পর্কে আলোকপাত করেন জাস্টিস এন্ড কেয়ার, বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর তারিকুল ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ মানবপাচার প্রতিরোধ ও উদ্ধারকৃতদের পুনরেকত্রীকরণ প্রক্রিয়া বেগবান করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডোমেইনে রেফারাল ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আরডিএমএস) অন্তর্ভুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফেরত আসা ব্যক্তি ও সারভাইভারদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণে আরডিএমএস প্ল্যাটফর্মটি ইতোমধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ডাটাবেজের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া শিশুদের নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে এটিকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের পাশাপাশি পাসপোর্ট সেবার সাথে সমন্বিত করার কাজ চলমান রয়েছে। অবৈধ অভিবাসন রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আন্তঃসংস্থার সমন্বিত এ উদ্যোগ সারভাইভারদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং অবৈধ অভিবাসন বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশ এর কারিগরি সহায়তায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় RDMS তৈরি করেছে। সিস্টেমটির উন্নয়ন ও আপগ্রেডেশনে অস্ট্রেলিয়া সরকার সহায়তা করেছে। এটি একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশে থেকে দেশে ফেরানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তিসহ বিদেশে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় একাধিক সরকারি সংস্থার সম্পৃক্ততা থাকে। এ প্রক্রিয়ায় জাতীয়তা যাচাই, পুলিশ রেকর্ড যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। প্রচলিতভাবে এসব কাজের বড় একটি অংশ কাগজপত্র ও চিঠিপত্রের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় অনেক সময় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়।

অনুষ্ঠানে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ RDMS-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরে। উপস্থাপনায় দেখানো হয়, কীভাবে এই সিস্টেমের মাধ্যমে প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত মামলার তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, জাতীয়তা ও পুলিশ রেকর্ড যাচাই আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা এবং তথ্যের নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা ও সহজে অনুসরণযোগ্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সিস্টেমটি প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত পাওয়া এবং রিয়েল-টাইমে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন তৈরির সুযোগ দেবে।

RDMS-এর মাধ্যমে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি হাইকমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আরও নির্ধারিত ও সমন্বিত পদ্ধতিতে প্রত্যাবাসনের আবেদন করতে পারবে। জাতীয়তা যাচাইয়ের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানও আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও সিস্টেমে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

RDMS চালুর মাধ্যমে তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করা, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে। এই সিস্টেম বিদেশ থেকে দেশে ফেরা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আরও সমন্বিত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

RDMS উন্নয়ন ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাক্ষরিত/-
ফয়সল হাসান
জনসংযোগ কর্মকর্তা
(উপপ্রধান তথ্য অফিসার/পরিচালক)
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

Address

Dhaka
1000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, Ministry of Home Affairs, Bangladesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share