22/09/2026
জামাতে ইসলামের রাজনৈতিক দ্বিচারিতা। একই মুখে ভিন্ন সুর। সংসদে এক কথা সংসদের বাইরে অন্য কথা। পুরো বিষয়টিকে বিশ্লেষণে দাঁড় করানো হয়েছে।জামাত ইসলামের রাজনৈতিক স্বরূপ উন্মোচন -----ABC analysis এর বিশ্লেষণ শুনুন।
"সংসদে দাঁড়িয়ে বললেন—'বিদ্যুৎ সংকটের দায় পূর্ববর্তী সরকারের!' আর রাজপথে নেমে বলছেন—'বিদ্যুৎ না পাওয়ার দায়ে বর্তমান সরকারের পতন চাই!' প্রশ্ন হলো—একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার কথা কোনটা আসল? সংসদ নাকি রাজপথ? জামায়াতে ইসলামীর এই রাজনৈতিক বয়ান কি তাদের আদর্শগত বিভ্রান্তি, নাকি প্রকাশ্য দ্বিচারিতা?"
"আজকে যে বিষয়টি নিয়ে পুরো দেশজুড়ে আলোচনা হচ্ছে, তা হলো জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডক্টর শফিকুর রহমানের সম্প্রতি দুটো সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী ভূমিকা।
একদিকে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি খুব সুন্দর যুক্তিতে ব্যাখ্যা করলেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সীমাহীন দুর্নীতি, অপচয় আর ভুল নীতির কারণেই আজকে দেশে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট। তিনি সংকট সৃষ্টির আসল শেকড় চিহ্নিত করে সংসদকে আশ্বস্ত করলেন।
কিন্তু ঠিক তার পরপরই আমরা কী দেখলাম? ঠিক একই সংকটের অজুহাত তুলে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে পর পর দুটি লংমার্চের ডাক দেওয়া হলো এবং দেশের সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নামানো হলো!"
"এবার নিরপেক্ষভাবে আসুন যুক্তিগুলো বিশ্লেষণ করি—
প্রথমত, যদি একটি সংকট পূর্ববর্তী সরকারের ভুল নীতির ফসল হয়ে থাকে, তবে বর্তমান সরকারকে রাতারাতি জাদুকরী সমাধান না দিতে পারার জন্য রাজপথে আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা কতটা যুক্তিসঙ্গত?
দ্বিতীয়ত, জামায়াতে ইসলামী নিজেদের দেশের অন্যতম প্রধান ও সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করে। কিন্তু তাদের এই কৌশল কি প্রমাণ করে না যে, তারা ইস্যুর মূল সমাধানের চেয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে?
সংসদে এক রকম কথা বলে জনগণের কাছে বাহবা নেওয়া, আর রাজপথে এসে ঠিক তার উল্টো সুর গেয়ে সরকারকে কোণঠাসা করার চেষ্টা—এটিকে রাজনৈতিক কৌশল বলা যায় না, এটিকে সোজা কথায় বলা হয় দ্বিচারিতা (Hypocrisy)!"