05/07/2026
Omar Sadat
আমেরিকার ২৫০তম জন্মবার্ষিকী ও সিভিক রেস্পন্সিবিলিটির মূলমন্ত্র
গতকাল ভোর চারটা থেকে বিকেল সাতটা পর্যন্ত দিনটি কেটে গেল আমেরিকার ২৫০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের নানা আয়োজনে। ভোরবেলা গুলশান ২ নম্বর সার্কেলের চারপাশে ভেসে উঠল মার্কিন পতাকার ছবি। গুলশান সোসাইটির সভাপতি হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। সকাল ১১টায় বিচারপতি শাহাবুদ্দিন পার্কে গুলশান সোসাইটি ও যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ অনুষ্ঠান। সেখানে ছিল আমেরিকার স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে ফাউন্ডারস মিউজিয়াম, আমেরিকান মিলিটারি ব্যান্ডের মনোমুগ্ধকর সংগীত, এবং কাউন্টি ফেয়ার। বিকেলে জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজায় ছিল ফ্রিডম ২৫০ ব্যান্ড পার্টি, যেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি।
এভাবেই সারাদিন কেটে গেল নানা অনুষ্ঠান, সৌজন্য, আনুষ্ঠানিকতা ও উদযাপনের মধ্যে। প্রচণ্ড গরমে স্যুট টাই পরে ঘামতে ঘামতে বসে বসে ভাবছিলাম, জাতি হিসেবে আমেরিকার উত্থানের মূলমন্ত্র কী?
আমার দৃষ্টিতে এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো সিভিক রেস্পন্সিবিলিটি, অর্থাৎ নাগরিক দায়িত্ববোধ। নাগরিকরা নিজের দেশ, সমাজ, শহর ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়েছে। তারা বুঝেছে, রাষ্ট্র কেবল সরকারের একার বিষয় নয়; রাষ্ট্র গড়ে ওঠে নাগরিকের শৃঙ্খলা ও অংশগ্রহণ, নিয়মিত ট্যাক্স দেওয়া, আইন মানা, স্বেচ্ছাসেবা এবং জনপরিসরের প্রতি সম্মান থেকে।
একটি দেশ সামনে এগিয়ে যায় তখনই, যখন তার নাগরিকরা শুধু অধিকার দাবি করে না, দায়িত্বও পালন করে। রাস্তা পরিষ্কার রাখা, ট্রাফিক আইন মানা, কর প্রদান করা, প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়ানো, ভোট দেওয়া, স্থানীয় কমিউনিটির কাজে অংশ নেওয়া, পার্ক ও পাবলিক স্পেস রক্ষা করা, আইনকে নিজের সুবিধামতো নয় বরং সবার জন্য সমানভাবে মানা। এসবই সিভিক রেস্পন্সিবিলিটির অংশ।
আমেরিকার শক্তি শুধু তার সামরিক ক্ষমতা, অর্থনীতি বা প্রযুক্তিতে নয়; তার বড় শক্তি হলো নাগরিক উদ্যোগের সংস্কৃতি। সেখানে মানুষ শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকে না। স্কুল, লাইব্রেরি, পার্ক, হাসপাতাল, গবেষণা, দাতব্য কাজ, পরিবেশ রক্ষা, দুর্যোগে সহায়তা, এই প্রতিটি ক্ষেত্রে নাগরিকরা এগিয়ে আসে। এই অংশগ্রহণেই রাষ্ট্র এগিয়ে যায়।
আমাদের বাংলাদেশেও উন্নয়নের প্রকৃত ভিত্তি হতে হবে এই নাগরিক দায়িত্ববোধ। আমরা যদি প্রত্যেকে নিজের এলাকা, নিজের রাস্তা, নিজের পার্ক, নিজের শহরের প্রতি দায়িত্বশীল হই, তাহলে পরিবর্তন শুধু সরকারের ফাইলে আটকে থাকবে না। পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে মানুষের জীবনে। গুলশান, ঢাকা কিংবা বাংলাদেশ, সব জায়গায় নাগরিক অংশগ্রহণই হতে পারে সুন্দর সমাজ গঠনের প্রধান চালিকা শক্তি।
আমেরিকার ২৫০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের দিনে আমার কাছে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো একটা জাতি গড়তে শুধু স্বাধীনতা যথেষ্ট নয়। স্বাধীনতার সঙ্গে নাগরিক দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা, অংশগ্রহণ এবং জনকল্যাণের চেতনা থাকতে হয়।
বাংলাদেশের আগামী দিনের পথচলায় এই শিক্ষাটিই আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।