17/10/2025
‘অ-পা-রে-শ-ন ক্লি-ন-হা-র্ট’, ছিল স/ন্ত্রা/স দ-ম-নে সবচেয়ে কার্যকরী উদ্যোগ
===============================================
২০০১ সালের ১লা অক্টোবর। ২১৬ আসনে বিপুলভাবে জয়লাভ করে ৪ দলীয় ঐক্যজোট। ৩য় বারের মত প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন বেগম খালেদা জিয়া।
এই বিপুল জনসমর্থনের পরেও শান্তিমত দেশ চালাতে পারছিলেন না খালেদা জিয়া। বিশেষ করে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছিল প্রতিনিয়ত। যার বেশিরভাগের সাথেই জড়িত ছিল বিএনপি নেতাকর্মীরা।
পুরো দেশবাসী বিএনপির স/ন্ত্রা/সী কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ। সাথে তো রয়েছে বিগত আ-ও-য়া-মী আমলের টপ টে-র-র-রা। যারা দেশের বিভিন্ন এলাকা তাদের সাম্রাজ্য হিসেবে ভাগ করে নিয়ে, সেই এলাকায় চাঁ/দা/বা/জি, লু*ট*পা*ট, জ-ব-র-দ-খ-ল, হ**ত্যা*সহ হেন কেন অ-প-রা-ধ নেই যা করছে না।
২০০১ এর নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি অন্যতম একটি দফা ছিল, আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং স/ন্ত্রা/স দ-ম-ন-। কিন্তু দিনদিন আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে চিন্তায় পড়লেন বেগম খালেদা জিয়া। কি করবেন তিনি? কোনভাবেই তো নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না স/ন্ত্রা/স/কে।
মিটিং এর ডাক দিলেন তিনি। সকলের মতামত নিলেন কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত দিলেন না। সেদিনের মতো শেষ হলো মিটিং। সারাদিন নিজের মতো করে ভাবলেন। সময় নিলেন, তারপর বিশ্বস্ত কয়েকজন নেতৃবৃন্দকে ডেকে পাঠালেন। তাদের সাথে আলোচনায় বসলেন, তারপর সিদ্ধান্ত জানালেন।
পুলিশকে দিয়ে কাজ হচ্ছে না। মাঠ পর্যায়ের বেশিরভাগ পুলিশই আ-ও-য়া-মী আমলের নিয়োগ। স/ন্ত্রা/স দ-ম-নে তাদের শি-থি-ল-তা ইতিমধ্যে প্রকাশিত। তাই এবার মাঠে নামবে সেনাবাহিনী। তাদের নেতৃত্বে চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। কিন্তু তার এই সিদ্ধান্তের কথা তিনি কঠিনভাবে গো-প-ন রাখতে বললেন। সেনাবাহিনীকে জানিয়ে দেয়া হলো ,প্রস্তুতি গ্রহনের জন্য। পাশাপাশি আরো জানানো হলো, স=ন্ত্রা=সী যেই দলেরই হোক না কেন, কোন ছাড় নাই। এবং এ ব্যাপারে কোন রা-জ-নৈ-তি-ক হ-স্ত-ক্ষে-প যেন সেনাবাহিনী আমলে না নেয়।
২০০২ এর ১৬ই অক্টোবর। মধ্যরাত! হঠাৎই সারা দেশে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে গেল। কেন বন্ধ হল কেউ জানেনা। জলপাই রঙের গাড়ি যখন পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছে তখন বোঝা গেল কিছু একটা ঘটছে! শুরু হল স/ন্ত্রা/স দ-ম-নে-র প্রথম অধ্যায়। প্রথম রাতেই গ্রে/ফ/তা/র করা হলো ১৪০০ জনের মতোকে। যাদের বেশিরভাগই ছিলেন বিএনপি নেতাকর্মী। আ-ও-য়া-মী লী-গে-র-ও ছিল, তবে তাদের সংখ্যা কম। অভিযানের নাম দেয়া হয় ‘অ-পা-রে-শ-ন ক্লি-ন-হা-র্ট’।
৮৪ দিন ধরে চলে অ-পা-রে-শ-ন ক্লি-ন-হা-র্ট। যেহেতু আ-ট-ক-কৃ-ত-দে-র মধ্যে বিএনপি'র কর্মীদের সংখ্যাই বেশি, তাই দলের মধ্যে ব্যাপক চা-পে-র মধ্যে পড়েন বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু দ-মে যাবার পাত্র তিনি নন। তার ভাষায়, স/ন্ত্রা/সী/র কোন দল নেই, ধর্ম নেই। তাদের একমাত্র পরিচয় তারা স/ন্ত্রা/সী।
শত বা-ধা বি-প-ত্তি উপেক্ষা করে চলতে থাকে ক্লি/ন/হা/র্ট অ-পা-রে-শ-ন। এই অ-পা-রে-শ-নে আর্মি ২হাজার আ*গ্নে*য়া*স্ত্রো*, ৩০ হাজার রা-উ-ন্ড গু*লি এবং ১২০০০ জন ব্যক্তিকে গ্রে-ফ-তা-র করে।
ধীরে ধীরে উন্নতি হতে থাকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির। স/ন্ত্রা/সী, চাঁ/দা/বা/জি অনেক কমে আসে। কিন্তু দীর্ঘ সময় আর্মিকে এভাবে মাঠে রাখা উচিত নয়। এটা বুঝতে পেরে খালেদা জিয়া আর্মিকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু আর্মি উঠে গেলে পরিস্থিতির আবারো অবনতি হবে, সেটিও তিনি বুঝতে পারছিলেন। তাহলে সমাধান কি?
আবারো মিটিং ডাকলেন। দীর্ঘ সময় আলাপের পর সিদ্ধান্ত নিলেন, নতুন একটি বাহিনী গঠন করা হবে। যাদের মূল কাজ হবে স/ন্ত্রা/স, জ/ঙ্গি/বা/দ দ-ম-ন করা। তারা হবে একটি এলিট বাহিনী। তাদের থাকবে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, বিশেষ অ**স্ত্র। নাম ঠিক করা হলো বাহিনীর। RAT (র্যাপিড অ্যাকশন টিম) কিন্তু নামটি অনেকেরই পছন্দ হলো না। পত্রপত্রিকায়ও সমালোচনা হল। পরে নাম পরিবর্তন করে রাখা হলো, RAB (র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন)। জন্ম হলো বাংলাদেশের এক বিশেষায়িত বাহিনীর। শুরুতেই এই বাহিনীর মান উন্নয়নের জন্য কয়েকজনকে আ-মে-রি-কা-য় ট্রেনিং এ পাঠানো হয়। স/ন্ত্রা/স এবং জ*ঙ্গি*বা*দ নিয়ে আ-মে-রি-কা-র সাথে যৌথভাবে কাজ করতে থাকে এই বাহিনী।
ধীরে ধীরে আবার প্রকাশ্যে আসতে থাকে অ-প-রা-ধী-রা। কিন্তু র্যাব এবারে শ*ক্ত অবস্থানে। এক এক করে বেশ কয়েকজন শীর্ষ স/ন্ত্রা/সী/ ক্র*স*ফা*য়া*র মা*রা যায়। যার মধ্যে অন্যতম ছিল পিচ্চি হান্নান, কা**লা জাহাঙ্গীর। যেখানেই স/ন্ত্রা/সী//দের খবর পাওয়া যেত, সেখানেই র্যাব ঝাঁ/পি/য়ে পড়তো। ফলে কা=লো পোশাকের এই বাহিনী হয়ে উঠলো স/ন্ত্রা/সী/দে/র জীবন্ত এক আ-ত-ঙ্কে-র নাম। ধীরে ধীরে কমতে থাকে দেশে স/ন্ত্রা/সী, চাঁ/দা/বা/জি/র সংখ্যা। এলাকা ভাগ করে যেসব শীর্ষ স/ন্ত্রা/সী/রা এতদিন অ-প-রা-ধে-র সা-ম্রা-জ্য গড়ে তুলেছিল, সেই নেটওয়ার্ক ভেঙে দেয়া র্যাব। শীর্ষ স/ন্ত্রা//সী/দে/র/ কেউ কেউ দেশের বাইরে পা-লি-য়ে যায়। যারা দেশে থাকে তাদের বেশির ভাগই গ্রে-ফ-তা-র হয়। কেউবা আবার চলে যায় আত্মগোপনে।
২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি যতদিন সরকারে ছিল, ততদিন বাংলাদেশে বড় আকারের স/ন্ত্রা/সী, চাঁ/দা/বা/জি ছিল না। পুরোপুরি যে নি-র্মূ-ল হয়েছিল তা নয়। কিন্তু যতটুকু হয়েছিল তাতে দেশের মানুষের মধ্যে একটা স্বস্তি ছিল।
কিন্তু বিগত সারে ১৫ বছরে স্বৈ/রা/চা/রী হা-সি-না সেই স/ন্ত্রা/স/কে জীবন্ত করে একটা রা/ক্ষ/স বানিয়ে ফেলেছিল। ফলে গু**ম, খু**ন, চাঁ/দা/বা/জি ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।
পরবর্তী সরকারের কাছে সাধারণ জনগণ হিসেবে আমাদের চাওয়া হবে, যেভাবেই হোক এই স/ন্ত্রা/সী, চাঁ/দা/বা/জি/ যেন বন্ধ করা হয়।