09/06/2026
২০১৪ বিশ্বকাপ ফুটবল সময়কার একটা মজার ইন্সিডেন্ট মনে পড়ে গেলো। হন্ডুরাস নামের দেশটা বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে। ফেসবুক তখন বাংলাদেশে তুমুল জনপ্রিয়৷ এই কোয়ারেন্টিনে যেমন বাঙালির খেয়ে-দেয়ে কোনো কাজ-কাম না থাকায় একটার পর একটা উদ্ভট ও সার্কাস্টিক গ্রুপ খুলে মজা নিচ্ছে। তখনও ঘটলো এরকম একটা ঘটনা। একদল পুংটা ছেলে-পেলে মিলে মজার ছলে একটা ইভেন্ট খুলে ফেললো, "আমরা হন্ডুরাস ফুটবল দলের পাগলা ফ্যান"।
(এক্সাক্ট নাম মনে পড়ছে না, তবে এরকম কিছু একটাই ছিল ইভেন্টের নাম)
বাঙালি যেহেতু নতুন কিছু পাইলেই মাথায় তুইলা নাচে। এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হলো না। দেশের আপামর ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফ্যান থেকে শুরু করে হালের প্লাস্টিক "জার্মানি-স্পেন-ফ্রান্স" ঐক্যজোট সবাই বনে গেলো হন্ডুরাসের ফ্যান! ইভেন্টে তো বটেই, টাইমলাইন থেকে টাইমলাইনে, গ্রুপ থেকে গ্রুপে ছড়িয়ে পড়লো হন্ডুরাসের জয়জয়কার। সার্কাজম, ট্রল, মিম কোনো কিছুই বাদ পড়লো না। কেন হন্ডুরাসই এবারের বিশ্বকাপ নিবে - তা নিয়ে শুরু হলো গভীর বিশ্লেষন! নানা ইকুয়েশন ও স্ট্যাট ঘেটে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফ্যানরা বের করলো হন্ডুরাসই তাদের এই বিশ্বকাপ জয়ের প্রধান বাধা। কয়েকদিনেই ইভেন্টটা ভাইরাল হয়ে গেলো, লাখ লাখ গোয়িং পড়তে থাকলো।
ব্যাপারটা এতটুকু হলেও মানা যেত, কোন পুংটা সাংবাদিক জানি এই ইভেন্ট নিয়া জাতীয় পত্রিকায় একটা নিউজও করে ফেলে! আর সে নিউজ কোনোভাবে হন্ডুরাসের জনগনের কাছে পৌঁছে যায়। তাদের মিডিয়াও এটা নিয়ে নিউজ করা শুরু করে। তারপর শুরু হয় আরেক বিনোদন, দলে দলে হন্ডুরাসের মানুষজন এই ইভেন্ট শেয়ার ও ইভেন্টে এসে বাংলাদেশের প্রতি রেসপেক্ট ও ভালোবাসা জানাতে লাগলো। তারা সহজ-সরল মানুষ, বাঙালিদের মতো এত প্যাঁচ নাই ভেতরে। ঘুনাক্ষরেও বুঝতে পারে নাই যে এটা সার্কাস্টিক ইভেন্ট, বাঙালিরা তাদের নিয়ে মজা নিচ্ছে।
তবে বাঙালির মাঝে ব্যাপারটা হঠাৎ সম্পূর্ণ 180 ডিগ্রি ইউটার্ন নিয়ে নিলো৷ হন্ডুরাসের মানুষগুলার সিরিয়াসনেস দেখে অনুশোচনায় হোক, বা মান-সম্মান বাঁচানোর কারনেই হোক, সত্যি সত্যি হন্ডুরাস ভালো খেলুক এটা সবাই প্রার্থনা করা শুরু করলো। যদিও সৃষ্টিকর্তা সে প্রার্থনা শুনেন নি, তারা গ্রুপ স্টেজ পার হতে পারে নি।
ব্যাপারটা এতটুকুতে থামলেও কথা ছিল, পরের বছর অর্থাৎ ২০১৫ সাল ছিল বিশ্বকাপ ক্রিকেটের বছর৷ ক্রিকেট কিন্তু বহির্বিশ্বে ওতোটা জনপ্রিয়ও না। তবুও কেমনে কেমনে জানি হন্ডুরাসের জনগন আমাদের মনে রাখলো। তারা গুগলের সাহায্যে ওই সময়ই জেনে নিয়েছিল বাংলাদেশ কোন খেলায় পারদর্শী৷ এবার শুরু হলো তাদের প্রতিদান দেওয়ার পালা। তারাও শুরু করলো বাংলাদেশকে সাপোর্ট দেওয়া। হাস্যরস আর কৌতুক থেকে এভাবেই জন্ম নেয় রেস্পেক্ট আর ভালোবাসার গল্প।
স্পোর্টস জিনিষটা কতটা পাওয়ারফুল, কতটা মিনিংফুল, হাজার মাইল দূরের দুটো দেশ, ধর্ম সংস্কৃতি আচার-ব্যবহারে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটো দেশকে কিভাবে কতটা কাছাকাছি নিয়ে আসে৷ কিভাবে সম্পূর্ন অপরিচিত দেশকে জানতে বুঝতে সাহায্য করে।
আর কোনো মাধ্যম আছে এতোটা ইফেক্টিভ?