20/08/2026
পিরোজপুর-২ আসনে জনসম্পৃক্ততা ও উন্নয়ন ভাবনা—আহমদ সোহেল মঞ্জুর সুমনের কার্যক্রম**
পিরোজপুর-২ আসন—কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ উপজেলা নিয়ে গঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় এলাকা। এই অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা, উন্নয়নের সম্ভাবনা এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পিরোজপুর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর সুমন।
জনগণের সমস্যা সরাসরি জানা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় এবং উন্নয়নের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি—এমনটাই তুলে ধরা হচ্ছে তার সাম্প্রতিক কার্যক্রমে।
পিরোজপুর-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ—প্রকৃতি, নদী, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সম্ভাবনাময় তরুণ জনগোষ্ঠীতে সমৃদ্ধ তিনটি উপজেলা। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকার মানুষের অন্যতম প্রত্যাশা হচ্ছে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা।
এই বাস্তবতায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার কথা বলছেন পিরোজপুর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য আহমদ সোহেল মঞ্জুর সুমন।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
তার কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম।
বর্তমান সময়ে একটি দেশের উন্নয়নে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে শিক্ষিত ও দক্ষ যুবসমাজ। প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থানের ধরনও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রচলিত চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং, তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল মার্কেটিং, অনলাইন ব্যবসা এবং বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক পেশায় তরুণদের যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পিরোজপুরের তরুণদেরও এই পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে এগিয়ে নিতে শিক্ষিত, দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল যুবসমাজ গড়ে তোলার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানো গেলে তরুণরা নিজেদের কর্মসংস্থান নিজেরাই তৈরি করতে পারবেন—এমন প্রত্যাশা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
শুধু তরুণদের নয়, শিক্ষিত ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদেরও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি এলাকার টেকসই উন্নয়নের জন্য জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, শিক্ষক, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, সাংবাদিক এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদের উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হলে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমে গুণগত মান, সময়ানুবর্তিতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সরকারি অবকাঠামো নির্মাণে জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং কাজের মান নিশ্চিত করা হলে দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ মানুষই এর সুফল পাবেন।
পিরোজপুর-২ আসনের মানুষের প্রত্যাশার তালিকাও বেশ দীর্ঘ।
উন্নত সড়ক যোগাযোগ, নদী ও খাল ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় সহায়তা, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের সুযোগ—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় জনগণ।
বিশেষ করে নেছারাবাদ, ভান্ডারিয়া ও কাউখালীর মতো নদীবেষ্টিত এলাকায় যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে পারে।
এ অঞ্চলের কৃষক, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের ভেতরে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আহমদ সোহেল মঞ্জুর সুমনের কার্যক্রমকে ঘিরে তাই স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা—উন্নয়ন যেন হয় পরিকল্পিত, স্বচ্ছ ও জনকল্যাণমুখী। পাশাপাশি উন্নয়নের সুফল যেন কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদের প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষের কাছেও পৌঁছে যায়।
জনগণের সঙ্গে জনপ্রতিনিধির সরাসরি যোগাযোগ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষের কথা শোনা, সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া—এভাবেই একটি এলাকার উন্নয়নকে আরও কার্যকর করা সম্ভব।
পিরোজপুর-২ আসনের মানুষের প্রত্যাশা, আগামী দিনে এই তিন উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন প্রজন্ম একটি আধুনিক, দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে পিরোজপুর-২ আসনের কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদকে উন্নয়নের ধারায় আরও এগিয়ে নিতে জনসম্পৃক্ততা, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে উন্নয়ন পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হয়, তরুণদের জন্য কতটা নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদের সাধারণ মানুষ উন্নয়নের সুফল কতটা পান—তা সময়ই বলে দেবে। তবে পিরোজপুর-২ আসনের মানুষের প্রত্যাশা একটাই—উন্নয়ন হোক সবার জন্য, সুযোগ তৈরি হোক তরুণদের জন্য
আর জনকল্যাণ হোক সকল উদ্যোগের মূললক্ষ্য।