04/08/2026
‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ আইন গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করবে।
আইনটিতে গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীদের তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। তাদের জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন এবং দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে; তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র থেকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া, এ আইনে গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি, পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের জন্য গুম সনদ প্রদান, কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
এ আইনে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্নকরণ এবং সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করার বিধান রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গুমের ফলে মৃত্যু ঘটলে, মরদেহ পাওয়া গেলে অথবা পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপের বিধান এ আইনে যুক্ত করা হয়েছে।
উপর বর্নিত আইনের খসড়া ভালো হয়েছে। তবে-
"খসড়া আইন অনুযায়ী, পরিবার নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ করলে, সেই অভিযোগের তদন্ত নিরাপত্তা বাহিনী নিজেই করবে (ধারা ১৪)। অর্থাৎ, পুলিশ নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিজেই তদন্ত করে নিজেকে দায়মুক্ত দেখাতে পারবে। এরপর সেই তদন্তের ভিত্তিতে অভিযোগটি আদালতে মিথ্যা বিবেচিত হলে অভিযোগকারী পরিবারের ৫ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে (ধারা ২১)।"- আইনে তদন্তকারীর অভিযোগ প্রমানে অভিযোগকারীকেই শাস্তি ভোগ করতে হবে কেন?
তেমন ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্তকারীদের দিয়ে পুনঃতদন্ত করার বিধান থাকা উচিৎ।
আমাদের দাবী ঃ
গুম প্রতিরোধ এবং এর বিচারের জন্য আইন পাশ করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
পাশাপাশি সরকারের কাছে আবেদন রাখছি -------
গুম হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা প্রনয়ণ করতে হবে।
এই গুম তালিকার গেজেট করতে হবে।
গুম হয়ে যারা আর ফেরত আসেনি তাদেরকে শহীদ ঘোষণা করতে হবে।
গুম হওয়া ব্যক্তি বা পরিবারকে এককালীন আর্থিক ক্ষতি পূরণ দিতে হবে এবং একই সঙ্গে মাসিক ভাতা দিতে হবে। যেরকম শ্রদ্ধেয় মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া হচ্ছে।
গুম হওয়া ব্যক্তিদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকুরী দিতে হবে।
গুমের তদন্ত অভিযোগকারীর বাহিনী তদন্ত করতে পারবে না। নিরপেক্ষ অন্য বাহিনী দিয়ে তদন্ত করাতে হবে অথবা জুডিশিয়াল তদন্ত করতে হবে।
তদন্ত রিপোর্টের উপরে নারাজি দিয়ে পুনঃতদন্ত দাবী করার সুগোগ অভিযোগকারীর থাকতে হবে।
বড়ো ভাই জুলভার্ন ভাইয়ের লেখার সাথে নিজের কিছু অংশ যোগ করে পোস্ট করলাম।
PMO Bangladesh - প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়