05/06/2026
ইসলাম ধর্মে জুমার (শুক্রবার) দিনের এবং জুমার নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে এই দিনের বিশেষ মর্যাদা ও নামাজের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। নিচে বিস্তারিত রেফারেন্সসহ জুমার নামাজের গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:
#কুরআনের নির্দেশনা ও জুমার নামাজ ফরজ হওয়া
মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে জুমার নামাজের জন্য বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। এটি প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ প্রত্যেক মুসলিম পুরুষের ওপর ফরজ।
আল্লাহ তাআলা সূরা আল-জুমুআহ-এর ৯ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেছেন:
"হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পারো।"
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যে, জুমার আজান হওয়ার পর দুনিয়াবি সব ব্যস্ততা ও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়া আবশ্যক।
# হাদিসের আলোতে জুমার দিনের মর্যাদা
রাসূলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনকে সপ্তাহের সেরা দিন এবং ঈদের দিন হিসেবে ঘোষণা করেছেন। হাদিসে এসেছে:
* **সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন:** রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন হলো সর্বশ্রেষ্ঠ। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছিল। আর জুমার দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।" *(সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ৮৫৪)*
* **ঈদের দিন:** ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ এই দিনটিকে মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন বানিয়েছেন।" *(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বর: ১০৯৮)*
# জুমার নামাজের বিশেষ ফজিলত ও গুনাহ মাফ
জুমার নামাজ আদায়ের মাধ্যমে বান্দার পূর্ববর্তী সপ্তাহের ছোটখাটো গুনাহ খাতা ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
* **গুনাহ খাতা মুক্তি:** রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অজু করলো, অতঃপর জুমার নামাজে এলো, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনলো এবং নীরব থাকলো, তার এই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা এবং আরও অতিরিক্ত তিন দিনের (ছোট) গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।" *(সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ৮৫৭)*
* **প্রতি কদমে এক বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব:** রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিনে সকাল সকাল গোসল করলো এবং করালো, তারপর ইমামের কাছে গিয়ে বসল, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনলো এবং কোনো অনর্থক কাজ করলো না, তার মসজিদে যাওয়ার প্রতিটি কদমের বিনিময়ে এক বছরের রোজা ও এক বছরের নফল নামাজের সওয়াব দান করা হবে।" *(সুনানে তিরমিজি, হাদিস নম্বর: ৪৯৬)*
# জুমা বর্জন করার ভয়াবহ পরিণতি
ইসলামে জুমার নামাজ হেলাফেলা করে ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বিনা কারণে জুমা বর্জন করা মুনাফিকির শামিল।
* **দিল মোহর মেরে দেওয়া:** রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "লোকদের উচিত জুমার নামাজ ত্যাগ করা থেকে বিরত থাকা, নতুবা আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেবেন। অতঃপর তারা গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।" *(সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ৮৬৫)*
* **অন্তরে কপটতা সৃষ্টি হওয়া:** অন্য এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি অলসতাবশত টানা তিনটি জুমার নামাজ পরিত্যাগ করবে, আল্লাহ তাআলা তার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন (অর্থাৎ সে হিদায়াত থেকে বঞ্চিত হবে)।" *(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নম্বর: ১০৫২)*
#জুমার দিনের একটি বিশেষ মুহূর্ত (দোয়া কবুলের সময়)
জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা-ই প্রার্থনা করে, আল্লাহ তা কবুল করেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের উল্লেখ করে বলেছেন, "এই দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, কোনো মুসলিম বান্দা যদি সেই মুহূর্তে নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করে, তবে আল্লাহ তাকে তা অবশ্যই দান করেন।" *(সহীহ বুখারী, হাদিস নম্বর: ৯৩৫)*
মুহাদ্দিসগণের মতে, এই বিশেষ সময়টি হলো জুমার দিন আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত অথবা ইমামের মিম্বারে বসা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়টুকু।