05/07/2026
চিড়িয়াখানা স্থাপনের উদ্দেশ্যসমূহ:
১. বিনোদন: মানুষের চেনা ও জানার আগ্রহ একটি স্বভাবজাত প্রবৃত্তি। বিশেষ করে শিশুদের বন্য প্রাণীকে স্ব-চক্ষে দেখা ও তাদের সম্পর্কে জানার আগ্রহ শিশু চরিত্রের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এছাড়া সকল বয়সের সকল শ্রেণির মানুষের কাছে বন্য প্রাণীদের প্রতি আকর্ষণ ও তাদেরকে স্ব-চক্ষে দেখা ও জানার আগ্রহ একটি অতি চিত্তাকর্ষণ বিনোদন। চিড়িয়াখানা বন্যপ্রাণীদরে সংগ্রহ করে প্রদর্শনীর মাধ্যমে মানুষের চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করে।
২.দূর্লভ ও বিলুপ্ত বন্যপ্রাণী সংগ্রহ ও প্রজনন: যুগ যুগ ধরে পৃথিবীর জলবায়ুর পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার কারণে জীব-বৈচিত্র হুমকির সম্মুখিন হয়ে পড়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মানুষের বাসস্থান নির্মাণ, শিল্প কারখানা স্থাপন ও বিভিন্ন কারণে কাঠ সংগ্রহ বৃদ্ধির ফলে দিন দিন বনজঙ্গল উজাড় হচ্ছে। ফল স্বরূপ বন্যপ্রাণীর আহার ও বাসস্থান সংকুচিত হচ্ছে। অনেক বন্যপ্রাণী ইতোমধ্যে পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও হুমকিতে থাকা ও বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী সংগ্রহ করে চিড়িয়াখানায় সংরক্ষণের মাধ্যমে তাদের প্রজনন করানো হয় এবং প্রাণীটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা হয়।
৩. প্রাণী বৈচিত্র সংরক্ষণ: বন্য প্রাণীদের আবাসস্থল দিন দিন সংকুচিত হওয়ার কারণে তাদের প্রাকৃতিক স্বাভাব-চরিত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চিড়িয়াখানায় প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরীর মাধ্যমে এ প্রাণী বৈচিত্র সংরক্ষণ করা হয়।
৪. শিক্ষা: চিড়িয়াখানায় বন্য প্রাণীদের পরিচিতি যেমন-বিস্তৃতি, আকার-আকৃতি, স্বভাব-চরিত্র, বাসস্থান ব্যবস্থাপনা, প্রকৃতিতে অবস্থান, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, প্রজনন, জীবনকাল প্রভৃতি বর্ণনার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রী ও দর্শণার্থীদের প্রাণীদের সর্ম্পকে প্রাথমিক জ্ঞান প্রদান করা হয়।
৫.গবেষণা: চিড়িয়াখানায় সংরক্ষিত বন্য প্রাণীদের নিয়ে প্রাণী বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন গবেষণামূলক কাজ সম্পাদিত হয়।
৬.গণসচেতনতা বৃদ্ধি: বন্য প্রাণীদরে প্রতি সদয় আচরণ ও তাদের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি মানুষের একটি সামাজিক আচরণ হওয়া উচিত। চিড়িয়াখানা বন্য প্রাণীদের প্রতি জীব কল্যানের এ শিক্ষাটি দিয়ে থাকে।