জননেতা আনোয়ার জাহিদ স্মৃতি সংসদ

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • জননেতা আনোয়ার জাহিদ স্মৃতি সংসদ

জননেতা আনোয়ার জাহিদ স্মৃতি সংসদ জননেতা আনোয়ার জাহিদ স্মৃতি সংসদ

প্রখ্যাত সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী আনোয়ার জাহিদ ঝিনাইদহ শহরের দাড়িয়া গোবিন্দপুর গ্রামে ১৯৩৫ সালে ১২ জুন জন্মগ্রহণ করেন। লেখাপড়া করেন ঝিনাইদহ উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয়, দৌলতপুর বিএল কলেজ, রাজশাহী সরকারী কলেজে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম এ ভর্তি হন। কিন্তু জেলে বন্দি থাকার কারণে এম. এ পরীক্ষা দিতে পারেননি।

একজন বামপন্থী হিসেবে তাঁর রাজনৈতিকজীবন শুরু। ছাত্রজীবনে নিখিল পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র

লীগে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ছাত্রলীগের ঝিনাইদহ মহকুমা শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ’৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে ঝিনাইদহ হতে ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। ’৫৪ সালে ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। ’৫৫ সালে সাহিত্য মজলিসের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ’৫৬ সালে রাজশাহী সরকারী কলেজের নির্বাচিত হন ভিপি। ’৫৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগের সেক্রেটারী নির্বাচিত হন। ’৬১ সালে গ্রেফতার হন। ’৬২ সালে থেকে বের হয়ে ছাত্র রাজনীতি থেকে বিদায় নেন। তিনি ছাত্র রাজনীতির সময়ই সাংবাদিকতা শুরু করেন। ’৬৫ সালে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। একই সালে ন্যাপের অল পাকিস্তান সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ’৬৮ সালে ন্যাপ দু’ভাগ হয়। ভাসানী যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ’৬৯ সালে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।’ ৭৭ সালে পুনরায় ন্যাপ নতুনভাবে পুনর্গঠন করা হলে তিনি ন্যাপের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন। ’৭৮ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ৫ দলের সমন্বয়ে ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট গঠিত হয়। তিনি ঐ ফ্রন্টে যোগ দেন। একই সালে আনোয়ার জাহিদ ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

রাষ্ট্রপতি এরশাদের শাসনমলে যোগ দেন জাতীয় পার্টিতে। ’৮৬ সালে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে কিছুদিন ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ’৮৮ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। ’৮৯ সালে এনডিপি গঠন করেন। ’৯১ সালে বিএনডিপি গঠন করেন এবং দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। একই সালে ১০টি দলের সমন্বয়ে এনডিএ গঠিত হয়। তিনি এ-ফ্রন্টের সেক্রেটারী জেনারেল নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৬ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। শুধু রাজনীতি নয়, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের এই সাবেক নেতা সাংবাদিকতা পেশায় দীর্ঘদিন জড়িত ছিলেন। ১৯ বছর বয়সে তিনি যখন ছাত্রনেতা, তখন দৈনিক ইত্তেহাদের সহকারী সম্পাদক হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। ’৫৮ সালে অর্ধ সাপ্তাহিক ধূমকেতুর সহকারী সম্পাদক, ’৫৯ সালে দৈনিক সংবাদের সহকারী সম্পাদক, ’৬০ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের সহকারী সম্পাদক, ’৬৩ সালে সাপ্তাহিক জনতার সম্পাদক, ’৬৬ সালে ইংরেজী সাপ্তাহিক হলিউডে’র উপ-সম্পাদক, ’৭০ সালে সাপ্তাহিক গণবাংলার নির্বাহী সম্পাদক, ’৭২ সালে ইংরেজী পত্রিকা ডেইল দ্যা পিপলস-এর নিউজ এডিটর এবং ’৭৭ সালে বাংলাদেশ টাইমস-এর নিউজ এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ কাজ করেন দৈনিক ইনকিলাব-এ।

সাংবাদিক জীবনে আনোয়ার জাহিদ শুধু সাংবাদিকতা করেননি সাংবাদিকদের নেতৃত্বেও দিয়েছেন। ’৬২, ’৬৩, ৬৪ সালে তিনি ডিইউজের সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। ’৬৫, ’৬৬ সালে তিনি ডিইউজের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ’৭৮, ’৮৩ সালে একই সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং দায়িত্ব পালন করেন।

আনোয়র জাহিদ ২০০৯ সালের ১৩ আগস্ট ঢাকার গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। আনোয়ার জাহিদের মৃত্যুর খবরে সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বিএনপি মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন, দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ. এম. এম. বাহাউদ্দীন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ, জাতীয় পার্টি মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি ১ পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক।

লেখাটি আবেগ, শ্রদ্ধা ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও গভীর করে মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণলেখা/ফিচার হিসেবে পরিমার্জন করলে এমন হতে পারে—...
13/08/2026

লেখাটি আবেগ, শ্রদ্ধা ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও গভীর করে মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণলেখা/ফিচার হিসেবে পরিমার্জন করলে এমন হতে পারে—
Writing
কিংবদন্তি সাংবাদিক ও জননেতা আনোয়ার জাহিদের মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা
মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা
কিংবদন্তি সাংবাদিক, বিশিষ্ট জননেতা, সাবেক মন্ত্রী এবং গণমানুষের কণ্ঠস্বর—আমার রাজনীতি ও সাংবাদিকতার শিক্ষক, পথপ্রদর্শক আনোয়ার জাহিদের মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছি।
আজ তিনি আমাদের মাঝে শারীরিকভাবে নেই। কিন্তু তাঁর কর্ম, আদর্শ, চিন্তা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাংবাদিকতার সাহস এবং মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা আজও আমাদের পথ দেখায়। সময়ের ব্যবধান যতই দীর্ঘ হোক, কিছু মানুষকে কখনো বিস্মৃত হওয়া যায় না। আনোয়ার জাহিদ তেমনই একজন বিরল ব্যক্তিত্ব।
আমার রাজনীতি ও সাংবাদিকতার শিক্ষক
আনোয়ার জাহিদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক সহকর্মী কিংবা সাংবাদিকতার অঙ্গনের একজন পরিচিত মানুষের সম্পর্ক ছিল না। তিনি ছিলেন আমার রাজনীতি ও সাংবাদিকতার শিক্ষক, অভিভাবক ও পথপ্রদর্শক।
তাঁর কাছ থেকে আমি শিখেছি কীভাবে মানুষের কথা বলতে হয়, কীভাবে প্রতিকূলতার মধ্যেও সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে হয় এবং কীভাবে রাজনীতিকে কেবল ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে মানুষের কল্যাণের একটি দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হয়।
তিনি বুঝিয়েছেন—সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ লেখা নয়; সাংবাদিকতার সঙ্গে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা, সত্যের প্রতি আনুগত্য এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সাহস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
রাজনীতিও তাঁর কাছে ছিল কেবল পদ-পদবির বিষয় নয়। মানুষের অধিকার, জাতীয় স্বার্থ, গণতন্ত্র এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখাই ছিল রাজনীতির অন্যতম উদ্দেশ্য।
সাংবাদিকতায় এক উজ্জ্বল অধ্যায়
আনোয়ার জাহিদ ছিলেন এমন একজন সাংবাদিক, যিনি সাংবাদিকতাকে জীবনের একটি মহান দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
তাঁর লেখনীতে ছিল সাহস, বক্তব্যে ছিল দৃঢ়তা এবং চিন্তায় ছিল সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি বিশ্বাস করতেন, সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা সমাজের বিবেক হিসেবে কাজ করবে। তাই অন্যায়, অনিয়ম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলার ক্ষেত্রে তিনি কখনোই আপসের রাজনীতি করেননি।
সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, অধিকার-বঞ্চনা, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও রাষ্ট্রীয় জীবনের নানা সংকট তাঁর চিন্তা ও কর্মের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
তিনি আমাদের শিখিয়েছেন—একজন সাংবাদিকের কলম কেবল খবর প্রকাশ করবে না; মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে।
জননেতা হিসেবে মানুষের পাশে
সাংবাদিকতার পাশাপাশি জনজীবনেও আনোয়ার জাহিদ তাঁর নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
তিনি ছিলেন গণমানুষের রাজনীতিতে বিশ্বাসী একজন জননেতা। মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল আন্তরিক ও হৃদয়গ্রাহী। সাধারণ মানুষের কথা শোনা, তাঁদের সমস্যা বোঝা এবং রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পরিসরে সেই সমস্যাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল।
জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কই একজন প্রকৃত জননেতার সবচেয়ে বড় শক্তি। আনোয়ার জাহিদের মধ্যে সেই শক্তি ছিল।
তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তাঁকে সমসাময়িক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিল।
জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শক্তির ঐক্যে ভূমিকা
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী শক্তিকে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের ধারায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও আনোয়ার জাহিদের ভূমিকা স্মরণযোগ্য।
তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে বিভিন্ন মত ও পথের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ঐক্য প্রয়োজন।
তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল—নিজস্ব আদর্শে দৃঢ় থাকা, কিন্তু বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের পথ খোলা রাখা।
এই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা তাঁকে একজন দূরদর্শী রাজনীতিক হিসেবে স্বতন্ত্র মর্যাদা দিয়েছিল।
একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়
আনোয়ার জাহিদের জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল—তিনি মানুষের মানুষ ছিলেন।
পদ, ক্ষমতা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে পারতেন। তাঁর কাছে মানুষ ছিল রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
তিনি বিশ্বাস করতেন, রাষ্ট্র ও রাজনীতির সমস্ত কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণ।
এই মানবিক দর্শনই তাঁর সাংবাদিকতা ও রাজনীতিকে এক সুতোয় গেঁথেছিল।
আমার জীবনে তাঁর প্রভাব
আমার ব্যক্তিগত জীবনে আনোয়ার জাহিদের প্রভাব অত্যন্ত গভীর।
আমি যখন সাংবাদিকতা ও রাজনীতির পথচলায় নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি, তখন তাঁর সান্নিধ্য আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। তাঁর কথাবার্তা, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, সংবাদ ও সমাজ সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।
তিনি শুধু কথা বলে শিক্ষা দিতেন না; তাঁর জীবন ও কর্মই ছিল একটি জীবন্ত পাঠশালা।
তাঁর কাছ থেকে আমি উপলব্ধি করেছি—একজন মানুষকে বড় করে তাঁর পদ নয়, তাঁর আদর্শ, সততা, সাহস এবং মানুষের জন্য তাঁর অবদান।
আজ আমি যখন সাংবাদিকতা ও রাজনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করি, তখন বহু মুহূর্তে তাঁর শিক্ষা ও উপদেশ মনে পড়ে। মনে হয়, তিনি যেন দূর থেকে এখনও বলে যাচ্ছেন—মানুষের পক্ষে থাকো, সত্যের পক্ষে থাকো এবং অন্যায়ের সঙ্গে আপস করো না।
তাঁর মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি
আনোয়ার জাহিদের চলে যাওয়া শুধু তাঁর পরিবার কিংবা ঘনিষ্ঠজনদের জন্য নয়; সাংবাদিকতা, রাজনীতি ও দেশের গণমানুষের জন্যও ছিল এক অপূরণীয় ক্ষতি।
একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক, প্রাজ্ঞ রাজনীতিক ও মানুষের কাছের নেতা একসঙ্গে হারানো সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
তাঁর অনুপস্থিতি আমরা প্রতিনিয়ত অনুভব করি। বিশেষ করে যখন সাংবাদিকতা ও রাজনীতিতে সত্য, ন্যায়, মূল্যবোধ ও জনস্বার্থের প্রশ্ন সামনে আসে, তখন তাঁর মতো মানুষের প্রয়োজন আরও গভীরভাবে অনুভূত হয়।
মৃত্যুবার্ষিকী হোক আদর্শের পুনর্জাগরণের দিন
মৃত্যুবার্ষিকী শুধু ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর দিন নয়। এটি আত্মসমালোচনা ও অঙ্গীকারেরও দিন।
আনোয়ার জাহিদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা তখনই নিবেদন করা সম্ভব, যখন আমরা তাঁর আদর্শকে নিজেদের জীবনে ধারণ করতে পারব।
সত্যের পক্ষে কথা বলা, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, মানুষের অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসা, সাংবাদিকতার নৈতিকতা বজায় রাখা এবং রাজনীতিকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা—এসবই হতে পারে তাঁর স্মৃতির প্রতি আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা।
নতুন প্রজন্মের সাংবাদিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের তাঁর জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ সময় বদলালেও সত্য, ন্যায়, মানবিকতা ও মানুষের অধিকার—এই মূল্যবোধগুলোর প্রয়োজন কখনো শেষ হয় না।
স্মৃতিতে আপনি অমর
মানুষ পৃথিবী থেকে চলে যায়, কিন্তু তাঁর কর্ম থেকে যায়। তাঁর আদর্শ থেকে যায়। তাঁর সৃষ্টি ও অবদান থেকে যায়। মানুষের হৃদয়ে তিনি বেঁচে থাকেন।
আনোয়ার জাহিদও তেমনই একজন মানুষ।
তাঁর চলে যাওয়ার বহু বছর পরও তাঁর নাম উচ্চারিত হয় শ্রদ্ধার সঙ্গে। তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা তাঁকে স্মরণ করেন, সাংবাদিকতার মানুষ তাঁকে স্মরণ করেন, আর তাঁর মতো একজন অভিভাবক ও শিক্ষককে যারা কাছ থেকে পেয়েছেন, তারা তাঁকে স্মরণ করেন গভীর ভালোবাসায়।
আমার কাছে তিনি শুধু অতীতের একজন রাজনৈতিক নেতা বা সাংবাদিক নন; তিনি আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নাম, একজন শিক্ষক, একজন অভিভাবক এবং একজন অনুপ্রেরণার উৎস।
শেষ শ্রদ্ধা
আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি সেই মহান মানুষটিকে, যিনি তাঁর কর্ম দিয়ে একটি প্রজন্মকে প্রভাবিত করেছেন।
শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি তাঁর সাংবাদিকতার সাহসকে।
শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞাকে।
শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসাকে।
শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি তাঁর শিক্ষা ও আদর্শকে।
কিংবদন্তি সাংবাদিক ও জননেতা আনোয়ার জাহিদ, আপনার শারীরিক অনুপস্থিতি আমাদের হৃদয়ে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। কিন্তু আপনার কর্ম, আদর্শ, শিক্ষা ও স্মৃতি আমাদের মাঝে চিরজাগরুক হয়ে থাকবে।
মহান আল্লাহ আপনার জীবনের সকল নেক আমল কবুল করুন, আপনার ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন, কবরকে নূরে পরিপূর্ণ করুন এবং আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।
আপনার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা, অশেষ ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা।
আপনি নেই—কিন্তু আপনার আদর্শ আছে।
আপনি নেই—কিন্তু আপনার শিক্ষা আছে।
আপনি নেই—কিন্তু আপনার কর্ম আমাদের মাঝে বেঁচে আছে।
কিংবদন্তি সাংবাদিক ও জননেতা আনোয়ার জাহিদ—আপনার স্মৃতি ও আদর্শ আমাদের পথচলার অনন্ত প্রেরণা হয়ে থাকুক।
বিনম্র শ্রদ্ধা ও দোয়া।

13/08/2026

স্মরণ ও শ্রদ্ধা

13/08/2026
13/08/2026

স্মৃতির পাতায় আনোয়ার জাহিদ
সাংবাদিকতা ও রাজনীতির আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র
মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা
মহাসচিব
ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি—এনডিপি
কিছু মানুষ চলে যান, কিন্তু তাঁদের প্রস্থান কখনোই শূন্যতা তৈরি করে শেষ হয়ে যায় না। বরং সময় যত এগিয়ে যায়, তাঁদের কর্ম, চিন্তা, আদর্শ ও ব্যক্তিত্ব ততই নতুন করে আলোচনায় ফিরে আসে। তাঁরা হয়ে ওঠেন ইতিহাসের অংশ, প্রজন্মের প্রেরণা এবং ভবিষ্যতের জন্য একেকটি জীবন্ত শিক্ষা।
জননেতা আনোয়ার জাহিদ তেমনই এক বিরল ব্যক্তিত্ব।
আজ ১৩ আগস্ট ২০২৬। প্রাজ্ঞ সাংবাদিক, মেধাবী রাজনীতিক, সংগ্রামী জাতীয়তাবাদী নেতা, গণতন্ত্রের অকুতোভয় সৈনিক, রাজনৈতিক সংগঠক এবং জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী রাজনৈতিক শক্তির ঐক্যের অন্যতম রূপকার আনোয়ার জাহিদের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী।
২০০৮ সালের ১৩ আগস্ট তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। দেখতে দেখতে তাঁর মৃত্যুর ১৮ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু তাঁর নাম, তাঁর রাজনৈতিক চিন্তা, তাঁর সাংবাদিকতার স্মৃতি এবং তাঁর রেখে যাওয়া রাজনৈতিক আদর্শ আজও সহকর্মী, অনুসারী ও শুভানুধ্যায়ীদের স্মৃতিতে অমলিন।
একজন মানুষের মৃত্যুর ১৮ বছর পরও যখন তাঁর রাজনৈতিক দর্শন, সাংগঠনিক দক্ষতা, সাংবাদিকতা, রাষ্ট্রচিন্তা এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে আলোচনা হয়, তখন বুঝতে হয়—তিনি শুধু একটি সময়ের মানুষ ছিলেন না; তিনি সময়কে অতিক্রম করে যাওয়ার মতো কিছু রেখে গেছেন।
ছাত্রজীবনেই রাজনীতির হাতেখড়ি
আনোয়ার জাহিদের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্রজীবনেই। তিনি নিখিল পূর্ব-পাকিস্তান ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং ছাত্রলীগের ঝিনাইদহ মহকুমার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের সময় ঝিনাইদহে ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করা হয়। মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিভিন্ন আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ তাঁর রাজনৈতিক চেতনার ভিত্তি তৈরি করে।
তাঁর রাজনীতির কেন্দ্রে ছিল জনগণ।
ক্ষমতা নয়, মানুষের অধিকার; ব্যক্তিগত সুবিধা নয়, জাতীয় স্বার্থ; বিভাজন নয়, বৃহত্তর ঐক্য—এই মূল্যবোধগুলো তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল।
জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিকাশে এক গুরুত্বপূর্ণ নাম
১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠনের সময় আনোয়ার জাহিদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তিকে সংগঠিত করা, বিভিন্ন মত ও পথের মানুষকে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা এবং একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য।
১৯৮৬ সালে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাকে আরও সমৃদ্ধ করে।
তবে মন্ত্রিত্ব কিংবা সংসদ সদস্য পদ তাঁর পরিচয়ের একমাত্র পরিচয় হয়ে ওঠেনি। বরং তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে, তা হলো—রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা।
এনডিপি প্রতিষ্ঠা: একটি বিকল্প রাজনৈতিক ভাবনার প্রকাশ
১৯৮৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আনোয়ার জাহিদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি—এনডিপি।
এই রাজনৈতিক উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চিন্তার একটি শক্তিশালী বিকল্প গড়ে তোলা।
এনডিপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ছিলেন শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।
আনোয়ার জাহিদের রাজনৈতিক দর্শনে দল ছিল একটি মাধ্যম; বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ ছিল মূল লক্ষ্য। তিনি মনে করতেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব মতাদর্শ ও কর্মসূচি থাকবে, কিন্তু দেশের স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতা, সংলাপ ও সমন্বয়ের জায়গাও থাকতে হবে।
১৯৯০ সালে বিএনডিপি গঠনেও তাঁর ভূমিকার কথা রাজনৈতিক অঙ্গনে স্মরণ করা হয়। জাতীয়তাবাদী, গণতান্ত্রিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে সমন্বয়ের যে চিন্তা তিনি ধারণ করতেন, তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তারই প্রতিফলন দেখা যায়।
সাতদলীয় ও চারদলীয় জোটের রাজনীতিতে ভূমিকা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জোট রাজনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় আনোয়ার জাহিদ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার তথ্য উপদেষ্টা হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
এই সময়ে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রীয় নীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে তাঁর অভিজ্ঞতা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা কাজে লাগে।
সাতদলীয় ও চারদলীয় জোট গঠনের প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা তাঁর রাজনৈতিক কৌশলগত দক্ষতার পরিচায়ক।
তিনি বুঝেছিলেন—বাংলাদেশের মতো বহুমাত্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় কোনো একটি দলের একক শক্তি দিয়ে সবসময় বৃহত্তর রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সমমনা শক্তির মধ্যে সমঝোতা, আস্থা ও ঐক্য।
এই চিন্তাই তাঁকে পরিণত করেছিল জোট রাজনীতির একজন গুরুত্বপূর্ণ কারিগরে।
সাংবাদিক আনোয়ার জাহিদ: কলম ছিল তাঁর আরেক অস্ত্র
আনোয়ার জাহিদের জীবনের আরেকটি বড় পরিচয়—তিনি ছিলেন একজন প্রাজ্ঞ সাংবাদিক।
১৯৫৬ সালে দৈনিক ইত্তেহাদ-এর সহকারী সম্পাদক হিসেবে তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা।
এরপর ১৯৫৮ সালে অর্ধসাপ্তাহিক ধূমকেতু-এর সহকারী সম্পাদক, ১৯৫৯ সালে দৈনিক সংবাদ-এর সহকারী সম্পাদক এবং ১৯৬০ সালে দৈনিক ইত্তেফাক-এর সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬৩ সালে তিনি সাপ্তাহিক জনতা-এর সম্পাদক হন।
১৯৬৬ সালে ইংরেজি সাপ্তাহিক হলিডে-এর উপসম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭০ সালে সাপ্তাহিক গণবাংলা-এর নির্বাহী সম্পাদক এবং ১৯৭২ সালে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি পিপলস-এর বার্তা সম্পাদক ও বাংলাদেশ টাইমস-এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি দৈনিক ইনকিলাব-এর উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
একজন মানুষের সাংবাদিকতা জীবনের এই দীর্ঘ পরিক্রমাই বলে দেয়, সংবাদপত্রের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল গভীর, দীর্ঘস্থায়ী এবং বহুমাত্রিক।
তিনি শুধু সংবাদ লিখতেন না; সংবাদকে বিশ্লেষণ করতেন। তিনি শুধু রাজনৈতিক খবর প্রকাশ করতেন না; রাজনীতির অন্তর্নিহিত প্রবাহ বুঝতেন।
তাঁর কলমে ছিল তথ্য, যুক্তি, বিশ্লেষণ এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞার সমন্বয়।
সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামী নেতৃত্ব
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও আনোয়ার জাহিদ ছিলেন সক্রিয়।
তিনি ১৯৬২, ১৯৬৩ ও ১৯৬৪ সালে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন—ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬৫ ও ১৯৬৬ সালে সংগঠনটির সহসভাপতি এবং ১৯৭৮ ও ১৯৮৩ সালে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা, অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে তাঁর অবস্থান ছিল দৃঢ়।
আজকের সাংবাদিক সমাজ যখন স্বাধীন সাংবাদিকতা, পেশাগত নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি, তখন আনোয়ার জাহিদের সাংবাদিক জীবন নতুন করে স্মরণ করার প্রয়োজন আরও বেশি।
রাজনীতি মানে শালীনতা, যুক্তি ও আদর্শ
আনোয়ার জাহিদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি ছিল শালীনতা।
তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে মতের বিরোধে গেছেন, কঠোর সমালোচনা করেছেন, রাজনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়েছেন—কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ, অশালীন ভাষা কিংবা কুৎসাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেননি।
তাঁর কাছে রাজনীতি ছিল মতের প্রতিযোগিতা, শত্রুতার যুদ্ধ নয়।
আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে রাজনৈতিক বিতর্ক অনেক সময় যুক্তি ও নীতির জায়গা থেকে সরে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপমান ও চরিত্রহননের দিকে চলে যায়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে দুর্বল করে।
আনোয়ার জাহিদের রাজনীতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রতিপক্ষকে পরাজিত করা যায়, কিন্তু তাকে অপমান না করেও রাজনৈতিক লড়াই করা সম্ভব।
মেধাভিত্তিক রাজনীতির প্রবক্তা
আনোয়ার জাহিদ বিশ্বাস করতেন, রাজনীতিতে জ্ঞান ও মেধার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বুঝেছিলেন—রাষ্ট্র পরিচালনা শুধু বক্তৃতা কিংবা স্লোগানের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অর্থনীতি, ইতিহাস, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, প্রশাসন, আইন, সমাজ, সংস্কৃতি এবং মানুষের মনস্তত্ত্ব।
তাই একজন রাজনীতিককে পড়তে হবে, জানতে হবে, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং রাষ্ট্র সম্পর্কে গভীর ধারণা অর্জন করতে হবে।
তাঁর সাংবাদিকতা ও রাজনীতির সমন্বিত জীবন ছিল এই দর্শনের বাস্তব উদাহরণ।
তিনি ছিলেন একই সঙ্গে সংবাদ বিশ্লেষক, রাজনৈতিক চিন্তক, সংগঠক ও কৌশলবিদ।
‘উজান স্রোতের যাত্রী’
আনোয়ার জাহিদের জীবনকে অনেকটা উজান স্রোতের বিরুদ্ধে চলার সঙ্গে তুলনা করা যায়।
রাজনীতিতে যখন সুবিধাবাদী অবস্থান অনেকের কাছে সহজ পথ হয়ে ওঠে, তখনও তিনি নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসকে আঁকড়ে ছিলেন।
প্রতিকূলতা এসেছে। রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলেছে। ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে।
কিন্তু তিনি তাঁর আদর্শ ও রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে সহজে সরে যাননি।
এই কারণেই তাঁর অনুসারীদের কাছে আনোয়ার জাহিদ শুধু একজন সাবেক মন্ত্রী কিংবা রাজনৈতিক দলের নেতা নন; তিনি একটি রাজনৈতিক আদর্শের নাম।
২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ও আনোয়ার জাহিদের প্রাসঙ্গিকতা
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক তৈরি করেছে।
গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, জবাবদিহি, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র, মানবাধিকার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।
কিন্তু আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তনের সূচনা এবং সেই পরিবর্তনকে একটি কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থায় রূপ দেওয়া এক বিষয় নয়।
এখানেই আনোয়ার জাহিদের রাজনৈতিক দর্শন নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
জননেতা আনোয়ার জাহিদ স্মৃতি সংসদের সভাপতি এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসার দৃষ্টিতে, একটি নির্বাচনই রাষ্ট্রের সব সংকটের সমাধান করতে পারে না। প্রয়োজন রাজনৈতিক সংস্কার, প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা।
আনোয়ার জাহিদের রাজনৈতিক দর্শনের আলোকে বলা যায়—গণতন্ত্র শুধু ভোট দেওয়ার অধিকার নয়; গণতন্ত্র হলো নাগরিকের মর্যাদা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, জবাবদিহি এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ওপর জনগণের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ।
ঐক্যের রাজনীতি—আজও যার প্রয়োজন
আনোয়ার জাহিদের অন্যতম বড় রাজনৈতিক শিক্ষা ছিল ঐক্য।
মতপার্থক্য থাকবে—এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক সৌন্দর্য। কিন্তু জাতীয় স্বার্থের মৌলিক প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম ঐকমত্য থাকা প্রয়োজন।
গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব, জনগণের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র এবং আইনের শাসনের মতো মৌলিক বিষয়ে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে সহযোগিতা থাকা জরুরি।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শত্রু না ভেবে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখার যে সংস্কৃতি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রয়োজন, আনোয়ার জাহিদের রাজনৈতিক আচরণে তার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়।
কল্যাণ রাষ্ট্রের স্বপ্ন
রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য কেবল প্রশাসন পরিচালনা নয়। রাষ্ট্রের চূড়ান্ত লক্ষ্য নাগরিকের কল্যাণ নিশ্চিত করা।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং নিরাপদ জীবন—এসব নাগরিকের মৌলিক অধিকার।
আনোয়ার জাহিদের রাজনৈতিক চিন্তাকে আজকের বাস্তবতায় মূল্যায়ন করলে একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রের স্বপ্ন সামনে আসে।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হবে জনগণের আমানত—এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
রাজনৈতিক নেতৃত্ব হবে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক—এই সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
তরুণ প্রজন্মের কাছে আনোয়ার জাহিদ
আজকের তরুণদের কাছে আনোয়ার জাহিদের জীবন তুলে ধরা প্রয়োজন।
কারণ তাঁর জীবনে সাংবাদিকতা ও রাজনীতি পাশাপাশি চলেছে। তিনি ছাত্ররাজনীতি করেছেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, সাংবাদিকতা করেছেন, সাংবাদিকদের সংগঠিত করেছেন, রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন, রাজনৈতিক জোট গঠনে ভূমিকা রেখেছেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বও পালন করেছেন।
তাঁর জীবন তরুণ রাজনীতিকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—
জনপ্রিয়তার চেয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা বড়।
ক্ষমতার চেয়ে আদর্শ বড়।
স্লোগানের চেয়ে জ্ঞান বড়।
ব্যক্তিগত আক্রমণের চেয়ে যুক্তি শক্তিশালী।
বিভেদের চেয়ে জাতীয় ঐক্য বেশি কার্যকর।
১৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ
আজ বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২৬, আনোয়ার জাহিদের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী।
এই উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে জননেতা আনোয়ার জাহিদ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে কবর জিয়ারত, শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী, সাংবাদিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং অনুসারীরা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন।
কিন্তু আনোয়ার জাহিদকে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় শুধু তাঁর কবরে ফুল দেওয়া নয়।
তাঁকে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় হলো তাঁর আদর্শকে ধারণ করা।
তাঁর রাজনৈতিক শিষ্টাচারকে ধারণ করা।
তাঁর মেধাভিত্তিক রাজনীতিকে ধারণ করা।
তাঁর জাতীয় ঐক্যের চিন্তাকে ধারণ করা।
তাঁর সাংবাদিকতার সততা ও দায়িত্ববোধকে ধারণ করা।
স্মৃতির পাতায় যিনি আজও জীবন্ত
একজন মানুষ মারা যান। তাঁর শরীর মাটিতে মিশে যায়। কিন্তু তাঁর চিন্তা যদি মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকে, তাঁর আদর্শ যদি নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে, তাঁর কর্ম যদি ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়—তাহলে তিনি আসলে মৃত্যুবরণ করেন না।
আনোয়ার জাহিদও তাই আজ স্মৃতির পাতায় জীবন্ত।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন একজন সংগ্রামী জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে।
সাংবাদিকতার ইতিহাসে তিনি স্মরণীয় থাকবেন একজন প্রাজ্ঞ সাংবাদিক, সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতা হিসেবে।
রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিহাসে তিনি স্মরণীয় থাকবেন মেধা, শালীনতা, আদর্শ ও ঐক্যের রাজনীতির একজন প্রবক্তা হিসেবে।
আজ তাঁর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাই আমাদের নিজেদের কাছেই প্রশ্ন রাখতে হয়—
আমরা কি তাঁর দেখানো রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পথে হাঁটছি?
আমরা কি মেধা ও যুক্তিনির্ভর রাজনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছি?
আমরা কি জাতীয় স্বার্থে বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যের রাজনীতি করতে পারছি?
আমরা কি জনগণের অধিকারকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে পারছি?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই হয়তো আনোয়ার জাহিদের প্রতি আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধার পরিমাপ।
২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তব রূপ দিতে হলে অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। বাংলাদেশকে যদি সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তাহলে আনোয়ার জাহিদের মতো রাজনীতিকদের জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
কারণ ইতিহাস শুধু অতীতের গল্প নয়—ইতিহাস ভবিষ্যতের পথ দেখায়।
আনোয়ার জাহিদের জীবনও তেমন এক ইতিহাস।
তিনি নেই, কিন্তু তাঁর কলমের ভাষা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাংগঠনিক দক্ষতা, জাতীয় ঐক্যের স্বপ্ন এবং শালীন রাজনীতির শিক্ষা আজও আমাদের সামনে প্রাসঙ্গিক।
১৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছি প্রাজ্ঞ সাংবাদিক, মেধাবী রাজনীতিক, সংগ্রামী জাতীয়তাবাদী নেতা, গণতন্ত্রের অকুতোভয় সৈনিক ও জননেতা আনোয়ার জাহিদকে।
তিনি বেঁচে থাকবেন তাঁর কর্মে।
তিনি বেঁচে থাকবেন তাঁর আদর্শে।
তিনি বেঁচে থাকবেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের স্মৃতির পাতায়।
মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা
মহাসচিব
ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি—এনডিপি

দেশবরেণ্য রাজনীতিক ও সাংবাদিক, সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার জাহিদ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা ও স্মরণগণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও সাং...
11/08/2026

দেশবরেণ্য রাজনীতিক ও সাংবাদিক, সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার জাহিদ
১৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা ও স্মরণ
গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও সাংবাদিকতার অঙ্গনে এক বর্ণাঢ্য জীবন

মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা
মহাসচিব
ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি—এনডিপি

দেশবরেণ্য রাজনীতিক, প্রখ্যাত সাংবাদিক, সাবেক মন্ত্রী এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি—এনডিপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জননেতা আনোয়ার জাহিদের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট)। ২০০৮ সালের এই দিনে ঢাকার গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতা জীবনের অধিকারী আনোয়ার জাহিদ ছিলেন এমন একজন জাতীয় নেতা, যাঁর জীবনের সঙ্গে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংবাদিকতা, জাতীয় ঐক্য এবং জনকল্যাণের নানা অধ্যায় গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১১টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। একই স্থানে জননেতা আনোয়ার জাহিদ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
এছাড়া তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি—এনডিপির উদ্যোগেও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আনোয়ার জাহিদের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্তজা ও মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা এক বিবৃতিতে দলীয় নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি যথাযথ মর্যাদা, শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে জননেতা আনোয়ার জাহিদের মৃত্যুবার্ষিকী পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

ভাষা আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক সংগ্রামে
আনোয়ার জাহিদের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১২ জুন ঝিনাইদহের দাড়িয়া গোবিন্দপুর গ্রামে। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর মধ্যে দেশ, মানুষ ও সমাজের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা তৈরি হয়।
তিনি ঝিনাইদহ উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়, দৌলতপুর বিএল কলেজ ও রাজশাহী সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ শ্রেণিতে ভর্তি হন। তবে রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং কারাবরণের কারণে তাঁর এমএ পরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ছাত্রজীবনেই তিনি ঝিনাইদহে ভাষা আন্দোলনের পক্ষে ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন।
পরবর্তী সময়ে তিনি ছাত্র ইউনিয়ন, পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগ এবং মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি—ন্যাপের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় থাকেন।
তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল—জনগণের অধিকার, জাতীয় স্বার্থ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আনোয়ার জাহিদ জাতীয় রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি সরকারের তথ্যমন্ত্রী ও ত্রাণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি গণমাধ্যম, জনকল্যাণ ও সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে তিনি সক্রিয় ছিলেন।
পরবর্তীতে প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার বাইরে একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি—এনডিপি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর রাজনৈতিক চিন্তায় জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র ও জনগণের অংশগ্রহণ ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
পরবর্তীকালে তিনি বিএনডিপি প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও যুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন উদ্যোগে ভূমিকা রাখেন।
সাংবাদিক আনোয়ার জাহিদ: কলম ছিল তাঁর শক্তি
রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকতায়ও আনোয়ার জাহিদের অবদান ছিল অসাধারণ।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে দৈনিক ইত্তেহাদ-এর সহকারী সম্পাদক হিসেবে সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা করেন তিনি। সেই সময় থেকেই তাঁর লেখনীতে জাতীয় রাজনীতি, মানুষের অধিকার, সামাজিক বৈষম্য এবং রাষ্ট্রীয় নীতির নানা দিক উঠে আসত।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি ধূমকেতু, সংবাদ, ইত্তেফাক, জনতা, গণবাংলা, দ্য পিপলস, বাংলাদেশ টাইমস ও দৈনিক ইনকিলাবসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রে সাংবাদিকতা ও সম্পাদকীয় দায়িত্ব পালন করেন।
একজন সাংবাদিক হিসেবে তিনি শুধু সংবাদ পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা অসঙ্গতি নিয়ে মতামত প্রকাশ করেছেন। তাঁর লেখনী ছিল যুক্তিনির্ভর, সাহসী এবং সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
একই ব্যক্তির মধ্যে সাংবাদিকতা ও রাজনীতির এমন সমন্বয় তাঁকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান এনে দেয়।

আনোয়ার জাহিদের রাজনৈতিক দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল জাতীয় ঐক্য। বিভক্ত রাজনৈতিক পরিবেশে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে বিভিন্ন মত ও পথের মানুষের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি বারবার তুলে ধরেছেন।
এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্তজা আনোয়ার জাহিদের আলোচিত ‘থ্রি ইউনিটি’ তত্ত্বকে জাতীয় ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চিন্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এই চিন্তার মূলকথা ছিল—জাতীয় স্বার্থে বিভাজন অতিক্রম করে বৃহত্তর ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। বর্তমান সময়েও যখন রাজনৈতিক বিভাজন, মতপার্থক্য ও সামাজিক দূরত্ব নিয়ে নানা আলোচনা চলছে, তখন আনোয়ার জাহিদের জাতীয় ঐক্যের ভাবনা নতুন করে আলোচনার দাবি রাখে।
আপসহীন জাতীয়তাবাদী রাজনীতিক
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনোয়ার জাহিদ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, “স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থে তিনি কখনো আপস করেননি।”
সাবেক মন্ত্রী জামাল হায়দার তাঁকে অভিহিত করেছেন একজন “সব্যসাচী রাজনীতিবিদ” হিসেবে।
এই মূল্যায়নগুলো থেকেই বোঝা যায়, আনোয়ার জাহিদের রাজনৈতিক পরিচয় কেবল একটি দলের নেতা হিসেবে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি জাতীয় রাজনীতির বৃহত্তর পরিসরে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
মানুষ আনোয়ার জাহিদ
একজন রাজনীতিক ও সাংবাদিক হিসেবে আনোয়ার জাহিদের পরিচিতির পাশাপাশি তাঁর আরেকটি বড় পরিচয় ছিল—তিনি ছিলেন মানুষের নেতা।
রাজনীতির মাঠে সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্ব দিতেন বলে তাঁর সহকর্মীরা স্মরণ করেন।
তাঁর কাছে রাজনীতি ছিল কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার মাধ্যম নয়; বরং মানুষের কথা বলার, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এবং রাষ্ট্রকে জনকল্যাণমুখী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।

দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতা জীবনের অবসান ঘটে ২০০৮ সালের ১৩ আগস্ট। ঢাকার গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৩ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।
মৃত্যুকালে তিনি এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রেখে যান।
তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি ও সাংবাদিকতায় একটি বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের অবসান ঘটে। তাঁর সহকর্মী, রাজনৈতিক অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মতে, আনোয়ার জাহিদের মতো একই সঙ্গে রাজনীতিক, সাংবাদিক, সংগঠক ও জাতীয় ঐক্যের প্রবক্তা হিসেবে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিত্ব আজকের রাজনীতিতে বিরল।
তাঁর মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, দীর্ঘ ১৮ বছর পরও সেই শূন্যতা পূরণ হয়নি—এমনটাই মনে করেন তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী ও অনুসারীরা।
নতুন প্রজন্মের কাছে আনোয়ার জাহিদ
আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে আনোয়ার জাহিদের জীবন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতার পাঠ।
ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা, দীর্ঘ কারাবরণ, সাংবাদিকতা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন, নতুন রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য কাজ—সবকিছু মিলিয়ে তাঁর জীবন ছিল সংগ্রাম ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ।
তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—রাজনীতি ও সাংবাদিকতা দুটিই মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা যায়। নীতি ও আদর্শকে সামনে রেখে জনসম্পৃক্ত রাজনীতি করা সম্ভব এবং মতপার্থক্যের মধ্যেও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া যায়।
তাঁর আদর্শকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার
আনোয়ার জাহিদের মৃত্যুবার্ষিকী পালনের মূল উদ্দেশ্য শুধু তাঁকে স্মরণ করা নয়; বরং তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক চিন্তা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।
এনডিপি মনে করে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানুষের অধিকার এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এসব ক্ষেত্রে আনোয়ার জাহিদের চিন্তা ও কর্মজীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
১৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জননেতা আনোয়ার জাহিদকে। তিনি ছিলেন রাজনীতির মাঠে একজন সংগ্রামী নেতা, সাংবাদিকতার জগতে একজন সাহসী কলমযোদ্ধা এবং জাতীয় জীবনে একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী।
তাঁর কর্ম ও আদর্শ আমাদের রাজনৈতিক পথচলায় প্রেরণা হয়ে থাকুক—এটাই আজকের দিনে আমাদের প্রত্যাশা।
আল্লাহ জননেতা আনোয়ার জাহিদকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।

জাতীয়তাবাদী রাজনীতির আপসহীন রূপকার আনোয়ার জাহিদ : জন্মবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণআজ ১২ জুন। দেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক, ...
12/06/2026

জাতীয়তাবাদী রাজনীতির আপসহীন রূপকার আনোয়ার জাহিদ : জন্মবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ

আজ ১২ জুন। দেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক, লেখক, রাজনীতিক, ভাষাসংগ্রামী এবং জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারার অন্যতম রূপকার আনোয়ার জাহিদের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৮ সালের এই দিনে ঝিনাইদহ জেলার ঘোড়াশাল ইউনিয়নের নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা এএম দেলোয়ার হোসেন এবং মাতা রাজিয়া বেগম।
আনোয়ার জাহিদ ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী এক বিরল ব্যক্তিত্ব। সাংবাদিকতা, সাহিত্য, রাজনীতি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সংগ্রামে তাঁর অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি সততা, আদর্শ, মেধা এবং দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ১৯৫৬ সালে ঝিনাইদহ মডেল হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর খুলনা বিএল কলেজ, রাজশাহী সরকারি কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সাহিত্যচর্চা, সাংবাদিকতা এবং রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত হয়ে ওঠেন।
বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতে আনোয়ার জাহিদ এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মাত্র অল্প বয়সেই তিনি সাংবাদিকতার অঙ্গনে নিজের স্বকীয়তা প্রতিষ্ঠা করেন। দৈনিক ইত্তেহাদ, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক ইত্তেফাক, সাপ্তাহিক জনতা, ইংরেজি সাপ্তাহিক হলিডে, সাপ্তাহিক গণবাংলা, ডেইলি পিপলস, বাংলাদেশ টাইমস এবং সর্বশেষ দৈনিক ইনকিলাবের উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি সাংবাদিকতার ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার আন্দোলনেও তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ১৯৬২, ১৯৬৩ ও ১৯৬৪ সালে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৬৫ ও ১৯৬৬ সালে সহ-সভাপতি এবং ১৯৭৮ ও ১৯৮৩ সালে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাংবাদিক সমাজের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় তিনি ছিলেন অগ্রসৈনিক।
রাজনৈতিক জীবনে আনোয়ার জাহিদের যাত্রা শুরু হয়েছিল বামপন্থী আদর্শের মাধ্যমে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ঝিনাইদহ অঞ্চলে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫৪ সালে ছাত্র ইউনিয়নে যোগদান এবং ১৯৫৬ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে।
পরবর্তীতে তিনি মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ন্যাপের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৫ সালে নিখিল পাকিস্তান ন্যাপের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং পরবর্তীতে মওলানা ভাসানী নেতৃত্বাধীন ন্যাপের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ইতিহাসে আনোয়ার জাহিদের নাম বিশেষভাবে স্মরণীয়। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় জাতীয়তাবাদী এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী শক্তির মধ্যে ঐক্য অপরিহার্য। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির এক নতুন মডেল উপস্থাপন করেন।
১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি -এর নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠন এবং ঘোষণাপত্র প্রণয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর এই চিন্তাধারা দেশের রাজনৈতিক গতিপথকে প্রভাবিত করে।
১৯৮৬ সালে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তথ্য, ত্রাণ ও শ্রম-জনশক্তি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর দক্ষতা ও দূরদর্শিতা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়।
১৯৮৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তাঁর নেতৃত্বে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এনডিপি আত্মপ্রকাশ ঘটে।তিঁনি হন দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব হন শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।
১৯৯৬ সালে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন এবং ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপারসনের তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আনোয়ার জাহিদ ছিলেন এমন একজন রাজনীতিক যিনি ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন। আধিপত্যবাদ, অন্যায়, বৈষম্য ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী যে কোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপসহীন। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল স্বাধীনতা, জাতীয় মর্যাদা, গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং জনগণের ক্ষমতায়ন।
দুঃখজনক হলেও সত্য, জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর অবদান ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন জীবদ্দশায় সবসময় হয়নি। যে ঐক্যের ভিত্তি তিনি নির্মাণ করেছিলেন, তা পরবর্তীকালে রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তাঁকে প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয়নি। তবুও তিনি কখনও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
২০০৮ সালের ১৩ আগস্ট এই বরেণ্য সাংবাদিক, লেখক ও রাজনীতিক ইন্তেকাল করেন। কিন্তু তাঁর আদর্শ, সংগ্রাম এবং দেশপ্রেম আজও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির কর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
আনোয়ার জাহিদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)-এর চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্তজা এবং মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “আজকের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে আনোয়ার জাহিদের রাজনৈতিক দর্শন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি ছিলেন সাহসী, দূরদর্শী ও আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। নতুন প্রজন্মের উচিত তাঁর জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা।”
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, “জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে আনোয়ার জাহিদ আজও আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর আদর্শ ধারণ করতে পারলে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী, মর্যাদাবান ও আত্মনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাবে।”
তাঁরা মরহুম আনোয়ার জাহিদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর জন্য জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম প্রার্থনা করেন।

জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বাদ জুমা রাজধানীর শাহীনবাগ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মরহুম আনোয়ার জাহিদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

আনোয়ার জাহিদ শুধু একজন ব্যক্তি নন; তিনি একটি আদর্শ, একটি সংগ্রামের নাম, একটি রাজনৈতিক দর্শনের নাম। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ইতিহাসে তাঁর নাম চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হবে।

মো.মঞ্জুর হোসেন ঈসা
মহাসচিব
ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি।

Address

Naya Polton
Dhaka
1000

Telephone

+8801671091720

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when জননেতা আনোয়ার জাহিদ স্মৃতি সংসদ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to জননেতা আনোয়ার জাহিদ স্মৃতি সংসদ:

Shortcuts

Share