16/01/2026
তরুণদের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও নীতিনির্ধারণে প্রভাব নিয়ে একাডেমিক সংলাপ অনুষ্ঠিত।
গণতান্ত্রিক চর্চা, তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় যুবসমাজের ভূমিকা নিয়ে গভীর ও বিশ্লেষণধর্মী আলোচনার লক্ষ্যে “Youth-Led Democratic Movements and Policy Impact” শীর্ষক একাডেমিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংলাপের আলোচ্য বিষয় ছিল— “তারুণ্যের চোখে আগামী নির্বাচন ও গণভোট”।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) বিকাল ৩টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) এবং Democratic Bangladesh।
এই সংলাপে তরুণদের রাজনৈতিক সচেতনতা, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ, জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে Gen-Z-এর দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তরুণদের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বহুমাত্রিক আলোচনা হয়।
• প্রধান অতিথি
অধ্যাপক ড. এম. মাহফুজুর রহমান
উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
।তিনি বলেন, কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে গণভোট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হলেও রাজনৈতিক আলোচনায় এর যথাযথ প্রতিফলন নেই। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোতে মনোনয়ন ও ক্ষমতার হিসাব নিয়ে বিস্তর আলোচনা হলেও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো গঠনমূলক বিতর্ক গড়ে ওঠে না।
তিনি আরও বলেন, ছাত্র সংসদ ও যুব সমাজকে খাটো করে দেখার প্রবণতা মূলত পুরো ইয়ুথ সোসাইটিকেই অবমূল্যায়ন করার শামিল। অথচ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি গড়ে ওঠে তরুণদের চিন্তা ও নেতৃত্ব থেকেই। তরুণদের এই নৈতিক শক্তিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মূল্যায়ন ও সংরক্ষণ করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
• বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য -
•অধ্যাপক ড. মো. তরিকুল ইসলাম
অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ৫৬ লাখ, যা মোট ভোটারের প্রায় ৪৩.৫৬ শতাংশ। এই বিশাল তরুণ ভোটার গোষ্ঠী আসন্ন নির্বাচনে নিঃসন্দেহে ‘ডিসাইডিং ফ্যাক্টর’ হিসেবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, তরুণদের উচিত দলীয় আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে উপযোগিতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। নির্বাচনপূর্ব, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিটি ধাপে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার পর্যালোচনা করতে পারে এবং শিক্ষা ও সুশাসন ইস্যুতে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে। রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়লেই সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
• মো. মাজহারুল ইসলাম
জিএস, জাকসু।
তিনি বলেন, তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে কেবল ভোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হলে ছাত্র সংসদ ও শিক্ষাঙ্গন থেকেই সচেতন নাগরিক তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
• ফেরদৌস আল হাসান
এজিএস, জাকসু।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তরুণদের অংশগ্রহণ কেবল আবেগের বিষয় নয়; এটি একটি দায়িত্বশীল ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। রাষ্ট্র পরিচালনায় তরুণদের মতামত প্রতিফলনের জন্য কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।
• আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা
এজিএস, জাকসু।
তিনি বলেন, তিনি এমন এক প্রজন্মের প্রতিনিধি হয়ে কথা বলছেন যারা একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিতামূলক ও নারীবান্ধব বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে। ১৯৫২ থেকে ২০২৪—প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তরুণরা রক্ত দিয়ে ভূমিকা রেখেছে। আগামীর নির্বাচন কোনো বিশেষ দলের জয়ের প্রশ্ন নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই।
তিনি নারী প্রতিনিধিত্ব, স্বচ্ছ নির্বাচন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতে গণভোটের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
• প্লাবন তারিক
গবেষক ও সাংবাদিক
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তরুণদের আবেগের পাশাপাশি গবেষণা, তথ্য ও বিশ্লেষণভিত্তিক ভূমিকা সময়ের দাবি। এছাড়াও জাবিতে পড়াকালীন তার বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম নিয়ে স্মৃতি চারন করেন।
• সালাহউদ্দিন শুভ
সভাপতি, TYS | কো-অর্ডিনেটর, YPSD | সম্পাদনা সহযোগী, Campus Mirror।
তিনি বলেন, তরুণদের ভূমিকা কেবল আন্দোলন নয়; নীতি বোঝা, নীতি প্রস্তাব করা এবং প্রয়োজনে নীতিকে চ্যালেঞ্জ করাই হবে আগামীর তরুণ রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট্য। আগামী নির্বাচন তরুণদের কাছে একটি ‘Policy Referendum’ হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
• জাহিদুল ইসলাম
সভাপতি, সরকার ও রাজনৈতিক বিতর্ক মঞ্চ
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট কেবল সাংবিধানিক নয়, বরং সামাজিক ও মানবিক। তাই রাজনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি সমাজ সংস্কার আন্দোলন জরুরি।
• মুনিম মুবাশ্বির
সদস্য, দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশন
সহ-প্রতিষ্ঠাতা, BIPED
তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারে রাজনৈতিক ঐকমত্যের অভাব বড় বাধা। গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার প্রস্তাবকে আইনি ও নৈতিক ম্যান্ডেট দেওয়া প্রয়োজন।
• কী-নোট স্পিকার
মেহেদী মামুন
সভাপতি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।
তিনি বলেন, ১৯৪৭ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ইতিহাস বিশ্লেষণ করে বলেন, তরুণদের বেকারত্ব, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর স্পষ্ট অবস্থান জরুরি। তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার পথে বাধা দূর করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন Democratic Bangladesh-এর সদস্য সচিব সাদিক আল আরমান।
সংলাপে বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, আগামীর নির্বাচন ও গণভোটে তরুণ সমাজের সচেতন, নীতিনির্ভর ও সংগঠিত অংশগ্রহণই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
আয়োজনে,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু),
Democratic Bangladesh