09/06/2026
📖 বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের শেকড় কত গভীরে?
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান লিখেছিলেন—
“১৯৭১ সালে যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ধারা চলে আসছে তারও বহু আগে থেকে। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ইতিহাস বহুদিনের, কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাস অল্পদিনের।”
এই বক্তব্য কেবল একটি রাজনৈতিক মতবাদ নয়, বরং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনের দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার একটি ব্যাখ্যা।
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের বীজ যে অনেক আগে থেকেই রোপিত হয়েছিল, তার ইঙ্গিত পাওয়া যায় মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী–এর বিভিন্ন বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থানে। তবে এই চিন্তাধারাকে একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার প্রয়াস দেখা যায় শহীদ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন–এর কর্মকাণ্ডে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনের স্ত্রী কোহিনূর হোসেনের ভাষ্যমতে, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মোয়াজ্জেম হোসেন কয়েক দফা শেখ মুজিবুর রহমান–এর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে বৈঠক করেন। বঙ্গবন্ধু তাঁকে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু তিনি ভিন্ন পথ বেছে নেন।
তিনি প্রথমে “লাহোর প্রস্তাব বাস্তবায়ন কমিটি” এবং পরে “জাতীয়তাবাদী দল” গঠন করেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, লাহোর প্রস্তাব একক পাকিস্তান রাষ্ট্রের কথা বলে না; বরং পূর্ব বাংলার জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত করে। সেই কারণেই তিনি মনে করতেন পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন হতে হবে।
অর্থাৎ, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ধারণা শুধু শহীদ জিয়ার চিন্তায় সীমাবদ্ধ ছিল না; তৎকালীন বহু দেশপ্রেমিক সামরিক কর্মকর্তা, ছাত্রনেতা এবং রাজনৈতিক কর্মীর মধ্যেও এই চেতনার প্রতিফলন ঘটেছিল।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে—
যদি তাই হয়, তবে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন আওয়ামী লীগের মাধ্যমেই কেন তাঁর লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করলেন না? আওয়ামী লীগ কি একই দাবির পক্ষে ছিল না?
এই প্রশ্নের উত্তরে অনেক গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, মোয়াজ্জেম হোসেন স্বাধীনতার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর কাছে স্বাধীনতা ছিল চূড়ান্ত লক্ষ্য, কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয় নয়।
অন্যদিকে, সেই সময় আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল স্বায়ত্তশাসনভিত্তিক। ভাষাভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত আন্দোলন তখনও স্বাধীনতার চূড়ান্ত দাবিতে পুরোপুরি রূপ নেয়নি। আন্দোলনের মূল সুর ছিল অধিকারের প্রশ্ন, কেন্দ্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি।
ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, স্বাধীন বাংলাদেশের ধারণা, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের বিকাশ এবং মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতি—সবই একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার ফল।
বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু স্বাধীনতার স্বপ্ন, আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধান এবং রাষ্ট্রভিত্তিক জাতীয়তাবাদের বীজ রোপিত হয়েছিল তার বহু আগেই।
🇧🇩 বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ কোনো উড়ে এসে জুড়ে বসা ধারণা নয়; এটি ইতিহাসের দীর্ঘ পথচলায় গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক ও জাতীয় চেতনা।
#বাংলাদেশী_জাতীয়তাবাদ #জিয়াউর_রহমান #মোয়াজ্জেম_হোসেন #মাওলানা_ভাসানী #বাংলাদেশ #ইতিহাস #মুক্তিযুদ্ধ #জাতীয়তাবাদ