এনপিএ'র লক্ষ্য বাংলাদেশের জনগণের জন্য এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে এবং সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশের শাসনক্ষমতায় আজও জনগণের কর্তাসত্ত্বা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। শাসকশ্রেণির রাজনৈতিক দলগুলো বারবার জনগণের আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল আত্মসাৎ করছে এবং শহীদদের রক্তের সঙ্গ
ে প্রতারণা করে নিজেদের ক্ষমতাকেই আরো একবার সংহত ও কুক্ষিগত করে নিচ্ছে। এর ফলে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের আকাঙ্ক্ষা আবারও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরী হয়েছে।
এই বাস্তবতায় বাংলাদেশে এমন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে, যারা গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মৌলিক প্রশ্নগুলোকে অগ্রাধিকার দেবে। যারা নাগরিকের অধিকারকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক পরিসর নির্মাণে মনোযোগী হবে।
এই প্রেক্ষাপটেই শাসনক্ষমতায় জনগণের কর্তাসত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার প্রত্যয়ে “নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন” (Network for People’s Action - NPA) নামে আমাদের এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম যাত্রা শুরু করছে।
আমাদের মূলনীতি
আমাদের রাষ্ট্রপ্রকল্প, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও দাবিদাওয়া প্রণয়ন, পাশাপাশি সংগঠনের কাঠামো ও পরিচালনা পদ্ধতির ভিত্তি হবে পাঁচটি মূলনীতি। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত সম্পর্ক নির্ধারণেও এই নীতিগুলোই দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।
এই পাঁচটি মূলনীতি হলো:
- গণতন্ত্র,
- সাম্য,
- মানবিক মর্যাদা,
- সামাজিক ন্যায়বিচার এবং
- প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষা।
আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের জনগণের জন্য এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা, যা দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে তার যৌক্তিক পরিণতির দিকে এগিয়ে নেবে। একই সঙ্গে এই শক্তি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
এই লক্ষ্য সামনে রেখেই আমরা একটি শক্তিশালী ও কার্যকর রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে চাই। উদ্দেশ্যগুলো হলো:
১। সর্বস্তরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
২। সাম্য ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা
৩। সংবিধান সংস্কার
৪। মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ
৫। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের সংস্কার
৬। অর্থনৈতিক রূপান্তর
৭। প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ সুরক্ষা